অন্যান্য শ্রেণি ও বিষয়

বি সি এস প্রিলিমিনারি: সাধারণ বিজ্ঞান

পদার্থবিজ্ঞান

 

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

আন্তঃআণবিক শক্তি

পদার্থ হল এমন ভৌত অবস্থা যার ভর ও আয়তন আছে।পদার্থ তিন অবস্থায় বিরাজ করে।পদার্থের অণুসমূহের মাঝে যে আকর্ষণ শক্তি বিদ্যমান তাকে আন্তঃআণবিক শক্তি বলে(তবে পদার্থের পরমানুসমূহ যে শক্তিবলে  আবদ্ধ থাকে তা বন্ধন নামে পরিচিত)। কঠিন অবস্থায় অনূসমূহ কাছাকাছি থেকে কাঁপতে থাকে এবং এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে,তরল অবস্থায় কম থাকে এবং গ্যাসীয় অবস্থায় এদের কম্পন সবচেয়ে বেশি হয় ফলে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ একেবারেই কম থাকে।অন্যদিকে পদার্থের আন্তঃআণবিক  আকর্ষণ যত বেশি হয় আন্তঃআণবিক দূরত্ব তত কম হয়।তাই কঠিন পদার্থে আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে  কম ও তরলে সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উর্ধপাতন

ঊর্ধ্বপাতন 

কিছু পদার্থ আছে যাদের তাপ দিলে তারা কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং শীতলীকরণে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে কঠিনে পরিণত হয়।একে ঊর্ধ্বপাতন বলে।যেমন -ন্যাপথালিন,কর্পূর,কঠিন CO_2। 

পদার্থ কি

পদার্থের প্রকারভেদ 

যাদের নিজস্ব ভর ও আয়তন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয় তাদের পদার্থ বলা হয়।  পদার্থ তিন  প্রকার।মৌলিক পদার্থ,মিশ্র পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।যেসব পদার্থ শুধুমাত্র একটি উপাদান দ্বারা তৈরি তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন-কার্বন,নাইট্রোজেন ইত্যাদি।এ পর্যন্ত ১১৪ টি মৌলিক পদার্থের নামকরণ করা হয়েছে।এদের মধ্যে ২৩ টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিম উপায়ে তৈরী করা হয়েছে।আর ৯২ টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত। 

মৌলিক পদার্থকে আবার ধাতু,উপধাতু, অপরিবাহী ইত্যাদি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।

অপরিবাহীঃতাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী মৌল অপরিবাহী নামে পরিচিত।

পরিবাহীঃতাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী মৌল অপরিবাহী নামে পরিচিত।

উপধাতুঃ যেসব মৌলিক পদার্থ অধাতুর মত আচরণ করে তাদের উপধাতু বলা হয়।

প্রকৃতিতে  বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে অণু গঠিত হয়।অণু হল পদার্থের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ যা বস্তুর ধর্ম ধারণ করে। আর যেসব পদার্থ একাধিক উপাদান দ্বারা তৈরি তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন-পানি,ফসফিন প্রভৃতি।পানিতে উপস্থিত  হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত ১ঃ৮।আবার যদি একাধিক পদার্থ বিক্রিয়া না করে কেবল একসাথে অবস্থান করে তবে তাকে মিশ্র পদার্থ বলা হয়।যেমন-বায়ু। অন্যদিকে আলো,বিদ্যুৎ এগুলো পদার্থ নয়,শক্তি।কেননা এরা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয় এবংপদার্থের বৈশিষ্টগুলো  এদের নেই।   

স্থায়ী কণিকা

পরমাণুতে তিনটি স্থায়ী কণিকা আছে।এগুলো হল-ইলেকট্রন,প্রোটন ও নিউট্রন(উল্লেখ্য হাইড্রোজেনের পরমাণুতে নিউট্রন নেই)।এদের মধ্যে ইলেক্ট্রন পরমাণুর চারপাশে নিয়ন  সঞ্চরণশীল থাকে। এটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট।পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক চার্জের প্রোটন ও আধান নিরপেক্ষ নিউট্রন থাকে।এটি নিউক্লিয়াস নামে পরিচিত যা  পরমাণুর সবচেয়ে ভারী অংশ।বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াসের ধারনা  প্রদান করেন।ফলে আধুনিক রসায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়।যেহেতু, নিউট্রনের কোন আধান নেই।তাই নিউক্লিয়াসের আধান বলতে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট প্রোটনের আধানকেই নির্দেশ করে।উল্লেখ্য সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১ টি প্রোটন ও ১২ টি নিউট্রন রয়েছে।পরমাণুতে ইলেক্ট্রন  ও প্রোটনের আধান সমান ও বিপরীত।তাই সামগ্রিকভাবে পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। এছাড়া পরমাণুতে নানা রকম অস্থায়ী কণিকা আছে।যেমন- মেসন,পাইওন, বোসোন ইত্যাদি। 

আইসোটোপ

আইসোটোপঃবিভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।আইসোটোপসমূহের নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়।বিভিন্ন পরমাণুর আইসোটোপ সংখা বিভিন্ন।যেমন-হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে-হাইড্রোজেন,ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা 1300 এর বেশি।আইসোটোপ দুই প্রকার-সুস্থিত ও অস্থিত।অস্থিত আইসোটোপগুলো তিন ধরনের রশ্মি-alpha ,eta,gamma বিকিরণ করে।ইউরেনিয়ামের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে।যেমন-ইউরেনিয়াম-২৩৪,ইউরেনিয়াম-২৩৫,ইউরেনিয়াম-২৩৮।এর মধ্যে ইউরেনিয়াম-২৩৫ সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত আইসোটোপ। 

আইসোমারঃএকই আণবিক সংকেত যুক্ত কিন্তু আলাদা গঠন ও ধর্মবিশিষ্ট একাধিক জৈব যৌগ পাওয়া যায় ।  এই ধরনের যৌগগুলিকে  আইসোমার  বলে। 

আইসোবারঃযে সকল পরমানুর ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা ( অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মিলিত সংখ্যা) একই কিন্তু পারমানবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে।

আইসোটোনঃ যেসব পরমাণুর নিউটন সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, তাদেরকে বলা হয়।

ইলেক্ট্রন বিন্যাস

পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন শক্তিস্তরে অবস্থান করে।শক্তিস্তরগুলোকে যথাক্রমে K,L,M,N দ্বারা প্রকাশ করা হয়।সুতরাং প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় শক্তিস্তরে  যথাক্রমে সর্বোচ্চ 2,8,18,32 টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। 

পারমাণবিক সংখ্যা

কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। যেমন-আর্সেনিকের প্রোটন সংখ্যা ৩৩,ফলে এর পারমাণবিক সংখ্যাও ৩৩।অনুরূপভাবে সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪ ও ক্লোরিনের ১৭,ইউরেনিয়মের ৯২।  

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর

কোন মৌলের একটি পরমাণুর ভর একটি কার্বন-12 আইসোটোপের ভরের 1/12 অংশের যত ভাগ তাকে তার আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে।জিংকের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ৬৫।জন ডাল্টন পারমাণবিক ভর ধারণার প্রবর্তক। 

যৌগমূলক

যেসব পদার্থ কোন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ঐ বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রন করে তাদের যৌগমূলক বলা হয়।এরা দুই প্রকার।যথা-ধনাত্মক যৌগমূলক( অ্যামোনিয়াম) ও ঋণাত্মক যৌগমূলক(হাইড্রক্সাইড আয়ন)।

আণবিক ভর

কোন যৌগে উপস্থিত পরমানুর সংখ্যাকে তাদের পারমাণবিক ভর দ্বারা গুণ করে গুণফলকে যোগ করে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাকে ঐ মৌলের আণবিক ভর বলা হয়। যেমন-কার্বন ডাইঅক্সাইডে একটি কার্বন ও দুটি অক্সিজেন রয়েছে তাই এর আণবিক ভর ৪৪।অনুরূপভাবে  সালফিউরিক এসিডে দুটি হাইড্রোজেন,একটি সালফার ও চারটি অক্সিজেন রয়েছে।তাই এর  আণবিক ভর ৭৮।

মোল

কোন মৌলের পারমাণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করা হলে তাকে ঐ মৌলের  এক গ্রাম পারমাণবিক ভর বা এক মৌল বলা হয়।যেমন -এক মোল অক্সিজেন বলতে ১৬ গ্রাম অক্সিজেনকে বুঝায়,আর এক মৌল ম্যাগনেসিয়াম বলতে ২৪ গ্রাম ম্যাগনেসিয়ামকে বুঝিয়ে থাকে। 

প্রতীক

মৌলের প্রতীক কোন মৌলের একটি পরমাণুকে নির্দেশ করে।এটি কোন মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ।যেমন-'H' দ্বারা হাইড্রোজেন মৌলের পরমাণুকে নির্দেশ করা হয়।  

পারমাণবিক সংখ্যা

পরমাণু অতিশয় ক্ষুদ্র।এর ব্যাস 10^-^8 cm।পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন।ইলেকট্রন সংখ্যা সবসময় প্রোটন সংখ্যার সমান হয়।প্রোটন সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা (Z)বলা হয়।প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যাকে একত্রে ভর সংখ্যা (A) বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলা হয়।

কার্বনের ব্যবহার

কার্বন একটি অধাতু।এর দুটি রূপভেদ (হীরক ও গ্রাফাইট ) রয়েছে।এর মধ্যে হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে,এটি সবচেয়ে কঠিন পদার্থ  এবং  বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। তবে গ্রাফাইটে কার্বন-কার্বন ত্রিবন্ধন ব্যবহৃত হওয়ায় এটি  বিদ্যুৎ পরিবহন করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়।যেমন-হীরক চূর্ণ রঙ তৈরিতে ও কাচ কাটতে ব্যবহার করা হয়,কালো রঙ তৈরিতে ভুষা কয়লা ব্যবহার করা হয়,অস্তিজ কয়লাকে HCl দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে  আইভরি ব্ল্যাক তৈরি করা হয়,এছাড়া স্টেনলেস স্টিল তৈরিতে ৭৪% লোহা,১৮%ক্রোমিয়াম,৮%নিকেল ও ১% কার্বন ব্যবহার করা হয়।এছাড়া জৈব বস্তুর অসম্পূর্ণ দহনে যে কার্বন ডাইওক্সাইড তৈরি হয় তা পানিতে দ্রবীভূত করে সোডা ওয়াটার এবং একে চাপ প্রয়োগে কঠিন করে শুষ্ক বরফ তৈরি করা হয়।  

তেজস্ক্রিয়তা

যেসব পদার্থ থেকে আলফা,বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয় তাদের তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।ইউরেনিয়াম,নেপচুলিয়াম,প্লুটোনিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ।আর তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে অবিরত আলফা( ধনাত্মক চার্জযুক্ত),বিটা(ঋণাত্মক চার্জযুক্ত) ও গামা(চার্জ নিরপেক্ষ) রশ্মি নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের  তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।আর এর কৃতিত্বস্বরূপ তাঁকে নোবেল দেয়া হয়।  

গ্রিন হাউস

জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে ( বিঃদ্রঃ জীবাশ্ম জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড সৃষ্টি হয়) ও অন্নান্য কারণে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।ফলে সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবী থেকে বের হতে পারছে না এবং ফলস্রুতিতে বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।যা গ্লুবাল ওয়ার্মিং নামে পরিচিত।একে বলা হয় গ্রিন হাউস প্রভাব ।এর ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সিএফসি

এরোসল ও হিমায়ক যন্ত্রে যে সিএফসি গ্যাস ব্যবহৃত হয় তা আমাদের বায়ুমন্ডল ভেদ করে ওজন স্তরে পৌছে এবং সেখানে এটি বিযোজিত হয়ে ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন করে,যা নীল বর্ণের ওজনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজন স্তর ধ্বংস করে। 

মরিচা

লোহার তৈরি জিনিস অনেক দিন আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে রেখে দিলে বাতাসে অক্সিজেনের সাথে লোহার বিক্রিয়ার এক ধরনের যৌগগ আয়রন অক্সাইড সৃষ্টি হয়। এই যৌগ মরিচা। প্রতিরোধের উপায়ঃ ধাতুর উপরিতলে রং বা গ্রীজ দিয়ে মেশিনের ঘূর্ণনশীল অংশে তেল বা গ্রীজ দিয়ে মরিচা রোধ করা যায়। লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দিয়ে মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব। গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় মরিচা রোধ করা সম্ভব। ইলেকট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে লোহা ও ইস্পাতের উপর মরিচা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সাবান

সাবান হল উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ(যেমন সোডিয়াম স্টিয়ারেট)।তেল বা চর্বিকে(গরুর চর্বি ট্যাল্লো নামে পরিচিত) কস্টিক সোডা বা কস্টিক পটাশ  সহযোগে সাবান প্রস্তুত করা হয়।সাবান প্রস্তুতির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। সাবন কোমল ও কঠিন দুই ধরণের হয়ে থাকে কোমল সাবান প্রস্তুত করতে কস্টিক পটাশ ব্যবহার করা হয়।কাপড় কাচা ছাড়াও চাপড়া নরম করলে সাবান ব্যবরার করা হয়।সাবান ব্যবহার করে ময়লা পরিষ্কার না হলে আমরা ডিটার্জেন্ট ব্যবহার করে থাকি যা বিভিন্ন ধরণের সিনথেটিক পদার্থ নিয়ে গঠিত।এটি খর পানিতেও ময়লা পরিষ্কার করে।তবে কাপড়ের দাগ দূরীকরণে ব্লিচিং পাউডার(CaOCl)Cl ব্যবহার করা হয়। 

সংকর ধাতু

যেসব ধাতু একাধিক ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত তাদের সংকর ধাতু বলা হয়।যেমন- পিতলে  মোট ৬৫% কপার  ও ৩৫% জিংক থাকে।২১ ক্যারটের স্বর্ণে মোট ৮৭.৫%  স্বর্ণ ও ১২.৫% কপার  থাকে।স্টিলে ৯৯%লোহা ও ১% কার্বন থাকে।​পেটা লোহায় ০.২৫-১.৫% কার্বন মিশ্রিত থাকে।ডুরালামিনে ৯৫% অ্যালুমিনিয়ামের সাথে ৪% কপার ও ১% ম্যাগনেসিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা মিশালে  ব্যবহৃত  হয়।স্টেইনলেস স্টিলে ৭৪% লোহার সাথে ১৮% ক্রোমিয়াম ও ৮% নিকেল ধাতু মিশানো হয়।কাসায় ৯০% তামার সাথে ১০% জিংক ব্যবহার করা হয়।স্টিলে ৯৯% লোহা ও ১% কার্বন ব্যবহৃত হয়।     

আকরিক

ধাতু                                  আকরিক


মার্কারী                             সিন্নাবার HgS


জিংক                                জিংক ব্লেন্ড ZnS

                                        ক্যালামাইন  ZnCO_3


লেড                                   গ্যালেনা PbS


আয়রন                               ম্যাগনেটাইট Fe_3O_4

                                         হেমাটাইট Fe_2O_3

                                         লিমোনাইট Fe_2O_3.3H_2O


কপার                                  কপার পাইরাইট CuFeS_2

                                           চেলকোসাইট  Cu_2S


আ্যলুমিনিয়াম                           বক্সাইট Al_2O_3.2H_2O


সোডিয়াম                                 সাগরের পানি NaCl


ক্যালসিয়াম                               চুনাপাথর CaCO_3


মেঙ্গানিজ                                   পাইরোলুসাইট MnO₂  

সংকর ধাতুর সংযুক্তি

 বিভিন্ন প্রকার সংকর ধাতু,তাদের সংযুক্তি ও ব্যবহারঃ

ধাতু উপাদান ও সংযুক্তি ব্যবহার 
22 ক্যারট স্বর্ণ 91.67% স্বর্ণ, 8.33% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।   অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
21 ক্যারট স্বর্ণ

87.5% স্বর্ণ, 12.5% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।

 অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
 24 ক্যারট স্বর্ণ 100% স্বর্ণ  অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
ডুরালামিন   আ্যলুমিনিয়াম 95%,কপার 4%,লোহা 1%   উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলের পার্টস ইত্যাদি। 
কাসা(ব্রোঞ্জ)     কপার 90%, টিন 10%  ধাতু গলানো, যন্ত্রাংশ, থালা, গরাস ইত্যাদি। 
পিতল(ব্রাস)   কপার 65%,জিংক 35%,  অলঙ্কার,বিয়ারিং,বৈদ্যুতিক সুইচ,দরজার হাতল।
স্টেইনলেস স্টিল    লোহা  74%,  ক্রোমিয়াম 18%,  নিকেল 8%,  ছুরি,কাটাচামচ,পাকঘরের সিঙ্ক,রসায়ন  শিল্পের বিক্রিয়া পাত্র,অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি। 
স্টিল    লোহা 99%, কার্বন 1%   রেলের লাইন,ইঞ্জিন,জাহাজ,যানবাহন,ছুরি,কাঁচি,ঘড়ির স্প্রিং, ক্রেইন,যুদ্ধাস্ত্র,চুম্বক,কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ।

 

কার্বন বিজারণ

অনেক ধাতুর আকরিক ধাতব অক্সাইড এবং এই ধাতব অক্সাইডকে কার্বনসহ তাপ দিলে ধাতু মুক্ত হয় । এই প্রক্রিয়াকে কার্বন বিজারণ বলে । কার্বন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে । যেমন,

2PbO + C \rightarrow 2Pb + CO_2

এ প্রক্রিয়াকে স্মেল্টিং বা আকরিক গলিয়ে ধাতু নিষ্কাশন বলা হয় ।

জারণ বিজারণ

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় সাধারণত একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং অপর বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে। যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে। ধাতব জিংক (দস্তা) কপার সালফেটের সাথে বিক্রিয়া করে জিংক সালফেট ও কপার ধাতু উৎপন্ন হয়। এটি একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার দুটি অংশ- জারণ ও বিজারণ।

Zn + CuSO_4 \rightarrow ZnSO_4+ Cu

বিক্রিয়ার আয়নিক রূপ :

Zn + Cu^2^+ \rightarrow Zn^2^+ + Cu

 

জারক-বিজারক

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় বিক্রিয়ক থেকে ইলেকট্রন বর্জন বা অপসারণ প্রক্রিয়াকে জারণ বলে।আর যে পদার্থ ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক বলা হয়।উপরের বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কে Zn -এর জারণ সংখ্যা শূন্য (০) এবং উৎপাদ ZnSO_4 এ Zn -এর জারণ সংখ্যা +২। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় Zn দুটি ইলেকট্রন অপসারণ করে জারিত হয় এবং ZnSO_4 -এ পরিণত হয়।সুতরাং Zn একটি বিজারক পদার্থ।বিক্রিয়ার জারণ অংশকে নিম্নের সমীকরণের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।

Zn - 2e^- 
ightarrow Zn^2^+

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় বিক্রিয়ক কর্তৃক ইলেকট্রন গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিজারণ বলে।আর যে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলা হয়। উপরের বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক CuSO_4 এ Cu -এর জারণ সংখ্যা +২ এবং উৎপাদে Cu -এর জারণ সংখ্যা শূন্য
(০)। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় CuSO_4 দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয় এবং Cu -এ পরিণত হয়।তাই CuSO_4 একটি জারক পদার্থ। বিক্রিয়ার বিজারণ অংশকে নিম্নের সমীকরণের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।

Cu^2^+ + 2e^- 
ightarrow Cu

অনুরূপভাবে নাইট্রিক এসিড বিক্রিয়াকালে ইলেক্ট্রন গ্রহন  করে বিজারিত হয়।তাই এটি একটি জারক পদার্থ। 

জারণ সংখ্যা

যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে অথবা যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে তাকে মৌলের জারণ সংখ্যা বলে। নিরপেক্ষ বা মুক্ত মৌলের জারণ সংখ্যা শূন্য (০) ধরা হয়। ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ঋণাত্মক জারণ সংখ্যা এবং ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের
জারণ সংখ্যাকে ধনাত্মক জারণ সংখ্যা বলে। ধাতুসমূহের জারণ সংখ্যা সাধারণত ধনাত্মক, অধাতুসমূহের জারণ সংখ্যা ঋণাত্মক এবং যৌগমূলকের জারণ সংখ্যা তাদের আধান অনুসারে হয়।বিভিন্ন মৌলের জারণ অবস্থা বিভিন্ন।যেমন-MnO4⁻ ও MnO এ  Mn এর জারণ সংখ্যা  যথাক্রমে +৬ ও +২।এছাড়া Sn এর দুটি জারণ অবস্থা(Sn²+ Sn⁴+) দেখা যায়।সালফারের তিনটি জারণ অবস্থা(S²+,S⁴+ S⁶+ )  নাইট্রোজেনের দুটি জারণ অবস্থা (N³+,N⁵+) দেখা যায়।ক্যালসিয়ামের একটি জারণ অবস্থা( Ca²+ ) রয়েছে। 

তড়িৎ বিশ্লেষণ

বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।তড়িৎ বিশ্লেষণকালে  যেসব তড়িৎদ্বার তড়িৎ উৎসের ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় অ্যানোড।অ্যানোডে অ্যানায়ন  যুক্ত হয়। যেসব তড়িৎ দ্বার তড়িৎ উৎসের ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় ক্যাথোড।ক্যাথোডে ক্যাটায়ন যুক্ত হয়।আর যে  কোষে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা গ্যালভানিক কোষ নামে পরিচিত। 

তড়িৎ বিশ্লেষণ

তড়িৎ অবিশ্লেষ্য বস্তুতে কোন ধাতব পরমানু থাকে না।ফলে কোন মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।তাই  এরা কখনো বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।তাই তড়িৎ বিশ্লেষণে এদের ব্যবহার করা হয় না।আর যেবব পদার্থ বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলা হয়।যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ।বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।তড়িৎ বিশ্লেষণকালে  যেসব তড়িৎদ্বার তড়িৎ উৎসের ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় অ্যানোড।অ্যানোডে অ্যানায়ন  যুক্ত হয়। যেসব তড়িৎ দ্বার তড়িৎ উৎসের ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয় ক্যাথোড।ক্যাথোডে ক্যাটায়ন যুক্ত হয়।অর্থাৎ ক্যাথোডে বিজারণ ও অ্যানোডে জারণ ঘটে। পানির তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে  হাইড্রোজেন বিজারিত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ও অ্যানোড অক্সিজেন পরমানু জারিত হয়ে অক্সিজেন  গ্যাস উৎপন্ন হয়।উল্লেখ্য,বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী অর্থাৎ খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।

 আর যে  কোষে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা গ্যালভানিক কোষ নামে পরিচিত।তড়িৎ বিশ্লেষণ সম্পর্কে ১৯৩৩ সালে ফ্যারাডের দুটি সূত্র আছে।সূত্র ১- বিগলিত বা দ্রবীভূত পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করলে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণের সমানুপাতিক অর্থাৎ প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ালে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়,আর প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমালে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পাবে।সূত্র ২-যদি বিভিন্ন পদার্থে একই পরিমাণ পদার্থ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তবে তড়িৎ দ্বারে সঞ্চিত বা দ্রবীভূত পদার্থের পরিমাণ তাদের তড়িৎ রাসায়নিক তুল্যাংকের সমানুপাতিক।

এসিড

যেসব পদার্থ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন দেয় তাদের এসিড বলা হয়।এগুলো নীল লিটমাসকে লাল করে।এসিড চিহ্নিতকরণে বিভিন্ন নির্দেশক ব্যবহার করা হয়।এদের মধ্যে ব্রোমোফেলনল একটি, যা অম্লীয় মাধ্যমে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্নভাবে এসিডের সান্নিধ্যে আসি। যেমন, সফট ড্রিংকসগুলো (কার্বনিক এসিড), লেবু বা কমলা (সাইট্রিক এসিড), তেঁতুলে (টারটারিক এসিড), ভিনেগার(ইথানয়িক এসিড),ব্যাটারি (সালফিউরিক এসিড) গয়না তৈরি( নাইট্রিক এসিড ব্যবহার),আমলকি( অক্সালিক এসিড ),দুধে (ল্যাকট্রিক এসিড),আঙুর ( টারটারিক এসিড) ,টমেটো(ম্যালিক এসিড)   । এছাড়া খাদ্য পরিপাকে,ভিটামিন সি এর চাহিদা মেটাতে এবং রোগ প্রতিরোধে এটি সহায়তা আমাদের  করে ।

ক্ষার

যে সকল পদার্থ  এসিডকে প্রশমিত করে এর বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম বিলুপ্ত করে তাদের ক্ষার বলা হয়।ক্ষার কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য  প্রদর্শন করে।যেমন- এটি পানিতে হাইড্রোক্সাইড  আয়ন উৎপন্ন করে। তাই ক্ষারের জলীয় দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে বেকিং সোডা ব্যবহার করি তাও এক প্রকার ক্ষার।কেক ফোলাতে এবং পাকস্থলির এসিডিটি কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

কোন দ্রবণ ক্ষারীয় না অম্লীয় তা দ্রবণের pH  থেকে বুঝা যায়।কেননা ক্ষারীয় মাধ্যমের pH ৭ এর বেশি হয়।অম্লীয় মাধ্যমের  pH ৭ এর কম হয়।আবার নিরপেক্ষ মাধ্যমের pH ৭ হয়। এছাড়া  ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে। 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন রকম লবণের ব্যবহার করি।যেমন আমরা খাদ্যে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ ব্যবহার করি।এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়।আবার কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না যেমন-ক্যালসিয়াম কার্বনেট।অ্যামোনিয়াম সালফেটও এক প্রকার লবণ বংলায় যা ফিটকিরি নামে পরিচিত।আবার পাকা কলায় যে অ্যামাইল অ্যাসিটেট থাকে তাও এক প্রকার লবণ।  

প্রশমন বিক্রিয়া

প্রশমন বিক্রিয়া : এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া বলা হয়। এসিডের জলীয় দ্রবণের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন, এই দ্রবণে ভেজা লাল লিটমাস কাগজ প্রবেশ করালে নীলবর্ণে পরিণত হয়। দ্রবণের pH 7 -এর কম থাকে। অনুরূপভাবে ক্ষারের জলীয় দ্রবণের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন, এই দ্রবণে ভেজা নীল লিটমাস কাগজ প্রবেশ করালে লালবর্ণে পরিণত হয়। দ্রবণের  pH 7-এর বেশি থাকে। এসিড ও ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে একত্রে মিশ্রিত করলে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

এসিড + ক্ষার   
ightarrow  লবণ + পানি

জলীয় দ্রবণে এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার সময় দ্রবণের pH 7 -এর নিকটবর্তী হয়। প্রশমন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে pH -এর মান 7  হয়।

সংযোজন বিক্রিয়াঃযে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগ যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ তৈরি করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়।আর সংযোজন বিক্রিয়ায়  দুই বা ততোধিক মৌল  যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ তৈরি করলে  তাকে সংশ্লেষন বিক্রিয়া বলা হয়।যেমন-হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় পানি উৎপন্ন হয়।যা একটি সংশ্লেষন বিক্রিয়ার উদাহরণ। 

 

 

তড়িৎ কোষ

ড্রাই সেল একধরনের গ্যালভানিক কোষ । প্রচলিতভাবে ড্রাই সেলকে আমরা ব্যাটারী বলে থাকি । ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করা হয় ।সেলের ব্যবচ্ছেদ করলে আমরা দেখতে পাই,এর এর কেন্দ্রে কার্বন দন্ড,তার উপর ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইডের আবরণ,এর পর পানি দিয়ে তৈরি স্টার্চ,অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও জিংক ক্লোরাইডের ঘন কাইএবং সর্ববাইরে ধাতব জিংকের কাই দেখতে পাই। সর্বাধিক পরিচিত ড্রাই সেল হলো - লেকলেন্স সেল । আমরা ড্রাইসেল সাধারনত টর্চ জ্বালাতে , রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, বাচ্চাদের খেলনা চালাতে প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করি । গ্যালভানিক কোষের ন্যায় ড্রাই সেলও আ্যনোড ও ক্যাথোড দ্বারা গঠিত । তফাৎ হলো ড্রাই সেল গঠনে কোন তরল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব থাকে না । 

পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ

পানির অণু ২টি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন মৌলের পরমাণু দ্বারা গঠিত । 

H_2 + \frac{1}{2}O_2 \rightarrow H_2O + heat

পানির অণুকে ভাঙলে বিপরীত বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাস পাওয়া যায় ।

2H_2O \rightarrow 2H_2 + O_2

তড়িৎ রাসায়নিক কোষের মাথ্যমে পানিকে ভাঙা যায় । সাধারণত ধাতব প্লাটিনামের পাত আ্যনোড ও ক্যাথোড হিসাবে ব্যবহৃত হয় ।

তড়িৎ বিশ্লেষনে উৎপাদিত পদার্থের বাণিজ্যিক ব্যবহার

তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন আকরিক থেকে বিভিন্ন ধাতু যেমন - সোডিয়াম, আ্যলুমিনিয়াম, তামা, দস্তা, লোহা, সীসা ইত্যাদি নিষ্কাশন করা হয় । আধুনিক বিশ্বে এসব ধাতুর ব্যবহার অপরিসীম । লোহার বাণিজ্যিক ব্যবহার সবখানেই বিস্তৃত । তামা দিয়ে তৈরী বৈদ্যুতিক তার বহুল ব্যবহৃত হয় । স্বল্প বিদ্যুৎরোধী হওয়ার জন্য তামার তার বাণিজ্যিক ভাবে বেশ সমাদৃত । আ্যলুমিনিয়াম ধাতু ওজনে হালকা হওয়ায় বিমান তৈরীতে ব্যবহৃত হয় । তাছাড়া রান্না বান্নার জন্য ব্যবহৃত হাড়ি-পাতিল আ্যলুমিনিয়াম দিয়ে তৈরী ।

বাণিজিকভাবে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মাধ্যমে লোহার উপর অন্য ধাতুর বিশেষ করে দস্তা ও ম্যাগনেসিয়াম এর মরিচারোধী প্রলেপ দেওয়া হয় । এতে লোহার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় । ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মা্ধ্যমে কোনো ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দিলে তা অত্যন্ত মসৃণ হয় । সহজলভ্য কোনো ধাতুর উপর অন্য মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দিয়ে আকর্ষণীয় অলংকার তৈরী করা হয় । যেমন- রূপার তৈরি অলংকারের উপর সোনার প্রলেপ দিয়ে অলংকারের উজ্জল্য বৃদ্ধি করা হয় ।লোহার উপর দস্তা/জিঙ্কের  প্রলেপ দেয়াকে  গেলভানাইজিং বলা হয়।এই প্রকৃয়ায় লোহাকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা হয়।

পানির তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপন্ন হাইড্রোজেন গ্যাস মূল্যবান ও পরিবেশবান্ধব গ্বালানি । হাইড্রোজেনকে পোড়ালে পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও তাপ উৎপন্ন হয় । সমুদ্রের তড়িৎ বিশ্লেষণে প্রাপ্ত ক্লোরিন গ্যাস জীবাণুনাশক হীসাবে ব্যবহার করা হয় এবং বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল হিসাবে সোডিয়অম হাইড্রক্সাইড ক্ষার প্রচুর ব্যবহৃত হয় । 

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান১

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

 

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য

শব্দ তরঙ্গ
 

শব্দ এক প্রকার শক্তি। এই শক্তি সঞ্চালিত হয় শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে। শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ যা মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন প্রসারনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মাঝে একটি জড় মাধ্যম থাকতে হবে এবং উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর ভিতর থাকতে হবে।  

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যঃ কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। তাই  শব্দকে  একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই বলে এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভরশীল

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান ২

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

পূর্ণ স্পন্দন : তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলা হয়।

পর্যায়কাল : যে সময় পর পর তরঙ্গের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অর্থাৎ যে সময়ে তরঙ্গের উপরস্থ কোন কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয় তাকে পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক সেকেন্ড (s)।

কম্পাঙ্ক : প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। স্পন্দনশীল কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে ১ Hz বলে। একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক হলো:

f = 1/T

বিস্তারঃ সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে তরঙ্গস্থিত কোন কণার সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলে। চিত্রে a হলো বিস্তার।

দশা : কোনো একটি তরঙ্গায়িত কণার যে কোনো মুহুর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিকে তার দশা বলে। গতির সামগ্রিক অবস্থা বলতে কণার গতির দিক, ত্বরণ, সরণ, বেগ ইত্যাদি বুঝায়। অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ঊর্ধ্বচূড়াসমূহ বা নিম্নচূড়াসমূহ সর্বদা একই দশায় থাকে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্যঃ তরঙ্গের উপর  একই দশায় আছে এমন পর পর দু’টি কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। কম্পমান একটি বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পনে যে সময় লাগে সেই সময়ে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। একে λ দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং এর একক মিটার

তরঙ্গ বেগঃ নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গ এক সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

 

 

মোমবাতি

অক্সিজেন বা অম্লজান একটি রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O ও পারমানবিক সংখ্যা ৮।  অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ের অম্লজান নামটি নির্দিষ্ট করেন, কারণ তখন মনে করা হতো সকল অম্লের মধ্যে অম্লজান বিদ্যমান থাকে যা ভুল ছিল। অক্সিজেনের যোজ্যতা সাধারণ ২। এই মৌলটি অন্যান্য মৌলের সাথে সাধারণত সমযোজী বা আয়নিক বন্ধন দ্বারা যৌগ গঠন করে থাকে। অম্লজান গঠিত সাধারণ কিছু মৌলের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে: পানি (H2O), বালি (SiO2, সিলিকা) এবং আয়রন অক্সাইড (Fe2O3)। দ্বিপরমাণুক অম্লজান বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের একটি।

অক্সিজেন প্রত্যাহারের মাধ্যমে আগুন নিভানো সম্ভব যা শ্বাসরোধকারী আগুন নামে পরিচিত। আগুন খালি জায়গায় জ্বলতে পারে না অথবা এটি কার্বন ডাইঅক্সাইড দ্বারা আবৃত থাকাবস্থায় জ্বলে না।

সোডা ওয়াটার

বাইকার্বনেট সোডা হল আসরে সোডিয়াম-বাই-কার্বনেট যার রাসায়নিক ভাবে সোডিয়াম, হাইড্রোজেন ও কার্বনেট নামক একটি র‍্যাডিক্যাল দিয়ে তৈরি হয়; যেটি আবার তৈরি হয় কাবর্ন-ডাই-অক্সাইডের সাথে পানির বিক্রিয়ায়। এটি খাওয়ার সোডা নামে পরিচিত। বিভিন্ন ডায়েট ড্রিংকস (সোডা ওয়াটার), বেসন ইত্যাদিতে খাওয়ার সোডা হিসেবে বাই-কার্বনেট সোডা ব্যবহৃত হয়।

নাইট্রোজেন

নাইট্রোজেন একটি মৌল বা মৌলিক পদার্থ যার বাংলা নাম যবক্ষারজান।, এই মৌলিক পদার্থের প্রতীক N ও পারমাণবিক সংখ্যা ৭। বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদবিহীন। নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় ধরনের দ্বিপরমাণুক গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়তনের হিসাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০৯ শতাংশ।

১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ পদার্থবিদ ড্যানিয়েল রাদারফোর্ড এটিকে বায়ু থেকে আলাদা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি এর নাম দেন নক্সাস এয়ার বা ফিক্সড এয়ার। রাদারফোর্ড বুঝতে পারেন যে এটি বাতাসের একটি উপাদান এবং এটি দহন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

হীরক

হীরক বা হীরা সর্বাপেক্ষা মূল্যবান একটি রত্ন যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট। অন্য ভাষায় হীরক কার্বনের একটি বিশেষ রূপ মাত্র। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২৬০০০ কে.জি. খনিজ হীরা উত্তোলিত হয় যার মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। কথিত আছে, হীরক সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে মূল্যবান হিসেবে খনি থেকে উত্তোলন ও ব্যবহার করা শুরু হয়। হীরা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ হাজার বছর ধরে পরিচিত বলে অনুমান করা হয়। মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হীরা অনেক বেশি শক্ত এবং এটি দিয়ে উচ্চতম তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ সম্ভব। হীরাকে আদর্শ ধরে তৈরি করা Mohs Scale of mineral hardness ১-১০এ অনুযায়ী হীরার কাঠিন্য ১০। ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর সময় লাগে বলে বৈজ্ঞানিকদের ধারণা। গবেষকদের মতে, সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়; পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী।

নাইট্রিক এসিড

নাইট্রিক এসিড যার রাসায়নিক সংকেত HNO3, যা একুয়া ফর্টিস এবং স্পিরিট অফ নাইটার নামে পরিচিত, একটি সক্রিয় খনিজ এসিড। যৌগটি বিশুদ্ধ অবস্থায় বর্ণহীন, পুরাতন এসিড হলুদাভ রঙ ধারণ করে কারণ এটা ভেঙে নাইট্রোজেনের অক্সাইড এবং পানি তৈরি করে। বাণিজ্যিক ভাবে উৎপন্ন নাইট্রিক এসিডের ঘনত্ব ৬৮%। যখন নাইট্রিক এসিডের ঘনত্ব ৮৬% এর বেশী হয় তখন একে "'ধূমায়িত নাইট্রিক এসিড"' বলে। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতির ভিত্তিতে ধূমায়িত নাইট্রিক এসিড সাদা এবং লাল দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ৯৫% এর বেশী ঘনত্বের নাইট্রিক এসিড নাইট্রেশান বিক্রিয়ার প্রধান রিএজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নাইট্রিক এসিড সাধারণত দৃঢ় জারন উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া

ওলন্দাজ বিজ্ঞানী হারমান বোওরহাভ সর্বপ্রথম ১৭২৭ সালে মূত্রে বা প্রসাবে ইউরিয়া আবিষ্কার করেন। ফরাসী বিজ্ঞানী হিলাইওে রোয়েলেও ১৭৭৩ সালে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে প্রসাব থেকে ইউরিয়ার স্ফটিক আবিষ্কারের কথা দাবি করেন। এর অনেক পরে ১৮২৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফেডারিক হোলার কৃত্তিম উপায়ে সিলভার ছায়েনেটের সহিত এ্যামোনিয়াম কোরাইডের বিক্রিয়া ঘটায়ে ইউরিয়া উৎপাদন করেন। অজৈব দ্রব্যের সহিত বিক্রিয়া ঘটিয়ে এটাই প্রথম জৈব উপাদান যা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন। এজন্য তাকে জৈব রসায়নের পিতা বলা হয়ে থাকে। বসচ্ছ-মেয়সইনার ইউরিয়া উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়ার উৎপাদন শুরু হয় ১৯২২ সন থেকে। এ পদ্ধতিতে দু’টো প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে ইউরিয়া উৎপন্ন করা হয়। প্রথম প্রক্রিয়ায় এ্যামোনিয়ার সহিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় এ্যামোনিয়াম কার্বামেট তৈরি হয়। দ্বিতীয় প্রক্রিয়ায় পরিক্ষয়ের মাধ্যমে এ্যামোনিয়াম কার্বামেট থেকে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।

কাঁচ

কাঁচ হচ্ছে ভঙ্গুর, অকেলাসিত কঠিন পদার্থ যা দৃশ্যমান আলোকে স্বচ্ছ। এর বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। কাঁচের প্রধান উপাদান হচ্ছে বালি বা সিলিকা। কাঁচ তৈরি পদ্ধতিতে মূল তিনটি উপাদান প্রয়োজন হয় সেগুলি হল কোয়ার্টজ(সিলিকা), সোডা, এবং চুন। যখন এগুলির মিশ্রণকে ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করা হয়, তখন এগুলি গলতে শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ যদি ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে কাঁচের জন্ম হয়।

ইঁট

ইট ইমারত তৈরির একটি অতি আবশ্যকীয় ও মৌলিক উপাদানবিশেষ। মাটিকে আয়তঘনক আকারের ছাঁচে ঢেলে ভিজিয়ে কাঁচা ইঁট তৈরি হয, তারপর এক রোদে শুকানো হয়। কাঁচা ইঁটকে আগুনে পোড়ালে পাকা ইঁট তৈরি হ্য়। বহু প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রোদে শুকানো বা আগুনে পোড়ানো ইট ব্যবহার হয়ে আসছে। যদিও ইট পাথরের মত দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত নয়; তারপরও সহজলভ্যতা, অল্প খরচ এবং স্বল্প ওজনের জন্য এর জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার সর্বাধিক। ইঁট বানানোর সময় কিছু ইঁট বেশী পুড়ে যায় ও কেকের মত ফুলে উঠে এক ফোপা শক্ত কালচে খয়েরী আঁকা-বাঁকা আকৃতির ইঁট তৈরি করে, যাকে বলে ঝামা বা ঝামা ইট। ঝামা শক্ত ও এবরোখেবড়ো বলে ঘষামাজার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সালফিউরিক এসিড

সালফিউরিক এসিড একটি শক্তিশালী খনিজ এসিড বা অম্ল। কাঠামোগতভাবে এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যার নাম হাইড্রোজেন সালফেট। এটির সংকেত H2SO4। সালফিউরিক এসিড পানিতে দ্রবণীয়। সালফিউরিক এসিড পূর্বে অয়েল অফ ভিট্রিয়ল নামে অভিহিত ছিল।

== প্রস্তুত প্রণালী == H2 + SO4 -> H2SO4 এখনে হাইড্রজেন ও সালফাইট এর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিড তৈরি হয়।এখানে হাইড্রজেন প্রতিস্থাপনিও বলে এটি এসিড।

আয়োডিন

আয়োডিন হচ্ছে একটি মৌলিক পদার্থ যার সংকেত I এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩।এটি একটি গ্রীক শব্দ ἰοειδής ioeidēs থেকে এসেছে যার অর্থ বেগুনি বা রক্তবেগুনী।মৌল আয়োডিন বাষ্পের রঙ বেগুনি বা রক্তবেগুনী।

আয়োডিন এবং তার যৌগসমূহ প্রাথমিকভাবে পুষ্টির জন্য এবং শিল্পে এসিটিক এসিড এবং নির্দিষ্ট পলিমার উত্পাদন করতে ব্যবহার করা হয়।আয়োডিন এর অপেক্ষাকৃত উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা, কম বিষাক্ততার এবং জৈব যৌগসমূহের সাথে সহজে সংযুক্তির কারণে এক্স-রে এর বিপরীত উপকরণ হিসাবে আধুনিক ঔষধ বিজ্ঞানে একটি অংশে পরিণত হয়েছে।আয়োডিন শুধুমাত্র একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ আছে।আয়োডিনের কিছু সংখ্যক রেডিওআইসোটোপ চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহৃত হয়।

পৃথিবীতে আয়োডিন প্রধানত পাওয়া যায় মহাসাগর এবং সমুদ্রের পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় আয়োডিন আয়ন I− রূপে।অন্যান হ্যালোজেনের ন্যায় মুক্ত আয়োডিন দ্বিপরমাণুক(I2)।মহাবিশ্ব তথা পৃথিবীতে আয়োডিন এর উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা জন্য এটি একটি অপেক্ষাকৃত বিরল মৌল।তবে সমুদ্রের পানিতে উপস্থিতির জন্য এটি জীববিদ্যায়ও একটি ভূমিকা পালন করে।প্রাথমিক ভূত্বক-উপাদান হিসাবে আয়োডিনের কম প্রাচুর্য এবং বৃষ্টির পানি মাটিতে আয়োডিনের অভাব তৈরি করে যা পৃথিবীর মানুষ তথা পশুপাখির জন্য নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করে।পৃথিবীতে আয়োডিনের অভাবে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রভাবিত এবং মানষিক প্রতিবন্ধী ও বিকলাঙ্গতা রোগ সৃষ্টি করে।

হ্যালোজেন

পর্যায় সারণীর সপ্তম শ্রেণীর (আধৃনিক পর্যায় সারণী অনুসারে ১৭তম শ্রেণী)cunt মৌলগুলোকে হ্যালোজেন বলা হয়। এই শ্রেণীর মৌলগুলো হল ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), এবং অ্যাস্টাটিন (At)। কৃত্রিম উপায়ে তৈরী ১১৭ পারমানবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌল ইউনুনসেপ্টিয়ামের হ্যালোজেন শ্রেণীর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট রয়েছে।

পর্যায় সারণীর অন্যান্য শ্রেণীগুলোর মত হ্যালোনগুলোও কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট রয়েছে। সাধারণত পরমানুর ইলেক্ট্রন বিন্যাস এর উপর ভিত্তি করে মৌলগুলোকে আলাদা আলাদা শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। এই শ্রেণীর সাধারণ বৈশিষ্টগুলো নিচে উল্লেখ করা হল:

Z মৌল ইলেকট্রনের শক্তিস্তর
9 ফ্লিরিন 2, 7
17 ক্লোরিন 2, 8, 7
35 ব্রোমিন 2, 8, 18, 7
53 আয়োডিন 2, 8, 18, 18, 7
85 অ্যাস্টাটিন 2, 8, 18, 32, 18, 7

ফ্লোরাইড

ফ্লোরাইড একটি রাসায়নিক যা ফ্লোরিনের একটি লবণ। ফ্লোরিনের একটি উৎকৃষ্ট আকর হচ্ছে ফ্লোরাইড।

নানা বর্ণের ফ্লোরাইড দেখা যায়। তবে হালকা সবুজ, হলুদ অথবা নীল রং এর ফ্লোরাইড সচরাচর পাওয়া যায়। পানিতে কিছুটা দ্রবণীয়। এর কঠিনতা ৪.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ৩.০-৩.২।

ফ্লোরাইড সাধারণত ভাঁজবহুল, দানাদার এবং আঁশযুক্ত পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। কিউব আকৃতির স্ফটিক হিসেবেও এটা পাওয়া যেতে পারে। এবং ফ্লোরাইড সব শ্রেণীর শিলার ফাটলে কম-বেশি পাওয়া যায়। তবে, চুনাপাথর, ডোলোমাইট ও গ্রানাইট জাতীয় শিলার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা একটু বেশি।

ড্রাই আইস

শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস। ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মতো দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে।

অ্যামোনিয়াম সালফেট

অ্যামোনিয়াম সালফেট হল একটি নাইট্রোজেন ঘটিত অজৈব রাসায়নিক সার । এর রাসায়নিক সংকেত (NH4)2SO4  । জলে ভাসমান বিচূর্ণ জিপসামের মধ্য দিয়ে NH3 এবং CO2 গ্যাস চালনা করলে কিংবা অ্যামোনিয়ার সঙ্গে H2SO4 -এর বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম সালফেট উত্পন্ন হয় ।

    CaSO4 + CO2 + 2NH3 + H2O = (NH4)2SO4 + CaCO3↓

• প্রকৃতি:-

[i] অ্যামোনিয়াম সালফেট সাদা রঙের, গন্ধহীন, অনুদ্বায়ী একটি অজৈব কেলাসিত লবণ ।

[ii] অ্যামোনিয়াম সালফেট জলে দ্রাব্য ও এর জলীয় দ্রবণ অম্লধর্মী ।

[iii] অ্যামোনিয়াম সালফেট তাপে ঊর্ধ্ব পাতিত হয় ।

[iv] অ্যামোনিয়াম সালফেটে তীব্র ক্ষার মেশালে অ্যামোনিয়া উত্পন্ন করে ।

[v] অ্যামোনিয়াম সালফেটের জলীয় দ্রবণ তড়িৎ পরিবাহী । জলীয় দ্রবণে সালফেট বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়াম আয়নে (NH+4) এবং সালফেট আয়ন (SO=4) উত্পন্ন করে ।

যথা : (NH4)2SO4 = 2NH+4 + SO=4   ।

গ্রাফাইট

গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ। এর স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। এটা সাধারণত স্তরীভূত, আঁশযুক্ত, দানাদার এবং নিবিড় পিণ্ড আকারে বা মাটির পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। গ্রাফাইটের কঠিনতা ১.০-২.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৯-২.৩।

বর্ণ

এটি লোহার মতো কালো অথবা গাঢ় ধূসর বর্ণের একটি পদার্থ।

প্রাপ্তিস্থান

গ্রানাইট, নাইস, মাইকা সিস্ট এবং স্ফটিকীয় চুনাপাথরের ফাটলে গ্রাফাইট বিরাট পিণ্ড আকারে অথবা আঁশযুক্ত স্তর হিসেবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ব্যবহার

উচ্চ তাপরোধক চুল্লির আস্তর, ঢালাই কাজ, রঙ, পেন্সিল, জ্বালানী তেল এবং ঝালাই দণ্ড তৈরি করতে গ্রাফাইট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন

সিলিকন একটি মৌল, এর প্রতীক Si ও পারমানবিক সংখ্যা 14। ভর হিসেবে এটি বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল তবে এটি প্রকৃতিতে খুব কমই বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি মূলত ধুলি, বালি গ্রহাণুপুঞ্জ এবং গ্রহসমুহে সিলিকনের অক্সাইড (সিলিকা) বা সিলিকেট আকারে থাকে। পৃথিবীর ভূত্বকের প্রায় ৯০% সিলিকেট যৌগে গঠিত এবং এটি পৃথিবীর ভূত্বকে অক্সিজেনের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল (ভর হিসেবে প্রায় ২৮%)।

১৭৮৭ সালে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়েশিয়ে প্রথম সিলিকন সনাক্ত করেন। কিন্তু, ১৮২৪ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াসকে মৌল হিসেবে সিলিকন আবিষ্কারের কৃতিত্ত্ব দেয়া হয়।

সিলিকন কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ এবং এর গলনাঙ্ক এবং হিমাংক যথাক্রমে ১৪১৪ এবং ৩২৬৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর তরল অবস্থার ঘনত্ব এর কঠিন অবস্থার ঘনত্বের চেয়ে বেশি। কঠিনে পরিনত করা হলে এর আয়তন অন্যান্য পদার্থের ন্যায় হ্রাস পায় না বরং বৃদ্ধি পায়। এই ধর্মটি পানির বরফে পরিনত হওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর তাপ পরিবাহকত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি যার মান প্রায় ১৪৯ ওয়াট·মি−1·কেলভিন−1 বিশুদ্ধ কেলাসাকার সিলিকন ধুসর বর্ণের যার ধাতব দ্যুতি বিদ্যমান। সিলিকন শক্ত, ভঙ্গুর এবং সহজে চেপ্টা করা যায়। কার্বন এবং জার্মেনিয়ামের ন্যায় এটি হীরকের ন্যায় ঘনকাকার কেলাস গঠন করে যার ল্যাটিস দুরত্ব ০.৫৪৩০৭১০ ন্যনোমিটার ।

টিএসপি

টিএসপি সারের পরিচিতিঃ টিএসপি বা ট্রিপল সুপার ফসফেট সর্বাধিক ব্যবহৃত ফসফেট সার। রক ফসফেট নামক খনিজ পদার্থের সাথে ফসফরিক এসিডের বিক্রিয়ার মাধ্যমে টিএসপি সার প্রস্তুত হয়। টিএসপি সারে নূন্যতম শতকরা ৪৬ ভাগ মোট ফসফেট (P2O2), শতকরা ৪০ ভাগ পানিতে দ্রবনীয় ফসফেট (P2O2) থাকে। রক ফসফেটের গুণগত মানের উপর ফসফেটের পরিমাণ নির্ভর করে। এ সারের রং সাধারণত ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর এবং অম্ল স্বাদযুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ আছে। এ সার দানাদার এবং দানার আকার ডিম্বাকৃতি হতে গোলকার এবং সংরক্ষিত অবস্থায় সাধারণত জমাট বাঁধে না।

  • টিএসপি সারের ব্যাগে দানাদার এসএসপি বা কখনো কখনো দানাদার এফএমপি সার ভর্তি করে টিএসপি সার হিসেবে বাজারজাত করা হয়। উল্লিখিত সারগুলো দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় সাধারণ কৃষক এটি প্রকৃতপক্ষে আসল টিএসপি কিনা তা সহজে সনাক্ত করতে পারেন না। এ সকল ভেজাল টিএসপি সারে ৪৬% মোট ফসফেটের পরিবর্তে ২০-২৫% মোট ফসফেট পাওয়া যায়।
  • কখনো কখনো জৈব পদার্থের সাথে, জিপসাম, ডলোমাইট ও কালো রং মিশিয়ে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহাযো দানাদার আকারে ভেজাল টিএসপি সার তৈরী করে বাজারজাত করা হয়।
  • অনেক সময় টিএসপি সারের সাথে ২০-২৫% দানাদার এসএসপি বা এফএমপি সার মিশিয়ে টিএসটি সার তৈরী করে বাজারজাত করা হয়।
  • কোন কোন সময় বিদেশ হতে আমদানীকৃত টিএসপি সারের নমুনায় ৪৬% মোট ফসফেটের পরিবর্তে ৩৫-৪১% এবং ৪০% পানিতে দ্রবণীয় ফসফেটের পরিবর্তে ৩২-৩৫% পানিতে দ্রবণীয় ফসফেট পাওয়া যায়।

টিয়ার গ্যাস

টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস কয়েক ধরনের রাসায়নিক যৌগের একীভূত নামকরণ। প্রকৃতপক্ষে এটি কোন গ্যাস নয়। মিহি গুড়ো পাউডার কিংবা তরলের অতি ক্ষুদ্রকণার সমষ্টি নিয়ে এ গ্যাস গঠিত। গুড়োয় ক্ষারজাতীয় রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। এর প্রভাবে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা-যন্ত্রণার উপস্থিতি ঘটায়। সাময়িকভাবে টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চোখ অন্ধত্বের পর্যায়ে উপনীত হয়। অন্যতম রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে পরিচিত টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে মনুষ্য চক্ষুর কর্নিয়ার স্নায়ুগুলো আক্রান্ত হয়। এরফলে অঝোর ধারায় কান্না, ব্যথা, এমনকি অন্ধ হয়ে যাবারও সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ওসি, সিএস, সিআর, সিএন বা ফিনাসিল ক্লোরাইড, ননিভ্যামাইড, ব্রোমোয়াসিটন, জাইলিল ব্রোমিড, পেঁয়াজ থেকে সংগৃহীত সাইন-প্রোপ্যানেথিয়াল-এস-অক্সাইড যৌগের সম্বন্বয়ে টিয়ার গ্যাস তৈরী করা হয়।

ক্যাটিনেশন

ক্যাটিনেশন [Catenation]:- যে ধর্মের জন্য কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পর সমযোজী বন্ধনের (এক-বন্ধন, দ্বি-বন্ধন, ত্রি-বন্ধন) সাহায্যে পরস্পর যুক্ত হয়ে সুস্থিত কার্বন শৃঙ্খল গঠন করে, কার্বন পরমাণুর সেই বিশেষ ধর্মকে ক্যাটিনেশন বলে ।  

একাধিক কার্বন পরমাণু এক-বন্ধন (-) (single bond), দ্বি-বন্ধন (=) (double bond) বা ত্রি-বন্ধন (≡) (triple bond) দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ গঠন করতে পারে ।

[i] এক-বন্ধন (-) (singl bond):- যেমন, ইথেন অণুতে  

এবং একই রূপে ইথাইল অ্যালকোহলে     কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে এক-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে ।

[ii] দ্বি-বন্ধন (=) (double bond):- যেমন ইথিলিন অণুতে দ্বি-বন্ধন দেখা যায় অর্থাৎ কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে দ্বি-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে ।

[iii] ত্রি-বন্ধন (≡) (triple bond):- যেমন অ্যাসিটিলিন অণুতে ত্রি-বন্ধন অর্থাৎ কার্বন-কার্বন পরমাণুর মধ্যে ত্রি-বন্ধন সৃষ্টি হয়ছে । H - C ≡ C - H

কিন্তু অজৈব যৌগের মধ্যে বন্ধন আয়নীয় ও সমযোজী দুটিই হতে পারে । অজৈব যৌগ সাধারণত আয়ানীয় বন্ধন দ্বারা যুক্ত : যেমন-NaCl, KCl, MgBr2, CaCl2 ইত্যাদি । কিন্তু কিছু কিছু অজৈব যৌগ আছে যারা সমযোজ্যতার দ্বারা যুক্ত হলেও আয়োনীয় যৌগের মতো ব্যবহার করে : যেমন- NH3, HCl, H2O, CO2 ইত্যাদি ।

ধাতু নিষ্কাশন

আকরিক হতে মূল্যবান ধাতু নিষ্কাশন করতে ধাতু-নিষ্কাশন বিদ্যা-র প্রয়োজন হয়। এতে তিনটি বিষয় রয়েছে। ১. আকরিক সংগ্রহ করা ২. ধাতু নিষ্কাশন করা ৩. অবশিষ্ট অপদ্রব্য অপসারণ করা। প্রথমে আকরিক সংগ্রহ করে তাকে গুড়ো করা হয়, যাতে করে প্রয়োজনীয় ধাতু যথাসম্ভব অপদ্রব্য থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর কাজ হল অপদ্রব্য আর ধাতুর মিশ্রণ হতে প্রয়োজনীয় ধাতুকে পৃথক করে ফেলা। এজন্য অনেক সময় এমন কিছু রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা হয়, যাতে আকরিক চূর্ণ মেশালে তা থেকে প্রয়োজনীয় ধাতু দ্রবনে চলে যায় এবং বাকি অপদ্রব্য অদ্রবনীয় অবস্থায় তেকে যায়। এরপর দ্রবনটিকে অন্যস্থানে সরিয়ে নেবার পর তা থেকে ধাতুটি নিষ্কাশন করা হয়। এছাড়া ইলেক্টোপ্লেটিং এর মাধ্যমেও ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একই আকরিকে একাধিক মূল্যবান ধাতু থাকে। সেক্ষেত্রে প্রথমে একটি ধাতু নিষ্কাশনের পর যে অপদ্রব্য থেকে যায়, তা ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় ধাতুটি নিষ্কাশনের কাঁচামাল হিসেবে। এভাবে পরপর ধাতু নিষ্কাশন চলতে থাকে।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি

গাড়ির ব্যাটারিকে লেড অ্যাসিড ব্যাটারি বলে। এই ব্যাটারি তৈরি হয় প্লেট, সীসা এবং লেড অক্সাইড এর সাথে ৩৫% সালফিউরিক এসিড ও ৬৫% পানির মিশ্রন থেকে। ব্যাটারি টেস্টের জন্য হাইড্রোমিটার দিয়ে ইলেকট্রোলাইটে সালফিউরিক এসিডের পরিমাণ মাপা হয়।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি বলতে সীসা ও অ্যাসিড সমৃদ্ধ ব্যাটারি বোঝায়।

এ গুলো মূলত গাড়ির ব্যাটারি। গাড়ি বা ইঞ্জিন স্টার্ট করতে বেশ শক্তিশালি একটি স্টার্টিং মোটর [যাকে সেলফ বলা হয়] থাকে এটিকে ১৫-৩০ সেকেন্ড চালু রাখলেই ইঞ্জিন স্টার্ট নিয়ে নেয়, অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য ২৫-১৫০ এমপিয়ার কারেন্ট প্রবাহের প্রয়েজন হয় ঐ সেলফ চালাতে এর পরে আর ব্যাটারির তেমন শক্তির কোন কাজ করতে হয় না বরং ইঞ্জিন এর অলটারনেটর হতে ব্যাটারি পুনরায় চার্জ হতে থাকে। এগুলোতে থাকে পাতলা প্লেট যা অনেক বেশি কারেন্ট বা এমপিয়ার তৈরি করতে পারে।

লেড অ্যাসিড ব্যাটারি ২ ধরনের: ডিপ সাইকেল ও গাড়ির ব্যাটারি। গাড়ির ব্যাটারিতে প্লেটগুলি পাতলা থাকে যাতে পৃষ্ঠ তড়িৎপ্রবাহ বেশি হয়। অন্যদিকে ডিপ সাইকেল ব্যাটারিতে দীর্ঘক্ষণ তড়িৎ সরবরাহ করার জন্য মোটা প্লেট ব্যবহার করা হয়।

আইপিএস-এ ডিপ সাইকেল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাটারি পুনঃআধানীকরণযোগ্য (রিচার্জেবল) ব্যাটারি; এটি অসংখ্যবার চার্জ ও ডিসচার্জ হয়।

অন্যদিকে গাড়ির ব্যাটারি অল্প সময়ের জন্য (৩০ সেকেন্ড) উচ্চ অ্যাম্পিয়ার (৩০-১০০ অ্যামপিয়ার) মানবিশিষ্ট তড়িৎ সরবরাহ করে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করে দেয়; এর পর গাড়ির অলটারনেটর গাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে গাড়ির ব্যাটারিকেও চার্জ করতে থাকে পুনরায় হাই এমপ এ ইঞ্জিন স্টার্ট করার জন্য এর ফলে গাড়ির ব্যাটারি তার শক্তির ২০% খরচ করে একাধিক বছর সার্ভিস দিতে পারে।

  1. CCA
  2. CA
  3. AH
  4. RC

সিমেন্ট

সিমেন্ট হল সেই সকল গুড়া জাতীয় পদার্থের সাধারণ নাম, যাদেরকে পানি বা অন্য কোন তরলের সাথে মিশ্রিত করলে কাদার মত নমনীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং তা কিছু সময়ের মধ্যে জমে গিয়ে বিভিন্ন দৃঢ়তার শক্ত পদার্থ গঠন করে। সিমেন্ট বাড়ী-ঘর, রাস্তা, সেতু ইত্যাদি যাবতীয় নির্মান কাজের প্রধান উপাদান।
lol অনেক ধরনের সিমেন্ট হয়ে থাকে। যেমন:

  • পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট
  • পজুলানা সিমেন্ট
  • অধিক অ্যালুমিনা সমৃদ্ধ সিমেন্ট
  • ক্ষয়রোধী সিমেন্ট
  • পানিরোধী সিমেন্ট
  • রঙ্গীন সিমেন্ট ইত্যাদি

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃতর হয় পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট।

সিমেন্টের মূল উপাদানগুলি হল - চূনাপাথর, সিলিকা (বালি), আয়রন অক্সাইড ইত্যাদি। এই উপাদানগুলি কে ২ ভাগে ভাগ করা যায়

  • ক. চুন জাতীয় পদার্থ।(চক্, চূনাপাথর ইত্যাদি)
  • খ. মাটি জাতীয় পদার্থ।(সিলিকা, আয়রন অক্সাইড, এ্যালুমিনা ইত্যাদি)

গ্যাস মাস্ক

গ্যাস মাস্ক বায়ুবাহিত জীবাণু, দূষণকারী পদার্থ এবং বিষাক্ত গ্যাস থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত একটি মুখোশ। গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান হল- ফসফরাস পেন্টা অক্সাইড ।

ক্লোরিন

ক্লোরিন বিভিন্ন রূপে পানির জীবানুনাশ করার জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি কেমিকেল। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে পানিশোধণে ক্লোরিন ব্যবহার শুরুর করার পর সারা বিশ্বে পানিজনিত রোগে মৃত্যূহার অনেক হ্রাস পেয়েছে।
জরুরি অবস্থায় পানি শোধন কাজে হ্যালোট্যাব বা ক্লোরিনের ট্যাবলেট ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। কত পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে একটি ট্যাবলেট দিতে হবে সেটা ট্যাবলেটের মোড়কে লেখা থাকে। এভাবে পরিশোধিত পানিতে কিছুটা ক্লোরিনের গন্ধ থাকে। তবে, সেই পানিকে সামান্য গরম করলেই সমস্ত গন্ধ চলে যাওয়ার কথা। আমাদের দেশে মানুষ পানিতে ক্লোরিন তথা ব্লিচিং-এর গন্ধ পেলে নাক সিটকায়, অথচ উন্নত বিশ্বে এই গন্ধ পেলেই পানি পান করতে নিরাপদ বোধ করে মানুষ, আর সরবরাহকৃত পানিতে ক্লোরিনের গন্ধ না থাকলেই সেই পানি পান করতে ইতস্তত করে।

কয়লা

কয়লা এক প্রকারের জীবাষ্ম জ্বালানী। প্রাচীন কালের বৃক্ষ দীর্ঘদিন মাটির তলায় চাপা পড়ে ধীরে ধীরে কয়লায় পরিণত হয়। সাধারণতঃ কয়লা কালো বর্ণের হয়ে থাকে। কার্বনের একটি রূপ। কাঠ কয়লা কাঠ হতে এবং খনিজ কয়লা খনিতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, চিন প্রভৃতি দেশে কয়লা খনি আছে।

কয়লাকে চার শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

  • পীট
  • লিগনাইট
  • বিটুমিনাস
  • এ্যানথ্রাসাইট

আর্কিমিডিস

আর্কিমিডিস (খ্রি.পূ. ২৮৭-২১২) একজন গ্রিক গণিতবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক। যদিও তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে, তবুও তাঁকে ক্ল্যাসিক্যাল যুগের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পদার্থবিদ্যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে স্থিতিবিদ্যা আর প্রবাহী স্থিতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন এবং লিভারের কার্যনীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যাপ্রদান। পানি তোলার জন্য আর্কিমিডিসের স্ক্রু পাম্প, যুদ্ধকালীন আক্রমণের জন্য সীজ (ইংরেজি: siege সীঝ়্‌) ইঞ্জিন ইত্যাদি মৌলিক যন্ত্রপাতির ডিজাইনের জন্যও তিনি বিখ্যাত। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তাঁর নকশাকৃত আক্রমণকারী জাহাজকে পানি থেকে তুলে ফেলার যন্ত্র বা পাশাপাশি রাখা একগুচ্ছ আয়নার সাহায্যে জাহাজে অগ্নিসংযোগের পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

আর্কিমিডিসকে সাধারণত প্রাচীন যুগের সেরা এবং সর্বাকালের অন্যতম সেরা গণিতজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি মেথড অফ এক্সহশন ব্যবহার করে অসীম ধারার সমষ্টিরূপে প্যারাবোলার বক্ররেখার অন্তগর্ত ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করেন এবং পাই -এর প্রায় নিখুঁত একটি মান নির্নয় করেন। এছাড়াও তিনি আর্কিমিডিসের স্পাইরালের সংজ্ঞা দেন, বক্রতলের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র প্রদান করেন এবং অনেক বড় সংখ্যাকে সহজে প্রকাশ করার একটি চমৎকার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

মাদাম কুরী

মাদাম কুরী প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই ফরাসি বিজ্ঞানী ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তার উপর গবেষণার জন্য তার স্বামী পিয়ের ক্যুরি এবং তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুইটি ভিন্ন শাখায় দুইবার নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা যার অসামান্য মেধার কারণে ১৯৯৫ সালে প্যান্থিয়নে সমাহিত করা হয়।

মাদাম কুরী ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ার্সাতে জন্মগ্রহণ করেন, যেটি তখন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। মাদাম কুরী ওয়ার্সার গোপন ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ওয়ার্সাতেই তার ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে তিনি তার বড় বোন ব্রোনিস্লাভাকে অনুসরণ করে প্যারিসে পড়তে যান। সেখানেই তিনি তার পরবর্তি বৈজ্ঞানিক কাজ পরিচালিত করেছিলেন। ১৯০৩ সালে মাদাম কুরী তার স্বামী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেলের সাথে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জেতেন। তিনি এককভাবে ১৯১১ সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জেতেন।

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং, (জন্ম: ৮ জানুয়ারি, ১৯৪২) বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক (স্যার আইজ্যাক নিউটনও একসময় এই পদে ছিলেন) হিসেবে ১ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে অবসর নেন। এছাড়াও তিনি কেমব্রীজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত আছেন। শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল এবং এ.এল.এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ - যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর যাবৎ তিনি তাঁর গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের দুইটি অবদানের কথা সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত। প্রথম জীবনে সতীর্থ রজার পেনরাজের সঙ্গে মিলে সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব। হকিং প্রথম অনিশ্চয়তার তত্ত্ব ব্ল্যাক হোল-এর ঘটনা দিগন্তে প্রয়োগ করে দেখান যে ব্ল্যাক হোল থেকে বিকিরিত হচ্ছে কণা প্রবাহ। এই বিকরণ এখন হকিং বিকিরণ নামে (অথবা কখনো কখনো বেকেনস্টাইন-হকিং বিকিরণ) অভিহিত। প্রায় ৪০ বছর ধরে হকিং তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা করছেন। লিখিত পুস্তক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির থেকে হকিং একাডেমিক জগতে যথেষ্ট খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য। ২০১৪ সালে তাকে নিয়ে একটি মুভি তৈরী হয়,,নাম থিওরী অফ এভরিথিং।

প্রতিধ্বনি

প্রতিধ্বনি
 

যখন কোনো শব্দ মূল শব্দ থেকে আলাদা হয়ে মূল শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তখন ঐ প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি বলে। সহজ কথায় প্রতিফলনের জন্য ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।

প্রতিফলকের নূন্যতম দূরত্বঃ কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দ বা ধ্বনি কানে শোনার পর সেই শব্দের রেশ প্রায় 1/10 সেকেন্ড যাবৎ আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। একে শব্দানুভুতির স্থায়ীত্বকাল বলে। এই 1/10 সেকেন্ডের মধ্যে অন্য শব্দ কানে এসে পৌঁছালে তা আমরা আলাদা করে শুনতে পাই না। সুতরাং কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে হলে প্রতিফলককে উৎস থেকে এমন দূরত্বে রাখতে হবে যাতে মূল শব্দ প্রতিফলিত হয়ে কানে ফিরে আসতে অন্তত  সেকেন্ড সময় নেয়। যদি 0°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s ধরা হয়  তাহলে  1/10 সেকেন্ডে শব্দ 33.2m যায়। সুতরাং প্রতিফলককে শ্রোতা থেকে কমপক্ষে 33.2m/2 বা 16.6m  দূরত্বে রাখতে হবে। 

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

শ্রাব্যতার সীমা এদের ব্যবহার
 

যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০  বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

সুপারসনিক বিমান

 সুপারসনিক বিমান

কনকর্ড পৃথিবীর একমাত্র আবিষ্কৃত যাত্রীবাহী সুপারসনিক বিমান, যা শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড যৌথ উদ্যোগে বেসামরিক বিমান পরিবহনের এই বিস্ময় কনকর্ড তৈরি করেছিল। ১৯৬৯ সালে ২ মার্চ ফ্রান্সের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স প্রথমবারের মতো তাদের বহরে কনকর্ড বিমান সংযুক্ত করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। একই বছরের ৯ এপ্রিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কনকর্ড বিমানের ফ্লাইট চালু করে। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো কনকর্ড অবতরণ করে ১৯৭০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই প্যারিসের সন্নিকটে কনকর্ড দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩ জন যাত্রী। বিভিন্ন সময় কনকর্ডে বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি আবিষ্কৃত হওয়ায় ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর কনকর্ড বিমানের উড্ডয়ন চিরতরে বন্ধ করে দেয় ফ্রান্স ও ব্রিটেন। বর্তমানে স্বপ্নের কনকর্ড ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি জাদুঘরের শোভা বাড়িয়েছে। 

কম্পাঙ্ক

কম্পাঙ্ক  

প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। স্পন্দনশীল কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে ১ Hz বলে। একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক হলো:    f=1/T

শব্দের বেগ

শব্দের বেগ

শব্দ একধরনের তরঙ্গ বিশেষ, যা বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয় এবং জড় মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাহিত হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায়। শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে। কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে।

প্রকৄত পক্ষে আলোক তরঙ্গের বেগের   তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম। শুন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক বায়ুচাপে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।  কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বাতাসের থেকে ১৫ গুন বেশী। বায়ুশুন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় লোহাতে শব্দের বেগ ৫২২১ মিটার/ সেকেন্ড।

আল্ট্রাসনোগ্রফি

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

মানুষের দেহের অভ্যন্তরীণ ছবি এক্স-রে দ্বারা যেমন তোলা যায় তেমন শব্দোত্তর কম্পনের শব্দের সাহায্যে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় করা যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম আল্ট্রাসনোগ্রফি। শব্দকে দেহ অভ্যন্তরে প্রেরণ করা হয় এবং প্রতিফলিত শব্দ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে টেলিভিশনের পর্দায় ফেলে রোগ সনাক্ত করা যায়।

এক্স-রে

এক্স-রে

রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। দ্রুতগতিসম্পন্ন ইলেক্ট্রন কোনো ধাতুকে আঘাত করলে তা থেকে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এবং উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন এক প্রকৃতির বিকিরণ উৎপন্ন হয়। এই বিকিরণকে বলা হয় এক্সরে বা এক্সরশ্মি(X-Ray)।

রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম (সাধারণত ১০-০.০১ ন্যানোমিটার), সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে এদের খালি চোখে দেখা যায় না। ১৮৯৫ সালে উইলিয়াম রন্টজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়।

আলট্রাসনিক শব্দ

আলট্রাসনিক শব্দ

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লা কে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বলে।

রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে শব্দোত্তর কম্পন ব্যবহৃত হয়।

সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়

শব্দোত্তর কম্পন

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বলে।

সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য SONAR নামক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর পূরো নাম Sound Navigation And Ranging । এই যন্ত্রে শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ প্রেরণ ও গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।

সমুদ্রের গভীরতা, d = vt / 2

তরঙ্গের বেগ

কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে। প্রকৄত পক্ষে আলোক তরঙ্গের বেগের তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম।মেঘে মেঘে সংঘর্ষের ফলে আকাশে বিদ্যুতের ঝলক এবং শব্দ একই সাথে উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ ঝলকের গতিবেগ আলোর সমান, সেকেন্ডে ৩×১০৮ মিটার। অন্যদিকে শব্দের বেগ সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাই শব্দ পৌঁছানোর অনেক আগেই আলোর ঝলকানি আমাদের নিকট পৌঁছে যায়।

আলোর গতিবেগ

আলোর গতিবেগ

বিজ্ঞানী নিউটন বলেছেন, ‘আলো’ হচ্ছে ছোট ছোট অসংখ্য কণিকা দিয়ে গঠিত এবং ওই কণিকাগুলির কোনো ওজন নেই। এই কণিকার নাম হলো ‘ফোটন’ (Photon)। যে কোনো উৎস থেকেই এই কণিকা অর্থাৎ ফোটনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পদার্থ বিজ্ঞানী হাইগেন্স বলেন, ‘আলো’ চলে তরঙ্গের মতো করে।
আবার ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মতানুসারে, ‘আলো’ চলে গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে বা প্যাকেট প্যাকেট আকারে (একে আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে)।

আলোর নির্দিষ্ট গতিবেগ আছে এবং তা হলো শূন্যস্থানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার অর্থাৎ কোনো উৎস থেকে বের হয়ে এটি প্রতি সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার করে দূরে চলে যাবে। আলোক তরঙ্গের বেগের   তুলনায় শব্দ তরঙ্গের বেগ অনেক কম।

শব্দ বেগ

শব্দ বেগ

শব্দ একধরনের তরঙ্গ বিশেষ, যা বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয় এবং জড় মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাহিত হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায়। শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে। কোন শব্দায়মান বস্তু হইতে শ্রোতার কানে শব্দ পৌছাতে কিছু সময় লাগে।

শুন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক বায়ুচাপে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য শব্দের বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।  কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বাতাসের থেকে ১৫ গুন বেশী। বায়ুশুন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় লোহাতে শব্দের বেগ ৫২২১ মিটার/ সেকেন্ড।

কাঁসা

কাঁসা হচ্ছে রাং/টিন (Tin) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু, অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে, কাঁসা আর পিতল হচ্ছে একই জিনিস (মিশ্র ধাতু), কিন্তু পিতল হচ্ছে দস্তা (Zinc) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু । কাজেই, কাঁসা আর পিতল একই জিনিস (মিশ্র ধাতু) নহে ।

বাংলাদেশ এবং ভারতে বিভিন্ন ধরনের অলংকারাদি এবং গৃহস্থালির উপকরণ তৈরীতে কাঁসা এবং পিতল ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এই দুই ধরনের ধাতুর তৈরী ব্যবহার্য জিনিস-পত্র দ্বারা পারিবারিক ঐতিহ্য (বনেদী-ভাবধারা) প্রকাশ পেয়ে থাকে । বর্তমান যুগে যেমন কোনো পরিবারে স্টেইনলেস স্টীলের জিনিস দ্বারা পরিবারের স্বচ্ছলতাকে নির্দেশ করে, তেমনি আগেরকার যুগে ধনী পরিবারগুলোর কাঁসা এবং পিতলের ব্যবহার দ্বারা ঐ সকল পরিবারগুলোর আভিজাত্য প্রকাশ পেয়ে থাকত । শুধু তাই নয়, এখনও অনেক ধনী পরিবার রান্না-বান্নার কাজে কাঁসা কিংবা, পিতল ব্যবহার না করলেও কাঁসা এবং পিতলের ফুলদানী, টেবিল-ল্যাম্প, কিংবা, ঝাঁড়বাতি, ইত্যাদি ক্রয় এবং ব্যবহার করে থাকেন ।

কার্বন ডাই অক্সাইড

কার্বন ডাই অক্সাইড (রাসায়নিক সংকেত CO2) একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ যা দুইটি অক্সিজেন পরমাণু ও একটি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু একটি কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।এটা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় বিরাজ করে এবং এই অবস্থায় পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান যেখানে ট্রেস গ্যাস হিসাবে এর ঘনত্ব ০.০৩৯%।

কার্বন চক্রে গাছপালা,জলজ উদ্ভিজ্জ এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়া সৌরশক্তি দ্বারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকেকার্বোহাইড্রেড উৎপন্ন করে যার সাথে সাথে বর্জ্য পদার্থ হিসাবে অক্সিজেনও উৎপন্ন করে। কিন্তু,সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়া অন্ধকারে সংঘঠিত হয় না এবং রাতে কিছু পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় উদ্ভিদের শ্বসন ক্রিয়ার জন্য। কার্বন ডাইঅক্সাইড কয়লা বা হাইড্রোকার্বন এর দহন দ্বারা উত্পাদিত হয়।এছাড়াও চিনি থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় বিয়ার এবং ওয়াইন প্রস্তুতিতে এবং সব জীবন্ত প্রাণীর শ্বসন দ্বারা কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।এটা মানুষ এবং অন্যান্য জীবজন্তু শ্বাস নেওয়ার সময় ত্যাগ করে।এটা আগ্নেয়গিরি,উষ্ণপ্রসবণ এবং ঐসব জায়গা যেখানে ভূপৃষ্ট পাতলা কার্বোনেট শিলা ক্ষয়ের ফলে।কার্বন ডাই অক্সাইড এছাড়াও সমুদ্র তলদেশে,হ্রদে এবং তেল এবং গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।

কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিবেশগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য বিষয়।কার্বন ডাই অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউজ গ্যাস যা ভূপৃষ্ঠের বিকৃর্ণ তাপ শোষন করে।বায়ুমন্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইড পৃথিবীতে জীবনের একটি প্রাথমিক উৎস এবং এর ঘনত্ব পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে সালোকসংশ্লেষন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কার্বন ভিত্তিক জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে জীব জগতের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে।এটি সমুদ্রকে অম্লীয়করণের প্রধান উৎস যেহেতু এটি পানিতে কার্বনিক অ্যাসিড রুপে দ্রবীভূত হয় যা একটি দুর্বল এসিড এবং এটা পানিতে সম্পূর্ণরুপে আয়নিত হয় না।

CO2+H2O is in equilibrium withH2CO3

অক্সিজেন

অক্সিজেন বা অম্লজান একটি রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O ও পারমানবিক সংখ্যা ৮। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ের অম্লজান নামটি নির্দিষ্ট করেন, কারণ তখন মনে করা হতো সকল অম্লের মধ্যে অম্লজান বিদ্যমান থাকে যা ভুল ছিল। অক্সিজেনের যোজ্যতা সাধারণ ২। এই মৌলটি অন্যান্য মৌলের সাথে সাধারণত সমযোজী বা আয়নিক বন্ধন দ্বারা যৌগ গঠন করে থাকে। অম্লজান গঠিত সাধারণ কিছু মৌলের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে: পানি (H2O), বালি (SiO2, সিলিকা) এবং আয়রন অক্সাইড (Fe2O3)। দ্বিপরমাণুক অম্লজান বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের একটি।আগুন জ্বালাতে অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এবং অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আগুন নিভে যায় । উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সময় এই মৌলটি উৎপন্ন হয় এবং এটি সকল প্রাণীর শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

কার্বন

প্রকৃতিতে কার্বনের দুইটি বহুরুপ রয়েছে। একটি হীরক এবং অন্যটি গ্রাফাইট। অনেক আগে থেকেই মানুষ এ পদার্থ দুটিকে চিনতো। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রায় হীরাকে দহন করালে যে অবশেষ হিসেবে কিছু পাওয়া যায়না তাও মানুষের জানা ছিল। কিন্তু এই পদার্থ দুটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদার্থ হিসেবে মনে করা হতো। কার্বন ডাই অক্সাইড আবিষ্কারের পর এই সমস্যার সমাধান হয়। ল্যাভয়সিয়ে দেখেন যে, হীরক এবং কাঠকয়লা দুটির দহনেই কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া গিয়েছিল যে এরা অভিন্ন পদার্থ। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে Methods of Chemical Nomenclature নামক গ্রন্থে (ল্যাভয়সিয়ে, এল. গুইটন ডি. মারভিউ, সি. বারথোলেট এবং এ. ফোউরক্রই কর্তৃক লিখিত) প্রথম কার্বনেয়াম (কার্বন) নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। ল্যাটিন নাম তথা কার্বনেয়াম আবার সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। সংস্কৃত ভাষায় ক্রা শব্দের অর্থ ফোটা। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে মৌলটির নাম কার্বন দেয়া হয়েছিল।

১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এস. টেন্যান্ট আবিষ্কার করেন, সম পরিমাণ হীরক ও গ্রাফাইটের দহনে সমআয়তন কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। অবশেষে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে এল. গুইটন ডি. মারভিউ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেন যে হীরক, গ্রাফাইট এবং কোকের একমাত্র উপাদান হচ্ছে কার্বন। এর বিশ বছর পর তিনি সতর্কতার সাথে উত্তপ্ত করে হীরককে গ্রাফাইট এবং গ্রাফাইটকে কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করতে সমর্থ হন। কিন্তু গ্রাফাইট থেকে হীরক তৈরির মত প্রযুক্তি তখনও ছিলনা। অবশেষে ১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি দল ৩০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা এবং ১০৯ প্যাসকেল চাপে গ্রাফাইট থেকে হীরক সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হন। এর কিছুদিন পর সোভিয়েত ইউনিয়নে কির্বন নামে আরেকটি পদার্থ তৈরি করা হয় যাকে কার্বনের তৃতীয় বহুরুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদার্থের ক্ষেত্রে কার্বনের পরমাণুগুলো একটির সাথে আরেকটি সংযুক্ত হয়ে লম্বা শিকল তৈরি করে। এটি দেখতে অনেকটা ভূসিকালির মত।

পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের আলোকে বস্তু এবং শক্তির রূপান্তর ও সম্পর্ক উদঘাটন এবং পরিমাণগতভাবে তা প্রকাশ করা।

পদার্থবিজ্ঞানকে আমরা  প্রধানত নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে ভাগ করতে পারি

(i)বলবিজ্ঞান

(ii)তাপগতিবিজ্ঞান

(iii)শব্দবিজ্ঞান

(iv)আলোকবিজ্ঞান

(v)তাড়িতচৌম্বক বিজ্ঞান

(vi)কঠিন অবস্থার বিজ্ঞান

(vii)পারমাণবিক বিজ্ঞান

(viii)নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান

(ix)কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান

(x)ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

থেলিস(খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৮-৫৬৯ ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষৎবাণীর জন্য বিখ্যাত। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বকধর্ম সম্পর্কে জানতেন।

 পিথাগোরাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫২৭-৪৯৭ ) বিভিন্ন জ্যামিতিক উপপাদ্য ছাড়াও কম্পমান তারের উপর তাঁর কাজ রয়েছে। বর্তমান বাদ্যযন্ত্র এবং সংগীত বিষয়ক অগ্রগতির পিছনে তাঁর অবদান আছে।

গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন।

গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস(খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন।

আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম(৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন(৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। টলেমী(১২৭-১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাজ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আল মাসুদী(৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রজার বেকন(১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি(১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পি হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট(১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

জার্মানির স্নেল(১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।    

হাইগেন(১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

রবার্ট হুক(১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন।

বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল(১৬২৭-১৬৯১)।

ভন গুয়েরিক(১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন।

রোমার(১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।

কেপলার(১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের(১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা ঘটে ইতালির বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর(১৫৬৪-১৬৪২) হাতে। তিনি প্রথম দেখান যে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল ভৌত রাশির সংজ্ঞা প্রদান এবং এদের সম্পর্ক নির্ধারণ বৈজ্ঞানিক কর্মের মূল ভিত্তি। গাণিতিক তত্ত্ব নির্মাণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সে তত্ত্বের সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন গ্যালিলিও। তিনি সরণ, গতি, ত্বরণ, সময় ইত্যাদির সংজ্ঞা প্রদান ও তাদের মধ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করেন। ফলে তিনি বস্তুর পতনের নিয়ম আবিষ্কার ও সৃতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

নিউটন(১৬৪২-১৭২৭) তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার সাহায্যে আবিষ্কার করেন বলবিদ্যা ও বলবিদ্যার বিখ্যাত তিনটি সূত্র এবং বিশ্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র। আলোক, তাপ ও শব্দবিজ্ঞানেও তাঁর অবদান আছে। গণিতের নতুন শাখা ক্যালকুলাসও তাঁর আবিষ্কার।

জেমস ওয়াটের(১৭৩৬-১৮১৯) আবিস্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড(১৭৭৭-১৮৫১) দেখান যে তড়িৎপ্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আছে।

মাইকেল ফ্যারাডে(১৭৯১-১৮৬৭), হেনরী (১৭৯৭-১৮৭৯) ও লেঞ্জ (১৮০৪-১৮৬৫) চৌম্বক ক্রিয়া তড়িৎপ্রবাহ উৎপাদন করে এই ঘটনা আবিষ্কার করেন। এর ফলে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

১৮৬৪ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল(১৮৩১-১৮৭৯) দেখান যে আলোক এক প্রকার তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। তিনি তড়িৎক্ষেত্র এবং চৌম্বকক্ষেত্রকে একীভূত করে তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের বিকাশ ঘটান।

১৮৮৮ সালে হেনরিখ হার্জও(১৮৫৭-১৮৯৮) একই রকম বিকিরণ উৎপাদন ও উদঘাটন করেন।

১৮৯৬ সালে মার্কনী(১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে মোর্সকোডে সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আগে বাঙালী বিজ্ঞান জগদীশ চন্দ্র বসু(১৮৫৮-১৯৩৭)  তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করেন। এভাবে বেতার যোগাযোগ জন্ম লাভ করে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রনজেন(১৮৪৫-১৯২৩) এক্স রে এবং বেকেরেল(১৮৫২-১৯০৮) ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

ম্যাক্স প্লাংক(১৮৫৮-১৯৪৭) আবিস্কার করেন বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব।  

আলবার্ট আইনস্টাইন(১৮৭৯-১৯৫৫) প্রদান করেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের(১৮৭১-১৯৩৭) পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব ও নীলস বোরের(১৮৮৫-১৯৬২) হাইড্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন স্তরের ধারণা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

১৯৩৮ সালে অটো হান(১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান(১৯০২-১৯৮০) বের করেন নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। এর ফলে জন্ম নেয় নিউক্লিয় বোমা এবং নিউক্লিয় চুল্লী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪) তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ম্যাক্স প্লাংকের কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি শুদ্ধতর প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তাঁর তত্ত্ব বোস – আইনস্টাইন সংখ্যায়ন নামে পরিচিত। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ এক শ্রেণীর মৌলিক কণাকে তাঁর নামানুসারে বোসন বলা হয়।

তিনজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তানের আবদুস সালাম (১৯২৬-১৯৯৬), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলডন গ্ল্যাশো(১৯৩২- ) এবং স্টিভেন ওয়াইনবার্গ(১৯৩৩- ) একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের বেলায় মৌলিক বলগুলোকে একীকরণের ক্ষেত্রে তাড়িত দুর্বল বল আবিষ্কার করে অসামান্য অবদান রাখেন।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন(১৮৮৮-১৯৭০) রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পদার্থবিজ্ঞান যথেষ্ট অবদান রাখেন। এর ফলে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ  অগ্রগতি মহাশুন্য অভিযান।

কৃত্রিম উপগ্রহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানে এবং যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে।

 

গ্রাফাইট

গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ যা স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। এটা সাধারণত স্তরীভূত, আঁশযুক্ত, দানাদার এবং নিবিড় পিণ্ড আকারে বা মাটির পিণ্ড আকারে পাওয়া যায়। গ্রাফাইটের কঠিনতা ১.০-২.০ এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৯-২.৩।

এটি লোহার মতো কালো অথবা গাঢ় ধূসর বর্ণের একটি পদার্থ।গ্রানাইট, নাইস, মাইকা সিস্ট এবং স্ফটিকীয় চুনাপাথরের ফাটলে গ্রাফাইট বিরাট পিণ্ড আকারে অথবা আঁশযুক্ত স্তর হিসেবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।উচ্চ তাপরোধক চুল্লির আস্তর, ঢালাই কাজ, রঙ, পেন্সিল, জ্বালানী তেল এবং ঝালাই দণ্ড তৈরি করতে গ্রাফাইট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফাইট হচ্ছে একমাত্র অধাতু যা তড়িৎ পরিবহন করতে সক্ষম ।

হাইড্রোজেন

হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণীর প্রথম উপাদান মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H। প্রাচীন গ্রিক শব্দ হুদ্রো- অর্থ "জল" বা "পানি" ("উদ-") ও গেনেস  অর্থ "উৎপাদক" ("জনক") থেকে এর হুদ্রোগেন (ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ। অনেক পুরাতন বাংলা বইতে একে উদজান বলা হয়েছে। আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন রংহীন, গণ্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বিপরমাণুক গ্যাস (H2)।

বায়ু

বায়ু 

পৃথিবীর চারদিক বেষ্টনকারী গ্যাসীয় আবরণ যা পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে পৃথিবী-সংশ্লিষ্ট হয়ে রয়েছে। বায়ুমন্ডল পৃথিবীর জীবজগৎকে ক্ষতিকর বিকিরণ এবং মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা করে। নানাবিধ গ্যাসের মিশ্রণে বায়ু গঠিত, যার মধ্যে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ সর্বাধিক। এর প্রধান পরিবর্তনশীল দুটি উপাদান হলো জলীয়বাষ্প ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড। বায়ুর গ্যাসীয় সাংগঠনিক উপাদানগুলো হচ্ছে: নাইট্রোজেন ৭৮.০৯%, অক্সিজেন ২০.৯৫%, আর্গন ০.৯৩%, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% এবং সামান্য পরিমাণে নিয়ন, হিলিয়াম, মিথেন, ক্রিপটন, হাইড্রোজেন, জেনন এবং ওজোন।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

তাপ

তাপ হলো এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি জাগায়। তাপ উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। সুতরাং উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে। SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল  (J)। পূর্বে তাপের একক হিসাবে ক্যালরি  (Cal) ব্যবহৃত হতো।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে।পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

মৌলিক পদার্থ

মৌলিক পদার্থ

যে সকল পদার্থকে  রাষায়নিক ভাবে বিশ্লেষন করলে ঐ পদার্থ ছাডা পৃথক ধর্ম  বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন– কার্বন, হাইড্রোজেন, লৌহ ইত্যাদি। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি। সর্বশেষ মৌলটির নাম আনআনোক্টিয়াম (ununoctium)। এর ভিতরে ৯৮টি প্রাকৃতিক পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এর ভিতর ৮০টি মৌলের স্থায়ী রূপ আছে।

আধুনিক মতবাদ অনুসারে, প্রত্যেক মৌলের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত পরমাণু থাকে। পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়, এর তিনটি উপাদানের বিচারে। এই উপাদান তিনটি হলো— ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। পরমাণুর কেন্দ্রীয় অংশকে সাধারণভাবে বলা হয় নিউক্লিয়াস। সাধারণভাবে মৌলিক পদার্থকে ভৌত রূপ অনুসারে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগ দুটি হলো— ধাতু (লৌহ, ক্রোমিয়াম, সোনা ইত্যাদি) ও অধাতু (হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, কার্বন  ইত্যাদি)।

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে।পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

বরফের ঘনত্ব তরল পানির তুলোনায় কম এবং আয়তন বেশি। বরফকে উত্তপ্ত করে পানিতে পরিণত করলে  ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ফলে আয়তন হ্রাস পায়।

আবার,কিছু কিছু কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাদের ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। আয়োডিন, কর্পূর,নিশাদল- এগুলোকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাই এদের  ঊর্ধ্বপাতিত বস্তু বলা হয়।

আবার চাপ অপসারণে এর বিপরীত ঘটনা ঘটে।কেননা,তখন পদার্থের অনুগুলোর ছোটাছোটি হ্রাস পায় এবং বস্তু বায়বীয় থেকে তরল ও তরল থেকে কঠিনে রূপান্তরিত হয়। উল্লেখ্য,নির্দিষ্ট চাপে কোন তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় জমতে শুরু করে সে তাপমাত্রাকে বলা হয় হিমাংক।আর  নির্দিষ্ট চাপে কোন কঠিন  পদার্থ যে তাপমাত্রায় গলতে  শুরু করে সে তাপমাত্রাকে পদার্থের গলনাংক বলা হয়।আর নির্দিষ্ট চাপে কোন তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে সে তাপমাত্রাকে পদার্থের স্ফুটনাংক বলা হয়।এগুলো পদার্থের ভৌত অবস্থা।কেননা,এক্ষেত্রে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠনের কোন পরিবর্তন হয় না। 

ওয়াটার গ্যাস

ওয়াটার গ্যাস প্রস্তুত হয় সমআয়তন হাইড্রোজেন ও কার্বন মনো অক্সাইডের মিশ্রণে ।

লাল উত্তপ্ত কোক কার্বন এর উপর বাস্প চালনা করলে ওয়াটার গ্যাস প্রস্তত হয় ।

বিক্রিয়াটি নিন্মে দেয়া হল -

H2O + C → H2 + CO (ΔH = +131 kJ/mol)

কোয়ার্টজ ঘড়ি

কোয়ার্টজ কি :

কোয়ার্টজ একটি সিলিকন ডাইঅক্সাইড বা সিলিকার ক্রিস্টাল ।এর একটি নির্দিষ্ট আকার এবং আকৃতির কম্পন সেকেন্ডে ৩২৭৬৮ বার। অবশ্যই এই কম্পন দেয়ার জন্য এতে ব্যাটারির সংযোগ দিতে হবে। একটা 'কাউন্টার' কম্পন ৩২৭৬৮ বার হলে তা গণনা করে এবং ঘড়ির সেকেন্ড নির্দেশক কাঁটায় সংকেত পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই তা ঘড়িতে সঠিকভাবে ১ সেকেন্ডের সংকেত দেয়।   

ঘড়িতে এটি যেভাবে কাজ করে :

ঘড়ির সময় নির্ধারণের জন্য ঘড়ির ভিতর অবশ্যই এমন কিছু থাকা লাগবে যা বলে দিবে এক সেকেন্ড সময় পার হয়েছে।এক্ষেত্রে 'টাইমার'ই ঘড়ির এক সেকেন্ড সময় বলে দেয়। ঘড়ি এই টাইমিং পায় কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল দিয়ে বানানো অসিলেটর (কম্পন দেয় যে সিসটেম) থেকেই এবং এটি পরিবর্তিত হয়ে সেকেন্ড নির্দেশক কাঁটায় চলে আসে। এভাবে একটা ঘড়ি কাজ করে।  

নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড

নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার প্রতীক NO2 । ইহা নাইট্রোজেন এর কতিপয় অক্সাইডের মধ্যে অন্যতম ।নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস।  প্রতিবছর এটি শিল্প কারখানায় কয়েক লক্ষ টন উৎপাদন করা হয়।

ইহা একটি  লালচে বাদামী বর্ণের বিষাক্ত গ্যাস যা বায়ু দূষণের অন্যতম কারন হিসাবে চিহ্নিত করা হয় ।

ইহা নাইট্রিক অক্সাইডের অক্সিডেশন এর মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় ।

নিন্মে এর বিক্রিয়া দেয়া হল -

2NO+O2 → 2NO2

ক্লোরিন

ক্লোরিন একটি রাসায়নিক উপাদান যার প্রতীক Cl  এবং পারমানবিক সংখ্যা ১৭ । এটি হ্যালোজেন গ্রুপ এর অন্তর্ভুক্ত যা দেখতে কিছুটা হলুদাভ-সবুজ রং এর হয় ।এটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক এবং অক্সিজেন এর প্রতি প্রচন্ড আসক্তি রয়েছে । এ কারনে মুক্ত ক্লোরিন পৃথিবিতে দুর্লভ ।

ক্লোরিন পানিতে স্বল্প পরিমাণে দ্রবণীয় । পানিতে ক্লোরিন দ্রবীভূত করলে তখন এটাকে বলা হয় ক্লোরিন পানি। পানির মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস দ্রবীভূত করলে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে। এই হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড আবার বিযোজিত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও জাইমান অক্সিজেন তৈরি করে [O]।

এর বিক্রিয়াটি নিন্মে দেয়া হল-  

Cl2+H2O→2HCl+[O]

ক্লোরিন পানির ব্যবহার :

-উৎপন্ন জাইমান অক্সিজেন পানির মধ্যকার জীবাণুগুলো মেরে ফেলে।

-এই জাইমান অক্সিজেন বিরঞ্জন ক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ।

পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান

আকৃতি

পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কমলালেবুর মত উপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি) স্ফীত। এ'ধরণের স্ফীতি তৈরি হয়েছে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে এর ঘূর্ণনের কারণে। একই কারণে বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিমি. বেশি।

রাসায়নিক গঠন

পৃথিবীর ভর প্রায় ৫.৯৮×১০২৪ কিগ্রাঃ। এর প্রায় ৩২.১% লৌহ, ৩০.১% অক্সিজেন, ১৫.১% সিলিকন, ১৩.৯% ম্যাগনেসিয়াম, ২.৯% সালফার, ১.৮% নিকেল, ১.৪% অ্যালুমিনিয়াম এবং বাকী ১.২% অন্যান্য পদার্থ দ্বারা গঠিত। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের গঠন কিছুটা ভিন্ন; এর প্রায় ৮৮.৮% ভাগই লৌহ। এছাড়া আছে নিকেল (৫.৮%) ও সালফার (৪.৫%)।

ভর হিসেবে এটি বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল তবে এটি প্রকৃতিতে খুব কমই বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি মূলত ধুলি, বালি গ্রহাণুপুঞ্জ এবং গ্রহসমুহে সিলিকনের অক্সাইড (সিলিকা) বা সিলিকেট আকারে থাকে। পৃথিবীর ভূত্বকের প্রায় ৯০% সিলিকেট যৌগে গঠিত।

বায়োগ্যাস

বায়োগ্যাস

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। এছাড়াও এতে ৫৫-৬৫ শতাংশ মিথেন এবং ৩০-৪০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড থাকে। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি ম্যান্টেল বাতি জ্বালানো যাবে।বায়োগ্যাস ব্যবহার এবং উৎপাদনে গণচীন সবচেয়ে এগিয়ে আছ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বায়োগ্যাসের প্রচলন রয়েছে।

ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়া

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন।প্রানীর মলমূত্র, পাতা, খড়কুটা প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতিতে রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এর ফারমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। এছাড়াও এতে ৫৫-৬৫ শতাংশ মিথেন এবং ৩০-৪০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড থাকে। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বায়োগ্যাসের কাঁচামাল

বায়োগ্যাসের কাঁচামাল

গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন।

সাধারণত পচনশীল যে কোনো বস্তু থেকেই বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।যেমনঃ

  • যেকোনো প্রাণীর মলমূত্র (মানুষ, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাস, মুরগী ইত্যাদি)। তবে প্রধানত গোবর এবং পানি ২:১ পরিমাণে মেশানো হয়।
  • তরি-তরকারি, ফল-মূল ও মাছ-মাংসের ফেলনা অংশ
  • লতাপাতা, বিভিন্ন আবর্জনা ও কচুরিপানা

সিলিন্ডার গ্যাস

সিলিন্ডার গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।শীতলকরণ (refrigeration) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রা কমিয়ে -১৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই এলএনজি বা সিলিন্ডার গ্যাস বলা হয়। সিলিন্ডার গ্যাসের প্রধান উপাদান হচ্ছেমিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরিত করার সময় মিথেন বাদে অন্যান্য অনাকাংক্ষিত উপাদান যেমন ধূলিকণা, এসিড গ্যাস, হিলিয়াম,পানি, অপেক্ষাকৃত ভারী হাইড্রোকার্বন, নাইট্রোজেন ইত্যাদি দূর করা হয়, যার কারণে অন্য অনেক জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এলএনজি ব্যবহারে দূষণ কম হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুর সর্বপ্রথম গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৭ সালে এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের জ্বালানী চাহিদার প্রায় ৭৬ ভাগ পূরণ করে। দেশে মোট আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৫টি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিলেটের হরিপুর, সুমাগঞ্জের ছাতক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস, কুমিল্লার বাখরাবাদ, চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া ইত্যাদি। গ্যাস সম্পদের অনুসন্ধান এবং দ্রুত সম্প্রসারণের ১৯৮৮ সালে সারা দেশকে ২৩টি ব্লকে ভাগ করা হয়। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭৪৩.৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৩২.০৭ বিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে ১৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের ৮৩টি কুপ থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

অম্ল ও এর তিব্রতা

আম্ল-

অম্ল হচ্ছে একটি রাসায়নিক পদার্থ। যৌগের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং ঐ প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেনকে ধাতু বা যৌগমূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপিত করা যায় এবং যা ক্ষারকের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে অম্ল বা এসিড (Acid) বলে।Acid শব্দটির উৎপত্তি এসিডাস (Acidus) কিংবা এসিয়ার হতে; যার অর্থ টক। টক স্বাদযুক্ত সব বস্তুর মধ্যে এসিড থাকে। তেঁতুল, লেবু প্রভৃতিতে জৈব এসিড বিদ্যমান। এসকল এসিড অতি অল্প পরিমাণে থাকে বলে ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত এসিড (যেমন : হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি) অত্যন্ত তীব্র। এগুলোকে অজৈব বা খনিজ এসিড বলে।

অম্ল চেনার উপায় -

প্রত্যেক এসিডে প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন থাকে। এটি প্রতিটি এসিডের একটি সাধারণ মৌলিক পদার্থ। যদি কোনো যৌগের জলীয় দ্রবণে নীল লিটমাসকে লাল করে তবে তা এসিড। যেমন : হাইড্রোক্লোরিক এসিড ( HCl), সালফিউরিক এসিড ( H2SO4) প্রভৃতি এসিডের সংকেত থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এদের মধ্যে সাধারণ মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন ( H)। এভাবে এসিডসমূহকে সহজভাবে চেনা যেতে পারে।

আম্লের তিব্রতা-

যে আম্ল যত সহজে  কোন দ্রাবকে প্রোটন ( H+) দান করতে পারে তাই  ঐ আম্লের তিব্রতা নির্দেশ করে । জৈব এসিড সমূহ অজৈব এসিড হতে আনেক দুর্বল হয় । হাইড্রাসিড সমূহের তিব্রতা ঐ অনুর হাইড্রজেন আয়ন এর উপর নির্ভর করে-

HI>HBr>HCl

অক্সি এসিড সমূহ তাদের কেন্দ্রের ধনাত্নক জারন সংখ্যার উপর নির্ভর করে -

   +7          +6      +5

HClO4>H2SO4>HNO3

ড্রাই আইস

 শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে (−56.4 °C তাপমাত্রা এবং 5.13 atm চাপে) গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এই কঠিন পদার্থটিই আসলে ড্রাই আইস বলে।

 ড্রাই আইসকে যখন উষ্ণ ও গরম পানির সংস্পর্শে আনা হয়, তখন মেঘের মত দেখতে শুভ্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই সাদা ধোঁয়াটি কিন্তু কার্বন-ডাই-অক্সাইড নয়, অধিক ঘনমাত্রার পানির বাষ্পের সাথে মিশ্রিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার ফলে গরম পানির বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এমন আকার ধারণ করে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাহিত এই কুয়াশাটা অনেক ভারী হয়, তাই এটি পাত্রের নিচে জমা হয়, তাই দেখা যায় এটি ফ্লোর ঘেঁষে ঘেঁষে উড়ছে।

কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার

কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার :

-ড্রাই আইস তৈরিতে 

-কোমল পানীয় তৈরিতে

-অগ্নি নির্বাপক হিসাবে

-হিমাগারে হিমকারক বস্তু হিসাবে

লোহিত ফসফরাস

ফসফরাস আবিষ্কৃত মৌলগুলোর মধ্যে ১৫ তম। একারনে এবং বিস্ফোরক, বিষ ও নার্ভ এজেন্ট তৈরিতে এটি ব্যবহারের কারনে একে প্রায়ই শয়তানের মৌল নামে ডাকা হয়। ফসফরাস আবিস্কারের কৃতিত্ব জার্মান আলকেমিস্ট হেনিগ ব্রান্ডকে দেয়া হয় যিনি ১৬৬৯ সালে এটি আবিস্কার করেন, যদিও অন্যান্য কেমিস্টরাও কাছাকাছি সময়ে হয়ত ফসফরাস আবিস্কার করে থাকতে পারেন।

 

ফসফরাস একটি বহুরূপী মৌল এর দুইটি প্রধান রূপ হল লোহিত ফসফরাস শ্বেত ফসফরাস এছাড়া কালো ফসফরাস নামক আরেকটি রূপভেদ আছে। সব অবস্থায় লোহিত ফসফরাস অধিক সুস্থীত বা স্থায়ী ।

 

শ্বেত ফসফরাস -

ফসফরাসের সকল গঠনগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনকি রসায়ন শিল্পেও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্বেত ফসফরাস। এটি চারটি ফসফরাস নিয়ে গঠিত যার প্রত্যেকটি ফসফরাস অন্য তিনটি ফসফরাসের সাথে একক বন্ধন বা সিগমা বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ হয়। কঠিন শ্বেত ফসফরাসকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। নিম্ন তাপমাত্রায় এর β রূপ ও উচ্চ তাপমাত্রায় এর α রূপ বিদ্যমান।

শ্বেত ফসফরাস,ফসফরাসের সকল গঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল, বিষাক্ত ও সক্রিয়। শ্বেত ফসফরাস ধীরে ধীরে লোহিত ফসফরাসে পরিণত হয়। এই রূপান্তরকে আলো,তাপমাত্রা গতিশীল করে এবং শ্বেত ফসফরাসের মূল গঠনে লোহিত ফসফরাস মিশ্রিত থাকে বলে এটিকে হলুদ দেখায়। তাই,একে হলুদ ফসফরাসও বলা হয়। এই কারণে এটিকে সবসময় অবিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

শ্বেত ফসফরাস অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জ্বলে উঠে এবং এসময় এর বর্ণ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে সবুজ ও নীল হয়ে যায়। এটি খুবই প্রজ্বলনীয় ও বিষাক্ত। P4O10 যৌগটির রসুনের মত গন্ধ থাকে। তাপপ্রয়োগে এটি কঠিন বা তরল হিসেবে থাকে না। অনেকটা নাইট্রোজেনের সদৃশ হয়ে যায়।

 

লোহিত ফসফরাস -

লোহিত ফসফরাস গঠনের দিক থেকে একাধিক ফসফরাস নিয়ে গঠিত হয়। প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শ্বেত ফসফরাসকে উত্তপ্ত করে অথবা প্রখর সূর্যালোকে রেখে দিলে লোহিত ফসফরাস পাওয়া যায়। এমনভাবে বিক্রিয়ার পর এটি নিরাকার হয়ে যায়। আবার উত্তপ্ত করলে এটি স্ফটিকে পরিণত হয়। এসব বিবেচনা করলে এটিকে ফসফরাসের গঠন বলা যায় না। তবে,শ্বেত ফসফরাসের প্রাথমিক দশা ও বেগুনি ফসফরাসের মধ্যবর্তী সতয় এর আধিক্যের কারণে একে ফসফরাসের অন্যদিকে গঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উজ্জ্বল ও ফ্রেশলি প্রস্তুত একটি লোহিত ফসফরাস অনেক সক্রিয় ..এমনকি ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি শ্বেত ফসফরাসের থেকেও স্থিতিশীল। এটি বায়ুর সাথে দহনে শ্বেত ফসফরাসের মত জ্বলে উঠে না।

বেগুনি ফসফরাস বেগুনী ফসফরাস, ফসফরাসের একটি গঠন। লোহিত ফসফরাসকে প্রায় ৫৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার উপরে উত্তপ্ত করলে এটি বেগুনি ফসফরাস হয়ে যায়। ১৮৬৫ সালে,হিট্রোফ আবিষ্কার করেন যে,যখন ফসফরাসের স্ফটিককে তাপ দেওয়া হয় তখন এটি লাল/রক্তবর্ণ হয়ে যায়। এটিকে তাই অনেকসময় #হিট্রোফ_ফসফরাসও বলা হয়।

কাল ফসফরাস কাল ফসফরাস সবথেকে নিষ্ক্রিয় ফসফরাসের অন্য গঠনগুলো থেকে। এটিকে β-metallic ফসফরাসও বলা হয়। সাধারণত এটি উৎপন্ন করতে উচ্চ তাপের প্রয়োজন হলেও এটিকে ধাতব লবনের থেকে স্ফটিক হিসেবে উৎপন্ন করা যায়।

 

ব্যবহার -

ঘর্ষন দিয়াশলাই প্রস্তুতিতে শ্বেত ফসফরাস ব্যাবহার করা হয়। যুদ্ধকালে ধুম্রজাল, হাতবোমা ও আগুনে বোমা তৈরীতে শ্বেত ফসফরাস ব্যাবহার করা হয় ফসফর ব্রোন্জ নামক সংকর ধাতু ও কীটনাশক তৈরীতে ফসফরাস ব্যাবহার করা হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস,শামুক,ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।কৃষিজ চুনায় এটা একটি সক্রিয় উপাদান,যা ক্যালসিয়াম আয়ন ও জলের সাথে বিক্রিয়া করে সৃস্টি হয়। এটি পানিতে আদ্রবনীয় । এটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা অ্যান্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  তবে অত্যধিক ব্যবহার বিপজ্জনক।সাধারণ অবস্থায় CaCO3 এর গঠণ ষড়ভূ্য আকৃতির β-CaCO3, (খনিজ ক্যালসাইট)

বায়ুমণ্ডল

পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত স্তরকে যা পৃথিবী তার মধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা ধরে রাখে তাকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা আবহমণ্ডল বলে।এই বায়ুমন্ডল সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করে।এছাড়ও তাপ ধরে রাখার মাধ্যমে (গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া) ভূপৃষ্টকে উওপ্ত করে এবং দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস করে।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও সালোকসংশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত বায়ুমন্ডলীয় গ্যাসসমূহের প্রদত্ত প্রচলিত নাম বায়ু বা বাতাস।পরিমাণের দিক থেকে শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন,০.০৩৯% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে।বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।

ব্রোমিন

ব্রোমিন একটি অধাতু । এটি হ্যালোজেন গ্রুপের অর্ন্তভূক্ত । ব্রোমিন রাসায়নিক সংকেত Br পারমাণবিক সংখ্যা ৩৫ । কক্ষ তাপমাত্রায় এটি তরল অবস্থায় থাকে । খুব সক্রিয় বলে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না ।

রাজ অম্ল

১:৩ আয়তনিক অনুপাতে গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ও গাঢ় নাইট্রিক এসিডের (HNO3) মিশ্রণকে রাজাম্ল বা অম্লরাজ বা একুয়া রেজিয়া বলে। সোনা, রূপা, ইরিডিয়াম বা প্লাটিনামের মত অভিজাত ধাতুগুলোকে যেকোন ঘণমাত্রার কোন তীব্র এসিড দ্বারাও দ্রবীভূত করা যায় না। কিন্তু একুয়া রেজিয়া সহজেই এই অভিজাত ধাতুগুলোকে দ্রবীভূত করতে পারে।

ব্যবহার-স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য একুয়া রেজিয়া ব্যাবহার করা হয়

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার অন্তর্গত ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নে ভবানীপুর বাজার হইতে দক্ষিণে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি অবস্থিত। এখানে সবচেয়ে দামী বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হয়। এই কয়লা খনি থেকে বার্ষিক ১০ লক্ষ মেট্রিক টন বিটুমিনাস কয়লা উৎপাদন করা হয়। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এই খনি থেকে ৯,৩৩,০০০ মেট্রিন টন বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলিত হয়  এবং সেগুলো বিক্রয় করে ৮৯৮ কোটি টাকা আয় হয়। আয়কৃত টাকা থেকে ৩০২ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়। উত্তোলিত কয়লা দেশের বিভ্ন্নি জায়গায় রপ্তানী করার পর স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বিক্রয় করা হয। বড়পুকুরিয়া খয়লাখনির কয়লা দ্বারা খনি সংলগ্ন স্থানে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে উত্তোলিত কয়লা দ্বারা ৪৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে ।

বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর কি গ্যাস সাধারনত ব্যাবহার করা হয়

সাধারণত বিদ্যুতিক বাল্বের জ্বলার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় । এ বিপুল এ তাপে বাল্বের ফিলামেন্ট যাতে জারিত হয়ে না যায় তাই এতে রাসায়নিক ভাবে নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয় ।  টাংস্টেনের ফিলামেন্ট যুক্ত সাধারণ ইলেকট্রিক বাল্বে নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয় । নিয়ন বাতিতে "নিয়ন" গ্যাস এবং সোডিয়াম বাতিতে সোডিয়াম ও নিয়ন উভয় গ্যাস ব্যবহার করা হয় ।

ইউরিয়া

ইউরিয়া (ইংরেজি: Urea) বা কার্ব্যামাইড (Carbamide) একটি জৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত (NH2)2CO। ইউরিয়ার অণুতে দুইটি অ্যামাইন (-NH2) অবশেষ একটি কার্বনিল (-CO-)ফাংশনাল গ্রুপ দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মূত্রে নাইট্রোজেনধারী যৌগের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। ইউরিয়া কঠিন, বর্ণহীন, গন্ধহীন, ক্ষারধর্মী নয়, অম্লধর্মী নয়, পানিতে অতি সহজে দ্রাব্য এবং তুলনামূলকভাবে অবিষাক্ত। এ কারণে নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে এটিকে ব্যাপকভাবে সারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রাসায়নিক শিল্পে ইউরিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিডস্টক (feedstock) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রাসায়নিক সংকেত

১.ভিট্রিওল -

রসায়নে ভিট্রিওল  ধাতুর সালফেট এর একটি প্রাচিন নাম । ক্রিস্টাল অবস্থায় ধাতুর সালফেটগুল দেখতে রঙ্গিন কাচের সদৃশ ।

নীল ভিট্রিওল বা তুতে - কপার(।।) সালফেট ; সংকেত - CuSO4.5H2O

সবুজ ভিট্রিওল - আয়রন(।।) সালফেট ; সংকেত -  FeSO4.7H2O

সাদা ভিট্রিওল - জিংক সালফেট ; সংকেত -  ZnSO4.7H2O

২.লবণ -

রসায়নে এসিড ও ক্ষার এর বিক্রিয়ায় যা উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে ।

খাবার লবণ - সোডিয়াম ক্লোরাইড ; সংকেত -  NaCl

মোর'স সল্ট - অ্যামোনিয়াম আয়রন(।।) সালফেট ; সংকেত -  (NH4)2Fe(SO4)2·6H2O

ইপসম - ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ; সংকেত -  MgSO4·7H2O

গ্লুবার লবণ - সোডিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Na2SO4

ফিটকিরি - অ্যালুমিনিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Al2(SO4)3

৩.কিছু প্রয়োজনীয় সংকেত -

নিশাদল বা কর্পুর=NH4Cl

চুন=CaCO3

মরিচা =Fe2O3.nH2O

কস্টিক সোডা=NaOH

কাপড় কাচা সোডা =NaCO3.10H2O

খাবার সোডা বা বেকিং পাউডার =NaHCO3

সোডা লাইম=NaOH.CaO

 লাফিং গ্যাস=N2O

গ্লুকোজ=C6H12O6

কাঁদুনে গ্যাস=CCl3NO2

নীরব ঘাতক=CO

ব্লিচিং পাউডার = Ca(OCl)Cl

স্মেলিং সল্ট = (NH4)2CO3

লেড অক্সাইড

লেড বা সীসা হল একটি মৌলিক পদার্থ যার রাসায়নিক সংকেত Pb এবং পরমানবিক সংখ্যা ৮২। সীসা নরম ধাতু যা ছুরির সাহায্যে কাটা যায়।লেডের অক্সাইডগুলর মধ্যে

লেড(II,IV)অক্সাইড অন্যতম ।একে রেড লেড ও বলে । এর রং অনেকটা উজ্জ্বল লাল বা কমলা । সংকেত Pb3O4 । 

সিএনজি গ্যাস

সিএনজি গ্যাস

শীতলকরণ (refrigeration) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রা কমিয়ে -১৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসই এলএনজি । অন্যদিকে সিএনজি মানে হচ্ছে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। এটাও মিথেন কিন্তু এলএনজির মত তরল অবস্থায় থাকে না,  গ্যাসকে কেবল প্রচন্ড চাপে সংকুচিত (কম্প্রেস) করা হয় যাতে অনেক বেশি গ্যাস ছোট একটা সিলিন্ডারে জমা করে রাখা যায়। যাকে সিলিন্ডার  গ্যাস বলা হয়। পরিবহনের সুবিধার্থে এক বায়ুমন্ডলীয় চাপে এলএনজি তৈরি করা হয়। সিলিন্ডার গ্যাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। বর্তমানে গৃহস্থালির কাজে এলপি গ্যাসের চাহিদা এক লাখ টন, আগামীতে এই চাহিদা আরও বাড়বে। বর্তমানে সিএনজি চালিত ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসাবেও  ব্যবহার করা হয়,  সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অন্য গাড়ি পরিবেশ বান্ধব

সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও তাদের ব্যবহার

সংকর ধাতুর সংযুক্তি 

 বিভিন্ন প্রকার সংকর ধাতু,তাদের সংযুক্তি ও ব্যবহারঃ

ধাতু উপাদান ও সংযুক্তি ব্যবহার 
22 ক্যারট স্বর্ণ 91.67% স্বর্ণ, 8.33% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।   অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
21 ক্যারট স্বর্ণ

87.5% স্বর্ণ, 12.5% কপারসহ অন্নান্য ধাতু।

 অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
 24 ক্যারট স্বর্ণ 100% স্বর্ণ  অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
ডুরালামিন   আ্যলুমিনিয়াম 95%,কপার 4%,লোহা 1%   উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলের পার্টস ইত্যাদি। 
কাসা(ব্রোঞ্জ)     কপার 90%, টিন 10%  ধাতু গলানো, যন্ত্রাংশ, থালা, গরাস ইত্যাদি। 
পিতল(ব্রাস)   কপার 65%,জিংক 35%,  অলঙ্কার,বিয়ারিং,বৈদ্যুতিক সুইচ,দরজার হাতল।
স্টেইনলেস স্টিল    লোহা  74%,  ক্রোমিয়াম 18%,  নিকেল 8%,  ছুরি,কাটাচামচ,পাকঘরের সিঙ্ক,রসায়ন  শিল্পের বিক্রিয়া পাত্র,অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি। 
স্টিল   

লোহা 99%,সাধারণত কার্বন 1% বা .১৫-১.৫%। 

রেলের লাইন,ইঞ্জিন,জাহাজ,যানবাহন,ছুরি,কাঁচি,ঘড়ির স্প্রিং, ক্রেইন,যুদ্ধাস্ত্র,চুম্বক,কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ।
 

আকরিক

 

ধাতু                                  আকরিক


মার্কারী                             সিন্নাবার HgS


জিংক                                জিংক ব্লেন্ড ZnS

                                        ক্যালামাইন  ZnCO_3


লেড                                   গ্যালেনা PbS


আয়রন                               ম্যাগনেটাইট Fe_3O_4

                                         হেমাটাইট Fe_2O_3

                                         লিমোনাইট Fe_2O_3.3H_2O


কপার                                  কপার পাইরাইট CuFeS_2

                                           চেলকোসাইট  Cu_2S


আ্যলুমিনিয়াম                           বক্সাইট Al_2O_3.2H_2O


সোডিয়াম                                 সাগরের পানি NaCl


ক্যালসিয়াম                               চুনাপাথর CaCO_3

                                              ডলোমাইট CaMg(CO3)2


মেঙ্গানিজ                                   পাইরোলুসাইট MnO₂  

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার 

প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় ভূগর্ভ থেকে। সুগভীর কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম কূপ থেকেও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। সহজলভ্যতা, ক্যালরিক মান উচ্চ এবং দহনে তেমন ধোঁয়া উৎপন্ন না হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার দেখা যায়। নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের কয়েকটি ব্যবহার উল্লেখ করা হলো—
১) বিদ্যুৎ উৎপাদনে: প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়।
২) শিল্পক্ষেত্রে: উৎপাদনশীল খাতে ১৭ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩) সারকারখানায়: সার উৎপাদনে ১০ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৪) রান্নার কাজে: পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৫) CNG হিসেবে: প্রায় ৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস CNG হিসেবে জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অক্সিজেনঃঅক্সিজেন পর্যায় সারণির গ্রুপ ছ'য়ে ও পর্যায় দুইয়ে  অবস্থিত একটি মৌলিক গ্যাস,যার পারমাণবিক সংখ্যা ৮।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রকেটের জ্বালানিতে,অক্সি-এসিটিলিন শিখা তৈরিতে,রোগীর শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।  

কার্বন ডাইঅক্সাইডঃকার্বন ডাইঅক্সাইড (রাসায়নিক সংকেত CO2) একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ যা দুইটি অক্সিজেন পরমাণু ও একটি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু একটি কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।এটা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় বিরাজ করে।কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।এছাড়া ড্রাই আইস তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।এছাড়া আগুন নিভাতে তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাস

প্রাকৃতিক গ্যাস 

প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় ভূগর্ভ থেকে। সুগভীর কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়।বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান মিথেন।আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত নিম্নরূপ-

প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুপাত:-

১.Methane- 94.8%

২. Ethane- 2.9%

৩. Propane - 0.8%

৪. Butane 0.2%

৫. Carbon Di Oxide- 0.1%

৬. nitrogen 1.2%

Total- 100%

পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম কূপ থেকেও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এর প্রধান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মিথেন হলেও ইথেন, প্রোপেন ও অন্যান্য উপাদানও এতে বিদ্যমান থাকতে পারে। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। সহজলভ্যতা, ক্যালরিক মান উচ্চ এবং দহনে তেমন ধোঁয়া উৎপন্ন না হওয়ার কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার দেখা যায়।

কয়লা

কয়লা

শক্তি উৎসসগুলোর মধ্যে কয়লার পরিচিত সবচেয়ে বেশি। কয়লা একটি জৈব পদার্থ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে গাছের পাতা এবং কাণ্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়লায় পরিণত হয়।   

কার্বনই কয়লার মূল উপাদান।কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় কয়লা থেকে জ্বালানি ছাড়াও বহু প্রয়োজনীয় পদার্থ তৈরি হয়। যেমন কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। রান্না করতে এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার প্রয়োজন হয়। আধুনিক কালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান উপাদান কয়লা।

 

মৌলের সক্রিয়তার ক্রম

ক্রিয়তার ক্রম : ধাতুসমূহকে তাদের সক্রিয়তা অনুসারে সাজালে যে সিরিজ পাওয়া যায় তাকে সক্রিয়তা ক্রম বা সক্রিয়তা সিরিজ বলা হয় । এই সিরিজের উপর থেকে নিচে গেলে মৌল সমূহের সক্রিয়তা হ্রাস পায়-

১.লিথিয়াম -Li

২.পটাসিয়াম-K

৩.ক্যালসিয়াম-Ca

৪.সোডিয়াম-Na

৫.ম্যাগনেসিয়াম-Mg

৬.অ্যালুমিনিয়াম-Al

৭.কার্বন-C

৮.জিংক-Zn

৯.আয়রন-Fe

৯.টিন-Sn

১০.লেড-Pb

১১.হাইড্রোজেন-H

১২.পারদ-Hg

১৩.সিলভার-Ag

১৪.প্লাটিনাল-Pt

১৫.স্বর্ণ -Au

 

কয়লা সম্পদ

কয়লা সম্পদ

বাংলাদেশের কয়লা সম্পদ তেমন উন্নত নয়। আমাদের দেশে যে কয়লা পাওয়া যায় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। ফরিদপুরের বাসিয়া এবং চান্দাবিল ও খুলনার কুলাবিলে প্রচুর পীট জাতীয় কয়লা পাওয়া গেছে। পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হলো এটি ভিজা ও নরম। এছাড়াও রাজশাহী, নওগাঁ এবং সিলেটে বিটুমিনাস এবং লিগনাইট নামক উৎকৃষ্টমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৮৬ সালে দিনাজপুর জেলার বড় পুকুরিয়া এলাকায় বিরাট কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট ৫টি কয়লা ক্ষেত্রের কয়লা মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩৩০০ মিলিয়ন টন, যা প্রায় ৪৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য। ২০১০-২০১১ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত মোট উত্তোলিত কয়লা ৩.৯৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

দেশে কয়লার ব্যবহার

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ওপর নির্ভর করে এর পাশেই ২৫০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নানা কারিগরী জটিলতায় কয়লা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুত প্ল্যান্টের উৎপাদনও মাঝে মাঝে বিঘ্নিত হয়। সড়ক ও নৌপথে আমদানী করা কয়লা প্রধানতঃ দেশের ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়। কয়লা নির্ভরযোগ্য জ্বালানী হিসেবে অন্যান্য শিল্প কারখানাতেও ব্যবহৃত হয়। নিশ্চিত ও সুলভে পাওয়া গেলে এদেশেও বিভিন্ন শিল্পে কয়লা ব্যবহৃত হবে।

জীবাশ্ম জ্বালানি

জীবাশ্ম জ্বালানি

জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ খুব বেশি ঘটে। গাড়ি, এরোপ্লেন, জাহাজ ও ট্রেন চালাতে যে জ্বালানি ব্যবহৃত হয় তা প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি (খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস)।

পেট্রল বা কেরোসিন আগুন

পেট্রল বা কেরোসিন পানির চেয়ে হালকা, তেল আর পানি মিশে না।  কেরোসিন বা পেট্রোলে পানি ঢাললে পানি নিচে চলে যায় এবং তেল পানির ওপরে উঠে যায়, সঙ্গে আগুন আরো জোরে জ্বলে। সেজন্য পানি দ্বারা পেট্রোলের আগুন নেভানো যায় না, পানির পরিবর্তে বালি ছিটিয়ে দিলে পেট্রোল বাতাসের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং অক্সিজেনের অভাবে নিভে যায়। এজন্য পানির পরিবর্তে বালি দিয়ে পেট্রোলের আগুন নেভানো হয়।

পদার্থের পরিবর্তন

যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন     হয় কিন্তু আণবিক গঠনের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন বলে।যেমন- আমরা যখন তাপ দিয়ে মোম গলাই তখন মোমের কিছু অংশ গলে মোমের তলদেশে জমা হয়,এটি এক প্রকার ভৌত পরিবর্তন।কেননা এতে নতুন কোন পদার্থ সৃষ্টি হয় না।আর যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।যেমন-লোহায় মরিচা পড়া একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।কেননা, লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে ফেরোসোফেরিক অক্সাইড নামক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে।এছাড়া পদার্থের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।কেননা,দহন হল বাতাসের উপস্থিতিতে কোন পদার্থকে পোড়ানো।এটি বস্তুর একটি রাসায়নিক ধর্ম কেননা এর ফলে বস্তুটি এক নতুন পদার্থে পরিবর্তীত হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস

পর্যায় সারণির সর্ব ডানে শূণ্য  গ্রুপের মৌলিক পদার্থগুলোর বহিঃস্তর ইলেক্ট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকায় এরা কোনরূপ বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না,এমনকি নিজেরা নিজেদের সাথেও নয়।তাই এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।এগুলো সাধারণত আলোক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।হিলিয়াম,নিয়ন,আর্গন,ক্রিপটন,জেনন ও রেডন এই ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।এই গ্রুপের সকল মৌলের বহিঃস্তরে (হিলিয়াম ব্যতীত।হিলিয়ামের বহিঃস্তরে ২ টি ইলেক্ট্রন থাকে) ৮ টি ইলেক্ট্রন থাকে। 

পরিবাহী

পরিবাহীঃযে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে তাদের বিদ্যুৎ পরিবাহী  বলা হয়।সাধারণত ধাতুসমূহ উত্তম পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।কেননা ধাতুতে ধাতব বন্ধন নামক  এক বিশেষ ধরণের বন্ধন থাকে যার ফলে এগুলোতে মুক্ত ইলেক্ট্রন থাকে।ধাতব খণ্ডে এই বিমুক্ত ইলেকট্রন থাকার  কারণে এরা  ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।উল্লেখ্য,আয়নিক যৌগগুলো পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।কেননা,এতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন বিদ্যমান থাকে।

অপরিবাহীঃ যে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে না তাদের বিদ্যুৎ অপরিবাহী  বলা হয়।সমযোজী যৌগে মুক্ত আয়ন না থাকায় এরা অপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। 

 

হাইড্রোজেন

হাইড্রোজেন প্রকৃতিতে সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণির প্রথম উপাদান মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H।প্রাচীন গ্রিক শব্দ হুদ্রো- অর্থ "জল" বা "পানি" ("উদ-") ও  'গেনেস' যার  অর্থ "উৎপাদক" ("জনক") থেকে 'হুদ্রোজেন'(ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ করা হয়েছে। অনেক পুরাতন বাংলা বইতে একে উদজান বলা হয়েছে।আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে  হাইড্রোজেন রংহীন, গণ্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বীপরমাণুক গ্যাস।এটি কোন নিউট্রন নেই শুধু একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন আছে।যেহেতু পরমানুর ভর বলতে  নিউক্লিয়াসের ভরকে নির্দেশ করে তাই প্রোটনের ভর হাইড্রোজেন ভরের সমান হয়।আমাদের দেশে হাইড্রোজেনের প্রধান উৎস হিসেবে পানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।    

ক্যাটেনেশন

কার্বন পরমাণুর একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটি একই মৌলের পরমাণুর মধ্যে বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন দৈর্ঘের শিকল গঠন করতে পারে। একে ক্যাটেনেশন বলা হয়। এছাড়া কার্বন পরমাণুর যোজনী ৪। সুতরাং এটি নিজেদের মধ্যে একক, দ্বি- ও ত্রি- বন্ধন গঠন করার পরেও অন্যান্য মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়। এছাড়া জৈব যৌগে সমানুতা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়; অর্থাত্ একই আণবিক সংকেত কিন্তু ভিন্ন আণবিক গঠন বিশিষ্ট একাধিক যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সকল কারণে জৈব যৌগের সংখ্যা খুব বেশি।এছাড়া সিলিকন পরমাণু ক্যাটনেশন ধর্ম প্রদর্শণ করে।এই ধর্ম ব্যবহার করেই  সিলিকন পরমাণু অসংখ্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে বৃহদাকার সিকল যৌগ সিলিকা গঠন করে। 

হাইড্রোকার্বন

 হাইড্রোকার্বনঃশুধুমাত্র হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।যেমন-গ্লুকোজ।হাইড্রোকার্বনসমূহে  C, H, O -এর  অনুপাত যথাক্রমে- ১ঃ ২ঃ ১।   

আইইউপিএসি-এর জৈব যৌগ নামকরণ পদ্ধতি অনুসারে হাইড্রোকার্বনকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়ঃ

সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনঃ এই ধরনের হাইড্রোকার্বনের এই যৌগে কার্বন ও হাইড্রোজেন শুধুমাত্র একবন্ধন দ্বারা যুক্ত এবং একটিমাত্র শৃঙ্খলে বা শাখাযুক্ত শৃঙ্খলে সজ্জিত। পেট্রোলি্য়াম জাতীয় জৈব জ্বালানির মুখ্য উপাদান সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন। কার্বন শৃঙ্খল ও শাখার দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনে আইসোমেরিজম ও কাইরালিটি দেখা যেতে পারে।

অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনঃ এই শ্রেণিতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন একবন্ধনের পাশাপাশি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন বিদ্যমান। 

বলয়াকার (সাইক্লিক) হাইড্রোকার্বনঃ এই ধরনের যৌগে এক বা একাধিক কার্বন বলয় উপস্থিত।

অ্যারোম্যাটিক হাইড্রোকার্বনঃ এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বনে এক বা একাধিক অ্যারোম্যাটিক বলয় (অ্যারোম্যাটিক রিং) থাকে। অ্যারোম্যাটিক হাইড্রোকার্বনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল বেনজিন।

জৈবযৌগঃহাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বনঘটিত যৌগসমূহকে রসায়ন বিজ্ঞানে জৈব যৌগ বলা হয়। অর্থাৎ হাইড্রোজেন এবং কার্বনের সমন্বয়ে যে সকল যৌগিক পদার্থ গঠিত হয়, তা হলো সরল জৈব যৌগ। এবং কোনো সরল জৈবযৌগের সাথে অন্যকোন মৌলিক বা যৌগিক পদার্থযুক্ত হয়ে নতুন পদার্থ তৈরি হয়, সেগুলোকেও জৈব যৌগ বলা হয়।বাতাসের উপস্থিতিতে এসব জৈবযৌগের সম্পুর্ণ দহনে কার্বন ডাইওক্সাইড ও অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।যেমন-ইথিলিনের পলিমার পলিথিন পুড়ালে এর উপকরন পলিভিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড  উৎপন্ন হয়।

ভৌত রাশি

ভৌত রাশি
 

এই ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে আমরা রাশি বলি।

রাশি দুই প্রকারঃ মৌলিক রাশি আর লব্ধ বা যৌগিক রাশি।

যে সকল রাশি স্বাধীন বা যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে।

মৌলিক রাশি সাতটি 

  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. তাপমাত্রা
  5. তড়িৎ প্রবাহ
  6. দীপন তীব্রতা
  7. পদার্থের পরিমাণ

যে সকল রাশি মৌলিক রাশিগুলো থেকে লাভ করা যায় তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলে।

 

পরিমাপের একক

পরিমাপের একক
 

যে কোন পরিমাপের জন্য একটি আদর্শের প্রয়োজন, যার সাথে তুলনা করে পরিমাপ করা হয়।  পরিমাপের এ আদর্শ পরিমাণকে বলা হয় পরিমাপের একক।

১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালু হয়।

এস.আই এর মৌলিক এককসমূহ

নিম্নে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলের জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ উপস্থাপন করা হলঃ

দৈর্ঘ্যের একক (মিটার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে আলো '১/২৯৯৭৯২৪৫৮' সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে  মিটার  বলে।

ভরের একক (কিলোগ্রাম): ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুর অব ওয়েটস্ এন্ড মেজারস-এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি ৩.৯ সে.মি. ব্যাস এবং ৩.৯ সে.মি উচ্চতা বিশিষ্ট একটি সিলিন্ডারের ভরকে  কিলোগ্রাম  বলে।

সময়ের একক (সেকেন্ড): একটি সিজিয়াম- ১৩৩ পরমাণুর ৯১৯২৬৩১৭৭০টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে  সেকেন্ড বলে।

তাপমাত্রার একক (কেলভিন): পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার '১/২৭৩.১৬' ভাগকে  কেলভিন  বলে।

তড়িৎ প্রবাহের একক (অ্যাম্পিয়ার): ভ্যাকিউয়ামে বা বায়ু শূন্য স্থানে এক মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষণীয় প্রস্থচ্ছেদর দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০^-৭নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে  অ্যাম্পিয়ার  বলে।

দীপন ক্ষমতার একক (ক্যান্ডলা): ১০১৩২৫ প্যাসকেল চাপে প্লাটিনামের হিমাঙ্কে (২০৪২ কেলভিন) কোনো কৃষ্ণবস্তুর পৃষ্ঠের '১/৬০০০০০' বর্গমিটার পরিমিত ক্ষেত্রফলের পৃষ্ঠের অভিলম্ব বরাবর দীপন ক্ষমতাকে  ক্যান্ডেলা  বলে।

পদার্থের পরিমাণের একক (মোল): যে পরিমাণ পদার্থ ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন- ১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট থাকে, তাকে  মোল বলে।

 

পরিমাপের যন্ত্রপাতি

পরিমাপের যন্ত্রপাতি
 

পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যাবহার করে থাকি। বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য যেসব যন্ত্রাদি সচরাচর ব্যবহৃত হয় সেগুলো হ'লঃ

ক) মিটার স্কেল

খ) ভার্নিয়ার স্কেল

 

গ) স্লাইড ক্যালিপার্স

 

ঘ) স্ক্রু গজ

 

ঙ) তুলা যন্ত্র

 

চ) থামা ঘড়ি

 

মিটার স্কেল হ'ল দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে সরল যন্ত্র।

ভার্নিয়ার স্কেলও দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র (মিলিমিটারের ভগ্নাংশ)।

স্লাইড ক্যালিপার্স বস্তর দৈর্ঘ্য, চোঙ বা বেলনের উচ্চতা, ফাঁপা নলের অন্ত:ব্যাস ও বহির্ব্যাস, গোলকের ব্যাস নির্ণয় করা যায়।

স্ক্রু গজের সাহায্যে তারের ব্যাসার্ধ, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ এবং ছোট দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়। 

তুলা যন্ত্র খুব অল্পপরিমাণ জিনিসের ভর সুক্ষ্মভাবে নির্ণয় করার যন্ত্র।

ক্ষুদ্র সময় পরিমাপের জন্য থামা ঘড়ি ব্যবহার করা হয়

 

আরো বিস্তারিত জানার জন্য...

আরো বিস্তারিত জানার জন্য ২ 

 

পরিমাপে ত্রুটি ও নির্ভুলতা

পরিমাপে ত্রুটি নির্ভুলতা
 

সব পরিমাপের নির্ভুলতারই একটি সীমা আছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং পরীক্ষকের দক্ষতার উপর পরিমাপের নিরভুলতা নির্ভর করে।

পরিমাপের বেলায় সাধারণত তিন ধরনের ত্রুটি থাকতে পারেঃ

ক) দৈব ত্রুটি

খ) যান্ত্রিক ত্রুটি

গ) ব্যক্তিগত ত্রুটি

দৈব ত্রুটিঃ কোন একটি ধ্রুব রাশি কয়েক বার পরিমাপ করলে যে ত্রুটির কারনে পরিমাপকৃত মানে আসামঞ্জস্য দেখা যায় তাকে দৈব ত্রুটি  বলে। দৈব না থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই ত্রুটি আগে থেকেই অনুমান করা যায় না এবং এই ত্রুটির প্রত্যাশিত মান হবে শূন্য। 

যান্ত্রিক ত্রুটিঃ যন্ত্রে কোন সমস্যা থাকলে এই ত্রুটি দেখা যায়। ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ মূল দাগের সাথে না মিললে এই ত্রুটি দেখা যায়।

ব্যক্তিগত ত্রুটিঃ পর্যবেক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে এই ত্রুটি হয়। কোন ক্ষেত্রে  পর্যবেক্ষক গণনা করতে এবং পাঠ নিতে ভুল করে ফেলে। এই ত্রুটি দূর করার জন্য পর্যবেক্ষককে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

 

বৈজ্ঞানিক প্রতীক ও সংকেত

বৈজ্ঞানিক প্রতীক সংকেত
 

পদার্থবিজ্ঞানের পরিভাষা হচ্ছে গণিত। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোকে আমরা সাধারণত গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকি।

শব্দ তরঙ্গ

শব্দ তরঙ্গ
 

শব্দ এক প্রকার শক্তি। এই শক্তি সঞ্চালিত হয় শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে। শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ যা মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন প্রসারনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মাঝে একটি জড় মাধ্যম থাকতে হবে এবং উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর ভিতর থাকতে হবে।  

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যঃ কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। তাই  শব্দকে  একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই বলে এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভরশীল

শব্দের বেগের পরিবর্তন

শব্দের বেগের পরিবর্তন
 

 শব্দের বেগ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 

মাধ্যমের প্রকৃতি : বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ বিভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ বায়ু, পানি এবং লোহাতে শব্দের বেগ ভিন্ন ভিন্ন। 20°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s , পানিতে  1450 m/s আর লোহায়  5130 m/s। সাধারণভাবে বলা যায় বায়ুতে শব্দের বেগ কম,তরলে তার চেয়ে বেশি আর কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি।

তাপমাত্রা: বায়ুর তাপমাত্রা যতো বাড়ে বায়ুতে শব্দের বেগও ততো বাড়ে। এজন্য শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগ বেশি।  

বায়ুর আর্দ্রতা : বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। এজন্য শুষ্ক বায়ুর চেয়ে ভিজা বায়ুতে শব্দের বেগ বেশি।

 

তরঙ্গ

তরঙ্গ
 

তরঙ্গঃ যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে নিজ নিজ স্থান থেকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গঃ কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তা যান্ত্রিক তরঙ্গ। উদাহরণ পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ।  যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন পরে না। 

 

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ

  • মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর হয় না। 
  •  যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন। 
  • তরঙ্গ একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চালন করে। 
  • তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
  • তরঙ্গের প্রতিফলন ও প্রতিসরণ ও উপরিপাতন ঘটে।  

তরঙ্গ দুই প্রকার:

১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ

২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।  

 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ।

 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিন্দুকে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ বলে। অনুদৈর্ঘ্য  তরঙ্গে অনুরূপ রাশি হচ্ছে সঙ্কোচন ও প্রসারণ। 

 

পর্যাবৃত্ত গতি, স্পন্দন বা ছন্দিত গতি

পর্যাবৃত্ত গতি, স্পন্দন বা ছন্দিত গতি
 

পর্যাবৃত্ত গতিঃ কোন গতিশীল কণার গতি যদি এমন হয় যে এটি এর গতিপথের কোন নির্দিষ্ট বিন্দুকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক হতে অতিক্রম করে তবে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।

পর্যায়কালঃ পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পন বা পর্যায় সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে। 

ঘড়ির কাটা, বৈদ্যুতিক পাখা, সাইকেলের চাকার গতি,সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর গতি ইত্যাদির গতি পর্যায়বৃত্ত গতির উদাহরণ। স্প্রিং এর সংকোচন ও প্রসারনের গতি রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি।

 

স্পন্দন গতিঃ পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তুকণা যদি এর পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে তবে তার সে গতিকে স্পন্দন গতি বলে। অর্থাৎ, স্পন্দন গতিকে অগ্র পশ্চাৎ পর্যাবৃত্ত গতিও বলা যেতে পারে।

সরল দোলকের গতি, কম্পনশীল সুর শলাকা, গীটারের তারের গতি ইত্যাদি স্পন্দন/কম্পন গতির উদাহরণ।

 

প্রতিধ্বনি

প্রতিধ্বনি
 

যখন কোনো শব্দ মূল শব্দ থেকে আলাদা হয়ে মূল শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তখন ঐ প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি বলে। সহজ কথায় প্রতিফলনের জন্য ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।

প্রতিফলকের নূন্যতম দূরত্বঃ কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দ বা ধ্বনি কানে শোনার পর সেই শব্দের রেশ প্রায় 1/10 সেকেন্ড যাবৎ আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। একে শব্দানুভুতির স্থায়ীত্বকাল বলে। এই 1/10 সেকেন্ডের মধ্যে অন্য শব্দ কানে এসে পৌঁছালে তা আমরা আলাদা করে শুনতে পাই না। সুতরাং কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে হলে প্রতিফলককে উৎস থেকে এমন দূরত্বে রাখতে হবে যাতে মূল শব্দ প্রতিফলিত হয়ে কানে ফিরে আসতে অন্তত  সেকেন্ড সময় নেয়। যদি 0°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m/s ধরা হয়  তাহলে  1/10 সেকেন্ডে শব্দ 33.2m যায়। সুতরাং প্রতিফলককে শ্রোতা থেকে কমপক্ষে 33.2m/2 বা 16.6m  দূরত্বে রাখতে হবে। 

 

প্রতিধ্বনির ব্যবহার
 

কূপের গভীরতা নির্ণয়ঃ প্রতিধ্বনির সাহায্যে খুব সহজে কূপের মধ্যে পানির উপরিতল কত গভীরে আছে তা নির্ণয় করা যায়। কূপের উপরে কোনো শব্দ উৎপন্ন করলে সেই শব্দ পানি পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে প্রতিধ্বনি শোনা যায়। 


 

পানি পৃষ্ঠের গভীরতা=h, শব্দের বেগ =v, শব্দ উৎপন্ন করা এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়

শব্দ উৎপন্ন হয়ে পানি পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার সময় শব্দ তরঙ্গ 2h দূরত্ব অন্তিক্রম করে

2h = v * t

h = v*t /2 

কুপের পানিপৃষ্ঠের গভীরতা ১৬.৬ মিটারের কম হলে, প্রতিধ্বনি ভিত্তিক এই পরীক্ষাটি করা সম্ভব হবে না।  

বাদুরের পথচলা 
শব্দের প্রতিধ্বনির সাহায্যেই বাদুর পথ চলে। বাদুর চোখে দেখে না। বাদুর শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতেপারে আবার শুনতেও পারে।এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না। বাদুর শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে সামনেছড়িয়ে দেয়। ঐ শব্দ কোনো প্রতিবন্ধকে বাধা পেয়ে আবার বাদুরের কাছে চলে আসে।ফিরে আসা শব্দ শুনে বুঝতে পারে যে সামনে কোনো বস্তু আছে কিনা। বাদুর এভাবে তার শিকারও ধরে। বাদুড় প্রায় 100,000Hz এর কম্পনাঙ্ক এর শব্দ তৈরি করতে এবং শুনতে পারে ।

 

শব্দ দূষণ

শব্দ দূষণ
 

পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাব আদান-প্রদানের জন্য শব্দ প্রয়োজন। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় শব্দ ও কোলাহলো অসহ্য লাগে। বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন জোরালো এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ যখন মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে বিরক্তি ঘটায় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করে তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে। 

অবিরাম তীব্র শব্দ মানসিক উত্তেজনা বাড়ায় ও মেজাজ খিটখিটে করে। শব্দ দূষণ বমি বমি ভাব, ক্ষুধা মন্দা, রক্তচাপ বৃদ্ধি,হৃদপিণ্ড ও মস্তিস্কের জটিল রোগ,অনিদ্রাজনিত অসুস্থতা, ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়া, কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাথা ঘোরা প্রভৃতি ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি করে। হঠাৎ তীব্র শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট করতে পারে।

শ্রাব্যতার সীমা ও এদের ব্যবহার

শ্রাব্যতার সীমা এদের ব্যবহার
 

যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০  বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল‡াকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে  শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর 
কম্পন বলে।

শব্দোত্তর শব্দের প্রয়োগ ব্যবহারঃ সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য SONAR নামক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর পূরো নাম Sound Navigation And Ranging । এই যন্ত্রে শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ প্রেরণ ও গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।

 

সমুদ্রের গভীরতা, d=frac{vt}{2}

কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করাঃ আজকাল আধুনিক ওয়াশিং মেশিন বের হয়েছে যার দ্বারা সহজে কাপড় পরিস্কার করা যায়। পানির মধ্যে সাবান বা গুড়ো সাবান মিশ্রিত করে কাপড় ভিজিয়ে রেখে সেই পানির মধ্যে শব্দোত্তর কম্পনের শব্দ প্রেরণ করা হয়। এই শব্দ কাপড়ের ময়লাকে বাইরে বের করে আনে এবং কাপড় পরিস্কার হয়ে যায়। 

রোগ নির্ণয়েঃ মানুষের দেহের অভ্যন্তরীণ ছবি এক্স-রে দ্বারা যেমন তোলা যায় তেমন শব্দোত্তর কম্পনের শব্দের সাহায্যে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় করা যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম আল্ট্রাসনোগ্রফি। শব্দকে দেহ অভ্যন্তরে প্রেরণ করা হয় এবং প্রতিফলিত শব্দ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে টেলিভিশনের পর্দায় ফেলে রোগ সনাক্ত করা যায়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেঃ দাতের স্কেলিং বা পাথর তোলার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। কিডনির ছোট পাথর ভেঙে গুড়া করে তা অপসারণের কাজেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য কাজেঃ ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে। 

শব্দেতর কম্পাংকের শব্দের ব্যবহারঃ শব্দেতর কম্পনের সীমা হচ্ছে 1Hz থেকে 20Hz. হাতি এই কম্পনের মাধ্যমে নিজেদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। কোনরূপ বিকৃতি ছাড়া এই তরঙ্গ বহুদূর যেতে পারে। ভূমিকম্প এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় এই শব্দেতর কম্পনের সৃষ্টি হয় এবং প্রবল ঝাকুনির মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।  

 

সুরযুক্ত শব্দ ও তার বৈশিষ্ট্য

সুরযুক্ত শব্দ তার বৈশিষ্ট্য
 

সুরযুক্ত শব্দের তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে-

১) প্রাবল্য বা তীব্রতা  

২) তীক্ষ্ণতা এবং

৩) গুণ বা জাতি।

প্রাবল্য বা তীব্রতাঃ প্রাবল্য বা তীব্রতা বলতে শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে তা বুঝায়। শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে রাখা একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দশক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে। SI পদ্ধতিতে শব্দের তীব্রতার একক Wm^{-2}

তীক্ষ্ণতাঃ সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে একই প্রাবল্যের খাদের সুর এবং চড়া সুরের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বা পীচ বলে। তীক্ষ্ণতা উৎসের কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে। কম্পাঙ্ক যত বেশি হয়, সুর তত চড়া হয় এবং তীক্ষ্ণতা বা পীচ ততো বেশি হয়।

গুণ বা জাতিঃ সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্যের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন একই প্রাবল্য ও তীক্ষ্ণতাযুক্ত শব্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে গুণ বা জাতি বলে।  

পুরুষের গলার স্বর মোটা কিন্তু নারী এবং শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ কেন?

মানুষের গলার স্বরযন্ত্রে দুটি পর্দা থাকে এদেরকে স্বরতন্ত্রী বলে। ভোকাল কর্ডের কম্পনের দলে মানুষের গলা থেকে শব নির্গত হয়। পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভোকাল কর্ড দৃঢ় হয়ে যায় তাই এর কম্পাঙ্ক কমে যায় অপরদিকে নারী এবং শিশুদের ভোকাল কর্ড দৃঢ় থাকে না তাই কম্পাঙ্ক কম হয়। তাই পুরুষের গলার স্বর মোটা কিন্তু নারী এবং শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ ।

 

petrolium

টারবাইন দ্বারা বিদ্যুত্‍‌

জল-বিদ্যুত্‍‌-কেন্দ্র এবং কয়লা-চালিত বিদ্যুত্‍‌-কেন্দ্র বিদ্যুত্‍‌ টারবাইন দ্বারা উত্‍‌পাদন করে, দুটো ক্ষেত্রেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় 'টারবাইনের' প্রপেলরে শক্তি যোগান হয় যা' বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে ঘোরায় এবং বিদ্যুত্‍‌ তৈরি হয় । কয়লা-চালিত বিদ্যুতের বেলায় বাষ্প গিয়ে পড়ে টারবাইন-ব্লেডের উপর, জলবিদ্যুতের বেলায় পতিত জল টারবাইন ব্লেডদের ঘোরায় । 
পতিত জলে শক্তি জোগানের জন্য নদীর বিশেষ জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয় ; বিশেষ জায়গাটি হল যেখানে এলিভেশনে (elevation) আছে বড়-সড় পতন (drop) । বাঁধ দিলে সৃষ্টি হয় একটি জলাধার । বাঁধের দেওয়ালের মধ্যে থাকে টারবাইনে জল নিয়ে যাবার 'ইনটেক' বা গ্রহণস্থান ; কতটা জল যাবে তা' নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণতঃ থাকে একটি জলদ্বার(sluice gate)। মাধ্যাকর্ষনের বলে জল এই গ্রহনস্থান দিয়ে প্রবেশ করে 'পেনস্টক' (penstock)-এ, যার পরে আছে টারবাইনের প্রপেলর । জল ব্যবহারের পর পুনরায় নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বাঁধের নীচের নির্গমপথ দিয়ে। টারবাইনকে ঘুরাবার শক্তি নির্ভর করে 'হেড'(head)- এর উপর যা হল জলাধারের জলের উপরিভাগের তল(surface)ও নির্গমণপথের মধ্যে অন্তর(difference)- এর উপর । হেড যত বেশি হবে বিদ্যুত্‍‌ উত্‍‌পাদন হবে ততবেশি ।

সোলার প্যানেল

সোলার প্যানেল

সূর্যের আলো সোলার প্যানেল এ থাকা সিলিকন,আর্সেনিক এবং অন্য ২/১ টা মৌলের মিশ্রণে তৈরি PNP তে আঘাত করে। ফলে pnp তে থাকা মৌলগুলোর পরমাণু থেকে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে নিচের চিত্রের ন্যায় ধনাত্মক প্রান্তের দিকে এবং হোলগুলো ঋনাত্তক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়।  
    আর ইলেকট্রন প্রবাহ মানেই বিদ্যুৎ প্রবাহ। এভাবেই সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আর এটা একটি কন্ট্রোলার হয়ে যায় ব্যাটারিতে। রাত্রে ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাল্ব, dc ফ্যান, tv ইত্যাদি চালানো হয়।

reactor

হিরোশিমা প্রথম পরমাণু বোমা

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হিরোশিমা শহরের আকাশে উড়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান এনোগা গে হামলা চালায়। বোমাটি মাটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা হামলা, যাতে প্রাণ যায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের। এই হামলার মধ্য দিয়ে মোড় ঘুরতে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ৬ আগস্টের পর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান আরেকটি পারমাণবিক বোমা ফেলে, যাতে নিহত হয় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। মূলত এই হামলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।
জাপানের দাবি, যুদ্ধের সময় ও এর প্রভাবে নানা রোগে ভুগে প্রায় ৪ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু হিরোশিমায় মারা গেছে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। 

Nuclear Fusion

সূর্যের প্রধান দুই উপাদান হল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। এছাড়াও আরো কিছু পদার্থ আছে সূর্যে। ভর অনুযায়ী, হাইড্রোজেন ৭১%, হিলিয়াম ২৭.১%, অক্সিজেন .৯৭%, কার্বন .৪০%, সিলিকন .০৯৯%, নাইট্রোজেন .০৯৬% এবং অন্যান্য উপাদানসমূহ .৩৩৫%।

Nuclear Fusion অর্থাৎ পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যের হাইড্রোজেন প্রতিনিয়ত প্রধানতঃ হিলিয়ামে রুপান্তরিত হচ্ছে। সূর্য হাইড্রোজেনকে জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এতে তাপ ও আলো উৎপাদিত হচ্ছে। সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা হল ২৭ মিলিয়ন ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপ ও আলোর একটা অংশ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। সেই সুত্রে আদিকালে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি। এ পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬২০ মিলিয়ন টন হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে পরিনত করছে আর এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে যে শক্তি নির্গত হচ্ছে তা পৃথিবীর সর্বাধিক শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে যে শক্তি উৎপন্ন হবে তার চেয়ে ১.৮ বিলিয়ন গুন বেশি।

এটম বোমা পারমাণবিক শক্তি

পারমাণবিক শক্তি হল, শক্তির এক প্রকার রূপ। নিউক্লীয় ফিউশন বা ফিশন বিক্রিয়ার ফলে এ শক্তির উদ্ভব ঘটে।  ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন। তিনি অন্ধকারে ইউরেনিয়ামের পাশে রক্ষিত ফটোগ্রাফিক প্লেটের বর্ণ পরিবর্তন দেখে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হন।

কোনো একটি ভারী মৌলের পরমাণুকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে ভারী মৌলটি ভেংগে দুইটি হাল্কা মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয়। এতে বিপুল পরিমাণ তাপ শক্তির বিকিরণ ঘটে। এ শক্তিকেই বলা হয় পরমাণু শক্তি।

এ বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার সময় সাধারণত ৩টি নিউট্রন  উত্পন্ন হয়। এটি পুনরায় নতুন ৩টি বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ফলে আরও ৯টি নিউট্রন পাওয়া যায়। এ ধারা ক্রমান্নয়ে বাড়তে থাকে। এজন্য এ বিক্রিয়াকে বলা হয় চেইন রিএকশান। বর্তমান বিশ্বে গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর চেয়ে বরং একটি অস্ত্র হিসেবে এটিকে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ পারমানবিক বোমা তৈরী করেছে।

পারমানবিক সংখ্যা

রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যায় কোনো পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমানবিক সংখ্যা বলে। আধান নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রন-এর সংখ্যাও পারমানবিক সংখ্যার সমান। পারমাণবিক সংখ্যা অনন্যভাবে একটি মৌলিক পদার্থকে চিহ্নিত করে। নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জের সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার সমান থাকে। প্রোটনের ভর ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান বলে তাদের সমষ্টি অর্থাৎ পরমাণুর ভর সংখ্যাকেই পারমাণবিক ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভর সংখ্যা হল নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

তেজস্ক্রিয়তা

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকেতেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
আমরা জানি, প্রত্যেক পদার্থ পরমাণু নামক অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত। সব মৌলের পরমাণুতে থাকে ইলেকট্টন, প্রোটন এবং নিউট্রন – এই তিনটি মূল কণিকা। নিউট্রন ও প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্র নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে। পরমাণু সামগ্রিকভাবে কোনরূপ চার্জযুক্ত থাকে না। নিউট্রন চার্জবিহীন, পরমাণুতে নেগেটিভ ইলেকট্রন ও পজিটিভ প্রোটনের সংখ্যা সমান । একই মৌলের পরমাণুর কয়েক প্রকারের ভর হতে পারে (ভর = প্রোটন ও নিউট্রনের সর্বমোট সংখ্যা)। যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। অর্থাৎ নিউট্রনের সংখ্যার তারতম্যের জন্যই আইসোটপের সৃষ্টি।

তেজষ্ক্রিয় ঘড়ির কাঁটায়

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে। ঘড়ির কাঁটায় তেজষ্ক্রিয় থোরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।

তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু

যে সময়ে কোন তেজষ্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে। উদাহরণ হিসেবে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কার্বন-১৪ -এর অর্ধায়ু ৫৭৩০ বছর। যদি শুরুতে ১০০ গ্রাম কার্বন-১৪ থাকে তা তেজস্ক্রিয়-ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ৫০ গ্রামে পরিণত হতে সময় লাগবে ৫৭৩০ বছর। উক্ত ৫০ গ্রাম একইভাবে আবার ২৫ গ্রামে পরিণত হতে সময় লাগবে আরও ৫৭৩০ বছর। এই কারণে কার্বন-১৪ এর অর্ধ-জীবন = ৫৭৩০ বছর। এইভাবে ১০০ গ্রাম তেজক্রিয় কার্বন -১৪ সম্পুর্ণরূপে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে (বাস্তবে C-14 থেকে N-14 এ পরিণত হতে) সময় লাগবে ৫১৫৭০ বছর। একই তেজস্ক্রিয় মৌলের বিভিন্ন খণ্ডের অর্ধায়ুও এক হবে। আবার বিভিন্ন মৌলের রশ্মি বিকিরণের হার বিভিন্ন। তাই দুটি ভিন্ন প্রকার মৌলের অর্ধায়ু কখনো এক হবে না। আবার একটিমৌলের সবগুলো পরমাণুর নিউক্লিয়াস একই সাথে রশ্মি বিকিরণ শুরু করে না। এ প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় ধাপে ধাপে।

গামা

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা খুবই বেশি। এরা রঞ্জন রশ্মির ন্যায় বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। একমাত্র লিড বা কংক্রিটের তৈরি প্রশস্ত দেওয়াল দিয়েই গামা রশ্নিকে আটকে রাখা সম্ভব। এরা জীবন্ত কোষের ক্ষতি সাধন করে। তেজস্ক্রিয়তার ফলে বিস্তীর্ন এলাকায় জীব ও উদ্ভিদ জগতের উপর সুদুরপ্রসারী যে ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তারজন্য প্রধানতঃ এই গামা রশ্মিই দায়ী। তাছাড়া যে কোন পদার্থ গামা রশ্মি গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক কিছু কণা বিকিরন করে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তেজষ্ক্রিয় ভারী মৌল

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে।

তেজষ্ক্রিয় বেরিয়াম

তেজষ্ক্রিয় মৌলের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে । ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ন এক প্রকার তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি। প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন-এর সমষ্টির সমান। যে-সব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এ-সব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। 

রঞ্জন রশ্মি

রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (সাধারণত ১০-০.০১ন্যানোমিটার) সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে এদের খালি চোখে দেখা যায় না। ১৮৯৫ সালে উইলিয়াম রন্টজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগনির্ণয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে রঞ্জনরশ্মি। এক্সরে আর সাধারণ আলোর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে। সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 7x10^-7m থেকে 4x10^-7m এর কাছাকাছি। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10^-8m থেকে 10^-13m এর কাছাকাছি। সাধারণ আলো দৃশ্যমান এবং বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়। কিন্তু এক্সরে দৃশ্যমান নয়। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এক্সরে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাবার সময় গ্যাসকে আয়নিত করে, কিন্তু সাধারণ আলো তা করে না।

সিলভার হ্যালাইড

একটি অন্ধকার চারকোনা বাক্সের সামনে তলে একটি সুইয়ের খোঁচার সমান ছিদ্র থাকলে এবং ঠিক বিপরীত দিককার তলে একটা সাদা পর্দা দেয়া হলে সেই পর্দায় উল্টোভাবে সামনের দৃশ্য ধরা পড়ে। ছিদ্রটার যায়গায় যদি একটা কাচের লেন্স বসিয়ে দেয়া যায়, তাহলে যে এই ছবি আরো স্পষ্ট হয়ে আসে, সেটা সেই ১৪০০ সালের দিকেই মানুষ জানতে পেরেছিল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এই ছবিকে স্থায়ীভাবে ধরার প্রযুক্তি আবিস্কার করতে লেগে যায় ৪০০ বছরেরও বেশী। ১৮০০ সালের শুরুর দিকে আবিষ্কৃত হল যে কোন একটি প্লেটকে ‘আলোক সংবেদী (light sensetive)’ রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কোটিং করে সেখানে ছবি প্রতিফলিত করলে ছবির বিভিন্ন অংশের আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে ওই প্লেটের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্রিয়া হয়। ফলশ্রুতিতে ছবিটা ফুটে ওঠে প্লেটের উপর। সমস্যা হল অন্য যায়গায়…এই ছবিকে স্থায়ী রুপ দেয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ১৮০০ সালের গোড়ার দিকে লুই ডাগের (Louis Duguerre) এবং জোসেফ নিয়েপ (Joseph Niepce) এর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরী হয় ‘ডাগেরোটাইপ (Duguerrotype)’ প্রসেস, যেখানে সিলভার হ্যালাইড নামের আলোক সংবেদী একটা যৌগের প্রলেপকে ব্যবহার করা হয় ছবি ধারনের মাধ্যম হিসেবে।

মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব

মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব বলে আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। মহা বিস্ফোরণ শব্দটি স্থূল অর্থে প্রাচীনতম একটি বিন্দুর অতি শক্তিশালী বিস্ফোরণকে বোঝায় যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল, আবার অন্যদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন নিয়ে বিশ্বতত্ত্বে যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তাকেও বোঝায়। এর মাধ্যমেই মহাবিশ্বের প্রাচীনতম বস্তুসমূহের গঠন সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যার জন্য মহা বিস্ফোরণ মতবাদের পরই আলফার-বেটে-গ্যামফ তত্ত্ব প্রণীত হয়েছে। মহা বিস্ফোরণের একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হল, বর্তমানে মহাবিশ্বের অবস্থা অতীত এবং ভবিষ্যতের অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালেজর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবংস্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়।

আলোক বর্ষ

আলোক বর্ষ জ্যোতির্বিদ্যায় ব্যবহৃত দূরত্বের একক। আলো শুন্যস্থানে এক বৎসর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে । আর আলোর গতি তো জানোই, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার (২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটার)। এবার কল্পনা করো তো, এক আলোক বর্ষ কতো দীর্ঘ হতে পারে? এক আলোকবর্ষ প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মাইলের সমান, কিলোমিটারে হিসেব করলে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (৯,৪৬০,৭৩০,৪৭২,৫৮১ কিলোমিটার)।

ক্যাথোড রশ্মি

ইলেকট্রন যে একটি উপআনবিক কণিকা তা সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী জে. জে. টমসন ১৮৯৭ সালে আবিষ্কার করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরক্যাভেন্ডিশ গবেষণাগারে ক্যাথোড রশ্মি নল নিয়ে গবেষণা করার সময় তিনি এই আবিষ্কার করেন। ক্যাথোড রশ্মি নল হল একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ কাচের সিলিন্ডার যার মধ্যে দুইটি তড়িৎ ধারক (electrode) শূণ্য স্থান দ্বারা পৃথ করা থাকে। যখন দুইটি তড়িৎ ধারকের মধ্যে বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হয় তখন ক্যাথোড রশ্মি উৎপন্ন হয় এবং এর ফলে নলের মধ্যে আভার সৃষ্টি হয়। উপর্যুপরী পরীক্ষার মাধ্যমে টমসন প্রমাণ করেন যে চৌম্বকত্বের সাহায্যে রশ্মি থেকে ঋণাত্মক আধান পৃথক করা যায় না; তবে তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা রশ্মিগুলোকে বিক্ষিপ্ত করা যায়।

তাপ ও তাপমাত্রা

তাপ তাপমাত্রা
 

তাপঃতাপ হলো এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি জাগায়। তাপ উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। সুতরাং উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য যে শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে প্রবাহিত হয় তাকে তাপ বলে।  

তাপের এককঃ SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল  (J)। পূর্বে তাপের একক হিসাবে ক্যালরি  (Cal) ব্যবহৃত হতো।

ক্যালরি এবং জুলের মধ্যে সম্পর্ক হলো  1 Cal = 4.2 J

তাপমাত্রাঃতাপমাত্রা হচ্ছে কোনো বস্তুর এমন এক তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে ঐ বস্তুটি অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে এলে বস্তুটি তাপ হারাবে না গ্রহণ করবে।

তাপমাত্রার এককঃ  আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রার একক কেলভিন(K)

কেলভিনঃ যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা এবং চাপে পানি তিনটি অবস্থায় অর্থাৎ বরফ, পানি, জলীয়বাষ্পরূপে অবস্থান করে তাকে পানির ত্রৈধবিন্দু বলা হয়। এই  ত্রৈধবিন্দুর তাপমাত্রাকে 273K ধরা হয়। পানির ত্রৈধবিন্দুর 1/273 ভাগকে এক কেলভিন বলে(K)।

 

কার্বন মনোক্সাইড

মোটর যানের ইঞ্জিনে বায়ু এবং পেট্রোল বা ডিজেল বা অকটেনের মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করে প্রচন্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি করে। এর ফলে মটরগাড়ী চলিত হয়ে থাকে। অব্যবহৃত গ্যাস বহির্মুখ ভালবের দ্বারা বের হয়ে থাকে। অব্যবহৃত গ্যাসের মধ্যে  কার্বন ড্রাই-অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড প্রভৃতি থাকে। এ গ্যাসগুলো বায়ুকে দূষিত করে থাকে। এ গ্যাস জীব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।তবে,এদের মধ্যে  কার্বন মনো অক্সাইড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।কেননা,এটি মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে বাধার সৃষ্টি করে,যার ফলস্রুতিতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 

ক্লোরোফর্ম

ক্লোরোফর্ম হলো বর্নহীন, মিষ্টি গন্ধযুক্ত, উদ্বায়ী জৈব পদার্থ। ।এটি  চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীকে  অজ্ঞান করতে এটি  ব্যবহার করা হয়। ক্লোরোফর্ম এর  উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।এটি প্রথম ব্যবহার করেন স্যার জেমস ইয়ং সিম্পসন।

বিভিন্ন পদার্থের ব্যবহার

বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও তাদের কার্যকারিতাঃ 

রাসায়নিক পদার্থের নাম  কার্যকরিতা/ব্যবহার
ব্লিচিং পাউডার    জীবাণু নাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ক্লোরোফর্ম  চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গ্রীজ, রঞ্জক ও দ্রাবক লিপস্টিক তৈরিতে  ব্যবহৃত হয়। 
লেবুর রস কাপড়ে কালির দাগ উঠাতে ব্যবহৃত হয়। 
লুকাস বিকারক  মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল সনাক্তকরনে  ব্যবহৃত হয়। 
ইথিলিন  ফল পাকাতে ব্যবহৃত হয়। 
তারপিন  রঙের থিনার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

 

বিভিন্ন পদার্থের মূল উপাদান

প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের মূল উপাদ

পদার্থ মূল উপাদান
কাগজ সেলুলোজ 
প্রাকৃতিক গ্যাস  মিথেন 
ভিনেগার  ইথানয়িক এসিড 
টুথপেস্ট  সাবান ও পাউডার

 

বিভিন্ন পদার্থের মূল উপাদান

প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের মূল উপাদ

পদার্থ মূল উপাদান
কাগজ সেলুলোজ 
প্রাকৃতিক গ্যাস  মিথেন 
ভিনেগার  ইথানয়িক এসিড 
টুথপেস্ট  সাবান ও পাউডার

 

প্রচলিত কয়েকটি রাসায়নিক পদার্থের নাম

কয়েকটি রাসায়নিক পদার্থের প্রচলিত ন

রাসায়নিক পদার্থ  প্রচলিত নাম 
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট  টেস্টিং সল্ট 
কাদুনে গ্যাস  ক্লোরোপিক্রিন
অ্যাসকরবিক এসিড ভিটামিন 'সি' 
ফরমিক এসিড(HCOOH) মিথানয়িক এসিড
গ্যাসোলিন পেট্রোল

 

ইথানল

ইথানল যা ইথাইল অ্যালকোহল  নামেও পরিচিত, এক প্রকারের অ্যালকোহল। এটি দাহ্য, স্বাদবিহীন, বর্ণহীন, সামান্য বিষাক্ত ও বিশিষ্ট গন্ধযুক্ত, এবং অধিকাংশ মদের প্রধান উপাদান।তাই পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অযোগ্য করার জন্য ইথানলের সাথে মিথানল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে ৯৯% বিশুদ্ধ অ্যালকোহল থাকে। এটি জৈব সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।এসিড প্রভাবকের উপস্থিতিতে ইথানল কার্বক্সিলিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে ইথাইল অ্যালকোহল এবং পানি তৈরী করে।আবার,এটি জীবাণুর উপস্থিতিতে বায়ু দ্বারা জারিত হয়ে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি করে।

ব্যবহারঃ রেকটিফাইড স্পিরিট প্রস্তুতিতে এটি ব্যবহৃত হয়।৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৫% পানির মিশ্রণ   রেকটিফাইড স্পিরিট নামে পরিচিত।  

টিএনটি

জার্মান রসায়নবিদ জুলিয়াস উইলব্রান্ড ১৮৬৩ সালে প্রথম টিএনটি প্রস্তুত করেন। এটা তখন হলুদ রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রথমদিকে এটাকে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হত না। কারণ প্রচলিত বিস্ফোরকের তুলনায় এটি ছিলো কম ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এটাকে ডেটোনেট করা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো। ১৯১০ সালে টিএনটি নিরাপদভাবে তরল অবস্থায় পাত্রে ভরা সম্ভব হয়।

এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যা রাসায়নিক সংশ্লেষণে অনেকসময় রিএজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এটি বিষ্ফোরক তৈরীতে বহুল ব্যবহার হয়। 

ফর্মালিন

ফর্মালিন  (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। পানিতে সহজেই দ্রবনীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফরমাইলডিহাইডের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন  হিসাবে ধরা হয়।ফর্মালিন  সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।   

ভিনেগার

এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবনকে ভিনেগার বলা হয়।মদ কিংবা আপেলের রস দিয়ে উৎপন্ন এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি জাতীয় তরল পদার্থ সহযোগে ভিনেগার তৈরী করা হয়। উক্ত তরলে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে।এটি একজাতীয় তরল পদার্থ যা সাধারণতঃ রান্নাকর্মে ব্যবহৃত হয়।এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। 

ভিনেগার

এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবনকে ভিনেগার বলা হয়।মদ কিংবা আপেলের রস দিয়ে উৎপন্ন এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি জাতীয় তরল পদার্থ সহযোগে ভিনেগার তৈরী করা হয়। উক্ত তরলে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে।এটি একজাতীয় তরল পদার্থ যা সাধারণতঃ রান্নাকর্মে ব্যবহৃত হয়।এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। 

স্যাকারিন

স্যাকারিন একটি মিষ্টি জৈব পদার্থ। এটি চিনির চেয়ে প্রায় ৫০০ গুন বেশি মিষ্টি।ডায়াবেটিস রোগীরা  এটি  চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করে থাকেন।তবে স্যাকারিনের খাদ্যগুণ নেই।আলকাতরার পাতনের পর প্রাপ্ত টলুইন নামক পদার্থ থেকে এটি তৈরি করা হয়।

ভৌত রাশি chart 1

ভৌত রাশি weight chart

ভৌত রাশি চার্ট ২

nano

order of magnitude

ওজন

১ কেজি = ১,০০০ গ্রাম = ১.১ সের (প্রায়) = ২.২০ পাউন্ড (প্রায়)

১ সের = ৯৩৩ গ্রাম (প্রায়)

১ মণ = ৪০ সের = ৩৭ কেজি ৩২৪ গ্রাম (প্রায়)

১ কুইন্টাল = ১০০ কেজি = ২ মণ ২৭.৫ সের

১ মেট্রিক টন = ১,০০০ কেজি =২৬ মণ ৩১.৭৫ সের (প্রায়)

Distance

units

তড়িচ্চুম্বকত্ব

তড়িচ্চুম্বকত্ব (Electromagnetism) তড়িৎ এবং  চুম্বকত্বের মধ্য সম্পর্ককে বর্ণনা করে। ছোটবেলায় অনেকেই চুম্বক নিয়ে খেলা করেছেন, এছাড়া রেফ্রিজারেটর বা বেতার যন্ত্রের মধ্যে দণ্ড চুম্বক অনেকেই দেখেছেন। এগুলোকে বলে স্থায়ী চুম্বক। বাস্তবে স্থায়ী চুম্বক বেশি চোখে পড়লেও, প্রকৃতপক্ষে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অস্থায়ী তথা তড়িচ্চুম্বক। এই তড়িচ্চুম্বকের ধর্ম নিয়েই তড়িচ্চুম্বকত্ব আলোচনা করে।  বিদ্যুৎ উৎপাদন, কম্পিউটার / ক্যাসেট প্লেয়ারে  স্মৃতি সংরক্ষণ, টেলিভিশন পর্দায়  ছবি ফুটিয়ে তোলা, রোগব্যধি নিরূপণ করা , কলিংবেলে ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই তড়িচ্চুম্বকত্ব ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে আমরা যা যা করি তার সবকিছুতেই তড়িচ্চুম্বকত্ব কাজে লাগে।

কোন তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে সেখানে একটি চৌম্বক সৃষ্টি হয়। এই নীতির উপর ভিত্তি করেই তড়িচ্চুম্বকত্ব কাজ করে। স্থায়ী চুম্বক যে বলের কারণে ধাতব বস্তুকে আকর্ষণ করে তার সাথে এই ক্ষেত্রের কোন পার্থক্য নেই। দণ্ড চুম্বকে চৌম্বক ক্ষেত্র উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে প্রবাহিত হয়। আর তারের ক্ষেত্রে, চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এর চারদিকে। এই তার দিয়ে কোন ধাতব বস্তুকে পেঁচালে সেই বস্তুটি চুম্বকায়িত হয়ে পড়ে। এভাবেই খুব সাধারণ তড়িচ্চুম্বক তৈরি করা যায়।

পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক

পৃথিবীপৃষ্ঠে স্বাভাবিক চৌম্বকত্ব লাভ করা এবং দীর্ঘকাল পড়ে থাকা লোহার মধ্যে চৌম্বক শক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, পৃথিবী নিজেই একটা চুম্বক। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ প্রশ্নও তাদের ভাবিয়ে তোলে, এই চৌম্বকত্ব পৃথিবী পেলো কোথা থেকে?
এ প্রশ্নের উত্তরে অনেক ব্যাখ্যাই দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ বলেছেন, পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে উভয় দিকে মেরু পর্যন্ত একটি চুম্বক অবস্থান করছে; তার প্রভাবেই পৃথিবী চৌম্বকত্ব লাভ করেছে।
অন্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীর অভ্যন্তরে চুম্বক তৈরি হচ্ছে অনবরত; এ কারণেই লোডস্টোন বা স্বাভাবিক চুম্বক পাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীতে।
যে সময় এ ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া হতো, সে সময় পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না বিজ্ঞানীদের। পরে তারা দেখতে পান, পৃথিবীর চৌম্বক শক্তি-প্রাপ্তির পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরটা এতোই উত্তপ্ত আর তার তাপমাত্রা এতোটাই বেশি যে, সেখানে কোনো পদার্থের চৌম্বকত্ব টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া ভূপৃষ্ঠের অল্প গভীরে এতো চৌম্বক পদার্থ নেই, যা থেকে পৃথিবী একটা বিশাল চুম্বকে পরিণত হতে পারে। মোটকথা, প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা যেসব ব্যাখ্যা প্রচার করেছিলেন, তা নতুন গবেষণার মধ্য দিয়ে ভুল প্রমাণিত হয়। ফলে বিজ্ঞানীরা নতুন করে গবেষণায় নামেন। এ সময় বিদ্যুতের কাজ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করেন বিজ্ঞানীরা। তখন তারা বুঝতে পারেন, পৃথিবীপৃষ্ঠে কিছু কিছু স্থির বিদ্যুত্ ক্ষেত্র রয়েছে। পৃথিবীর রয়েছে আহ্নিকগতি। এর সাহায্যে পৃথিবী নিজ মেরুদণ্ডের ওপর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরপাক খাচ্ছে। এ কারণে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর আহ্নিকগতি এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে না-তরল না-কঠিন অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভারী পদার্থ। আহ্নিক গতির ফলে সেই অর্ধেক তরল পদার্থের মধ্যে সব সময়ই আলোড়নের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই আলোড়নের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে একধরনের তড়িত্চুম্বকীয় আবেশ। ওই আবেশের ফলে উত্পন্ন হচ্ছে বিদ্যুত্তরঙ্গ। একইভাবে উত্পন্ন বিদ্যুত্প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চলছে। প্রতিনিয়ত এর পরিধি বেড়েই চলেছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি এলাকায় চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হবে।

 

 

 

চৌম্বক পদার্থ

যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিকনির্দশক ধর্ম আছে – চম্বুক পদার্থ । চৌম্বকের চুম্বকত্ব একটি – ভৌত ধর্ম । চৌম্বকের প্রকারভেদ – ১) প্রাকৃতিক চৌম্বক, ২) কৃত্রিম চৌম্বক ও ৩) তড়িৎ চৌম্বক । চৌম্বক পদার্থ – টিন, আয়রণ, কপার, কোবাল্ট, নিকেল ইত্যাদি । চৌম্বক পদার্থের প্রকারভেদ – ১) ডায়া চৌম্বক, ২) প্যারা চৌম্বক ও ৩) ফেরো চৌম্বক ।

thermal unit

সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক

সেলসিয়াস, ফারেনহাইট কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক
 

কোন বস্তুর তাপমাত্রা নির্ধারণের জন্য তাপমাত্রার একটি স্কেল প্রয়োজন হয়

স্থিরাংকঃ তাপমাত্রার স্কেল তৈরি করা জন্য দুটি তাপমাত্রাকে স্থির ধরে নেয়া হয়। তাপমাত্রা দুটিকে স্থিরাংক বলে।

স্থিরাংক দুটি-

  • নিম্ন স্থিরাংক
  • ঊর্ধ্ব স্থিরাংক

নিম্নস্থিরাঙ্কঃ প্রমাণ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলে পানি হয় অথবা বিশুদ্ধ পানি জমে বরফ হয় তাকে নিম্নস্থিরাঙ্ক বলে। একে হিমাঙ্ক বা বরফ বিন্দুও বলে।

ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্কঃ প্রমাণ চাপে ফুটন্ত বিশুদ্ধ পানি যে তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পে পরিণত হয় তাকে ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্ক বলে। ঊর্ধ্বস্থিরাঙ্ককে স্ফুটনাংক বা বাষ্পবিন্দুও বলে। 

স্থিরাঙ্কদুটির মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধানকে মৌলিক ব্যবধান বলে। মৌলিক ব্যবধানকে নানাভাবে ভাগ করে তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেল  তৈরিকরা হয়েছে।তাপমাত্রার প্রচলিত স্কেল তিনটি : সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন।

C/ 5 = (F- 32)/9 = (K-273)/5

সমীকরণটি  সেলসিয়াস,ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে।   

 

NTP

NTP - Normal Temperature and Pressure - is defined as air at 20oC (293.15 K, 68oF) and 1 atm (101.325 kN/m2, 101.325 kPa14.7 psia, 0 psig, 29.92 in Hg, 407 in H2O, 760 torr). Density 1.204 kg/m3 (0.075 pounds per cubic foot)

পরম শুন্য তাপমাত্রা ও ফারেনহাইট স্কেল

পরম শুন্য বা অ্যাবসলিউট জিরো তাপমাত্রা বলতে বোঝানো হয় এমন একটি তাপমাত্রা যার চাইতে ঠাণ্ডা কোনও কিছু হতে পারে না। এটা হল শুন্য ডিগ্রি ক্যালভিন, -২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা -৪৫৯.৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট 

 

 

 ফারেনহাইট স্কেলটি প্রবর্তনের মূলে বিজ্ঞানী ফারেনহাইটের একটি বদ্ধমূল ধারণা কাজ করে। তা হচ্ছে মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৬ ডিগ্রি। এই হিসেবে তিনি বরফের গলনাঙ্ক ৩২ ডিগ্রি নির্ণয় করেছিলেন। এই ফারেনহাইট স্কেলে পানির হিমাংক বিবেচনা করা হয় ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং স্ফুটনাঙ্ক বিবেচনা করা হয় ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর এই দুই দুইয়ের মধ্যবর্তী অংশকে ১৮০টি ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়। এই ক্ষুদ্র ভাগ হচ্ছে ১ ডিগ্রি ফারহেনহাইট।

মূল ধারণা : ফারেনহাইটের ১৭২৪ সালে সৃষ্ট নিবন্ধ অনুসারে তাপমাত্রা নিরূপণে তিনি তিনটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দুর কথা তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো :
• সর্বনিম্ন তাপমাত্রার জন্য বরফ, পানি এবং অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লবণকে একত্রিত করে মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এরপর সাম্যাবস্থার জন্য অপেক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে এ মিশ্রণে থার্মোমিটার রাখা হয় এবং থার্মোমিটারের তরলকে সর্বনিম্ন বিন্দুতে নিয়ে আসা হয়, যা ০° ফারেনহাইট নামে পরিচিত।
• দ্বিতীয় তাপমাত্রার জন্য থার্মোমিটারকে পানিতে রাখা হয়। যখন পানি বরফের আকৃতি ধারণ করে তখন এটি ৩২° ফারেনহাইট নামে পরিচিতি পায়।
• তৃতীয় যোগ্যতা নির্ধারণী বিন্দু হিসেবে থার্মোমিটারকে বাহুর নীচে কিংবা মুখে রাখা হয়। এক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসেবে ৯৬° ফারেনহাইট ধরা হয়।

ফারেনহাইট লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, ৬০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পারদ তাপে ফুটে উঠে। অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে একত্রে কাজ করে তিনি দেখেনে যে, পানির স্ফুটনাঙ্ক হিমাঙ্কের চেয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি বেশি। তাই তারা পানির স্ফুটনাঙ্ক এবং হিমাঙ্কের মধ্যবর্তী পার্থক্য পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ধরে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের সংজ্ঞা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে নতুন সংশোধিত স্কেলে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৯৮.৬° ফারেনহাইট, যা তার প্রকৃত স্কেলে ছিল ৯৬ ডিগ্রি।

 

ব্যারোমিটার

বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপার জন্য এখনো নির্ভরতার সঙ্গে ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাতাসের চাপ সবসময় স্থির থাকে না। কখনো তা বাড়ে আবার কখনো কমে। এর একমাত্র কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের হ্রাস-বৃদ্ধি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং তা ব্যারোমিটারে ধরা পড়ে। ব্যারোমিটারের কাঁটায় সব বোঝা যায়। বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে। ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়

তরলের প্রকৃত ও আপাত প্রসারণ এবং গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব

তরলের প্রকৃত আপাত প্রসারণ
 

তরলকে সর্বদা কোনো পাত্রে রেখে উত্তপ্ত করতে হয়। তাপ প্রয়োগ করলে তরল ও পাত্র উভয়েরই প্রসারণ ঘটে। এই কারণে তরলের যে প্রসারণ আমরা লক্ষ্য করি তা তার প্রকৃত প্রসারণ নয় - আপাত প্রসারণ।  সুতরাং তরলের প্রসারণ দুই প্রকার

  • প্রকৃত প্রসারণ 
  • আপাত প্রসারণ 

প্রকৃত প্রসারনঃ তরলকে কোনো পাত্রে না রেখে (যদি সম্ভব হয়) তাপ দিলে তার যে আয়তন প্রসারণ হতো তাকে  তরলের প্রকৃত প্রসারণ বলে। তবে তা সম্ভব নয় ফলে পাত্রের প্রসারণ বিবেচনা করে প্রকৃতই তরলের যেটুকু প্রসারণ ঘটে তাই প্রকৃত প্রসারণ। 
আপাত প্রসারণঃ কোনো পাত্রে তরল রেখে তাপ দিলে তরলের যে আয়তন প্রসারণ দেখতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ পাত্রের প্রসারণ বিবেচনায় না এনে তরলের যে প্রসারণ পাওযা যায় তাকে তরলের আপাত প্রসারণ বলে। 

 

গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব
 

পুনঃশিলীভবনঃ চাপ দিয়ে কঠিন বস্তুকে তরলে পরিণত করে এবং চাপ হ্রাস করে পুনরায় কঠিনে অবস্থায় আনাকে পুনঃশিলীভবন বলে।

পদার্থের উপর চাপের হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য গলনাঙ্ক পরিবর্তিত হয়।

চাপের জন্য গলনাঙ্ক পরিবর্তন দুই ভাবে হতে পারে।

  • কঠিন থেকে তরলে  রূপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন হ্রাস পায়  (যেমন বরফ), চাপ বাড়লে তাদের গলনাঙ্ক কমে যায় অর্থাৎ কম তাপমাত্রায় গলে। 
  • কঠিন থেকে তরলে  রূপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন বেড়ে যায়  (যেমন  মোম), চাপ বাড়লে তাদের গলনাঙ্ক বেড়ে  যায় অর্থাৎ বেশি  তাপমাত্রায় গলে। 

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ

পদার্থের তাপীয় প্রসারণ
 

প্রায় সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত হয় আর তাপ অপসারণে সংকুচিত হয়। যখন কোনো বস্তু উত্তপ্ত হয়, তখন বস্তুটির প্রত্যেক অণুর তাপশক্তি তথা গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের বিপরীতে অণুগুলো আরো বর্ধিত শক্তিতে স্পন্দিত হতে থাকে ফলে সাম্যাবস্থা থেকে অণুগুলোর সরণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোনো অণু এর সাম্যাবস্থা থেকে সরে যাবার সময় টান অনুভব করে। অর্থাৎ, অণুটি যখন পার্শ¦বর্তী অণুর কাছাকাছি যেতে চায় 
তখন বিকর্ষণ অনুভব করে। আবার আন্তঃআণবিক দূরত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন আকর্ষণ অনুভব করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিরকারণে কঠিন বস্তুর  অণুগুলো স্পন্দিত হতে থাকে তবে তা সরল ছন্দিত স্পন্দন নয়। এর কারণ, দুই  অণুর মধ্যে দূরত্ব সাম্যাবস্থার তুলনায় যদি কমে যায় তাহলে বিকর্ষণ বল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এদের  মধ্যে দূরত্ব সাম্যাবস্থার তুলনায় বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ বল তত দ্রুত বৃদ্ধি পায় না।ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবার ফলে কঠিন বস্তুর মধ্যে অণুগুলো  যখন কাঁপতে থাকে তখন একই শক্তি নিয়ে ভিতর দিকে যতটা সরে আসতে পারে, বাইরের দিকে তার চেয়ে বেশি সরে  যেতে পারে। এর ফলে প্রত্যেক   অণুর  গড় সাম্যাবস্থান  বাইরের দিকে সরে যায় এবং বস্তুটি প্রসারণ লাভ করে।তরল পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক বলের প্রভাব কম বলে তাপের কারণে এর প্রসারণ বেশি হয়। বায়বীয় পদার্থের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অণুগুলোর  ছুটাছুটি বৃদ্ধি পায়। তাপীয় প্রসারণ গ্যাসীয় পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে কম। 

পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব

পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব
 

কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করা যায়, একে গলন বলে। প্রথমে তাপ দিলে বস্তুর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাপ প্রয়োগ করলেও বস্তুর তাপমাত্রা বাড়ে না। এ সময়ে যে তাপ বস্তু শোষণ করে তা দ্বারা কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত হয়। ০⁰ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার নিচের বরফকে তাপ দিতে থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ০⁰ সেন্টিগ্রেড -এ আসবে। এর পর তাপ দিলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে না কিন্তু বরফ গলে ০⁰ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানিতে পরিণত হতে থাকবে। কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় পদার্থ যে তাপ শোষণ করে তা তার আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে কাজ করে। ০⁰ সেন্টিগ্রেডতাপমাত্রার উক্ত পানিকে  আর তাপ প্রয়োগ করলে  তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। আবার এক পর্যায়ে এসে পানি যখন জলীয়বাষ্পে পরিণত হতে থাকে তখন আর তাপমাত্রা বাড়ে না। এই সময় পানি তাপ শোষণ করে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। এক্ষেত্রেও তরলের আন্তঃআণবিক বন্ধন ভাঙতে তাপের প্রভাব বিদ্যমান। বিপরীতক্রমে বায়বীয় পদার্থ থেকে তাপ অপসারণ করে তাকে প্রথমে তরলে এবং তরল থেকে তাপ অপসারণ করে তাকে কঠিনে পরিণত করা যায়। সুতরাং পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনে তাপের প্রভাব উলে‡খযোগ্য।

 

 

পানির ঘনত্ব

শীতপ্রধান দেশে যখন উত্তাপ হিমাঙ্কের নিচে অর্থাৎ শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হয়ে যায় তখন হ্রদ এবং নদ-নদীর পানি বরফে পরিণত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এসব বরফাবৃত হ্রদ ও নদীর জলচর প্রাণীরা কিন্তু বেঁচে থাকে। হ্রদের পানি আসলে আংশিকভাবে উপরিতলে জমে। কিন্তু নিচের পানি একই অবস্থায় থাকে অর্থাৎ জমে না। তাই উপরে বরফাবৃত থাকার সত্ত্বেও জলচর প্রাণীগুলো ভালোভাবেই বেঁচে থাকে। সাধারণত তরল সব পদার্থই উত্তাপে আয়তনে বাড়ে বা সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু নিম্ন তাপমানে পানি এ নিয়মানুসারে চলে না। যখন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি ক্রমশ গরম হতে থাকে তখন তার তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়তনও কমতে থাকে। উত্তাপ ৪ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে না পেঁৗছানো পর্যন্ত। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর পানি আয়তনে বাড়তে শুরু করে এবং এই আয়তনে বৃদ্ধি পাওয়াটা পরবর্তী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সমতা রেখেই হয়। এ থেকে লক্ষ করা যায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট ভরের পানির আয়তন হচ্ছে তার নূ্যনতম আয়তন। অন্যদিকে বলা যায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি। পানির এ ধরনের অনিয়মিত প্রসারণকে জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে। পানির এ ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ প্রকৃতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শীতপ্রধান দেশের পুকুর এবং হ্রদগুলোর পানির উপরিতলকে বরফাবৃত করে দেয়। এ অবস্থায় নিচের স্তর কিন্তু অবিকল পানির আকারেই থাকে। এ কারণে পানির নিচের প্রাণীরা সহজেই বেঁচে থাকতে পারে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে শীত ঋতুতে যখন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা অত্যন্ত নিচে নেমে যায়, তখন পানির ঘনত্ব হয় সর্বাধিক। ফলে সেটি নিচে নামতে থাকে এবং নিচের পানি উপরে জায়গা নিতে থাকে। এটি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠাণ্ডা হতে থাকে এবং ঘনত্ব হয়ে নিচের স্তরে নেমে যায়। পুরো পানির তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না নামা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে পানির ঘনত্ব কমে আসে এবং পরিণামে উপরের পানি আর নিচে নেমে আসে না। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে পানির উপরিতলের তাপ কমতে কমতে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে পেঁৗছে বরফে পরিণত হয়। বরফ তাপ অপরিবাহী বলে নিচের দিকে পানি জমার প্রক্রিয়া চলে অত্যন্ত ধীর গতিতে। এর ফলে নিচের স্তরের পানিতে মাছ এবং অন্যান্য প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে। যদি পানির প্রসারণ ক্রিয়া একইরকম নিয়মিত হতো তাহলে হ্রদ ও পুকুরের পানি সবই বরফে পরিণত হতো এবং জলচর প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যেত। 

পাহাড়ে রান্না

প্রেসার কুকার

প্রেসার কুকার একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র। এতে চাপ বৃদ্ধি করে পানির স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি করা হয় , ফলে মাছ , মাংস অতি দ্রুত সিদ্ধ হয়। ফলে রান্না অনেক দ্রুত হয়।

সাধারণত পাত্র ঢেকে রাখলে খোলা পাত্রের তুলনায় চাপ বেশি অনুভূত হয়। রাবার প্যাডের বেস্টনী দ্বারা ঢাকনিকে পাত্রের মুখে বায়ুনিরুদ্ধভাবে আটকে দেয়া হয়। 

তাপধারণ ক্ষমতা

তাপধারণ ক্ষমতা
 

কোনো বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন তাকে ঐ বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বলে। তাপধারণ ক্ষমতা বস্তুর উপাদান এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। এর একক J/K

কোনো বস্তুর তাপমাত্রা  Δθ     বাড়াতে ধরা যাক Q পরিমাণ তাপ লাগে। তাহলে তাপধারণ ক্ষমতা, C = Q / Δθ  

 

আপেক্ষিক তাপ
 

1 Kg ভরের বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। আপেক্ষিক তাপকে S দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

S = C / m = 1 / m ( Q / Δθ  )

আপেক্ষিক তাপের একক J kg¯¹k¯¹

সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 J kg¯¹k¯¹   বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130J তাপের প্রয়োজন হবে

 

আপেক্ষিক তাপ তাপধারণ ক্ষমতার সম্পর্ক
 

তাপধারণ ক্ষমতা (C)= ভর (m) * আপেক্ষিক তাপ (S)

এটাই, আপেক্ষিক তাপ ও তাপধারণ ক্ষমতার সম্পর্ক। 

 

উচ্চতা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপ

উচ্চতা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ
 

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা এবং বায়ুর ঘনত্বের উপর। ভূপৃষ্ঠে অর্থাৎ সমুদ্র সমতলে বায়ুর সাধারণ চাপ হলো ৭৬ সেমি পারদতম্ভের চাপের সমান। ভূপৃষ্ঠের সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুতম্ভের ওজন এবং ঘনত্ব উভয়ই হ্রাস পায়। এজন্য উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমšডলীয় চাপ কম হয়।

এভারেস্ট শৃঙ্গের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমুদ্র সমতলের চাপের প্রায় 30%। সে জন্য বেশি উচ্চতায় শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া কষ্টের। বেশি উচ্চতায় মানুষের রক্তের চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় বেশি বলে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। বিমান যখন বেশি উচ্চতার নিম্নচাপ দিয়ে যায় তখন যাত্রীদের সুবিধার্থে অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা হয়।

রঙ

আমাদের চোখের রেটিনায় মূলত লাল, নীল এবং সবুজ- এই তিনটি রঙ ধরা পড়ে। এই রংগুলো মস্তিষ্কে পৌঁছে নিজের ওয়েভলেংথ অনুযায়ী মিলেমিশে তৈরি করে অফুরন্ত রঙের ভাণ্ডার।

বিশেষজ্ঞরা রঙকে হায়ার ফ্রিকোয়েন্সি এবং লোয়ার ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাগ করেছেন। বেগুনি, নীল, আকাশি রঙ হল হায়ার ফ্রিকোয়েন্সি আর হলুদ, কমলা এবং লাল রঙ হল লোয়ার ফ্রিকোয়েন্সি। 

রংধনু

রংধনু  হল একটি দৃশ্যমান ধনুরাকৃতি আলোর রেখা যা বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত জলকণায় সূর্যালোকের প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে ঘটিত হয়। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু দেখা যায়। রংধনুতে সাতটি রঙের সমাহার দেখা যায়। দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা হওয়ায় এটির নাম রংধনু।

বৃষ্টির কণা বা জলীয় বাষ্প-মিশ্রিত বাতাসের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো যাবার সময় আলোর প্রতিসরণের কারণে বর্ণালীর সৃষ্টি হয়। এই বর্ণালীতে আলো সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়। এই সাতটি রঙ হচ্ছে বেগুনী (violet), নীল (blue), আসমানী (indigo), সবুজ (green), হলুদ (yellow), কমলা (orange) ও লাল (red); বাংলাতে এই রংগুলোকে তাদের আদ্যক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে বলা হয়: বেনীআসহকলা আর ইংরেজিতে VIBGYOR। এই সাতটি রঙের আলোর ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এদের বেঁকে যাওয়ার পরিমাণে তারতম্য দেখা যায়। যেমন লাল রঙের আলোকরশ্মি ৪২° কোণে বাঁকা হয়ে যায়। অন্যদিকে বেগুনী রঙের আলোকরশ্মি ৪০° কোণে বাঁকা হয়ে যায়। অন্যান্য রঙের আলোক রশ্মি ৪০° থেকে ৪২°'র মধ্যেকার বিভিন্ন কোণে বাঁকা হয়। এই কারণে রংধনুকে রঙগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সারিতে সবসময় দেখা যায়।

প্রাথমিক উজ্জ্বল রংধনুর একটু উপরে কম উজ্জ্বল আরেকটি গৌণ রংধনু দেখা যায়, যাতে রংগুলি বিপরীত পরিক্রমে থাকে। এই দুই ধনুর মধ্যবর্তী আকাশ (আলেক্সান্ডারের গাঢ় অঞ্চল) বাকি আকাশের থেকে একটু অন্ধকার হয়, তবে ভালো করে লক্ষ না করলে এই তারতম্য নজর এড়িয়ে যেতে পারে।

আলোর বিচ্ছুরণ

আলোর বিচ্ছুরণ [Dispersion of light]:-

সংজ্ঞা:- সাদা কিংবা কোনো বহুবর্ণী রশ্মিগুচ্ছের বিভিন্ন বর্ণে বিভাজিত হওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে । স্যার আইজ্যাক নিউটন আলোর বিচ্ছুরণ আবিষ্কার করেন । তিনি দেখতে পান যে, সূর্য রশ্মি (সাদা আলো) কাচের প্রিজমের ভিতর দিয়ে গেলে সাতটি বিভিন্ন বর্ণের রশ্মিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে ।

[i] প্রিজম:- তিনটি আয়তাকার এবং দুটি ত্রিভুজাকার তল দ্বারা সীমাবদ্ধ সমসত্ব ও স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে প্রিজম বলে ।

[ii] প্রতিসারক তল:- আলোক রশ্মি প্রিজমের যে তলে আপতিত হয় এবং তল থেকে নির্গত হয় তাদের প্রতিসারক তল বলে ।

[iii] প্রান্তরেখা:-  পাশাপাশি দুটি প্রতিসারক তল পরস্পর যে রেখায় মিলিত হয়, তাকে প্রান্তরেখা বলে ।

[iv] প্রধান ছেদ:- প্রিজমের প্রতিসারক তলকে লম্বভাবে ছেদ করলে যে তল পাওয়া যায়, তাকে প্রিজমের প্রধান ছেদ বলে ।

[v] প্রতিসারক কোণ :-  দুটি প্রতিসারক তল পরস্পর যে কোণে মিলিত হয়, ওই কোণকে প্রতিসারক কোণ বলে ।

[vi] ভূমি:- প্রতিসারক কোণের বিপরীত তলকে প্রিজমের ভূমি বলে ।

 

সাদা আলোর বিচ্ছুরণ [Dispersion of white light]:-

পরীক্ষা:- একটি অস্বচ্ছ পর্দার একটি সুক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে সাদা আলোক রশ্মি একটি প্রিজমের প্রতিসারক তল এর ওপর আপতিত হল । প্রিজমের অপর প্রতিসারক তল থেকে নির্গত হয়ে আলোক রশ্মি যখন একটি পর্দা -এর উপর পড়বে তখন পর্দায় সাতটি বিভিন্ন বর্ণবিশিষ্ট একটি পটি দেখতে পাওয়া যাবে । এই পটির একেবারে ওপরে লাল [Red], তারপর যথাক্রমে কমলা [Orange], হলুদ [Yellow], সবুজ [Green], আকাশি নীল [Blue], গাঢ় নীল [Indigo] এবং সবচেয়ে নীচে বেগুনি [Violet] থাকে । এই বহুবর্ণবিশিষ্ট পটিকে বর্ণালী বলে । প্রিজম আলোর বর্ণ সৃষ্টি করে না— সাদা বা বহুবর্ণী আলোর মধ্যে উপস্থিত বিভিন্ন বর্ণের আলোক রশ্মিগুলিকে পৃথক করে মাত্র

 

ডিমের নরম খোসা শক্ত হয়-

ডিম হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রানীর স্ত্রী জাতির পাড়া একটি গোলাকার বা ডিম্বাকার জিনিস যা মেমব্রেনের স্তর দ্বারা ঘিরে থাকা ডিম্বক এবং বহিরাবরণের সমন্বয়ে গঠিত হয়। বহিরাবরণের মূল কাজ হলো এর অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা ভ্রূণকে এবং ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকে রক্ষা করা। মুরগী ও কচ্ছপের ডিমসহ বেশীরভাগ মুখরোচক ডিমই শক্ত বহিরাবরণ বা ডিমের খোসা, অ্যালবুমেন (সাদা অংশ),ডিমের কুসুম এবং কিছু মেমব্রেন দিয়ে তৈরী। ডিমের সকল অংশই খাদ্যপোযোগী, যদিও খোসা সাধারণত বাদ দেয়া হয়। পুষ্টিগতভাবে ডিম প্রোটিন ও কোলিনের উৎকৃষ্ট উৎস।

ডিমের খোসা শক্ত আবরণ, রোগ জীবাণু ভেতরে যেতে দেয় না। তবে খোসায় লেগে থাকতে পারে মুরগি বা হাঁসের মল এবং মলের ‘সালমোনেলা’ নামক জীবাণু। আর খোসাটা যদি ফাটা কিংবা ভাংগা থাকে, তবে এই জীবাণু ডিমের ভেতরে চলে যেতে পারে।

রাসায়নিক পরিবর্তন

যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে ।

পদার্থ

সাধারণভাবে পদার্থ সংজ্ঞায়িত করা হয় উপাদান হিসেবে যা একত্র হয়ে ভৌত বস্তু গঠন করে। এই দিয়ে প্রতীয়মান মহাবিশ্ব গঠিত। আপেক্ষিকতাবাদ অনুযায়ী পদার্থ এবং শক্তি স্বাতন্ত্র্য নয়, কারণ পদার্থকে শক্তিতে এবং শক্তিকে পদার্থতে রূপান্তরিত করা যায়। দর্শনশাস্ত্রানুযায়ী, পদার্থ দিয়ে সমস্ত জিনিষের আকারহীন সারবত্তা গঠিত হয়, যার কেবল সম্ভাব্য অস্তিত্ব রয়েছে এবং যেখান থেকে বাস্তব উদ্ভূত হয়।

পদার্থবিজ্ঞানে, সমস্ত পদার্থ প্রাথমিক ফার্মিয়ন দিয়ে গঠিত। পদার্থ স্থান দখল করে এবং এর ভর আছে। এটি মূলত পরমাণু দিয়ে গঠিত, যারা আবার প্রোটন, নিউট্রন, এবং ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত হয়। চারটি মৌলিক বলের মধ্যস্থতাকারী গেজ বোসন কণাদের (উদাঃ ফোটন এক ধরনের বোসন কণা) পদার্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, যদিও তাদের নিশ্চিতভাবে শক্তি এবং এমনকি কিছু ভরও আছে। সুতরাংপদার্থ কেবলমাত্র কোয়ার্ক এবং লেপ্টন কণা দিয়ে গঠিত ধরা হয়।

বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর নাইট্রোজেন

একটি মৌল বা মৌলিক পদার্থ, এই মৌলিক পদার্থের প্রতীক N ও পারমাণবিক সংখ্যা ৭।, বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদবিহীন। নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় ধরনের দ্বিপরমাণুক গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়তনের হিসাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০৯ শতাংশ। সাধারণ অবস্থায় নাইট্রোজেন তেমন কোন বিক্রিয়া দেখায় না, এটি কার্যত একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো আচরণ করে। সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়

ব্ল্যাক বক্সে

বিমান দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য ব্ল্যাক বক্স নামে একটি যন্ত্র বিমানে বহুল ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাক বক্স হল এক ধরণের ডিভাইস যা বিমানের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে। ফলে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে অনুসন্ধানী দলের সুবিধা হয়। এই ব্ল্যাক বক্সে একটি রেকর্ডার সিস্টেম চালু থাকে। যার ফলে উড্ডয়নের সময়ের বিভিন্ন তথ্য রেকর্ড হয়ে থাকে। ব্ল্যাক বক্সের রঙ আসলে কাল নয়। এটা দেখতে কমলা রঙের। দুর্ঘটনার ফলে সৃষ্ট ধ্বংস স্তূপের মধ্যে থেকে যেন খুব সহজেরই ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়া যায় তাই এটির রঙ কমালা করা হয়েছে।

সাধারণত ব্ল্যাক বক্স এমন ভাবে তৈরি করা হয় যেন তা উচ্চ তাপমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দুর্ঘটনায় বিমানটি পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ব্ল্যাক বক্স থাকে অক্ষত। ব্ল্যাক বক্সে তথ্য ধারণ করার জন্য এক প্রকার ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহার করা হয়। এই ম্যাগনেটিক টেপ অনেকটা পুরনো দিনের ক্যাসেটের ফিতার মত। এর ফিতার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০০ ফুট। ব্ল্যাক বক্সের ভেতরে এই ফিতা প্যাঁচানো থাকে। ব্ল্যাক বক্সের বাহিরের আবরণ উচ্চ তাপ সহনশীল স্টিল দিয়ে তৈরি। তাই দুর্ঘটনার ফলে উৎপন্ন হাজার ডিগ্রী তাপমাত্রা এটির কোন ক্ষতি করতে পারেনা। ফলে তথ্য সুরক্ষিত থাকে। এক একটি ব্ল্যাক বক্স তৈরিতে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার। সাধারণত একটি ব্ল্যাক বক্সের দুটি অংশ থাকে। একটি হচ্ছে Flight data recorder বা FDR। FDR বিমানের পেছনে রাখা থাকে। এটা বিমানের মধ্যেকার ও সংলগ্ন পরিবেশের বিভিন্ন রকমের শব্দ, চাপ বা তাপের পরিবর্তনের হিসাব এবং আরও অনেক রকমের উড়ান সংশ্লিষ্ট তথ্য রেকর্ড করে | এটা একটানা ২৫ ঘণ্টা উড্ডয়নের তথ্য রেকর্ড রাখতে পারে। অপরটি হল Cockpit voice recorder বা CVR। এটা রাখা হয় বিমানের পাইলটদের ঘরে। এটি ককপিটের মধ্যে যে কোন ধরণের শব্দ রেকর্ড করে রাখে। যেমন বিমানের পাইলটদের মধ্যে কথাবার্তা, ককপিটে যে কোন ধরণের বিস্ফোরণের শব্দ।

বায়ুর চাপ

বায়ুর চাপ ও চাপের তারতম্যের কারণ [Air Pressure and Major factors influencing it]:- পৃথিবীর যাবতীয় পদার্থের মত বায়ুরও ওজন আছে । ফলে বায়ুও চাপ দেয় । ভুপৃষ্ঠে প্রতি এক বর্গ সেন্টিমিটারে বায়ুর চাপ এক কিলোগ্রামের সমান । বায়ু চারদিক থেকে চাপ দেয় । তাই সাধারণভাবে বায়ুর চাপ অনুভূত হয় না । চাপমান যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের পারদ-স্তম্ভের উচ্চতা থেকে বায়ুর চাপ মাপা হয় । সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ২৯.৯২ ইঞ্চি বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ-স্থম্ভের সমান । বেশির ভাগ দেশে ইঞ্চির বদলে মিলিবার-এ [Milibar] বায়ুর চাপ প্রকাশ করা হয় । ৭৬০ মিলিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি ১০১৩ মিলিবারের সমান । পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের বায়ুর চাপ দেখা যায় । নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্য হয়, যেমন:- [i]  বায়ুর উষ্ণতা,  [ii] বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ,  [iii]ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা,   [iv] পৃথিবীর আবর্তন,  [v] বায়ুস্তরের উচ্চতা ।

 

[i] বায়ুর উষ্ণতা:- বায়ুর উষ্ণতার জন্য বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে ।  বায়ু উত্তপ্ত হলে বায়ু আয়তনে বাড়ে এবং বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় । ফলে বায়ু হালকা হয়ে যায় । হালকা বায়ুর চাপও কম হয় । অতএব, বায়ুতে যখন তাপ বেশি হয় তখন বায়ুর চাপ কম হয় । একইভাবে বায়ুর উষ্ণতা হ্রাস পেলে বায়ূর ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে বায়ুর চাপও বৃদ্ধি পায় । বায়ুচাপ সম্পূর্ণভাবে উষ্ণতার ওপর নীর্ভরশীল । উষ্ণতার সঙ্গে বায়ুর চাপ বিপরীত অনুপাতে পরিবর্তিত হয়, অর্থাৎ উষ্ণতা কমলে বায়ুর চাপ বাড়ে এবং উষ্ণতা বাড়লে বায়ুচাপ কমে ।

 

[ii] বায়ুতে জলীয় বাষ্পের তারতম্য:- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের তারতম্যের জন্য বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে । জলীয়বাষ্প বিশুদ্ধ বায়ুর চেয়ে হালকা । সেইজন্য যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে সেই বায়ু শুকনো বায়ুর চেয়ে হালকা এবং তার চাপ ও অপেক্ষাকৃত কম । এইকারণে বর্ষাকালে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় বায়ুর চাপ কম হয় । শুষ্ক বায়ু ভারী এবং তার চাপ ও বেশি হয় ।

 

[iii] ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা:- ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার জন্য বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বাযুস্তরের গভীরতা ও ঘনত্ব তত কম হয় । অর্থাৎ উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুস্তরের ঘনত্ব কমতে থাকে ।  বায়ুর ঘনত্ব কমলে স্বাভাবিকভাবে বায়ুর ওজন কমে যায়, এবং ওজন কমলে বায়ুর চাপও কম হয় । সাধারণত প্রতি ৯০০ ফুট উচ্চতায় ১ ইঞ্চি বা প্রতি ২৭৪ মিটারে ৩৪ মিলিবার বায়ুর চাপ কম হয় । তবে এই হারে বায়ুর চাপ উপরের বায়ুস্তরে সব সময়ে কমে না । কারণ উপরের বায়ুস্তর ক্রমশ পাতলা ।   

 

[iv] পৃথিবীর আবর্তন:পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যেও বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে । পৃথিবীর আবর্তনের ফলে বায়ুপ্রবাহ বাইরের দিকে ছিটকে চলে যেতে চায় । এর প্রভাবেও বায়ুর চাপের পার্থক্য হয় ।  

 

স্থিতিস্থাপকতা

বল প্রয়োগের কারণে বিকৃত হয়ে যাওয়া কোন বস্তুর বল সরিয়ে নেয়ার পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে চাওয়ার প্রবণতাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় স্থিতিস্থাপকতা (ইংরেজি ভাষায়: Elasticity) বলা হয়। যে সকল বস্তুর এই গুণ আছে তাদেরকে স্থিতিস্থাপক বা ইলাস্টিক বস্তু বলে।

বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৭৫ সালে আবিষ্কার করেন যে, অধিকাংশ স্থিতিস্থাপক বস্তুর সামান্য বিকৃতি ঘটানো হলে তা রৈখিক স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ বিকৃতির জন্য তার উপর প্রয়োগকৃত বল সরাসরি বিকৃতির পরিমাণের সমানুপাতিক হয়। এই ধ্রুব নীতিকে বর্তমানে হুকের সূত্র বলা হয়। গাণিতিকভাবে বলা যায়, কোন বস্তুর উপর F বল প্রয়োগের ফলে বস্তুটির x সরণ ঘটলে,

F = -kx

যেখানে k একটি ধ্রুবক যাকে হার বা স্প্রিং ধ্রুবক বলা হয়। বল এবং সরণের পরিবর্তে স্থিতিস্থাপকতার সূত্রকে পীড়ন (stress, \sigma) এবং অত্যাচারের (strain, \epsilon) মধ্যবর্তী সম্পর্ক হিসেবেও প্রকাশ করা যায়,

\sigma = E\epsilon

যেখানে E আরেকটি ধ্রুবক যাকে স্থিতিস্থাপকতার গুণাঙ্ক বা ইয়ং-এর গুণাঙ্ক বলা হয়।

আপেক্ষিক তাপ

 আপেক্ষিক তাপ [Specific heat]:-

• সংজ্ঞা :- কোনো পদার্থের একক ভরের উষ্ণতা এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ওই পদার্থের  আপেক্ষিক তাপ বলে ।

[ক] CGS পদ্ধতিতে আপেক্ষিক তাপের সংজ্ঞা:- এক গ্রাম ভরের কোনো পদার্থের উষ্ণতা 1oC বাড়াতে যত ক্যালোরি তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ওই পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বলে ।  এই পদ্ধতিতে আপেক্ষিক তাপের একক হল ক্যালোরি প্রতি গ্রাম প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস (cal/gmoC) ।

‘তামার আপেক্ষিক তাপ 0.09 ক্যালোরি/গ্রাম ডিগ্রি সেলসিয়াস’ —বলতে এই বোঝায় যে, এক গ্রাম তামার উষ্ণতা 1oC বৃদ্ধি করতে 0.09 ক্যালোরি তাপের প্রয়োজন হয় ।

[খ] SI পদ্ধতিতে আপেক্ষিক তাপের সংজ্ঞা:- এক কিলোগ্রাম ভরের কোনো পদার্থের উষ্ণতা এক কেলভিন বা 1oC বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ওই পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বলে । এর একক হল—  জুল/কেজি কেলভিন বা ডিগ্রি সেলসিয়াস (J/kg K বা,  J/kg oC) । আপেক্ষিক তাপের মাত্রা = [ML2T-2/MK] = [L2T-2K-1]

‘লোহার আপেক্ষিক তাপ 462 J/kgK’ বলতে এই বোঝায় যে 1কেজি লোহার উষ্ণতা 1K বৃদ্ধি করতে 462 জুল তাপশক্তির প্রয়োজন ।  জলের আপেক্ষিক তাপ সবচেয়ে বেশি । CGS পদ্ধতিতে জলের আপেক্ষিক তাপ = 1 cal/gmoC এবং SI পদ্ধতিতে জলের আপেক্ষিক তাপ = 4200 J/kgK ।

তাপমাত্রা

তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হচ্ছে কোন বস্তু কতটা গরম (উষ্ণ) বা ঠাণ্ডা (শীতল) তার পরিমাপ। এবং তাপশক্তি পরিবহণ দ্বারা সবসময় উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুতে প্রবাহিত হয়। উষ্ণতা কোন বস্তুর মোট তাপের পরিমাপ নয়, তাপের "মাত্রা"র পরমাপ। এই মাত্রা বস্তুর কোন অংশের স্থানীয় তাপজনিত আণবিক চাঞ্চল্যের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।

পরম তাপমাত্রা এমন একটি উষ্ণতা সূচক যা বস্তুর তাপজনিত গতিশক্তির একটি পরিচায়ক।

বায়ুমন্ডল

পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত স্তরকে যা পৃথিবী তার মধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা ধরে রাখে তাকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা আবহমণ্ডল বলে।এই বায়ুমন্ডল সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করে।এছাড়ও তাপ ধরে রাখার মাধ্যমে (গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া) ভূপৃষ্টকে উওপ্ত করে এবং দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস করে।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও সালোকসংশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত বায়ুমন্ডলীয় গ্যাসসমূহের প্রদত্ত প্রচলিত নাম বায়ু বা বাতাস।পরিমাণের দিক থেকে শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন,০.০৩৯% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে।বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।বাতাসের পরিমাণ ও বায়ুমন্ডলীয় চাপ বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রকম হয়,স্থলজ উদ্ভিদ ও স্থলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত বাতাস কেবল পৃথিবীর ট্রপোস্ফিয়ার এবং কৃত্রিম বায়ুমণ্ডলসমূহে পাওয়া যাবে।

বায়ুমন্ডলের ভর হচ্ছে প্রায় ৫×১০১৮ কেজি,যার তিন চতুর্থাংশ পৃষ্ঠের প্রায় ১১ কিলোমিটারের (৩৬,০০০ ফুট ৬.৮ মাইল) মধ্যে থাকে।উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমন্ডল পাতলা হতে থাকে এবং বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই।Karman লাইন, 100 কিলোমিটার (62 মাইল), অথবা পৃথিবীর ব্যাসার্ধ এর 1.57% এ, প্রায়ই বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যে মধ্যে সীমান্ত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।কারম্যান রেখা যা পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) উপরে অথবা পৃথিবীর ব্যাসার্ধের ১.৫৭% প্রায়ই বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যের মধ্যে সীমান্ত হিসাবে ব্যবহার করা হয়।বায়ুমন্ডলীয় প্রভাবসমূহ পরিলক্ষিত হয় যখন মহাকাশযান প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল) উচ্চতায় অথ্যাৎ কারম্যান রেখার উপরে গমন করে।বৈশিষ্ট্য যেমন তাপমাত্রা ও গঠনের উপর ভিত্তি করে বায়ুমন্ডলকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা যায়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং তার প্রক্রিয়া নিয়ে চর্চা করাকে বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান বা অ্যাইরলজি বলা হয়।লিওন টিইসারিয়েক ডি বর্ট ও রিচার্ড অ্যাসম্যান এই শাস্ত্রের প্রারম্ভিক পথিকৃৎ

তাপের পরিবহণ ক্ষমতা

তাপ সঞ্চালন হল তাপের স্থান পরিবর্তন, যা সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থানে প্রবাহিত হয়।

তাপ তিনটি পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে। যথা:

  1. পরিবহণ
  2. পরিচলণ
  3. বিকিরন 

 

পরিবহন

যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন না করে শুধু স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু তার পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত করে সেই পদ্ধতিকে পরিবহণ বলে। তাপ পরিবহণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন। এ পদ্ধতিতে পদর্থের উষ্ণতর অণুগুলো তাপ গ্রহণ করে নিজের অবস্থানে থেকে স্পন্দিত হতে থাকে। এ স্পন্দনের মাধ্যমে উত্তপ্ত অণুগুলো পার্শ্ববর্তী শীতল অণুগুলোকে তাপ প্রদান করে, সেগুলো উত্তপ্ত হয়ে আবার তাদের পার্শ্ববর্তী অণুগুলোতে তাপ সঞ্চালিত করে। যে মাধ্যমের অণুগুলো যত বেশি সুদৃড় সেখানে পরিবহণ তত বেশি হয়ে থাকে। কঠিন পদার্থের মধ্যদিয়ে তাপের পরিবহণ সবচেয়ে বেশি হয়, তরলে তার চেয়ে কম, বায়বীয় পদার্থে অত্যন্ত কম এবং শূণ্যস্থানে কোন পরিবহণ হয় না। যেমন- একটি ধাতব দণ্ডের এক প্রান্ত আগুনে অন্য প্রান্ত হাতে ধরে রাখলে কিছুকক্ষণ পরেই হাতে বেশ গরম বোধ হয়। দণ্ডের যে প্রান্ত আগুনের মধ্যে আছে সেই অংশের অণুগুলো আগুন থেকে তাপ গ্রহণ করে নিজের অবস্থানে থেকে স্পন্দিত হতে থাকে। এই স্পন্দনের মাধ্যমে উত্তপ্ত অণুগুলো পার্শ্ববর্তী শীতল অণুগুলোকে তাপ প্রদান করে। সেগুলো উত্তপ্ত হয়ে আবার তাদের পার্শ্ববর্তী অণুগুলোতে তাপ সঞ্চালিত করে। এভাবে তাপ দণ্ডের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হওয়ার পদ্ধতিই পরিবহণ।

পরিচলন 

যে পদ্ধতিতে তাপ কোন পদার্থের অণুগুলোর চলাচল দ্বারা উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হয় তাকে পরিচলণ বলে।
এ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম আবশ্যকীয়। বিশেষত তরল ও বায়বীয় পদার্থগুলোতে এ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়। তাপ গ্রহণ করে পদার্থের উষ্ণতর অংশের অণুগুলো শীতলতর অংশের দিকে প্রবাহিত হয়, এভাবে অন্য অণুগুলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজ গতির সাহায্যে তাপ সঞ্চালিত করে। প্রকৃতপক্ষে, কঠিন পদার্থগুলোর আন্ত-আণবিক শক্তি প্রবল হওয়ায় এরা স্থান পরিবর্তন করতে পারে না, তাই কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপের পরিচলন পদ্ধতি সম্ভব নয়।

বিকিরন

যে পদ্ধতিতে তাপ জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের আকারে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকিরণ বলে। আলো যেমন তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের আকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় বিকিরণ পদ্ধতিতেও অনেকটা একইভাবে তাপ সঞ্চালিত হয়। এ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হতে কোন প্রকারের জড় মাধ্যম যেমন- কঠিন, তরল, বায়বীয় ইত্যাদি মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। বিভিন্ন ধরনের স্বচ্ছ পদার্থ যেমন- কাঁচ, কোয়ার্টজ ইত্যাদির মধ্য দিয়েও তাপের বিকিরণ হতে পারে। তবে অস্বচ্ছ পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপের বিকিরণ হয় না যেমন- কাঠ, পাথর ইত্যাদি। আবার কিছু তরলের মধ্য দিয়েও বিকিরণ সম্ভব যেমন- কার্বন সালফাইড। পানির মধ্যদিয়ে আংশিক বিকিরণ ঘটলেও সাধারণত তরলের মধ্য দিয়ে বিকিরণ সম্ভব হয় না। উদাহরণ স্বরুপ- সূর্য থেকে পৃথিবীতে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়ে আসে।

পারদ

পারদ একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Hg পারমানবিক সংখ্যা ৮০। এটি একটি ভারী d-ব্লক মৌল এবং একমাত্র ধাতু যা আদর্শ তাপমাত্রা এবং চাপে তরল অবস্থায় থাকে।

পারদ একটি ভারী, রুপালী সাদা ধাতু। অন্যান্য ধাতুর তুলনায় এর তাপ পরিবাহিতা কম কিন্তু তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি। ব্লক মৌল হওয়া সত্ত্বেও এর গলনাংক ও স্ফুটনাংক অস্বাভাবিকভাবে কম। এর কারণ কোয়ান্টাম মেকানিক্স দ্বারা ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। পারদের একটি বিশেষ ধরনের ইলেকট্রন বিন্যাস বিদ্যমান। এর ইলেকট্রন বিন্যাসে ইলেকট্রনসমূহ ক্রমান্বয়ে 1s, 2s, 2p, 3s, 3p, 3d, 4s, 4p, 4d, 4f, 5s, 5p, 5d, 6s অরবিটালে প্রবেশ করে। এরকম গঠনের কারণে এর পরমাণু থেকে ইলেকট্রন অপসারণ অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পারদের ধর্মের সাথে মৌলিক গ্যাসসমূহের সামন্জস্য দেখা যায়, যেমন এদের পরমাণুসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষন বল থাকে তাই এরা কক্ষ তাপমাথাতেই তরল অবস্থায় থাকে।

ব্যবহার

  • দাঁতের ফিলিংয়ের উপাদান হিসেবে।
  • ক্লোরিন ও কষ্টিক সোডা উৎপাদনে।
  • পরীক্ষাগারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে। যেমনঃ থার্মোমিটারে তাপ গ্রাহক হিসেবে, এক ধরনের বিশেষ টেলিস্কোপে তরল প্রতিফলক হিসেবে।
  • পারদ বাষ্প বিভিন্ন বাতিতে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ নিয়ন আলো, ফ্লুরোসেন্ট বাতি।

আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট

ডিনামাইট এর গ্রিক শব্দ ডাইনামিস, যার অর্থ হচ্ছে শক্তি। মূলত ডিনামাইট এক ধরনের রাসায়নিক বিস্ফোরক। এটি প্রধানত নাইট্রোগি্লসারিন এবং টিএনটি দিয়ে তৈরি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক বিস্ফোরক।
১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল। তিনি ডিনামাইট বিক্রি শুরু করেন যা, নোবেল বাস্টিং পাউডার হিসেবে পরিচিত।

ডিনামাইট ক্রমশ একটি নিরাপদ গানপাউডার এবং নাইট্রোগি্লসারিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। নোবেল এর পেটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। লাইসেন্সবিহীনদের এর ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ডিনামাইট ১৯৪০ সালে বিশ্বে বৃহৎ আকারে উৎপাদিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ডিনামাইট আলফ্রেড নোবেলের জীবনে এক বিরাট সৌভাগ্য এনে দেয়। তিনি প্রচুর অর্থ-বৈভবের অধিকারী হন। বিজ্ঞানী নোবেল অনুধাবন করতে সক্ষম হন যে, এ ডিনামাইট শান্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। নিঃসন্দেহে ভালো কাজেও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা যায়। তিনি তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করেন, যা বিশ্বে নোবেল পুরস্কার হিসেবে সুপরিচিত।

ডিনামাইটকে তার দ্বারা দূর থেকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই বিস্ফোরক অনবরত জ্বলতে থাকে। বৃহৎ পরিমাণে উত্তপ্ত গ্যাস প্রক্রিয়াধীন হয়। ডিনামাইট ব্লাক পাউডার অপেক্ষা প্রথম নিরাপদভাবে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একটি ডিনামাইটের ক্ষমতা প্রায় দুই মিলিয়ন জুয়েলের ওপর। পাহাড় ভাঙা, টানেল তৈরি ও খনিতে ডিনামাইট ব্যবহার হয়ে থাকে। এর কারণ, সহজে ও কম খরচে ডিনামাইট দিয়ে এসব কাজ করানো হয়। যুদ্ধের কাজে সেতু, শত্রুপক্ষের ভবন, রেললাইন ইত্যাদি উড়িয়ে দিতে ডিনামাইট ব্যবহৃত হয়।

বায়বীয় পদার্থ

যে পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে, কিন্তু নির্দিষ্ট কোন আকার ও আয়তন নেই, তাকে বায়বীয় পদার্থ বলে। যেমন– অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, বাতাস ইত্যাদি।

উচ্চ তাপীয় দশায় কঠিন ও তরল পদার্থ বায়বীয় পদার্থে পরিণত হয়। বায়বীয় পদার্থের আন্তঃ আণবিক আকর্ষণ কঠিন ও তরল অপেক্ষা খুব কম। ফলে বায়বীয় পদার্থের কণাগুলো কোনো নির্দিষ্ট সীমার আবদ্ধ থাকে না। মুক্ত পরিবেশে বায়বীয় পদার্থের কণাগুলো বন্ধনহীনভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অণুগুলোর ভিতরের ফাঁকা জায়গা অসীমত্ব লাভ করে।

 

 

কুপরিবাহী

অন্তরক বা বিদ্যুত কুপরিবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে না। এদের পরমাণুর সর্ব বহিঃস্থ খোলকে অবস্থিত ইলেকট্রন মুক্তভাবে চলাচল করতে অপারগ থাকায় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে বহিস্থ প্রনোদনা দেয়া হলেও এদের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না। আদর্শ অন্তরক বাস্তবে পাওয়া না গেলেও কিছু পদার্থ যেমন কাঁচ, শুকনো কাগজ, টেফলন, ইত্যাদির বৈদ্যুতিক রোধ অনেক বেশি থাকায় এরা অন্তরক হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। আবার কিছু পদার্থ যেমন প্লাস্টিক বা রাবারের ন্যায় পলিমারের রোধ তুলনামূলকভাবে কম হলেও এরা তড়িৎ পরিবাহী পদার্থের উপরে অন্তরক আবরণ হিসেবে ভালো কাজ করে। এসব পদার্থকে অল্প থেকে মাঝারি ভোল্টে (কয়েক হাজার ভোল্ট পর্যন্ত) অন্তরক হিসেবে নিরাপদে ব্যবহার করা যায়।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রে অন্তরক বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। প্রধানত বিদ্যুৎ পরিবাহী তার বা অংশকে আলাদা রাখতে ও এদেরকে ধরে রাখতে অন্তরক ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালন তারকে পোলের সাথে আটকে রাখতে অন্তরকের ব্যবহার অহরহ চোখে পড়ে

 

আলোর প্রতিফলন

আলো কোন স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোন মাধ্যমে বাধা পেলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে কিছু পরিমাণ আলো আগের মাধ্যমে ফিরে আসে, এ ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। আলোর প্রতিফলনর একটি অন্যতম উদাহরণ হল- সমতল দর্পণ বা আয়নার সামনে যখন আমরা দাঁড়াই তখন আমরা আমাদের বিম্ব দেখতে পাই। দর্পণে আলোর প্রতিফলনের জন্যেই বিম্বের সৃষ্টি হয়। আলোর প্রতিফলন সাধারণত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেঃ আলোর আপতন কোণ ও মাধ্যমগুলোর প্রকৃতি। আপতিত রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হবে এবং প্রতিফলক যত বেশি মসৃণ হবে আলোর প্রতিফলন তত বেশি হবে। পক্ষান্তরে, আমসৃণ কিংবা স্বচ্ছ প্রতিফলক থেকে আলোর প্রতিফলন কম হয়।

 

তাপ শোষণ

যে কাপড় যত বেশি তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয় সেই কাপড় ব্যবহার করলে তত বেশি গরম লাগে। গরমের দিনে এমন কাপড় ব্যবহার করা হয় যা তাপ কম শোষণ করে আর শীতের দিনে এমন কাপড় ব্যবহার করা হয় যা বেশি তাপ শোষণ করে।
বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা তার রংয়ের ওপরও নির্ভর করে। সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম এবং আপতিত তাপের বেশিরভাগই প্রতিফলিত করে, অপরপক্ষে রঙিন বস্তু বেশি তাপ শোষণ করে। গরমের দিনে সাদা কাপড় ব্যবহার করলে সূর্যের বিকীর্ণ তাপ সাদা কাপড়ে পড়ে বেশিরভাগই প্রতিফলিত হয়ে যায়। কাপড়ের তাপমাত্রা তাতে সামান্যই বাড়ে। শীতের দিনে রঙিন কাপড় ব্যবহার করলে সূর্যের তাপ কাপড়ে পড়ে শোষিত হয়। ফলে কাপড়ের তাপমাত্রা বাড়ে এবং আরাম লাগে। এ কারণে গরমের দিনে সাদা কাপড় আর শীতের দিনে রঙিন কাপড় ব্যবহার করা আরামদায়ক।

তাপ বিকিরণ ও শোষণ

তাপ বিকিরণ: কোনো প্রকার মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই একস্থান থেকে অন্যস্থানে তাপ সঞ্চালনকে তাপ বিকিরণ বলা হয়। বিকীর্ণ তাপের বৈশিষ্ট্য: ১। বিকীর্ণ তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। ২। বিকীর্ণ তাপ প্রতিফলন ও প্রতিসরণের সূত্র মেনে চলে। ৩। বিকীর্ণ তাপ একধরনের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। ৪। বিকীর্ণ তাপ আলোর বেগে চলে। ৫। বিকীর্ণ তাপ ব্যতিচার, অপবর্তন ও পোলারায়ণ প্রদর্শন করে। ৬। বিকীর্ণ তাপ বিপরীত বর্গীয় সূত্র মেনে চলে। কৃষ্ণকায়া বা কৃষ্ণ বস্তু: যে বস্তু তার ওপর আপতিত সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ শোষণ করে এবং অত্যধিক উত্তপ্ত করলে এটি আবার বিস্তীর্ণ পাল্লার বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শোষিত বিকিরণ নির্গত করে তাকে কৃষ্ণকায়া বা কৃষ্ণ বস্তু বলে। যেহেতু একটি কৃষ্ণবস্তু তার ওপর আপতিত সকল বিকিরণ শোষণ করে, আবার এটাকে উত্তপ্ত করলে তা সকল বিকিরণ নিঃসরণও করে, তাই একটি কৃষ্ণ বস্তু উত্তম শোষক ও উত্তম বিকিরক। আদর্শ কৃষ্ণ বস্তু: যে বস্তু তার ওপর আপতিত সকল দৃশ্য ও অদৃশ্য বিকীর্ণ তাপশক্তির সব অংশই শোষিত হয়, কোনো অংশই প্রতিফলিত কিংবা সঞ্চালন ঘটে না, তাকে আদর্শ কৃষ্ণবস্তু বলে। কিন্তু বাস্তবে কোনো বস্তুই সব তাপমাত্রায় সকল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সমস্ত আপতিত বিকীর্ণ শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে শোষণ করতে পারে না। সুতরাং আদর্শ কৃষ্ণ বস্তু কাল্পনিক। প্রদীপের কালি (ভুসাকালি) এবং কালো প্লাটিনাম যথাক্রমে প্রায় ৯৬% এবং ৯৮% আপতিত বিকিরণ শোষণ করতে পারে। বিকিরণ ক্ষমতা: নির্দিষ্ট তাপমাত্রার কোনো বস্তুর প্রতি একক ক্ষেত্রফল থেকে প্রতি একক সময়ে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যে পরিমাণ তাপ লম্বভাবে বিকীর্ণ হয় তাকে ওই বস্তুর বিকিরণ ক্ষমতা বলে। আপেক্ষিক বিকিরণ ক্ষমতা: কোনো বস্তুর বিকিরণ ক্ষমতা ও একটি আদর্শ কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ ক্ষমতার অনুপাতকে আপেক্ষিক বিকিরণ ক্ষমতা বলা হয়। শোষণ ক্ষমতা: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বস্তু বিকীর্ণ তাপের যে পরিমাণ শোষণ করে এবং ওই সময়ে বস্তুর ওপর যে পরিমাণ বিকীর্ণ তাপ আপতিত হয়, তাদের অনুপাতকে ওই বস্তুর শোষণ ক্ষমতা বলে।

আলো কী?

আলো (Light) এক ধরনের শক্তি বা বাহ্যিক কারণ, যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়। আলো বস্তুকে দৃশ্যমান করে, কিন্তু এটি নিজে অদৃশ্য। আমরা আলোকে দেখতে পাই না, কিন্তু আলোকিত বস্তুকে দেখি। আলো এক ধরনের বিকীর্ণ শক্তি। এটি এক ধরনের তরঙ্গ। আলো আড় তরঙ্গের আকারে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গমন করে। মাধ্যমভেদে আলোর বেগের পরিবর্তন হয়ে থাকে। আলোর বেগ মাধ্যমেরঘনত্বের ব্যস্তানুপাতিক। শুন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩x১০৮ মিটার। সাদা আলো সাত টি মৌলিক রঙের মিশ্রণ , প্রিজম এর দ্বারা আলো কে বিভিন্ন রঙ এ আলাদা করা যায়।

আলো (Light) এক ধরনের শক্তি বা বাহ্যিক কারণ, যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়। আলো বস্তুকে দৃশ্যমান করে, কিন্তু এটি নিজে অদৃশ্য। আমরা আলোকে দেখতে পাই না, কিন্তু আলোকিত বস্তুকে দেখি। আলো এক ধরনের বিকীর্ণ শক্তি। এটি এক ধরনের তরঙ্গ। আলো আড় তরঙ্গের আকারে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গমন করে। মাধ্যমভেদে আলোর বেগের পরিবর্তন হয়ে থাকে। আলোর বেগ মাধ্যমের ঘনত্বেরব্যস্তানুপাতিক। শুন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩x১০৮ মিটার। কোন ভাবেই আলোর গতিকে স্পর্শ করা সম্ভব নয়।দৃশ্যমান আলো মূলত তড়িত্‍ চুম্বকীয় বর্ণালির ছোট একটি অংশ মাত্র। সাদা আলো সাতটি রঙের মিশ্রণ , প্রিজম এর দ্বারা আলোকে বিভিন্ন রঙ এ আলাদা করা যায়। যা আমরা রংধনুতে দেখতে পাই।

জেট ইঞ্জিন

জেট ইঞ্জিন এক ধরনের প্রতিক্রিয়া ইঞ্জিন যা দ্রুতগতির জেট ফ্লুইড (গ্যাস) নিস্ক্রমনের মাধ্যমে বহির্গমন (এগজষ্ট) থ্রাস্ট তেরি করে এবং একটি নিউটনের ৩য় সূত্র অনুয়ায়ি কাজ করে। জেট ইঞ্জিন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে - টারবোজেট, টারবোফ‍যান, রকেট, রযাম জেট, স্র‍যাম জেট, পালস জেট এবং পাম্প জেট।

 

আলোর প্রতিসরণ

আলোর প্রতিসরণ(ইংরেজি: Refraction of light) হলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো প্রবেশ করলে উভয় মাধ্যমের বিভেদতলে এর দিক পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনা। এ ঘটনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যখন আলোকরশ্মি 0° ও 90° ব্যতিত অন্য যেকোনো কোণে মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে পড়ে। মূলত মাধ্যমগুলোর ঘনত্বের পার্থক্যের জন্যই আলোর প্রতিসরণ ঘটে থাকে.কোনো ব্যক্তিকে যদি দড়ি বেধে ছেড়ে দেওয়া হয়ও সে যদি সরলরেখা বরাবর যায় তবে তার বেগের পরিবর্তন হলেও অভিমুখের পরিবর্তন হয়না! কিন্তু কিছুটা কোন করে দৌড়ালে অভিমুখের পরিবর্তন হয়.অভিকেন্দ্র বলের দরুন এরুপ হয়.একই ভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে ও একই ঘটনা ঘটে।সোজা গেলে কোনো পরিবরতন হয়না।কিন্তু হেলে পড়লে কনার সংঘর্ষের দরুন অভিমূখের পরিবর্তন ঘটে।.সোজা লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে ঘন মাধ্যমের কনাগুলির,দুই পাশ্বঁ দিক থেকে বাধাবল সমান হওয়ায় প্রতিসৃত রশ্মির কোনো বিচ্যুতি হয়না !কিন্তু আলো কিছুটা হেলে প্রবেশ করলে আলোক কনার ওপর সবদিক থেকে বাধাবল সমান হয় না।সামনের দিকে একটা আস্তরন সৃস্টি হয়।.ফলে আলোবাধাগ্রস্ত হয়ে অভিলম্বের দিকে বাকে.।.আলো ঘন থেকে লঘুতে গেলে বিপরীত ঘটনা ঘটে।

তরঙ্গ

তরঙ্গ' বা ঢেউ হলো এক ধরনের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন যা কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে নিজ নিজ স্থান থেকে স্থানান্তরিত করে না । কিছু কিছু তরঙ্গ শূণ্য মাধ্যম দিয়েও (অর্থাৎ কোন মাধ্যম ছাড়াই) সঞ্চারিত হতে পারে। এধরনের তরঙ্গ হলো তাড়িতচ্চৌম্বক তরঙ্গ এবং হয়তো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। এই তরঙ্গ মাধ্যমের কণার কোন স্থায়ী বিচ্যুতি ঘটায় না, বরং এই তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন বা কম্পন দ্বারা সঞ্চালিত হয়।

গামা রশ্মি

গামা রশ্মি বা গামা বিকিরণ (প্রতীক γ) একপ্রকার উচ্চ কম্পাংকের খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ। ইহা বিভিন্ন সাব-এটমিক কণার মিথষ্ক্রিয়া, যেমন ইলেক্ট্রন-পজিট্রন অবলুপ্ত প্রক্রিয়া, পাইয়ন আবক্ষয়,তেজস্ক্রিয় আবক্ষয়, ফিউসান, ফিসান, বিপরীত কম্পটন বিচ্ছুরণ ইত্যাদির মাধ্যমে তৈরি হয়। গামা রশ্মির কম্পাংক সাধারণতঃ ১০১৯ হার্জ এর উপরে, তাই এর শক্তি ১০০ কিলো ইলেকট্রন-ভোল্ট উপরে এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ পিকোমিটার চেয়ে ছোট, যা প্রায়শঃ অণুর আয়তনের তুলনায় অনেক ছোট। ফরাসি রসায়নবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে রেডিয়াম বিকিরণ নিয়ে পরীক্ষা করার সময় গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। ইতিপূর্বে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড আলফা রশ্মি এবং বিটা রশ্মি নামের দুই প্রকার বিকিরণ ১৮৯৯ এবং ১৯০৩ সালে আবিষ্কার কারেন। রাদারফোর্ড ভিলার্ডের এই নতুন আবিষ্কৃত বিকিরণের নাম দেন গামা রশ্মি।

অবতল দর্পণ

দর্পন বা আয়না হল এমন একটি মসৃণ তল যেখানে আলোর প্রতিফলনের নিয়মানুযায়ী নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।সাধারণত কাঁচে একপাশে ধাতুর প্রলেপ দিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়ে থাকে কারণ কাঁচ একটি স্বচ্ছ এবং অনমনীয় বস্তু। কাঁচের যেদিকে সিলভারিং (কাঁচে ধাতুর প্রলেপ লাগানোর পদ্ধতি) করা থাকে তার বিপরীত পৃষ্ঠকে দর্পণের পৃষ্ঠ বা প্রতিফলক পৃষ্ঠও বলা হয়। যে পরিমাণ আলো দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠে আপতিত হয় তার বেশ কিছুটা উক্ত তল কর্তৃক শোষিত হয় এবং বাকিটা প্রতিফলিত হয়। যদিও একপাশে সিলভারিং করা কাঁচ দর্পণ হিসেবে সর্বোৎকৃষ্ট, ভালোভাবে পালিশ করা যেকোন বস্তুর পৃষ্ঠই দর্পণের ন্যায় আচরণ করতে পারে।

প্রকারভেদ

দর্পণ প্রধানত দু প্রকারের হয়ে থাকে, যথা: সমতল দর্পণ এবং গোলীয় দর্পণ। নিম্নে আরও বর্ণনা করা হল:

সমতল দর্পণ

যখন কোন সমতল পৃষ্ঠ মসৃণ হয় এবং তাতে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, তাকে সমতল দর্পণ (Plane mirror) বলে। যেমন: আমরা চেহারা দেখার জন্য যে আয়না ব্যবহার করে থাকি তা একটি সমতল দর্পণ।

গোলীয় দর্পণ

কোন গোলকের অংশবিশেষে যে মসৃণ গোলীয়পৃষ্ঠে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে গোলীয় দর্পণ (Spherical mirror) বলে। গোলীয় দর্পণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা: উত্তল দর্পণ ও অবতল দর্পণ।

উত্তল দর্পণ 

যদি কোন গোলকের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের ন্যায় আচরণ করে তবে তাকে উত্তল দর্পণ (Convex mirror) বলে।অর্থ্যাৎ গোলকীয় দর্পণের বাইরের উত্তলপৃষ্ঠটি উত্তল দর্পণ হিসেবে কাজ করে।

অবতল দর্পণ

যদি কোন গোলকের অবতল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের ন্যায় আচরণ করে তবে তাকে অবতল দর্পণ (Concave mirror) বলে।অর্থ্যাৎ গোলকীয় দর্পণের ভিতরের অবতলপৃষ্ঠটি অবতল দর্পণ হিসেবে কাজ করে।

বিম্ব

কোন নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি বা রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোন বিন্দুতে মিলিত হয় কিংবা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় তবে ঐ দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর বিম্ব বলে। উদাহরণস্বরূপ- আমরা যখন কোন সমতল দর্পণ যেমন আয়নার সামনে কোন বস্তুকে রাখি তখন আমরা আয়নায় ঐ বস্তুটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমাদের কাছে মনে হয় যেন বস্তুটি আয়নার পিছনে আছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বস্তুটি আয়নার সামনেই থাকে। আয়নার জন্য নতুন অবস্থানে আমরা বস্তুটির যে প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই তা-ই বস্তুর বিম্ব। সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব সর্বদা আলোক উত্সের সমান হয়, উত্তল দর্পণে বিম্ব সর্বদা আলোক উত্সের চেয়ে ছোট হয় কিন্তু অবতল দর্পণের ক্ষেত্রে উত্সের ফোকাস তথা দর্পনের থেকে লম্ব দূরত্বের উপর নির্ভর করে বিম্বের আকার ছোট, বড় বা সমান হতে পারে।

পেরিস্কোপ

পেরিস্কোপ (ইংরেজি: Periscope) এক ধরনের দৃষ্টিগোচরীভূত যন্ত্র যা কোন গুপ্তস্থানে অবস্থান করে ব্যক্তি কর্তৃক কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। সাধারণতঃ এ যন্ত্রের প্রধান উপকরণ হচ্ছে - আয়না, চোখ দিয়ে দেখার উপযোগী ল্যান্স, আলো পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় রাস্তাসহ বাহ্যিক বা ভৌত অবকাঠামো। আলো পৌঁছানোর জন্যে কমপক্ষে দুইটি সরল ৪৫০ কৌণিক অবস্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শীর্ষভাগে রক্ষিত আয়না আলো গ্রহণ করে নিম্নের আয়নায় প্রেরণ করে। পেরিস্কোপের সাহায্যে একজন পর্যবেক্ষণকারী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেপর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ট্যাঙ্কে ও অস্ত্রশস্ত্রসজ্জিত গাড়ীতে পেরিস্কোপ ব্যবহার করতো।

যুদ্ধকালীন সময়ে ডুবোজাহাজ কিংবা পরীখার অভ্যন্তরে থেকে প্রতিপক্ষের অবস্থান নিশ্চিত করতে এর ব্যবহারের জুড়ি মেলা ভার। সাবমেরিনে ব্যবহৃত পেরিস্কোপ বেশ জটিল প্রকৃতির। একগুচ্ছ ল্যান্স, দুইটি টেলিস্কোপ এবং আয়নার পরিবর্তে প্রিজম দিয়ে বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। আধুনিককালের সাবমেরিনে ব্যবহৃত পেরিস্কোপের গঠনপ্রক্রিয়া আরো সরলতম যার দুইদিকে দুইটি টেলিস্কোপ বসানো হয়। যদি কোন কারণে দুই টেলিস্কোপ ভিন্নভাবে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো সঙ্কুচিত করার মাধ্যমে কার্যোপযোগী করা হয়।

জলযানে ব্যবহার

স্বল্প জলে সাবমেরিনের সাহায্যে পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। নিকটবর্তী লক্ষ্যবস্তুর অনুসন্ধান কিংবা পানিতে ভাসমান যুদ্ধযান, আকাশ নিরীক্ষণের এটি ব্যবহৃত হয়। যখন এর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না, তখন সাবমেরিনের অবকাঠামোর সাথে গুটিয়ে ফেলা হয়। ব্যবহৃত অবস্থায় কখনোবা এটি রাডারের সাহায্যে সনাক্ত করা সম্ভবপর। আয়না সহযোগে নৌযানে সাধারণ ব্যবহার উপযোগী প্রথম স্থির পেরিস্কোপ আবিষ্কার করেন মারি ডেভি। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ১৮৬১-১৮৬৫ সময়কালে থমাস এইচ. ডাউটি মার্কিন নৌবাহিনীতে প্রিজম ব্যবহারের মাধ্যমে পরবর্তী সংস্করণ আবিষ্কার করেন।

বর্ণান্ধতা বা বর্ণান্ধত্ব বা বর্ণবৈকল্য

বর্ণান্ধতা বা বর্ণান্ধত্ব বা বর্ণবৈকল্য (ইংরেজি: Color Blindness) হলো মানুষের, কতিপয় রঙ দেখার, সনাক্ত করার বা তাদের মধ্যে পার্থক্য করার অক্ষমতাজনিত এক প্রকার শারীরিক বৈকল্য।

কারণ ও বিবরণ

বর্ণান্ধতা জন্মগত কিংবা অর্জিত হতে পারে। জন্মগত বর্ণান্ধতার কারণে লাল ও সবুজ রঙয়েই বেশি সমস্যা হয়, আর অর্জিত বর্ণান্ধতার কারণে নীল ও হলুদ রঙ সনাক্ত করতে সমস্যা হয়।যেসব কারণে মানুষ বর্ণান্ধ হতে পারে সেগুলো হল:-

  • বংশগত / জন্মগত: (জেনেটিক) মা-বাবা বর্ণান্ধ হলে সন্তানেরাও বর্ণান্ধ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়গুলো হল:-
  1. নারীর চেয়ে পুরুষে বর্ণান্ধতা বেশি পরিলক্ষিত হয়
  2. বর্ণান্ধ মায়ের ছেলেসন্তান সবসময় বর্ণান্ধ হয়
  3. মা-বাবার উভয়েই বর্ণান্ধ হলে, তাদের মেয়েসন্তান বর্ণান্ধ হয়
  • লব্ধ / অর্জিত:
  1. চোখের বিভিন্ন রোগ
  2. চোখে আঘাত লাগা
  3. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  4. ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব
  5. বার্ধক্য

বর্ণান্ধতার ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের ভিতরে রেটিনায় দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (photoreceptor) আছে। এরা হল – রডকোষ (rod) এবং কোন্‌কোষ (cone)। কোন্‌কোষ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন রং চিনতে পারি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রঙিন বস্তু দর্শনে কোন্‌কোষগুলো দায়ী। রডকোষগুলো শুধু দর্শনের অনুভূতি জাগায়, কিন্তু কোন ধরনের রং দেখতে/চিনতে সাহায্য করে না।

কোন্ তিন ধরণের। আর এই তিন ধরণের কোন্ লাল (R), সবুজ (G) ও নীল (B) -এই তিনটি মৌলিক রং সনাক্ত করতে পারে। চোখের রেটিনায় এই তিন প্রকারের কোন্-এর যেকোন একটি, দুটি বা সবগুলির অনুপস্থিতি অথবা ত্রুটিই হলো বর্ণান্ধতার মূল কারণ। কোনো ব্যক্তির সবগুলো কোন্ই যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সব রংকেই ধুসর দেখবেন। বর্ণান্ধতা এমনই মারাত্মক হয় যে, কোনো ব্যক্তি লাল রঙের রক্ত দেখলেও তা যে রক্ত, তা সনাক্ত করতে পারে না। 

বর্ণান্ধতা যদি কৈশরেই নির্ণয় করা যায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তা সুস্থ করা সম্ভব হয়। জাপানে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সময় ছাত্রছাত্রীদের বর্ণদৃষ্টি নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

চোখ

চোখ প্রাণীর আলোক-সংবেদনশীল অঙ্গ ও দর্শনেন্দ্রীয়। প্রাণিজগতের সবচেয়ে সরল চোখ কেবল আলোর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির পার্থক্য করতে পারে। উন্নত প্রাণীদের অপেক্ষাকৃত জটিল গঠনের চোখগুলো দিয়ে আকৃতি ও বর্ণ পৃথক করা যায়। অনেক প্রাণীর (এদের মধ্যে মানুষ অন্যতম) দুই চোখ একই তলে অবস্থিত এবং একটি মাত্র ত্রিমাত্রিক "দৃশ্য" গঠন করে। আবার অনেক প্রাণীর দুই চোখ দুইটি ভিন্ন তলে অবস্থিত ও দুইটি পৃথক দৃশ্য তৈরি করে (যেমন - খরগোশের চোখ)।

মানুষের চোখের বিভিন্ন অংশসমূহ

স্ক্লেরা (sclera)

এটা চোখের আচ্ছাদনকারী সাদা অংশ। এটা চোখে বহীরাবরকের পেছনের দিকের ৫/৬ আংশ স্থান জুড়ে অবস্থিত। এটা এবং ভিতরের তরল পদার্থগুলো (অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার) মিলে চোখের সূক্ষ্ম অংশগুলোকে রক্ষা করে। এটি সাদা ও অস্বচ্ছ।

কর্নিয়া (cornea)

এটা গম্ভুজ আকারের স্বচ্ছ পর্দা যা চোখের সামনের অংশ ঢেকে রাখে। এটি চোখে বহীরাবরকের সামনের দিকের ১/৬ আংশ স্থান যুড়ে অবস্থিত। এটা স্বচ্ছ, কারণ এতে কোন রক্তজালিকা নেই। চোখ প্রতিস্থাপন (eye transplant) বলতে আসলে কর্নিয়ার প্রতিস্থাপন বুঝায়।

অ্যাকুয়াস হিউমার (aqueous humor)

এটা পানির মত তরল পদার্থ যা সিলিয়ারি বডি থেকে উৎপন্ন হয়। চোখের সামনের অংশ (লেন্স এবং কর্নিয়ার মধ্যবর্তী অংশ) এই তরলে পূর্ণ থাকে।

আইরিশ (iris)

এটা চেখের রঙিন অংশ যা অনেকটা আংটির মত। এটা বিভিন্ন রঙের হয়। যেমন- বাদামি, সবুজ, নীল ইত্যাদি। আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে আইরিশ সংকোচিত বা প্রসারিত হয়। এতে পিউপিলের আকার পরিবর্তিত হয় এবং লেন্স ও রেটিনায় আপতিত আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয়।

পিউপিল (pupil)

এটা হল আইরিশের মাঝের খোলা অংশ যেখান দিয়ে আলো লেন্সে প্রবেশ করে। এটার আকার আইরিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।তারারন্ধ্রের মধ্য দিয়ে আলো চোখের ভিতরে প্রবেশ করে।

লেন্স (lens)

রেটিনার উপর আলোক রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে। এতে রক্ত সরবরাহ নেই। এর আকার সিলীয় পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।এটি ক্রিস্টালাইন প্রোটিন দিয়ে তৈরি।

ভিট্রিয়াস হিউমার (vitreous humor)

এটা জেলির মত পদার্থ যা চোখের বেশিরভাগ অংশ পূর্ণ করে রাখে (লেন্সের পিছন থেকে রেটিনা পর্যন্ত)।

কোরয়েড (choroid)

এই স্ক্লেরা ও রেটিনার মধ্যবর্তী রক্তজালিকার স্তর। এটা রেটিনাতে রক্ত সরবরাহ করে এবং রেটিনা হতে আগত অতিরিক্ত আলো শোষণ করে নেয়।

রেটিনা (retina)

এটা হল চোখের আলোক সংবেদী অংশ। এটা আলোকরশ্মিকে তড়িৎ সংকেতে (electrical signal) রূপান্তর করে দর্শন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। রেটিনায় দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (photoreceptor) থাকে। এরা হল – রডকোষ (rod) এবং কোন্‌কোষ (cone)। রডকোষ আবছা/মৃদু আলোতে দেখতে সাহা্য্য করে, আর কোন্‌কোষ স্বভাবিক/উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে। কোন্‌কোষ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন রং চিনতে পারি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রঙিন বস্তু দর্শনে কোন্‌কোষগুলো দায়ী।

ফোবিয়া (fovea)

রেটিনার মাঝামাঝি এবং অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি একটি খাঁজ দেখা যায়। এটাই ফোবিয়া। এখানে প্রচুর কোন্‌কোষ থাকে কিন্তু কোন রডকোষ থাকে না। আমাদের দর্শনানুভূতির বেশিরভগই এর উপর নির্ভর করে।

অন্ধবিন্দু (optic disk/ blind spot)

এটি দর্শন স্নায়ুর প্রান্তবিন্দু। এখানে কোন আলোকসংবেদী কোষ (রড ও কোন্) থাকে না।

দর্শন স্নায়ু (optic nerve)

এটা মানুষের দ্বিতীয় করোটিক স্নায়ু (cranial nerve)। এর মাধ্যমে চোখ থেকে আলোকসংবেদ মস্তিষ্কে পৌছায়।

ইলেকট্রন

ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু (subatomic) মৌলিক কণা (elementary particle) যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। ইলেকট্রন একটিস্পিন -১/২ অর্থাৎ ফার্মিয়ন) এবং লেপ্টন শ্রেনীভুক্ত। এটি প্রধানত তড়িৎ-চুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। পারমাণবিক কেন্দ্রীনের (নিউক্লিয়াসের) সঙ্গে একত্র হয়ে ইলেকট্রন পরমাণু তৈরি করে এবং এর রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। মূলত ইলেকট্রন চলাচলের দরুন কঠিন পরিবাহীতে বিদ্যুতের প্রবাহ ঘটে। ইলেক্ট্রনের স্পিন ও ইলেক্ট্রন প্রবাহের বর্তুলতা (চক্রাকার প্রবাহ) বা ত্বরণের জন্য চৌম্বকত্ব তৈরি হয়।

কম্পাঙ্ক

হার্জ (প্রতীক Hz) হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কম্পাঙ্কের এস আই একক। এর একটি অন্যতম সাধারণ ব্যবহার হল সাইন তরঙ্গ, রেডিও এবং যদিও ক্ষেত্রে, সঙ্গীতের কম্পাংক হিসেবে।

এককটির নামকরণ করা হয়েছে হেনরিক হার্টজ এর সম্মানে। তিনিই প্রথম তাড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের অস্তিত্ব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন।

 

 

রিচার্জেবল ব্যাটারী

রিচার্জেবল ব্যাটারী, স্টোরেজ ব্যাটারী বা অ্যাক্যুমুলেটর এক ধরণের ব্যাটারী যেটি এক বা একাধিক তড়িৎরাসায়নিক কোষ দ্বারা গঠিত এবং এটি এক প্রকার শক্তি সঞ্চয়ক। এটি গৌণ কোষ নামেও পরিচিত কারণ এর তড়িৎরাসায়নিক বিক্রিয়া প্রত্যাবর্তী।

ড্রাইসেল

ড্রাইসেল হল গ্যালভানিক কোষ।

ড্রাইসেল

 

একটি চোঙ্গাকৃত দস্তার পাত্র দ্বরা ড্রাইসেল গঠিত। এই পাত্রের মাঝখানে একটি পিতলের টুপিওয়ালা কার্বণদণ্ড রাখা হয়। কার্বণদন্ড পজেটিভ এবং দস্তা ঋণাত্মক বিদ্যুৎবাহী হিসেবে কাজ করে। কার্বণ দন্ডের চারিদিকে এ্যামোনিয়ামক্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ ড্রাই-অক্সাইড ও কার্বনের এক লেই দিয়ে পাত্রটিকে ভরা হয়। এবার লেইয়র পাত্রটিকে পাতলা কার্ববোর্ড দিয়ে জড়ানো হয় এবং এভাবেই একটি ড্রাইসেল তৈরি হয়। এতে তড়িৎ বিশ্লেষী পদার্থ এ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বিশ্লিষ্ট হয়ে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। এই আয়নসমূহ তখন বিদ্যুৎ প্রবাহের দিকে আকর্ষিত হয়। ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিভবের সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে বিদ্যুৎতিক তার স'াপন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিচালনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয় এবং তা ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড দ্বরা বিশিষ্ট হয়ে পানিতে পরিণত হয়। ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড হাইড্রোজেনকে পানিতে করার পর ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড পরিণত হয়।

DC= Direct Current

Ac হল দ্বিমুখী প্রবাহ আর Dc হল এক মুখি প্রবাহ। AC হচ্ছে বিদ্যুতের দ্বিমুখী প্রবাহ যা আমরা বাড়ী বা ইন্ড্রাস্ট্রিতে পাই এবং সরবরাহ করা হয় পাওয়ার ইউটিলিটি গ্রিড থেকে। DC হচ্ছে বিদ্যুতের একমুখী প্রবাহ যা আমরা পাই ব্যাটারি থেকে।AC= Alternating Current

DC= Direct Current

AC  হল পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহ।

DC হল অপরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহ। AC কারেন্ট একটি দিকবর্তী প্রবাহ । যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ থেকে ৬০ বার দিক পরিবর্তন করে থাকে । অপর দিকে DC হচ্ছ অপ্রত্যাবর্তী প্রবাহ । যা সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন করে না । AC এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Alternating Current.
DC এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Direct Current.
কোন একটি সোর্স থেকে ইলেকট্রিক ফিল্ড এপ্লাই করা হলে বিদ্যুৎ যদি দিক পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয় তাহলে সেই বিদ্যুৎ কে  AC বলা হয়। আর যদি বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক একমুখী হয় তাহলে সেই বিদ্যুৎ কে DC বলা হয়।

ব্জ্রপাতে

পানিচক্রের নিয়মে জলাধারের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ আকারে আকাশে আশ্রয় নেয়। এই মেঘ-ই হল বজ্রপাতের ব্যাটারি। বজ্রপাতের জন্য দায়ী মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের আধারের মত আচরণ করে,যার উপরের অংশ পজিটিভ এবং নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জে চার্জিত থাকে। মেঘ কিভাবে চার্জিত হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বেশ মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত মতবাদ হচ্ছে,পানিচক্রে জলকণা যখন ক্রমশ উর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে তখন তারা মেঘের নিচের দিকের বেশি ঘনীভূত বৃষ্টি বা তুষার কণার সাথে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। যার ফলে উপরের দিকে উঠতে থাকা অনেক বাষ্প কণা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। এই মুক্ত ইলেকট্রন গুলো মেঘের তলদেশে জমা হয় এবং ইলেকট্রন হারানো পজিটিভ চার্জিত বাষ্পকণা মেঘের একেবারে উপরপৃষ্ঠে চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে মেঘগুলো শক্তিশালী ধারক বা ক্যাপাসিটর এর বৈশিষ্ট্য লাভ করে। মেঘের দুই স্তরে চার্জ তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের শক্তি মেঘে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।

এভাবে বাষ্পকণা ও মেঘে সংঘর্ষ চলতে চলতে মেঘের উপরে এবং নিচে যথাক্রমে পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেরে গিয়ে এতটা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরী করে যে তার বিকর্ষণে পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থানরত ইলেকট্রন গুলো ভূপৃষ্ঠের আরো গভীরে চলে যায়। ফলাফলস্বরূপ ওই নির্দিষ্ট এলাকার ভূপৃষ্ঠ শক্তিশালী পজিটিভ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পরিণত হয়।

মেঘের বিপুল শক্তিশালী বিদ্যুতক্ষেত্র তার চারপাশের বাতাসের অপরিবাহী ধর্মকে নষ্ট করে দেয়,যাকে বলে Dielectric Breakdown। মেঘে অবস্থিত বিদ্যুতক্ষেত্র যখন যথেষ্ঠ শক্তিশালী হয়(প্রতি ইঞ্ছিতে প্রায় ১০,০০০ ভোল্ট),তখন তার আশেপাশের বাতাস পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়োনিত বাতাস প্লাজমা নামেও পরিচিত। বাতাস আয়োনিত হয়ে মেঘ এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্ট সার্কিট তৈরী করে দেয় এবং বজ্রপাত ঘটায়

টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭ - অক্টোবর ১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।[১]

এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১,০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তাঁর কাজগুলো তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায়-বানিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ও বন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।

 

ভোল্টেজ

 

পরিবাহীর পরমানুগুলোর ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন তাকে বিদ্যুৎ চালক বল বা ভোল্টেজ বলে । ভোল্টেজ এর প্রতীক হলো V  এবং এর একক হলো Volt(ভোল্ট) ।

ভোল্টেজ পরিমাপের যন্ত্রের নাম Volt Meter (ভোল্ট মিটার)।

ভোল্ট মিটার সাধারণত যে দুই পয়েন্টের বিভব পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে তার সাথে Parallel বা সমান্তরাল ভাবে কানেক্ট করতে হয় ।

ভোল্টেজ(V) = কারেন্ট(I) × রেজিস্ট্যান্স(R) 

পদার্থের মধ্যে অবস্থানকৃত মুক্ত ইলেকষ্ট্রন সমূহ নিদিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকে কারেন্ট বলে ।

 

অথবা,

একটি পরিবাহী পদার্থের ভিতর দিয়ে চার্জ এর প্রবাহকে কারেন্ট বলা হয় ।

কারেন্টের প্রতীক হলো = “ I ” .

কারেন্টের একক হলো = Ampere (A) .

পরিমাপের যন্ত্র হলো = Ampere meter বা Ammeter .

এমিটার সিরিজ কানেকশনে কানেক্ট করতে হয় ।

 

 

তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

আধানের প্রকৃতি নির্ণয়: কোনো তড়িৎগ্রস্ত বস্তুকে কী ধরনের আধান আছে তা জানতে হলে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রটিকে প্রথমে ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক আধানে আহিত করতে হবে। ধরা যাক, যন্ত্রটিকে ধনাত্মক আধানে আহিত করা হলো। ঐ অবস্থায় পাতদ্বয়ে ধনাত্মক আধান থাকায় এরা ফাঁক হয়ে যাবে। এখন পরীক্ষণীয় বস্তুটিকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চাকতির সংস্পর্শে আনলে যদি ফাঁক বেড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটি ধনাত্মক আধানে আহিত। অর্থাৎ পরীক্ষণীয় বস্তু এবং তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চার্জ সমধর্মী হলে পাত্দবয়ের ফাঁক বৃদ্ধি পাবে এবং চার্জ বিপরীতধর্মী হলে ফাঁক হ্রাস পাবে।

তড়িৎ পরিবাহিতা

 

তড়িৎ পরিবাহিতা বা বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, ( Electrical conductance) তড়িৎ মাধ্যমের একটি ধর্ম যা এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করতে সহায়তা করে। মূলতঃ কোন তড়িৎ পরিবাহকের তড়িৎ পরিবাহিতা হচ্ছে এর রোধের বিপরীত রাশি। কোনো বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থের, যেমন বৈদ্যুতিক তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ আধান বা চার্জ সাধারণত পরিবাহিত হয় চলমান ইলেক্ট্রনের পরিবহনে।ইলেক্ট্রোলাইটে আয়নের পরিবহনেও বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে, কিংবা প্লাজমায় আয়ন ও ইলেকট্রন উভয়ের দ্বারাই পরিবাহিত হতে পারে। যদি কোন পরিবাহকের রোধ R হয় তবে ঐ পরিবাহকের পরিবাহিতা G হবে

G = frac {1} {R}

তড়িৎ পরিবাহিতার একক সিমেন্স (Siemens).

 

 

মৌলিক রং

বর্ণালীতে সাতটি রং আছে। এর মধ্যে তিনটি রং আছে যাদেরকে মিশিয়ে অন্য রং সৃষ্টি করা যায়। মৌলিক রং তিনটি। যথা- ১. লাল ২. সবুজ ও ৩. নীল। 

নীলস বোর

নীলস বোর

(Niels Bohr)

জন্ম-১৮৮৫ ইং

মৃত্যু-১৯৬২ ইং

ইউরোপের একটি ছোট্ট দেশ ডেনমার্ক। রাজধানীর নাম কোপেনহেগেন। ঐ রাজধানীর এক প্রাসাদে ১৮৮৫ সালের ৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন নীলস বোর। বাবার নাম ক্রিশ্চিয়ান বোর এবং মায়ের নাম এলেন। বাবা ছিলেন কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীর বিদ্যার অধ্যাপক। মাও ছিলেন শিক্ষিতা। নীলস বোর ১৯০৩ সালে ভর্তি হলেন কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পদার্থ বিজ্ঞানকেই বেছে নিলেন তিনি। ১৯১১ সালে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধাতুর ইলেকট্রন তত্ত্বের উপর গবেষণা করে ডক্টরেট হয়ে বের হলেন। ১৯১৩ সালে বোর তার পারমাণবিক গঠনের উপর যুগান্তকারী প্রবন্ধটি প্রকাশ করেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিল অণু এবং পরমাণুর গঠন বিষয়ে। এদিকে ১৯১১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানী লর্ড রাদার ফোর্ড আলফা কণার বিচ্চুরণ পরীক্ষা করে পরমাণুর একটা গঠন বলেছেন। সেই পরীক্ষাটি নানা কারণে ঐতিহাসিক ছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল একটাই। ইলেকট্রন যদি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে ঘুরতেই থাকে তবে শক্তি হারিয়ে একসময় নিউক্লিয়াসে মুখ থুবড়ে পড়তেই হবে। অথচ কখনই তা হচ্ছে না। বোর বললেন ইলেকট্রনকে নিউটনীয় কণা ভাবলে চলবে না। ওই ভাবনা অনুযায়ী শক্তি হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়বারই কথা। বিশ শতকের শুরুতেই সে কোয়ান্টাম তত্ত্বের কথা বলেছিলেন জার্মান বিজ্ঞানী প্ল্যাঙ্ক, এখানে সেই কথাই চলবে।

আরও কয়েকটি কথা বললেন নীলস বোর। যেমন খুশি বৃত্তাকার পথে ইলেকট্রন ঘুরতে পারবে না। নির্দিষ্ট কতকগুলো পথ থাকবে। যতক্ষণ ঐ পথে ঘুরবে ইলেকট্রন, শক্তির অপচয় হবে না। ইলেকট্রন যদি এক বৃত্তাকার পথ থেকে অন্য বৃত্তাকার পথে যায় তবেই শক্তির গ্রহণ বা বর্জন হবে। এরকম বললেই মানতে হবে কেন? ততদিনে বালমার আর পাশ্চেন হাইড্রোজেন বর্ণালী পরীক্ষা করে একটা দ্রবকের মান বের করলেন।

সেই ধ্রবকের মান পরীক্ষা করে যা এল, বোরের সমীকরণ থেকে কাগজে কলমে হিসেব কষে তাই বেরোল। ফলে সফল হলেন বোর। রাদার ফোর্ডের দুর্বলতা দূর করেছেন বোর। রাদার ফোর্ড খুশিতে অভিনন্দন জানালেন তাকে। ১৯১৬ সালের শেষে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে তত্ত্বীয় পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। পারার (Mercury) একটি ফোঁটাকে বড় থেকে বড় করতে করতে সেটা আর গোল থাকে না, লম্বাটে ডাম্বেলের আকার ধারণ করে। সেই সময় একটি সুচঁ ফুটিয়ে তাকে দুটি ফোঁটায় পরিণত করা যায়। তখন তার মধ্যে কি কি শক্তি কাজ করে যাতে পারার ফোঁটাটি অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় বিভক্ত না হয়ে ঠিক দুটি প্রধান গোল আকার পায়। এই তুলনাটি প্রসারিত করে নিয়ে আসা যায় নিউক্লিয়াসের ক্ষেত্রে। মোটামুটি এইভাবে চিন্তা করতে শুরু করেই নীলসবোর ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে নিউক্লিয়াসের লিকুয়িড ড্রপ মডেল বা তরল ফোঁটার মডেল তৈরি করেন। পারার বেলায় কাজ তার মহাকর্ষ আর পৃষ্ঠটান, আর নিউক্লিয়াসের বেলায় আধানের বিকর্ষীবল আর আকর্ষী কেন্দ্রিক বল।বিকর্ষী বল চায় ভেঙে ফেলতে আর আকর্ষী বল চায় ধরে রাখতে। তিনি ১৯২০ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করেন Institute for theoritical Physics যা এখনও আছে। পরমাণুর গঠনের আবিষ্কারের জন্য তাকে ১৯২২ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৪০ সালের এপ্রিল মাসে দেশটা হিটলারের দখলে চলে যায়। তিনি বাধ্য হয়ে চলে গেলেন সুইডেন, পরে ইংল্যান্ড এবং সবশেষে আমেরিকায়। যুদ্ধ শেষ হলে তিনি নিজের দেশ ডেনমার্কে ফিরে এসেছিলেন। দেশের মানুষ তাকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। ইনস্টিটিউটের কর্মীরা আনন্দে সেদিন চোখের পানি চেপে রাখতে পারেনি। তার স্বপ্ন ছিল বোর ইনস্টিটিউটে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। সবচেয়ে প্রতিভাবান সবচেয়ে দূর দৃষ্টি সম্পন্ন পদার্থ বিজ্ঞানীদের একত্রিত করা। নীলস বোরই বোধ হয় প্রথম পদার্থ বিজ্ঞানী, যিনি পারমাণবিক বোমার বিপদও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকেও তিনি বিপদের গুরুত্ব বোঝাতে পারেননি। এটা বুঝতে মানুষের অনেকদিন সময় লেগেছিল। এই মহান বিজ্ঞানী ১৯৬২ সালের ১৬ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞানের এক গৌরবময় যুগের সমাপ্তি ঘটে। নিউটন, আইনস্টাইনের সঙ্গে একইভাবে সম্মানের সঙ্গে যার নাম চিরকাল উচ্চারিত হবে, তিনি হলেন নীলস বোর।

আবদুল্লাহ আল মুতী

আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন (জানুয়ারি ১,১৯৩০ - নভেম্বর ৩০, ১৯৯৮) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে আবদুল্লাহ আল-মুতীর জন্ম। তার মা হালিমা শরফুদ্দিন এবং বাবা শেখ মইন শরফুদ্দিন। ৫ ভাই ৬ বোনের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মুতী সবার বড়। ১৯৪৫ সালে ঢাকার মুসলিম হাই স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন (এখনকার এসএসসি পরীক্ষা) পরীক্ষায় কলকাতা বোর্ডে ২য় স্থান লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে ১১ তম স্থান নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে আই এ পাশ করেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পদার্থ বিদ্যায় সম্মান সহ স্নাতক হন ১৯৫২ সালে। বাংলা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়তার কারণে এই সময় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণী লাভ করলেও পরের বছর প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। এর পর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে শিক্ষায় এম,এ এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি লাভ করেন

আবদুল্লাহ আল-মুতী কর্ম জীবন শুরু করেন রাজশাহী কলেজে শিক্ষক হিসাবে। ১৯৭৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন। তারপর শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরু দায়িত্ব পালন করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালে। তার প্রকাশিত বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ২৭, অনুদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১০, সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১০। এছাড়াও কিছু পান্ডুলিপি রয়েছে, যার অনেক গুলো এখনও অপ্রকাশিত। রেডিও এবং টিভিতে তাঁর উপস্থাপিত অনুষ্ঠান বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। তিনি লেখালেখি শুরু করেন ছাত্রজীবন থেকেই। বিজ্ঞানের জটিল, সূক্ষ বিষয়কে সহজ ভাষায় সর্বজনবোধ্য করে তোলার জন্য তার দক্ষতা ও সাফল্য ছিল তুলনাহীন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য অঙ্গনে অজস্র সংগঠন প্রতিষ্টানের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন আমৃত্যু। ১৯৪৭ সালে মুকুল ফৌজ আন্দোলনে যোগ দিয়ে পরবর্তী বছরে "মুকুল" নামে কিশোর পাক্ষিক পত্রিকা বের করেন। কেন্দ্রীয় কচি কাচার মেলা -এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ইত্তেফাক, আজাদ, মোহাম্মদী পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন। ,জাতীয় শিশু-কিশোর সংস্থা সহ নানা সংঠনের উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এশিয়েটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ (১৯৮৮-৯০), বাংলা একাডেমী, ঢাকা (১৯৮৬-৯০) ও বিজ্ঞান শিক্ষা সমিতিতে। এছাড়া তিনি আরো যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রধান উপদেষ্টা, প্রথম ঢাকা মহাকাশ উৎসব "বেক্সিমকো স্পেসফেস্ট ১৯৯৬', চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দশম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি (১৯৯৮), উপদেষ্টা, দ্বিতীয় ঢাকা মহাকাশ উৎসব ‘স্পেসফেস্ট ১৯৯৯’। প্রধান উপদেষ্টা, ঢাকা প্রস্তাবিত স্পেস সেন্টার, উপদেষ্টা, মেঘনাদ সাহা বিজ্ঞান তথ্যকেন্দ্র ও গ্রন্থাগার (১৯৯৭-৯৯)। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সংস্কার ও আধুনিকরণের কর্মকান্ডে তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থেকে উজ্জ্বল অবদান রেখে গেছেন।

বেয়ার্ড

জন বেয়ার্ড পূর্ণ নাম জন লগি বেয়ার্ড (আগস্ট ১৩, ১৮৮৮ - জুন ১৪, ১৯৪৬) একজন স্কটল্যান্ডীয় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বিশ্বের প্রথম কার্যক্ষম ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল টেলিভিশন আবিস্কারের জন্য, তিনি বিশ্ব বিখ্যাত।

আল-খাওয়ারিজমী

আধুনিক তত্ত্বীয় গণিতশাস্ত্র হচ্ছে জ্ঞানের এক জটিল এবং দুর্বোধ্য শাখা। এই বিশেষ জ্ঞান অনেক স্কুল শিক্ষার্থীদের করে হতাশ, অনেককে করে বিরক্ত। কিন্তু এ এমন এক ধরনের জ্ঞান যা এই আধুনিক যুগের সকল বিস্ময়কর প্রযুক্তির ভিত্তি। ৮ম শতকের এক মুসলিম গণিতবিদ আল-খাওয়ারিজমী’র অবিস্মরণীয় দক্ষতা ও বিচক্ষণতা ছাড়া হয়তো আজ আধুনিক গণিতশাস্ত্র দেখতে অনেক ভিন্ন হতো।

মুহাম্মাদ আল-খাওয়ারিজমীর জন্ম ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব-পারস্যের খোরাসান এ। চীন এবং রোম এর মধ্যকার ঐতিহাসিক “সিল্ক রোড” যুক্ত করেছিল বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমকে, আর সেই সড়ক গিয়েছিল খোরাসানের মধ্য দিয়েই। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক পণ্যের লেনদেন হতোনা এই সিল্ক রোডে, পূর্ব-পশ্চিমের জ্ঞানও যাওয়া-আসা করতো। এর মাধ্যমেই অনেক উপকৃত হয়েছিলেন তরুণ আল-খাওয়ারিজমী। যখন আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন ৮৩২ সনে ‘‘বাইতুল হিকমাহ’’ প্রতিষ্ঠা করলেন, খলিফা ব্যক্তিগতভাবে আল-খাওয়ারিজমীকে বাইতুল হিকমাহ-তে আসার আমন্ত্রণ জানান। আল-মামুন যুক্তিবাদী ছিলেন, তিনি আল-খাওয়ারিজমীর জন্য দুঃসাহসিক একটি দায়িত্ব নির্ধারণ করলেন – গাণিতিক জটিলতা এবং সৌন্দর্যের মাধ্যেম আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করা।

অন্যান্য সহকর্মীদের মতোই আল-খাওয়ারিজমী প্রাচীন গ্রীক এবং ভারতীয় রচনাবলীর অনুবাদকার্যে নেমে পড়লেন। পীথাগোরাস, ইউক্লিড এবং ব্রহ্মগুপ্ত এর কীর্তির উপর দাঁড়িয়েই সামনের দিকে এগিয়ে চললেন এই প্রজন্মের স্কলারগণ। কিন্তু আল-খাওয়ারিজমীর কাজ শুরু হয় গ্রীক এবং হিন্দু রচনাবলীর অনুবাদের মাধ্যমে। তিনি গণিতের বিখ্যাত এক ভারতীয় বই “দ্যা ওপেনিং অফ দ্যা ইউনিভার্স” (মহাবিশ্বের সূত্রপাত) থেকে ‘শূন্য’ যে একটি সংখ্যা তার ধারণা পান। তিনি ধারণাটি গ্রহণ করেন যা পরবর্তীতে গণিতের সম্ভাবনা এবং জটিলতার এক নতুন জগত তৈরী করে।

রোমান সংখ্যার ব্যবহার গণিতের জটিল গণনাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল। ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা দিয়ে আল-খাওয়ারিজমী বীজগণিতের মতো নতুন ক্ষেত্র তৈরী করেন এবং বিকশিত করেন, যা তিনি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছিলেন মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের গণনার কাজে। তিনি গ্রীকদের জ্যামিতির উপর আরো অনেক কাজ করেন এবং নতুন নতুন অনেক ধারণা প্রদান করেন, উন্নতিসাধন করেন, যা বর্তমান বিশ্বের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়ে থাকে।

কিন্তু তাঁর মূল চিন্তা রয়ে যায় ‘শূন্য’ সংখ্যাটি নিয়ে। গণিতের ব্যবহারের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়না। প্রাচীন ভারতীয় রচনা দৃঢ়ভাবে বলে যে শূন্যকে শূন্য দিয়ে ভাগ করলে ফলাফল শূন্যই হয়। কিন্তু আল-খাওয়ারিজমী জানেন কোন কিছুই শূন্য দিয়ে ভাগ করা সম্ভব নয়। অবশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, কোন প্রমাণ ছাড়াই শূন্যের অস্তিত্বের ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে হবে। খলিফা আল-মামুনকে তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আল্লাহর উপর বিশ্বাসের ব্যাপারটাও এরকম, যা বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবেনা, ধর্মীয় বিশ্বাসের মাধ্যমেই যাকে গ্রহণ করতে হবে। আল-খাওয়ারিজমী শুধুমাত্র গণিতবিদই ছিলেননা, একজন দার্শনিকও ছিলেন।

গণিতের পাশাপাশি তিনি ভূগোলের উপর একটি সারসংক্ষেপ লিখেন যেখানে বিশ্বের ২৪০০ টি শহরের অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ রেকর্ড করেন। এছাড়াও তিনি অ্যাস্ট্রোল্যাব, সূর্যঘড়ি, এমনকি ইহুদী ক্যালেন্ডার নিয়েও বই লিখেন। তাঁর মৃত্যুর পর ৭০০ বছর ধরে ইউরোপের গণিতবিদগণ তাঁর নাম উদ্ধৃত করেছেন তাদের গবেষণায়, উল্লেখ করেছেন “অ্যালগোরিসমী” (Algorismi) হিসেবে। গণিতের সূত্রের আধুনিক নামঃ “অ্যালগোরিদম” (algorithm) তাঁর নাম থেকেই এসেছে। তাঁর এই উত্তরাধিকার বজায় থাকবে, যদিও এই আধুনিক বিশ্ব গড়তে তিনি সাহায্য করেছিলেন, এই আধুনিক বিশ্বের সবকিছুই আছে, কিন্তু ভুলে গিয়েছে তাঁর অবদান।

টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭ - অক্টোবর ১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১,০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তাঁর কাজগুলো তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায়-বানিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ও বন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (৩রা মার্চ, ১৮৪৭ - ২রা আগস্ট, ১৯২২) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। তাকে বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ নামে ডাকা হতো। তার বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয় ও বক্তৃতার কাজে জড়িত ছিলেন এবং তার মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা। এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণা নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়।

পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা জ্ঞান করতেন। এজন্যেই নিজের গবেষণা ও অধ্যয়ন কক্ষে কোন টেলিফোন রাখতেন না। বেল মারা যাওয়ার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে যে মহান ব্যক্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ

কৃত্রিম উপগ্রহ হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ।

কৃত্রিম উপগ্রহ এমনভাবে পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান হয়, যাতে এর গতির সেন্ট্রিফিউগাল বা বহির্মুখীন শক্তি ওকে বাইরের দিকে গতি প্রদান করে - কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি একে পৃথিবীর আওতার বাইরে যেতে দেয় না। উভয় শক্তি কৃত্রিম উপগ্রহকে ভারসাম্য প্রদান করে এবং কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। যেহেতু মহাকাশে বায়ুর অস্তিত্ব নেই তাই এটি বাধাহীনভাবে পরিক্রমণ করে । কৃত্রিম উপগ্রহগুলো বৃত্তাকারে পরিক্রমণ করে না, তার গতি ডিম্বাকৃতির।

টিভি ও বেতারসংকেত প্রেরণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহগুলো সাধারণত পৃথিবীথেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

পৃথিবী থেকে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য পাঠানো হয়, কৃত্রিম উপগ্রহ সেগুলো গ্রহণ করে এবং বিবর্ধিত (এমপ্লিফাই) করে পৃথিবীতে প্রেরণ করে । কৃত্রিম উপগ্রহ দুইটি ভিন্ন কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগনাল (তথ্য) গ্রহণ এবং পাঠানোর জন্য । কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা সিগনাল অনেক দুর্বল বা কম শক্তিসম্পন্ন হয়ে থাকে, তাই প্রথমে ডিস এন্টেনা ব্যবহার করে সিগনালকে কেন্দ্রীভূত করা হয় এবং পরে রিসিভার দিয়ে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয় ।

ইলেকট্রোপ্লেটিং ও গ্যালভানাইজিং

ইলেকট্রোপ্লেটিং-

 তড়িৎ বিশ্লেষণ বা ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় একটি ধাতুর উপর অন্য একটি ধাতুর আবরণ দেয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত একটি সক্রিয় ধাতুর উপর অন্য একটি কম সক্রিয় ধাতুর আবরণ দেয়া হয়। এভাবে ধাতব পদার্থের স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় ।

গ্যালভানাইজিং-

স্টিল বা  লোহার মরিচা রোধের জন্য জিংক এর প্রলেপ দেয়া হয় । এই প্রক্রিয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে ।

কয়েকটি ভারী ধাতু

কয়েকটি ভারী ধাতু-

Pt -আণবিক ভর (৭৮);অভিজাত ধাতু ।

Au-আণবিক ভর (৭৯);অভিজাত ধাতু ।

Hg-আণবিক ভর (৮০); ভারী ও একমাত্র তরল ধাতু ।

Pb-আণবিক ভর (৮২); ভারী  ধাতু ।

Bi-আণবিক ভর (৮৩); ভারী  ধাতু ।

U-আণবিক ভর (৯২); প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারী  ধাতু ।

 

 

খাবার লবণ

খাদ্য  লবণ বা নুন​ হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) । সাধারণ খাদ্য লবণে সোডিয়াম ক্লোরাইড এর সাথে সোডিয়াম বাই কার্বনেড (NaHCO3)অল্প পরিমাণে মিশ্রিত থাকে।

এটি প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অধিকাংশ স্থলজ উদ্ভিদের জন্য বিষবৎ। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।

মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরণের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন অপরিশোধিত সৈন্ধব লবণ (sea salt), পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ইত্যদাই। লবণ দেখতে দানাদার, সাদাটে বর্ণের। সমূদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে লবণ আহরণ করা হয়।

কংক্রিট

সিমেন্ট, বালি, খোয়া(ইটের টুকরো), পাথরের টুকরো পানির সঙ্গে মিশিয়ে যে নির্মানসামগ্রী বা মস্লা তৈরি করা হয়, তাকে ঢেলে চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়। এগুলোকেই কংক্রিট বলে।

সাধারণ কংক্রিটের চাপ ও আঘাত সহ্যের ক্ষমতা কম। তাই মধ্যখানে লোহা বা ইস্পাতের রড রেখে তার চারিদিকে কংক্রিট জমালে তা অত্যন্ত শক্ত এবং চাপ ও ঘাতসহ হয়। এ ধরনের কংক্রিটকে বলে রি-ইনফোর্সড(re-inforced) কংক্রিট। কংক্রিট এর মধ্যে বাতাসের পরিমাণ যত কম এবং পানি ও সিমেন্টের অনুপাত যত বেশি হয় কংক্রিট তত বেশি শক্ত হয়।

ফ্যারাডে

মাইকেল ফ্যারাডে (সেপ্টেম্বর ২২,১৭৯১ – আগস্ট ২৫,১৮৬৭) একজন ইংরেজ রসায়নবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব এবং ইলেক্ট্রোকেমিস্টের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন যে, চুম্বকত্ব  আলোক রশ্মিকে প্রভাবিত করে এবং এই দুই প্রত্যক্ষ ঘটনার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর আবিষ্কারের প্রধান বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে তড়িৎ-চৌম্বক আবেশ, ডায়াম্যাগনেটিজম, তড়িৎ বিশ্লেষণ।তিনি তাঁর আবিষ্কৃত  ডায়নামোর নাম দিয়েছিলেন ‘ম্যাসানো ইলেকট্রিক মেশিন’।এছাড়া তিনি ক্লোরিন গ্যাসের তরলীকরণ তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র এবং সেফটি ল্যাম্প আবিষ্কার করেন যা খনি শ্রমিকরা আলোর কাজে ব্যবহার করতেন। 

ফ্যারাডে

মাইকেল ফ্যারাডে (সেপ্টেম্বর ২২,১৭৯১ – আগস্ট ২৫,১৮৬৭) একজন ইংরেজ রসায়নবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব এবং ইলেক্ট্রোকেমিস্টের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন যে, চুম্বকত্ব  আলোক রশ্মিকে প্রভাবিত করে এবং এই দুই প্রত্যক্ষ ঘটনার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর আবিষ্কারের প্রধান বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে তড়িৎ-চৌম্বক আবেশ, ডায়াম্যাগনেটিজম, তড়িৎ বিশ্লেষণ।তিনি তাঁর আবিষ্কৃত  ডায়নামোর নাম দিয়েছিলেন ‘ম্যাসানো ইলেকট্রিক মেশিন’।এছাড়া তিনি ক্লোরিন গ্যাসের তরলীকরণ তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র এবং সেফটি ল্যাম্প আবিষ্কার করেন যা খনি শ্রমিকরা আলোর কাজে ব্যবহার করতেন। 

ডিডিটি

ডিডিটি  গৃহস্থালী পরিষ্কারকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ যার পুরো নাম ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন । একটি মূলত একটি কীটনাশক। স্নেহপদার্থে (অর্থাৎ তেলে) দ্রাব্য এই বিষ স্পর্শ করলে কীটপতঙ্গদের সোডিয়াম চ্যানেল বেশী খুলে গিয়ে পক্ষাঘাত ঘটে এবং কীটপতঙ্গ মারা যায়।

ডিডিটি আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৭৪ সালে, তবে কীটনাশক হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৩৯ সাল থেকে। এটির ব্যবহার সেনাবাহিনী এবং জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা পায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ম্যলেরিয়া এবং টাইফাস নিয়ন্ত্রণে।

ডিডিটি

ডিডিটি  গৃহস্থালী পরিষ্কারকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ যার পুরো নাম ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন । একটি মূলত একটি কীটনাশক। স্নেহপদার্থে (অর্থাৎ তেলে) দ্রাব্য এই বিষ স্পর্শ করলে কীটপতঙ্গদের সোডিয়াম চ্যানেল বেশী খুলে গিয়ে পক্ষাঘাত ঘটে এবং কীটপতঙ্গ মারা যায়।

ডিডিটি আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৭৪ সালে, তবে কীটনাশক হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৩৯ সাল থেকে। এটির ব্যবহার সেনাবাহিনী এবং জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা পায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ম্যলেরিয়া এবং টাইফাস নিয়ন্ত্রণে।

থার্মোমিটার এ পারদ ব্যাবহার করা হয়

পারদ একটি তরল ধাতু। তাপে পারদের সুষম এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে, যা তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য একটি প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য।  ছাড়া পারদের গলনাঙ্ক পানির গলনাঙ্কের অনেক কম এবং স্ফুটনাঙ্ক পানির স্ফুটনাঙ্কের অনেক বেশি।  জন্য সাধারণত জীবদেহের তাপমাত্রা মাপতে বেশির ভাগই পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।

তামার ইতিহাস

তামা, ইংরাজি নাম কপার Copper একটি রাসায়নিক মৌল যার চিহ্ন Cu এসেছে ল্যাটিন শব্দ কিউপ্রাম বা cuprum থেকে এবং এর পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ২৯। তামা একটি নমনীয় ধাতু এবং এর তাপীয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহীতা খুব উঁচু দরের তাই অনেক বীজলি বাহী তারের মধ্যেই তামার তার থাকে । বিশুদ্ধ তামা খুব বেশী নরম ও নিজস্ব উজ্জ্বল বর্ণ সমন্বিত কিন্তু আবহাওয়ার সংস্পর্শে এর বাইরে একটি লালচে-কমলা বিবর্ণ স্তর তৈরী হয়। তামা ও তামার বহু মিশ্র ধাতু (যেমন ব্রোঞ্জ, পিতলইত্যাদি) অনেক হাজার বছর ধরে মানুষের নিত্য সঙ্গী ।

মানুষ পাঁচ হাজার বছরেরও বেশী আগে থেকে তামার সাথে পরিচিত ছিল। অনেকের মতে আরও আগে থেকে এই পরিচয় ঘটেছিল। বহুকাল পূর্ব থেকেই ব্রোঞ্জ ছিল সর্বাধিক ব্যবহৃত ধাতু। এই ধাতুটি মূলত তামা এবং টিন-এর সংকর। এই দুই মৌলিক পদার্থ মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি বিশেষ যুগের নির্দেশনা প্রদান করে যাকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগ। 

গান মেটাল

গান মেটাল এক বিশেষ ধরনের ব্রোঞ্জ যা ৮৮% তামা,১০% টিন ও ২% দস্তার সমন্বয়ে তৈরি।

প্লাস্টার অফ প্যারিস

এক অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেটের অণুকে প্লাস্টার অফ প্যারিস বলে । এর সংকেত 

(CaSO4)2 H2O

ইউরিয়া সার

ওলন্দাজ বিজ্ঞানী হারমান বোওরহাভ সর্বপ্রথম ১৭২৭ সালে মূত্রে বা প্রসাবে ইউরিয়া আবিষ্কার করেন। ফরাসী বিজ্ঞানী হিলাইওে রোয়েলেও ১৭৭৩ সালে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে প্রসাব থেকে ইউরিয়ার স্ফটিক আবিষ্কারের কথা দাবি করেন। এর অনেক পরে ১৮২৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফেডারিক হোলার কৃত্তিম উপায়ে সিলভার ছায়েনেটের সহিত এ্যামোনিয়াম কোরাইডের বিক্রিয়া ঘটায়ে ইউরিয়া উৎপাদন করেন। অজৈব দ্রব্যের সহিত বিক্রিয়া ঘটিয়ে এটাই প্রথম জৈব উপাদান যা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন। এজন্য তাকে জৈব রসায়নের পিতা বলা হয়ে থাকে। বসচ্ছ-মেয়সইনার ইউরিয়া উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়ার উৎপাদন শুরু হয় ১৯২২ সন থেকে। এ পদ্ধতিতে দু’টো প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে ইউরিয়া উৎপন্ন করা হয়। প্রথম প্রক্রিয়ায় এ্যামোনিয়ার সহিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় এ্যামোনিয়াম কার্বামেট তৈরি হয়। দ্বিতীয় প্রক্রিয়ায় পরিক্ষয়ের মাধ্যমে এ্যামোনিয়াম কার্বামেট থেকে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।আমাদের দেশে ইউরিয়া সার প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থাৎ মিথেন থেকে তৈরি হয়এবং এতে শতকরা ৪৪-৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।   

 

বাংলাদেশে ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত প্রাকৃতিক সার কারখানায় প্রথম ইউরিয়া উৎপন্ন করা হয় ১৯৬১ সালে। 

ইউরিয়ার প্রভাব: ইউরিয়া পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যার ঘাটতি বাংলাদেশের প্রায় সব মাটিতে বিদ্যমান।

শুষ্ক কোষ

শুষ্ক কোষ এক ধরণের গ্যালভানিক কোষ যা আমাদের কাছে ব্যাটারি নামে পরিচিত।এটি টর্চ লাইট জ্বালাতে,রেডিও বাজাতে,টিভির রিমোট চালাতে প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়।এতে কোন তরল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব ব্যবহার করা হয় না।

ড্রাই সেলে জিংকের তৈরি ছোট কৌটা অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।উক্ত কৌটা ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ও তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব দ্বারা পূর্ণ করা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব হিসেবে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও জিংক ক্লোরাইড মিশ্রিত করে পানি দিয়ে কাই তৈরি করা হয়প্রাপ্ত কাইকে ঘন করার জন্য স্টার্চ যুক্ত করা হয়।এরপর জিংকের কৌটাটি কাই দ্বারা পূর্ণ করে তার ঠিক মাঝখানে ক্যাথোড দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।ক্যথোড হিসেবে ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইডের ভারী আবরণযুক্ত কার্বন দন্ড ব্যবহার করা হয়।ড্রাই সেলের ব্যবচ্ছেদ করা হলে এর কেন্দ্রে কার্বন দন্ড,তার উপর ম্যঙ্গানিজ ডাই অক্সাইডের আবরণ,এরপর পানি দিয়ে তৈরি স্টার্চ,অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও জিংক ক্লোরাইডের ঘন কাই এবং সর্ববাইরে ধাতব জিংকের পাত দেখতে পাওয়া যায়।ড্রাই সেলের অ্যানোডে ইলেকট্রন উৎপাদন ও ক্যাথোডে ইলেকট্রনের গ্রহন হয়। আমরা জানি ইলেকট্রনের প্রবাহ মানেই বিদ্যুৎ।তাই যেখানে বিদ্যুতের প্রযোজন যেখানে ড্রাই সেল যুক্ত করলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।উল্লেখ্য, ড্রাই সেল থেকে ১.৫ ভোল্ট  বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। 

আকাশ কেন নীল দেখায়

আকাশ (ইংরেজি Sky) হল ভূপৃষ্ঠ থেকে দেখতে পাওয়া বায়ুমণ্ডল বা মহাশূন্যের অংশবিশেষ। দিনের বেলায় সূর্যের আলোর বিক্ষেপণের ফলে আকাশ নীল দেখায়, আর একই কারণে সকাল ও সন্ধ্যায় এর রঙ হয় লাল। রাতের আকাশ কালো। আকাশ কোন নির্দিষ্ট বস্তু নির্দেশ করেনা, কিন্তু বলা হয় আকাশে মেঘ, পাখি ইত্যাদি ঘুরে বেড়ায়। মাথার ওপরের শুন্য অংশটাকেও কখনো কখনো আকাশ বলা হয়। আবার কখনো কোটি মাইল দূরের অংশকেও আকাশ বলা হয়ে থাকে। তারা কিংবা গ্রহদেরকেও আকাশে ধরা হয়ে থাকে।

আসলে মাথার ওপরের ফাকা জায়গা থেকে শুরু করে মহাশুণ্য পর্যন্ত সবটাকেই আকাশ ধরা হয়।

আলোর বিক্ষেপণের কারণে আকাশ নীল দেখায়। কোন কণিকার ওপর আলো পড়লে সেই কণিকা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, যাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, সেই আলোর বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই আকাশে এই আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয় এবং আকাশ নীল দেখায়।

মেঘের অণু বেশ বড় হয় এবং তাই তা নীল ছাড়া অন্য আলোকেও বিক্ষেপিত করে। যার ফলে মেঘের বর্ণ অনেকটা সাদাটে হয়।

একারণেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালীন সময় আকাশ লাল দেখায়। এসময় সূর্য দিগন্তরেখার কাছে অবস্থান করে। তাই সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে আসতে পুরু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে। তখন নীল আলো বিক্ষেপিত হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যায় কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা কম বিক্ষেপিত হয় এবং পৃথিবীতে আসে। তাই তখন আকাশ লাল দেখায়।

আকাশ নীল দেখায় কেন.

 নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে। আলোর বিক্ষেপণের কারণে আকাশ নীল দেখায়। কোন কণিকার ওপর আলো পড়লে সেই কণিকা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, যাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, সেই আলোর বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই আকাশে এই আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয় এবং আকাশ নীল দেখায়।

এবার জানব আকাশ লাল দেখায় কেন.? মেঘের অণু বেশ বড় হয় এবং তাই তা নীল ছাড়া অন্য আলোকেও বিক্ষেপিত করে। যার ফলে মেঘের বর্ণ অনেকটা সাদাটে হয়। একারণেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালীন সময় আকাশ লাল দেখায়। এসময় সূর্য দিগন্তরেখার কাছে অবস্থান করে। তাই সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে আসতে পুরু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে। তখন নীল আলো বিক্ষেপিত হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যায় কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা কম বিক্ষেপিত হয় এবং পৃথিবীতে আসে। তাই তখন আকাশ লাল দেখায়।

রাবার

রাবার হল টানলে লম্বা হয় ("ইলাস্টিক") এমন কয়েকটি নরম পদার্থ। প্রাকৃতিক রাবার হল রাবার গাছ (Hevea brasiliensis) বা একই পরিবারের (ইউফর্বিয়েসি Euphorbiaceae) এবং ডুমুর (fig) পরিবারের কয়েকটি গাছের জমাট বাঁধা তরুক্ষীর (latex)

রাসায়নিকভাবে রাবার হল বহু আইসোপ্রিন (isoprene) একক জুড়ে তৈরি দীর্ঘ জৈব পলিমার।

রাবার

রাবার হল টানলে লম্বা হয় ("ইলাস্টিক") এমন কয়েকটি নরম পদার্থ। প্রাকৃতিক রাবার হল রাবার গাছ (Hevea brasiliensis) বা একই পরিবারের (ইউফর্বিয়েসি Euphorbiaceae) এবং ডুমুর (fig) পরিবারের কয়েকটি গাছের জমাট বাঁধা তরুক্ষীর (latex)

রাসায়নিকভাবে রাবার হল বহু আইসোপ্রিন (isoprene) একক জুড়ে তৈরি দীর্ঘ জৈব পলিমার।

মরীচিকা

মরীচিকা হচ্ছে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল। আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে তখনপ্রতিসরণের দরুণ অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আর আলো যখন ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে বিভেদতলে আপতিত হয় তখন প্রতিসরিত না হয়ে প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। আর এভাবেই ঘটে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় মরীচিকার

পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন ( Total internal reflection) তখনই ঘটে যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশের সময়ে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে অভিলম্বের সাথে সংকট কোণের চেয়ে বেশী কোণে আপতিত হয়। যেহেতু আলোর আপতন কোণ সংকট কোণের সমান হলে প্রতিফলিত রশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদতল ঘেঁষে যায়, সেহেতু আলো সংকট কোণের চেয়ে বেশী কোণে আপতিত হলে তা পরবর্তী মাধ্যমে প্রবেশ না করে পূনরায় পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসবে। এই প্রক্রিয়ায় আপতিত সমস্ত রশ্মি প্রথম মাধ্যমে প্রতিফলনের মাধ্যমে ফিরে আসে বলে একে পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন বলা হয়।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে, যথা:

  • আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
  • আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন

হীরক বা হীরা সর্বাপেক্ষা মূল্যবান একটি রত্ন যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট। অন্য ভাষায় হীরক কার্বনের একটি বিশেষ রূপ মাত্র। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২৬০০০ কে.জি. খনিজ হীরা উত্তোলিত হয় যার মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। কথিত আছে, হীরক সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে মূল্যবান হিসেবে খনি থেকে উত্তোলন ও ব্যবহার করা শুরু হয়। হীরা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ হাজার বছর ধরে পরিচিত বলে অনুমান করা হয়। মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হীরা অনেক বেশি শক্ত এবং এটি দিয়ে উচ্চতম তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ সম্ভব। হীরাকে আদর্শ ধরে তৈরি করা Mohs Scale of mineral hardness ১-১০এ অনুযায়ী হীরার কাঠিন্য ১০। ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর সময় লাগে বলে বৈজ্ঞানিকদের ধারণা। গবেষকদের মতে, সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়; পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী।পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন (ইংরেজি: Total internal reflection) তখনই ঘটে যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশের সময়ে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে অভিলম্বের সাথে সংকট কোণের চেয়ে বেশী কোণে আপতিত হয়। যেহেতু আলোর আপতন কোণ সংকট কোণের সমান হলে প্রতিফলিত রশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদতল ঘেঁষে যায়, সেহেতু আলো সংকট কোণের চেয়ে বেশী কোণে আপতিত হলে তা পরবর্তী মাধ্যমে প্রবেশ না করে পূনরায় পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসবে। এই প্রক্রিয়ায় আপতিত সমস্ত রশ্মি প্রথম মাধ্যমে প্রতিফলনের মাধ্যমে ফিরে আসে বলে একে পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন বলা হয়।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে, যথা:

  • আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
  • আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।

নির্দিষ্ট রঙের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রতিসরিত হওয়ার সময় আপতন কোণের যে মানের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান সর্বাধিক হয় অর্থাৎ প্রতিসরিত রশ্মি বিভেদ তল ঘেঁষে চলে যায় তাকে ঐ রঙের জন্য হালকা মাধ্যমের সাপেক্ষে ঘন মাধ্যমের সংকট কোণ বা ক্রান্তি কোণ (critical angle) বলে।

অপটিক্যাল ফাইবার: অপটিকাল ফাইবার হল একধরনের অতিসূক্ষ্ম এবং নমনীয় কাঁচ তন্তু। এর মাধ্যমে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতফলনের ধর্মকে কাজে লাগিয়ে আলো বহনের কাজ করা হয়। আলোক রশ্মি যখন কাঁচ তন্তুর এক প্রান্তদিয়ে প্রবেশ করে তখন তন্তুর ভিতরের পৃষ্ঠে বারাবার এর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে ঠিক যতক্ষন না তা অপর প্রান্ত দিয়ে নির্গত হয়। এভাবে আলোকরশ্মি ফাইবারটির সম্পুর্ণ দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে। চিকিৎসকরা মানবদেহের বিশেষ কোন অংশ পরীক্ষা করতে অপটিকাল ফাইবার ব্যবহার করে থাকেন।

উদাহরনঃ 

  • মরিচীকা-র দৃষ্টিভ্রম
  • পানির নিচে থেকে উপরের পৃষ্ঠের দিকে তাকালে দর্পণের মতো দেখায়

বিম্ব

কোন নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি বা রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোন বিন্দুতে মিলিত হয় কিংবা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় তবে ঐ দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর বিম্ব বলে। উদাহরণস্বরূপ- আমরা যখন কোন সমতল দর্পণ যেমন আয়নার সামনে কোন বস্তুকে রাখি তখন আমরা আয়নায় ঐ বস্তুটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমাদের কাছে মনে হয় যেন বস্তুটি আয়নার পিছনে আছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বস্তুটি আয়নার সামনেই থাকে। আয়নার জন্য নতুন অবস্থানে আমরা বস্তুটির যে প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই তা-ই বস্তুর বিম্ব। সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব সর্বদা আলোক উত্সের সমান হয়, উত্তল দর্পণে বিম্ব সর্বদা আলোক উত্সের চেয়ে ছোট হয় কিন্তু অবতল দর্পণের ক্ষেত্রে উত্সের ফোকাস তথা দর্পনের থেকে লম্ব দূরত্বের উপর নির্ভর করে বিম্বের আকার ছোট, বড় বা সমান হতে পারে।

অবতল দর্পণ

দর্পন বা আয়না হল এমন একটি মসৃণ তল যেখানে আলোর প্রতিফলনের নিয়মানুযায়ী নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। সাধারণত কাঁচে একপাশে ধাতুর প্রলেপ দিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়ে থাকে কারণ কাঁচ একটি স্বচ্ছ এবং অনমনীয় বস্তু। কাঁচের যেদিকে সিলভারিং (কাঁচে ধাতুর প্রলেপ লাগানোর পদ্ধতি) করা থাকে তার বিপরীত পৃষ্ঠকে দর্পণের পৃষ্ঠ বা প্রতিফলক পৃষ্ঠও বলা হয়। যে পরিমাণ আলো দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠে আপতিত হয় তার বেশ কিছুটা উক্ত তল কর্তৃক শোষিত হয় এবং বাকিটা প্রতিফলিত হয়। যদিও একপাশে সিলভারিং করা কাঁচ দর্পণ হিসেবে সর্বোৎকৃষ্ট, ভালোভাবে পালিশ করা যেকোন বস্তুর পৃষ্ঠই দর্পণের ন্যায় আচরণ করতে পারে।

প্রকারভেদ

একটি উত্তল দর্পণের চিত্র। এধরনের দর্পণগুলো সাধারণত মোটর সাইকেলে ব্যবহৃত হয় এবং যা চালকে এক পাশ থেকে দেখতে সাহায্য করে।

দর্পণ প্রধানত দু প্রকারের হয়ে থাকে, যথা: সমতল দর্পণ এবং গোলীয় দর্পণ। নিম্নে আরও বর্ণনা করা হল:

সমতল দর্পণ

যখন কোন সমতল পৃষ্ঠ মসৃণ হয় এবং তাতে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, তাকে সমতল দর্পণ (Plane mirror) বলে। যেমন: আমরা চেহারা দেখার জন্য যে আয়না ব্যবহার করে থাকি তা একটি সমতল দর্পণ।

গোলীয় দর্পণ

কোন গোলকের অংশবিশেষে যে মসৃণ গোলীয়পৃষ্ঠে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে গোলীয় দর্পণ (Spherical mirror) বলে। গোলীয় দর্পণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা: উত্তল দর্পণ ও অবতল দর্পণ।

উত্তল দর্পণ

যদি কোন গোলকের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের ন্যায় আচরণ করে তবে তাকে উত্তল দর্পণ (Convex mirror) বলে।অর্থ্যাৎ গোলকীয় দর্পণের বাইরের উত্তলপৃষ্ঠটি উত্তল দর্পণ হিসেবে কাজ করে।

অবতল দর্পণ

যদি কোন গোলকের অবতল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের ন্যায় আচরণ করে তবে তাকে অবতল দর্পণ (Concave mirror) বলে।অর্থ্যাৎ গোলকীয় দর্পণের ভিতরের অবতলপৃষ্ঠটি অবতল দর্পণ হিসেবে কাজ করে।

আয়না

সাধারণত কাঁচে একপাশে ধাতুর প্রলেপ দিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়ে থাকে কারণ কাঁচ একটি স্বচ্ছ এবং অনমনীয় বস্তু। কাঁচের যেদিকে সিলভারিং (কাঁচে ধাতুর প্রলেপ ... উদাহরণস্বরূপ- আমরা যখন কোনসমতল দর্পণ যেমন আয়নার সামনে কোন বস্তুকে রাখি তখন আমরা আয়নায় ঐ বস্তুটির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমাদের কাছে মনে হয় যেন বস্তুটি আয়নার পিছনে আছে ।

 

প্রিজম

আলোকবিজ্ঞানে প্রিজম হলো একটি প্রিজম আকৃতির স্বচ্ছ বস্তু যার মধ্য দিয়ে সাদা আলোকরশ্মি যাবার সময় সাতটি রং এ বিভক্ত হয়ে যায়। ব্যবহার অনুযায়ী এর তলের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়। প্রিজম সাধারণত কাচের তৈরি হয় ও ত্রিকোণাকৃতির প্রস্থছেদের তবে এটি অন্য যেকোন স্বচ্ছ পদার্থ দিয়েও তৈরি করা যায়।

এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাবার সময় আলোর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। গতিপথ পরিবর্তনের ফলে মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদ তলে আলো একটি নির্দিষ্ট কোনে বেঁকে প্রতিসরিত (Huyghens principle), অথবা প্রতিফলিত হয়।

স্যার আইজাক নিউটনের সময় অনেকে বিশ্বাস করত যে প্রিজম নতুন রঙের আলো সৃষ্টি করে। আইজাক নিউটন দুটি প্রিজম নিয়ে দেখেন যে একটির উপর আলো পড়লে সেটি থেকে বর্ণালি সৃষ্টি হয় এবং দ্বিতীয় প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাবার সময় তা আবার একটি রঙের আলোতে পরিণত হয়। এবং এই সিদ্ধান্তে পৌছান যে এই বর্ণালি গুলো প্রিজম তৈরি করেনি বরং এগুলো আগে থেকেই সাদা আলোর মাঝে অবস্থান করছিলো। প্রিজম আলো তৈরি করেনা, আলোর মধ্যে থাকা বর্ণালিগুলোকে শুধুমাত্র পৃথক করে। তিনি একটি লেন্স এবং আরেকটি প্রিজম ব্যবহার করে পূণরায় ঐ বর্ণালিগুলোকে সাদা রঙের আলোতে পরিনত করেন। স্যার আইজাক নিউটনের এই পরীক্ষাটি বিজ্ঞানের ইতিহাসেএকটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

অনেক সময় প্রিজম আলোর বিচ্ছুরন না ঘটিয়ে প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকে। আলো প্রিজমের উপর একটি নির্দিষ্ট কোনে আপতিত হলে আলো বিচ্ছুরিত হয় না, বরং পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে এবং আপতিত রশ্মির সবটুকুই প্রতিফলিত হয়। প্রিজমের এ ধর্মের কারণে এটিকে কোন কোন সময় আয়নার বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

বায়ুমন্ডলীয় প্রতিসরণ

আলোর প্রতিসরণ(ইংরেজি: Refraction of light) হলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো প্রবেশ করলে উভয় মাধ্যমের বিভেদতলে এর দিক পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনা। এ ঘটনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যখন আলোকরশ্মি 0° ও 90° ব্যতিত অন্য যেকোনো কোণে মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে পড়ে। মূলত মাধ্যমগুলোর ঘনত্বের পার্থক্যের জন্যই আলোর প্রতিসরণ ঘটে থাকে.কোনো ব্যক্তিকে যদি দড়ি বেধে ছেড়ে দেওয়া হয়ও সে যদি সরলরেখা বরাবর যায় তবে তার বেগের পরিবর্তন হলেও অভিমুখের পরিবর্তন হয়না! কিন্তু কিছুটা কোন করে দৌড়ালে অভিমুখের পরিবর্তন হয়.অভিকেন্দ্র বলের দরুন এরুপ হয়.একই ভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে ও একই ঘটনা ঘটে।সোজা গেলে কোনো পরিবরতন হয়না।কিন্তু হেলে পড়লে কনার সংঘর্ষের দরুন অভিমূখের পরিবর্তন ঘটে।.সোজা লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে ঘন মাধ্যমের কনাগুলির,দুই পাশ্বঁ দিক থেকে বাধাবল সমান হওয়ায় প্রতিসৃত রশ্মির কোনো বিচ্যুতি হয়না !কিন্তু আলো কিছুটা হেলে প্রবেশ করলে আলোক কনার ওপর সবদিক থেকে বাধাবল সমান হয় না।সামনের দিকে একটা আস্তরন সৃস্টি হয়।.ফলে আলোবাধাগ্রস্ত হয়ে অভিলম্বের দিকে বাকে.।.আলো ঘন থেকে লঘুতে গেলে বিপরীত ঘটনা ঘটে।

আলোর প্রতিসরণের ওপর দুটি সূত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যথা:

  • একজোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং একটি নির্দিষ্ট রংয়ের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন (sin) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (sin) অনুপাত সর্বদা ধ্রুব থাকে। ১৬২০ সালে হল্যান্ডের বিজ্ঞানীস্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
  • আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি আপতন বিন্দুতে বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে

ম্যাক্স ওয়েল

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৩ জুই ১৮৩১ - ৫ নভেম্বর,১৮৭৯) স্কটিশ পদার্থবিজ্ঞানী যিনি তড়িচ্চুম্বকীয় তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ঊনবিংশ শতকের বিজ্ঞানী হয়েও বিংশ শতকের বিজ্ঞানের উপর এতো প্রভাব ম্যাক্সওয়েল ছাড়া আর কারও ছিল না। এজন্যই আবিষ্কারের মৌলিকত্বের বিচারে নিউটন ও আইনস্টাইনের  সাথে তার নাম করা হয়।১৯৩১  সালে ম্যাক্সওয়েলের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয়েছিল। সে সময় আইনস্টাইন বলেছিলেন, নিউটনের পর থেকে পদার্থবিজ্ঞান যত বিজ্ঞানীর দেখা পেয়েছে তার মধ্যে তিনিই সবচেয়ে সফল এবং প্রভাবশালী।

ম্যাক্সওয়েলের আবিষ্কারগুলোর সবচেয়ে বড় দিক ছিল, তার প্রায় সবগুলোই বিংশ শতকে বিজ্ঞানের প্রধান প্রধান আবিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণের  ধারণা শুরু হয়েছে ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে।মাইকেল ফ্যারাডে বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক বলরেখা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যে বৈশিষ্ট্যগুলো দাঁড়া করিয়েছিলেন সেগুলোর উপর ভিত্তি করে ম্যাক্সওয়েল তার ক্ষেত্র সমীকরণ  প্রতিপাদন করেন। এই সমীকরণগুলোই আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের  ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। এভাবেই ফ্যারাডে থেকে ম্যাক্সওয়েল হয়ে আইনস্টাইনে এসে ভর-শক্তির সমতুল্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ম্যাক্সওয়েলের মতবাদ ও তত্ত্ব কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের পথ করে দিয়েছিল। তিনি তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণের যে ব্যাখ্যা করেছিলেন তাপ বিকিরণের  অসন্তোষজনক সূত্রের জন্ম দিয়েছে যা ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম প্রকল্পের আগমনকে ত্বরিত করেছে। এভাবে একসময় আমরা বুঝতে পারি যে, তাপ বিকিরণ গুচ্ছে গুচ্ছে ঘটে যে গুচ্ছগুলোকে কোয়ান্টা বলে। প্লাংকের প্রকল্পের মূল অংশ অর্থাৎ তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ ও পদার্থের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ধারণাটিই পরমাণু এবং অণুর গঠন আবিষ্কারকে সহজ করে দিয়েছিল।

ম্যাক্স ওয়েল

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৩ জুই ১৮৩১ - ৫ নভেম্বর,১৮৭৯) স্কটিশ পদার্থবিজ্ঞানী যিনি তড়িচ্চুম্বকীয় তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ঊনবিংশ শতকের বিজ্ঞানী হয়েও বিংশ শতকের বিজ্ঞানের উপর এতো প্রভাব ম্যাক্সওয়েল ছাড়া আর কারও ছিল না। এজন্যই আবিষ্কারের মৌলিকত্বের বিচারে নিউটন ও আইনস্টাইনের  সাথে তার নাম করা হয়।১৯৩১  সালে ম্যাক্সওয়েলের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয়েছিল। সে সময় আইনস্টাইন বলেছিলেন, নিউটনের পর থেকে পদার্থবিজ্ঞান যত বিজ্ঞানীর দেখা পেয়েছে তার মধ্যে তিনিই সবচেয়ে সফল এবং প্রভাবশালী।

ম্যাক্সওয়েলের আবিষ্কারগুলোর সবচেয়ে বড় দিক ছিল, তার প্রায় সবগুলোই বিংশ শতকে বিজ্ঞানের প্রধান প্রধান আবিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণের  ধারণা শুরু হয়েছে ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে।মাইকেল ফ্যারাডে বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক বলরেখা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যে বৈশিষ্ট্যগুলো দাঁড়া করিয়েছিলেন সেগুলোর উপর ভিত্তি করে ম্যাক্সওয়েল তার ক্ষেত্র সমীকরণ  প্রতিপাদন করেন। এই সমীকরণগুলোই আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের  ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। এভাবেই ফ্যারাডে থেকে ম্যাক্সওয়েল হয়ে আইনস্টাইনে এসে ভর-শক্তির সমতুল্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ম্যাক্সওয়েলের মতবাদ ও তত্ত্ব কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের পথ করে দিয়েছিল। তিনি তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণের যে ব্যাখ্যা করেছিলেন তাপ বিকিরণের  অসন্তোষজনক সূত্রের জন্ম দিয়েছে যা ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম প্রকল্পের আগমনকে ত্বরিত করেছে। এভাবে একসময় আমরা বুঝতে পারি যে, তাপ বিকিরণ গুচ্ছে গুচ্ছে ঘটে যে গুচ্ছগুলোকে কোয়ান্টা বলে। প্লাংকের প্রকল্পের মূল অংশ অর্থাৎ তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ ও পদার্থের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ধারণাটিই পরমাণু এবং অণুর গঠন আবিষ্কারকে সহজ করে দিয়েছিল।

ডাল্টন

জন ডাল্টন  (৬ সেপ্টেম্বর ১৭৬৬ - ২৭ জুলাই ১৮৪৪) হলেন একজন ইংরেজ রসায়নবিদ, স্কুলশিক্ষক, আবহাওয়া বিজ্ঞানী ও পদার্থবিদ। তিনি তাঁর "পরমানু তত্ত্ব"(Atomic Theory) এবং "বর্ণান্ধ" (Colour Blindness) বিষয়ে কাজের জন্য খ্যতি অর্জন করেছেন।তিনিই সর্বপ্রথম বস্তুকে মৌলিক ও যৌগিক পদার্থে ভাগ করেন।  

সোডিয়াম

সোডিয়ামের সক্রিয়তা পটাশিয়াম থেকে কম । অন্যান্য গ্রুপ I মৌলের ন্যায় এটি কক্ষ তাপমাত্রায় ভীষণ সক্রিয়। এটি ঠাণ্ডা পানির সাথে অত্যন্ত তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে। এটা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া, যাতে হাইড্রোজেনের অপসারণ হয়। এ ধাতুটি পানি থেকেও হালকা । শুষ্ক বাতাসে সোডিয়াম পোড়ালে হলুদ বর্ণের শিখা সহ প্রধানত সোডিয়াম পার অক্সাইড (Na2O2) উৎপন্ন হয়। একইসাথে কিছু পরিমাণ সোডিয়াম অক্সাইডও (Na2O) উৎপন্ন হয়। সোডিয়ামের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা খুবই বেশি।এ কারনে পারমানবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ব্যবহৃত হয় ।

পানি

পানির রাসায়নিক সংকেত H2O( ভারী পানির সংকেত D2O বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড) অর্থাৎ এর একটি অণুতে দু'টি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি অক্সিজেন পরমানুর  সাথে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পদার্থের তিনটি অবস্থাতেই পৃথিবীতে জলের অস্তিত্ব বিদ্যমান। জলীয় বাষ্প ও মেঘ  হিসেবে আকাশে,সমুদ্রের জল  হিসেবে মহাসাগরে ,হিমশৈল  হিসেবে মেরু অঞ্চলের মহাসাগরে,হিমবাহ ও নদী  হিসেবে পর্বতে এবং ভূগর্ভে পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।প্রকৃতিতে বৃষ্টির পানি হল মৃদু পানির সর্বোৎকৃষ্ট উৎস।  

লবণের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে পা্নিকে খর পানি ও মৃদু পানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।যেসব পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের লবণ বিদ্যমান থাকে সেসব পানিতে ফেনা উৎপন্ন হয় না।এদের খর পানি বলা হয়।আর যেসব পানিতে এসব লবণ থাকে না তাদের মৃদু পানি বলা হয় এবং এই পানিতে সহজেই ফেনা  উৎপন্ন হয়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য

১) ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
২) ধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়।
৩) ঘষলে ধাতু চকচক করে।
৪) অধাতুর তুলনায় ধাতু বেশি ভারী বলে মনে হয়।
৫) ধাতুকে পিটিয়ে পাত করা যায়।
৬) ধাতুর নমনীয়তা গুণের জন্য একে টেনে তার বানানো যায়।

পর্যায় সারণির মৌল

পর্যায় সারণির বিভিন্ন গ্রুপের মৌলগুলোকে তাদের ধর্মের সামঞ্জস্যতা বিচারে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।যেমন- 

 অ্যালকালি মেটালঃপর্যায় সারণিতে গ্রুপ 1 তে অবস্থিত Li, Na ,K ,Cs,Rb  কে অ্যালকালি মেটাল বলে।কারণ এরা পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার দ্রবণ তৈরি করে। 

মৃৎক্ষার  ধাতুঃগ্রুপ ।।A  শ্রেণীর  Ba থেকে  Ra পর্যন্ত মৌলসমূহকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। এদের ধর্ম অনেকটা ধাতুর মতই। এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে।

ক্ষার ধাতুঃগ্রুপ ।A  শ্রেণীর  মৌলসমূহকে ( লিথিয়াম,সোডিয়াম,পটাশিয়াম,রোবিডিয়াম প্রভৃতি) ক্ষার ধাতু বলা হয়। 

 

পর্যায় সারণির মৌল

পর্যায় সারণির বিভিন্ন গ্রুপের মৌলগুলোকে তাদের ধর্মের সামঞ্জস্যতা বিচারে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।যেমন- 

 অ্যালকালি মেটালঃপর্যায় সারণিতে গ্রুপ 1 তে অবস্থিত Li, Na ,K ,Cs,Rb  কে অ্যালকালি মেটাল বলে।কারণ এরা পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার দ্রবণ তৈরি করে। 

মৃৎক্ষার  ধাতুঃগ্রুপ ।।A  শ্রেণীর  Ba থেকে  Ra পর্যন্ত মৌলসমূহকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। এদের ধর্ম অনেকটা ধাতুর মতই। এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে।

ক্ষার ধাতুঃগ্রুপ ।A  শ্রেণীর  মৌলসমূহকে ( লিথিয়াম,সোডিয়াম,পটাশিয়াম,রোবিডিয়াম প্রভৃতি) ক্ষার ধাতু বলা হয়। 

 

বায়ুর উপাদান

ভূপৃষ্টের চারপাশে বায়ুর যে আবরণ তাকে বায়ুমন্ডল বলা হয়।এটি মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে ভূপৃষ্ঠের সাথে লেপ্টে থাকে।ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমন্ডলের গভীরতা প্রায় ১০০০০ কি.মি.।বিজ্ঞানীদের হিসাবমতে, এর বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ,যা নিম্নলিখিত উপাদান নিয়ে গঠিত। 

উপাদান                     শতকরা পরিমাণ 
নাইট্রোজেন                  ৭৮.০১%
অক্সিজেন                     ২০.৭১%
কার্বন ডাই অক্সাইড        ০.০৩%
ওজোন                         ০.০০০১%
আরগন                         ০.৮০%
নিয়ন                           ০.০০১৮%
হিলিয়াম                        ০.০০০৫%
ক্রিপ্টন                         ০.০০০১২%
জেনন                           ০.০০০০৯%
হাইড্রোজেন                     ০.০০০০৫%
নাইট্রাস অক্সাইড               ০.০০০০৫%
মিথেন                            ০.০০০০২% 
খ। জলীয় বাষ্প                 ০.৪১%
গ। ধুলিকনা ও অন্নান্য     ০.৪৩৯৯%

সুতরাং বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

যোজনী

যোজনী বলতে, রসায়ন শাস্ত্রে, কোনো মৌলিক পদার্থের আরেকটি মৌলিক পদার্থের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা বোঝায়। যোজনী দ্বারা কেবল মৌলিক পদার্থ নয় কোনো যোগমৌলেরও আরেকটি মৌলিক পদার্থ বা যৌগমৌলের সঙ্গে বিক্রিয়ার ও যৌগ গঠনের ক্ষমতা বোঝায়। সংখ্যা দ্বারা মৌলিক পদার্থের যোজনী প্রকাশ করা হয়। কার্বনের যোজনী ৪ ; এর অর্থ হচ্ছে কার্বনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের সর্বোচ্চ ৪টি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।অ্যালুমিনিয়ামের যোজনী ৩  অর্থাৎ একটি অ্যালুমিনিয়াম পরমানু  সর্বোচ্চ ৩ টি হাইড্রোজনের পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারবে। হাইড্রোজনের পরমাণুতে মুক্ত ইলেক্ট্রণের সংখ্যা ১ ; অন্য দিকে কার্বনের পরমাণুতে মুক্ত ইলেক্ট্রণের অভাব ৪। এই হিসাবেই কার্বনের যোজনী স্থির করা হয়েছে ৪। অর্থাৎ, কোন মৌলিক পদার্থ বা যৌগমৌলের যোজনী নিরূপণে হাইড্রোজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। তবে যোজনী কোনো স্থিরাংক নয়, অবস্থাভেদে এটির পরিবর্তন ঘটে। তদসত্বেও, হাইড্রোজেনের যোজনী একক এবং অপরিবর্তনীয় বিধায় একেই অন্যান্য মৌলিক পদার্থ বা যোগমৌলের যোজনী নিরূপণের ভিত্তি হিসাবে বিচেনা করা হয়। একইভাবে যৌগমৌল মিথাইলের (CH 3) যোজনী একক এবং অপরিবর্তনীয় গণ্য করা হয়।

যোজনী

যোজনী বলতে, রসায়ন শাস্ত্রে, কোনো মৌলিক পদার্থের আরেকটি মৌলিক পদার্থের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা বোঝায়। যোজনী দ্বারা কেবল মৌলিক পদার্থ নয় কোনো যোগমৌলেরও আরেকটি মৌলিক পদার্থ বা যৌগমৌলের সঙ্গে বিক্রিয়ার ও যৌগ গঠনের ক্ষমতা বোঝায়। সংখ্যা দ্বারা মৌলিক পদার্থের যোজনী প্রকাশ করা হয়। কার্বনের যোজনী ৪ ; এর অর্থ হচ্ছে কার্বনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের সর্বোচ্চ ৪টি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।অ্যালুমিনিয়ামের যোজনী ৩  অর্থাৎ একটি অ্যালুমিনিয়াম পরমানু  সর্বোচ্চ ৩ টি হাইড্রোজনের পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারবে। হাইড্রোজনের পরমাণুতে মুক্ত ইলেক্ট্রণের সংখ্যা ১ ; অন্য দিকে কার্বনের পরমাণুতে মুক্ত ইলেক্ট্রণের অভাব ৪। এই হিসাবেই কার্বনের যোজনী স্থির করা হয়েছে ৪। অর্থাৎ, কোন মৌলিক পদার্থ বা যৌগমৌলের যোজনী নিরূপণে হাইড্রোজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। তবে যোজনী কোনো স্থিরাংক নয়, অবস্থাভেদে এটির পরিবর্তন ঘটে। তদসত্বেও, হাইড্রোজেনের যোজনী একক এবং অপরিবর্তনীয় বিধায় একেই অন্যান্য মৌলিক পদার্থ বা যোগমৌলের যোজনী নিরূপণের ভিত্তি হিসাবে বিচেনা করা হয়। একইভাবে যৌগমৌল মিথাইলের (CH 3) যোজনী একক এবং অপরিবর্তনীয় গণ্য করা হয়।

অ্যালকেলি মেটাল

অ্যালকেলি শব্দতি আরিবক। এর ইংরেজি অর্থ “ashes of the saltwort”।

গ্রুপ । এর মৌল সমূহকে অ্যালকেলি মেটাল বলে । এ মৌল গুল ক্ষার হিসাবে পণিতে দ্রবীভূত থাকে ।

গ্রুপ ।। এর মৌল সমূহকে অ্যালকেলি আর্থ মেটাল বলে । এই মৌল গুল মাটিতে লবণ হিসাবে পাওয়া যায় ।

নির্দেশকের বর্ণ

ওম্ল-ক্ষার মাধ্যমে  নির্দেশকের বর্ণঃ 

 নির্দেশকের  অম্লীয় মাধ্যম  ক্ষারীয় মাধ্যম 
মিথাইল অরেঞ্জ  গোলাপী লাল  হলুদ 
ফেনফথেলিন  বর্ণহীন  গোলাপী 
মিথাইল রেড  লাল   হলুদ 
ব্রোমো ফেনল  হলুদ  নীল 
মিথাইল ইয়েলো  লাল  হলুদ

 

চার্লস ব্যাবেজ

চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) (২৬শে ডিসেম্বর, ১৭৯১—১৮ই অক্টোবর, ১৮৭১) একজন ইংরেজ যন্ত্র প্রকৌশলী, গণিতবিদ, আবিষ্কারক ও দার্শনিক। তাঁকে কম্পিউটারের জনক হিসাবে অভিহিত করা হয়। তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও অ্যানালাইটিকাল ইঞ্জিন নামের দুইটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করেন। তাঁর তৈরি অ্যানালাইটিকাল ইঞ্জিন যান্ত্রিকভাবে গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করতে পারত এবং এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আজকের কম্পিউটারের ডিজাইনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থায়নের অভাবে ব্যাবেজ তাঁর প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।

 

ইলেক্ট্রনিক্সের যাত্রা

ইলেকট্রনিক্স (মূলতঃ ইংরেজি Electronics ইলেক্‌ট্রনিক্‌স্‌) তড়িৎ প্রকৌশলের একটি শাখা যেখানে ভ্যাকিউম টিউব অথবা অর্ধপরিবাহী(semi-conductor) যন্ত্রাংশের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ আলোচিত হয়। এতে সাধারণত ক্ষুদ্র আকারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটার, আই সি ইত্যাদি আলোচিত হয়। ১৯০৪ সালে জন অ্যামব্রোস ফ্লেমিং দুইটি তড়িৎ ধারক (electrodes) বৈশিষ্ট সম্পূর্ণ বদ্ধ কাঁচের এক প্রকার নল (vacuum tube) উদ্ভাবন করেন ও তার মধ্য দিয়ে একমুখী তড়িৎ পাঠাতে সক্ষম হন। তাই সেই সময় থেকে ইলেকট্রনিক্‌সের শুরু হয়েছে বলা যায়।

ইলেকট্রনিক প্রকৌশল প্রধানত ইলেকট্রনিক বর্তনীর নকশা প্রণয়ন এবং পরীক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রনিক বর্তনী সাধারণত রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ইন্ডাক্টর, ডায়োড প্রভৃতি দ্বারা কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ইলেকট্রনিক্‌স প্রকৌশল রেডিও প্রকৌশল বা বেতার প্রকৌশল নামে পরিচিত ছিল। তখন এর কাজের পরিধি রাডার, বাণিজ্যিক বেতার (Radio) এবং আদি টেলিভিশনে সীমাবদ্ধ ছিল। বিশ্বযুদ্ধের পরে যখন ভোক্তা বা ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক যন্ত্রপাতির উন্নয়ন শুরু হল, তখন থেকে প্রকৌশলের এই শাখা বিস্তৃত হতে শুরু করে এবং আধুনিক টেলিভিশন, অডিও ব্যবস্থা, কম্পিউটার এবং মাইক্রোপ্রসেসর এই শাখার অন্তর্ভুক্ত হয়। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকে বেতার প্রকৌশল নামটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে দশকের শেষ নাগাদ ইলেকট্রনিক্‌স নাম ধারণ করে।

অক্সাইড

কোন মৌলের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দ্বি-মৌল যৌগ উৎপন্ন করলে, উক্ত যৌগ 'অক্সাইড' নামে চিহ্নিত হয়ে থাকে। রসায়ন বিজ্ঞানে এটি যৌগমূলক হিসাবে বিবেচিত হয়। যেমন : কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি। অক্সিজেন যে মৌলিক পদার্থের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড উৎপন্ন করে, সেই মৌলিক পদার্থের নামেই অক্সাইডের নামকরণ করা হয়।

 

১.অম্লীয় অক্সাইড (Acidic Oxide)  : সাধারণত অধাতু মৌলের অক্সাইডকে অম্লীয় অক্সাইড বলে। এই জাতীয় অক্সাইডের জলীয় দ্রবণ- নীল লিটমাসকে লাল করে এবং ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। এ ছাড়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে কখনো একটি বা দুটি এ্যাসিড উৎপন্ন করে। কোনো কোনো ধাতব অক্সাইড এ্যাসিডধর্মী হয়। এই সকল অক্সাইডের সাথে পানির বিক্রিয়ায় এ্যাসিড এবং ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 

 

CO2

SO2

SO3

SiO2

 

২. ক্ষারকীয় অক্সাইড (Basic Oxide) : সাধারণত ধাতুর মৌলগুলি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে যে সকল অক্সাইড উৎপন্ন করে, সেগুলিকেই ক্ষারকীয় অক্সাইড বলে। এই জাতীয় অক্সাইড এ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।

MgO

Na2O

CuO

৪. উভধর্মী অক্সাইড (Amphotericl Oxide) : যে অক্সাইডগুলি এ্যাসিড ও ক্ষারক উভয়কেই প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাদেরকে উভধর্মী অক্সাইড বলে।

কয়েকটি উভধর্মী অক্সাইড-

ZnO 

Al2O3

SnO2

 PbO

 PbO2

ক্যালসিয়াম কার্বনেট

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস,শামুক,ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।কৃষিজ চুনায় এটা একটি সক্রিয় উপাদান,যা ক্যালসিয়াম আয়ন ও জলের সাথে বিক্রিয়া করে সৃস্টি হয়। এটি পানিতে আদ্রবনীয় । এটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা অ্যান্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  তবে অত্যধিক ব্যবহার বিপজ্জনক।সাধারণ অবস্থায় CaCO3 এর গঠণ ষড়ভূ্য আকৃতির β-CaCO3, (খনিজ ক্যালসাইট)

জোলিও-কুরি

আইরিন জোলিও-কুরি (জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৭ - মৃত্যু: ১৭ মার্চ, ১৯৫৬) ছিলেন বিখ্যাত ফরাসী বিজ্ঞানী। এছাড়াও, তিনি মারিয়া স্ক্লদভ্‌স্কা কুরি এবং পিয়ের কুরি দম্পতির কন্যা ও ফ্রেদেরিক জোলিও-কুরি'র স্ত্রী ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্বামী ফ্রেদেরিক জোলিও-কুরি'র সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় পদার্থ আবিস্কারের ফলে রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কুরি দম্পতির এ সাফল্যের প্রেক্ষাপটে অদ্যাবধি সফলতম নোবেল বিজয়ী পরিবার হিসেবে আসীন রয়েছে। 

নাইক্রোম

নাইক্রোম হল নিকেল, ক্রোমিয়াম এবং লোহার সংকর ধাতু। এর রোধাঙ্ক খুব বেশি, তামার প্রায় 40 গুণ।নাইক্রোম তারের রোধ বেশি বলে একই তড়িৎ প্রবাহে উতপন্ন তাপ অনেক বেশি হয়। নাইক্রোমের গলনাঙ্কও খুব উচ্চ, তাই উচ্চ তাপেও এই সংকর ধাতু কঠিন থাকে। তাছারা লহিততপ্ত অবস্থাতেও নাইক্রোম বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় না । এ কারনে  বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে এ তার ব্যবহৃত হয় ।

ই-মেইল

কমপিউটার নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের তথ্যাবলী আদান- প্রদানের প্রক্রিয়াকেই ই-মেইল বলে। ইলেকট্রনিক মেইল এর সংক্ষিপ্ত রূপ ই-মেইল। তবে বলতে কিন্তু সাধারণ ব্যক্তিগত মেসেজ বা বার্তাকেই শুধু বুঝানো হয় না। ই-মেইলে থাকতে পারে যে কোন ধরনের টেক্সট ফাইল, ছবি বা চিত্র, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোড, ইলেকট্রনিক ম্যাগাজিন বা ডিজিটাল আকারের বই এবং এধরণের আরো অনেক কিছু।একজন ইন্টারনেট ইউজার ইন্টারনেটে সংযুক্ত আছে এমন যে কারো কাছে ই-মেইল পাঠাতে পারেন এবং তার কাছ থেকে ই-মেইল পেতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপকের ভৌগলিক অবস্থান বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই হোক না কেন তাতে বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই।

ই-মেইল এর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। যেখানে সাধারণ ডাকযোগে চিঠি প্রেরণে কয়েকদিন সময় লাগে; সেখানে ই-মেইল এর সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।

ফ্যাক্স

ফ্যাক্স ইংরেজি ফ্যাক্সিমিলি শব্দের সংক্ষেপ, একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যা কোন কাগজ বা দলিলের ছবি ডিজিটাল পদ্ধতির টেলিফোন তারের সহায়তায় দূরমুদ্রণে সক্ষম। AXটেলিফোনে শব্দ প্রেরণ করা হয়, ফ্যাকস-এর মাধ্যমে তেমনি ইলেকট্রণিক ছবি প্রেরণ করা হয়। কার্যত: ফ্যাক্স মেশিন ছবি বা দলিলের ইলেক্ট্রণিক প্রতিচিত্র তৈরী, প্রেরণ, গ্রহণ ও মুদ্রণে সক্ষম একটি যন্ত্র।

কোন কাগজে লিখিত তথ্য অবিকৃত অবস্থায় দ্রুততম সময়ে দুর দুরান্তে পাঠানোর পদ্ধতি। এটি মূলত: একটি যন্ত্রের নাম যার মাধ্যমে ফ্যাক্স করা যায়। টেলিফোন লাইন এ ফ্যাক্স যন্ত্র বসানোর মাধ্যমে এটি ব্যবহার হয়। টেলিফোন লাইনই এর তথ্য পরিবাহক । এটি টেলেক্স এর উত্তরকালে উদ্ভাবিত একটু বিশেষ উপযোগী যন্ত্র। বিংশ মতাব্দীর শেষভাগে টেলেক্স ও টেলিগ্রাম ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তে ফ্যাক্স-এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। লিখিত বক্তব্য প্রেরক যন্ত্রে স্থাপন করলে তা ফ্যাক্সের ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয় এবং মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো হয়। গ্রাহকযন্ত্র এ বক্তব্য পূর্ববত করে প্রিন্টারের সাহায্যে অবিকলভাবে প্রকাশ করে। মাইক্রোওয়েভ ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এ সংবাদ আদান-প্রদান করা হয়।

স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ। স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার খবর আমরা নিমিষেই পেয়ে যাই। স্যাটেলাইট স্থাপনের সময় কক্ষীয় গতি ও তার জড়তার ওপর পৃথিবীর অভিকর্ষের যে প্রভাব রয়েছে, এর জন্য সামঞ্জস্য বিধান করতে না পারলে স্যাটেলাইট এ অভিকর্ষের টানে ফের ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে। এ জন্য স্যাটেলাইটকে ১৫০ মাইল উচ্চতাবিশিষ্ট কক্ষপথে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার মাইল গতিতে পরিভ্রমণ করানো হয়। মূলত গতিবেগ কত হবে, তা নির্ভর করে স্যাটেলাইটটি পৃথিবী থেকে কত উচ্চতায় রয়েছে, তার ওপর। পৃথিবী থেকে ২২ হাজার ২২৩ মাইল উপরে স্থাপিত স্যাটেলাইট ঘণ্টায় ৭০০ মাইল বেগে পৃথিবীকে আবর্তন করে। পৃথিবীর সঙ্গে স্যাটেলাইটও ২৪ ঘণ্টা ঘোরে। তবে ভূ-স্থির বা জিওস্টেশনারি উপগ্রহগুলো এক জায়গাতেই থাকে। এগুলো আবহাওয়া ও যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে। সাধারণত ৮০-১ হাজার ২০০ মাইল উচ্চতাবিশিষ্ট কক্ষপথে বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট পাঠানো হয়। কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে স্যাটেলাইটটি কত উচ্চতায় বসবে। যেমন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গবেষণা, বণ্যপ্রাণীর চরে বেড়ানো পর্যক্ষেণ, অ্যাস্ট্রোনমি এবং পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করার জন্য সায়েন্স স্যাটেলাইটকে বসানো হয় ৩০ হাজার থেকে ৬ হাজার মাইল উচ্চতায়। আবার গোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) স্যাটেলাইট স্থাপন করা হয় ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার মাইল উচ্চতায়। 

টেলেক্স

টেলেক্স এক বিশেষ ধরনের টেলিফোন ব্যবস্থা যার সাহায্যে সংবাদ বা বার্তা টাইপ হয়ে বের হয়। অর্থাৎ এ যন্ত্রে প্রেরিত শব্দ বা কথাবার্তা টেলিপ্রিন্টারের সাহায্যে টাইপ হয়ে প্রাপকের নিকট পৌছে যায়। যোগাযোগ ক্ষেত্রে এটা আধুনিক প্রযুক্তির এক ধাপ।

এসবেসটস

অগ্নি নিরোধক ও অন্তরক খনিজ পদার্থ । এটা বিদ্যুত অপরিবাহী। এসবেসটসের ব্যাবহার - 

১) এর তাপ পরিবাহীর মাত্রা নগন্য তাই এগুলো তাপ অন্তরক হিসেবে ব্যাবহার করা হয়।

২)এগুলোর তন্তু দিয়ে সল্প ওজনের বোর্ড তৈরী করা হয়।

৩) অগ্নি রোধক কাপড় তৈরীতে

টেস্টিং সল্ট

খাবারকে মুখরোচক বা মজাদার করার কাজে আজ স্বাদ লবন বা টেস্টিং সল্ট নামের একটি রাসায়নিক উপাদান বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করলে স্বায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে স্বায়ু-বিষ বলে থাকেন।

 টেস্টিং সল্ট এর রাসায়নিক নাম – সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুকোমেট

ডিজিটাল টেলিফোন

টেলিযোগাযোগ বলতে মূলত বোঝায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী কোন স্থানে সঙ্কেত তথা বার্তা পাঠানো। শুরুতে টেলিফোনই ছিল একমাত্র টেলিযোগাযোগ যন্ত্র। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ বিশ্বাব্যাপী বিস্তৃত এবং এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত যন্ত্র   যেমন টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন এবং ওয়াকিটকি সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। ফোনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগকে বলা হয় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট যোগাযোগ, কারণ এ ক্ষেত্রে একটি মাত্র ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। সিগনাল এনালগ ও ডিজিটাল দু’ধরনের হতে পারে। এনালগ সিগনালের ক্ষেত্রে তথ্যের পরিবরতনের উপর ভিত্তি করে সংকেতের শক্তি ক্রমাগত পরিবর্তন করা হয়। ডিজিটাল সিগনালের বেলায় তথ্যকে কিছু নির্দিষ্ট মানের (যেমন, ০ এবং ১) সমন্বয়ে সংকেত এ পরিণত করা হয়।

Remote Sensing

দূর অনুধাবন ( Remote Sensing) হল কোন বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে সেই বস্তু হতে তার গুনাবলি সম্পর্কিত উপাত্ত সংগ্রহ করা এবং পর্যবেক্ষন করার এক ধরনের কৌশল । এক্ষেত্রে বিভিন্ন সেন্সর বা ডিভাইস ব্যবহার করা হয় । দূর অনুধাবন হচ্ছে জিওইনফরমেটিক্স এর একটা বড় অংশ । এটা আবার ভূ-বিজ্ঞানের একটি উপশাখা বলা যায় । বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। মহাকাশ তথা উপগ্রহ প্রযুক্তি আধুনিক যুগের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি বর্তমান মহাকাশ প্রযুক্তির যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। এটা এমন এক কৌশল যার মাধ্যমে রিমোট সেন্সিং ডিভাইসের দ্বারা কোন বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ও আমাদের বাস যোগ্য পৃথিবীর দুর্গম স্থান পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়েছে। আকাশের উপরে অবস্থিত বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট ব্যবহার করে খুব সুন্দরভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষনাকারী সংস্থা নাসা সহ ভারত, জাপান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, উত্তর কোরিয়া, চীন খুব ভাল ভাবে মহাকাশ গবেষণায় সাফল্য নিয়ে আসছে।

অর্ধপরিবাহী

অর্ধপরিবাহী এক বিশেষ ধরণের পদার্থ যাদের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহীএবং অন্তরকের  মাঝামাঝি। সিলিকন, জার্মেনিয়াম,ক্যাডমিয়াম সালফাইড, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। কোন পদার্থ কতটুকু তড়িৎ পরিবহন করতে সক্ষম তা তাদের আপেক্ষিক রোধের মানের ওপর নির্ভর করে। যার আপেক্ষিক রোধ যত বেশী তার পরিবাহিতা তত কম।

সিমেন্ট ও এর উপাদান

সিমেন্ট হল সেই সকল গুড়া জাতীয় পদার্থের সাধারণ নাম, যাদেরকে পানি বা অন্য কোন তরলের সাথে মিশ্রিত করলে কাদার মত নমনীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং তা কিছু সময়ের মধ্যে জমে গিয়ে বিভিন্ন দৃঢ়তার শক্ত পদার্থ গঠন করে। সিমেন্ট বাড়ী-ঘর, রাস্তা, সেতু ইত্যাদি যাবতীয় নির্মান কাজের প্রধান উপাদান।

সিমেন্টের মূল উপাদানগুলি হল -জিপসাম, চূনাপাথর, সিলিকা (বালি), আয়রন অক্সাইড ইত্যাদি। 

লিথিয়াম

লিথিয়াম একটি রাসায়নিক মৌল যার প্রতীক Li এবং পারমানবিক সংখ্যা ৩। গ্রিক শব্দ  থেকে লিথিয়াম ধাতুর নামকরন হয়েছে।পর্যায় সারণীতে এর অবস্থান ১ নং দলে। লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা কঠিন মৌল।

টেলিভিশন

টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র যা থেকে একই সঙ্গে ছবি দেখা যায় এবং শব্দও শোনা যায়। গ্রিক শব্দ টেলি অর্থ দূরত্ব , আর লাতিন শব্দ ভিশন অর্থ দেখা। ১৮৬২ সালে তাঁরের মাধ্যমে প্রথম স্থির ছবি পাঠানো সম্ভব হয়। অতপর ১৯৪৫ সালে যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে। দ্বিতিয় বিশ্বযোধের পর টেলিভিশন উলেখযোগ্য পরিবরতান সূচিত হয়। বিংশ সতকের ৫০ এর দশকে টেলিভিশন গনমাধমে ভুমিকায় উঠে আসে ।

সাধারণত এন্টেনার মাধ্যমে গ্রাহক টিভিতে ছবি দেখা যায় কিন্তু দূরবর্তী স্থানে টেলিভিশন তরঙ্গ  স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে রিলে করা হয়। টিভি ও বেতারসংকেত প্রেরণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহগুলো সাধারণত পৃথিবীথেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরন

ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরন থাকে সিলভার ব্রোমাইড

টেলিভিশনের ছবি প্রেরন

টেলিভিশনের ছবি দেখার সাথে সাথে শব্দও শোনা যায়। টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরনের জন্য প্রেরক স্টেশনে থাকে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র। যার সাহায্যে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ রূপে শব্দ ও ছবি প্রেরন করা হয়। যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ করতে হবে তা টেলিভিশন ক্যামেরা তাড়িত সংকেতে রূপান্তরিত করে। এ সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সাথে মিশ্রিত করা হয়। পরে এন্টেনার সাহায্যে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। এন্টেনার সাহায্যে টিভি সেট ছবির জন্য প্রেরিত তাড়িত চৌম্বক বাহক তরঙ্গ গ্রহণ করে। রেকটিফায়ার বাহক তরঙ্গ থেকে ভিডিও তড়িৎ সংকেতকে পৃথক করে। বিবর্ধকের সাহায্যে এ তড়ি’ সংকেতকে বিবর্ধিত করা হয় এবং ইলেকট্রনগানে তা প্রদান করা হয়। ভিডিও সংকেত গ্রহণের পর ইলেকট্রনগান সুইয়ের ন্যায় সরু ইলেকট্রন বীম ছুঁড়তে থাকে। টিভির পর্দার প্রতিপ্রভ ফসফরে ইলেকট্রন গান থেকে যখন ইলেকট্রন বীম এসে পড়ে তখন এতে আলোক ঝলকের সৃষ্টি হয় এবং টিভির পর্দায় ফুটে উঠে ক্যামেরা থেকে পাঠানো ছবি। টেলিভিশনের পর্দার উপর প্রতি সেকেন্ড ৩০টি স্থির চিত্র তৈরি করে যা আমাদের চোখ চলমান ছবি হিসেবে দেখে।

টেলিভিশন ক্ষতিকর

টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র যা থেকে একই সঙ্গে ছবি দেখা যায় এবং শব্দও শোনা যায়। জন লগি বেয়ার্ড, ১৯২৫ সালে টিভি আবিষ্কার করেন। বাংলাদেশের প্রথম রঙিন টেলিভিশন চালু হয় ১৯৮০ সালে

যাদের দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখার অভ্যাস আছে, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৮০% বেশী। এছাড়াও যাদের দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখার অভ্যাস আছে, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ব্যাপক, টিভির গামা রশ্মি চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে, এমনকি অন্ধত্ব বয়ে আনতে পারে l বসে , শুয়ে টিভি দেখবার ফলে শরীরে ব্যথার বাস শুরু হতে পারে এবং সেই সাথে মেদ ভুড়ি বাড়াতেও সহায্য করে থাকে l রেডিয়েশনের কারণে ক্যান্সার ঝুঁকি তো আছেই

রেডিও আবিষ্কারক

প্রকৃত রেডিও আবিষ্কারক কে ছিলেন এ নিয়ে নিকোলাস টেলসা এবং গুগ্লিয়েরম মার্কনির মধ্যে বিতর্কের অবকাশ ছিল না। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মার্কনি একটি বেতার যন্ত্রের রূপরেখা তৈরি করেন এবং এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি কোনো সংকেত আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে পাঠাতে সক্ষম হন। মার্কনির এই যন্ত্রটির রূপরেখাটি ছিল নিকোলাস টেলসির রেডিওবিষয়ক ১৭ রূপরেখার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। টেলসা দাবি করেন, ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৯ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে তারবিহীন সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবশেষে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট নিকোলাই টেলসাকে সর্বপ্রথম রেডিও আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দান করেন। এরপরও এই আবিষ্কারের পেছনে যার নামটি অধরা রয়ে যায় তিনি হলেন স্প্যানিশ ইঞ্জিনিয়ার খুলীয় সের্ভেরা বাভিয়েরা। ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-মার্কিন যুদ্ধ সমাপ্তির পর বাভিয়েরা ৩ মাস মার্কনি ও তার সহযোগী জর্জ ক্যাম্পের সঙ্গে টেলিগ্রাফি বিষয়ে কাজ করেন এবং শতাব্দীর শেষে এসে মার্কনি তারবিহীন টেলিগ্রাফ আবিষ্কার করতে সমর্থ হন। বেশ কয়েক বছর পর স্পেনের নাভারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞ অধ্যাপকরা খুলীয় সের্ভেরা বাভিয়েরার রেডিওবিষয়ক গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান, যে কার্য সম্পাদন করার জন্য মার্কনিকে রেডিও আবিষ্কারকের উপাধি দেয়া হয়েছিল তার ১১ বছর আগে খুলীয় সের্ভেরা সেই কাজটি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছিলেন। 

রেডিও তরঙ্গ

বেতার তরঙ্গ বা রেডিও তরঙ্গ এক প্রকারের তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ১ মিলিমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই তরঙ্গ খালি চোখে দেখা যায় না। বেতার তরঙ্গের কম্পাঙ্ক দৃশ্যমান আলোর থেকে কম - ৩০০ গিগাহার্টজ থেকে ৩ কিলোহার্টজ। অন্যান্য সব তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণের মত বেতার তরঙ্গও আলোর গতিতে ভ্রমন করে। প্রাকৃতিক উপায়ে বেতার তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সাধারণতঃ বজ্রপাত বা মহাজাগতিক বস্ত্ত থেকে। কৃত্রিমভাবে তৈরীকৃত বেতার তরঙ্গ মোবাইল টেলিযোগাযোগ, বেতার যোগাযোগ, সম্প্রচার, রাডার ও অন্যান্য দিকনির্দেশনা (navigation) ব্যবস্থা, কৃত্রিম উপগ্রহের সাথে যোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সহ অসংখ্য কাজে ব্যবহৃত হয়। ভিন্ন কম্পাঙ্কের বেতার তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন রকম হয়। বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বেতার তরঙ্গ পৃথিবীর একটি বড় অংশকে ঘিরে নিতে পারে, ছোট বা ক্ষুদ্র তরঙ্গ আয়নমন্ডল দ্বারা প্রতিফলিত হতে পারে এবং অতি ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্যের বেতার তরঙ্গ খুবই অল্প বাঁক নিতে পারে বলে শুধু দৃষ্টি রেখা (line of sight) বরাবর ভ্রমণ করতে পারে।  

অপটিক্যাল ফাইবার

অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে খুব সরু এবং নমনীয় স্বচ্ছ কাচতন্তু। একসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ঘনত্বের কাচ দ্বারা নির্মিত এ তন্তুর বিভিন্ন স্তরে সজ্জিত কাচের ঘনত্ব বাইরের দিক থেকে ভেতরে ক্রমশ বেশি। এর ফলে প্রতিসরাঙ্ক ভেতরের দিকে বাড়তে থাকে। যখন আলোক রশ্মি কাচতন্তুর এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে তখন তন্তুর দেয়াল বরাবর এর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। যতক্ষণ পর্যন্ত আলোকরশ্মি অপরপ্রান্ত দিয়ে নির্গত না হয়, ততক্ষণ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হতে থাকে। অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে যখন কোন শব্দ পাঠানো হয় তখন সেই শব্দ প্রথমে বিদ্যুৎশক্তি এবং পরে আলোক সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং দ্রুত স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে এই আলোক সিগন্যাল প্রথমে বিদ্যুৎ এবং পরে শব্দে রূপান্তরিত হয়।

একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারকে আলোক নল বলা হয়। চিকিৎসকগণ মানবদেহের ভেতরের কোন অংশ দেখার জন্য এরূপ আলোক নল ব্যবহার করেন। বর্তমান অপটিক্যাল ফাইবার টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যাপক ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি মাত্র অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে অসংখ্য পৃথক সিগন্যাল অবিকৃত অবস্থায় প্রেরণ করা যায়।

মাইক্রোওয়েভ টেলিযোগাযোগের

অণুতরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ ( Microwave) দ্বারা সে সকল তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নির্দেশ করা হয় যাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য নূন্যতম ১ মিলিমিটার হতে সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত। এদের কম্পাঙ্ক ৩০০ মেগাহার্জ (তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১ মিটার) হতে ৩০০ গিগাহার্জ (তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। মাইক্রোওয়েভ শব্দে 'মাইক্রো-' উপসর্গটি মাইক্রোমিটার পাল্লার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ বোঝায় না এবং অণুতরঙ্গ শব্দে 'অণু-' উপসর্গটি আণবিক আকৃতির তরঙ্গ প্রকাশ করে না, বরং উভয়ক্ষেত্রেই সাধারণ অর্থে 'ক্ষুদ্র তরঙ্গ' প্রকাশ করে, কারণ 'মাইক্রোওয়েভ' দ্বারা সংজ্ঞায়িত তরঙ্গগুলোর দৈর্ঘ্য সাধারণ বেতার সম্প্রচারে ব্যবহৃত তরঙ্গের দৈর্ঘাপেক্ষা ক্ষুদ্রতর। আমাদের দেশে টেলিযোগাযোগের জন্য মাইক্রোওয়েভ ব্যবস্থা প্রচলিত।

ব্যাবহারঃ

১) সেলুলার কমিউনিকেশন

২) ডিস টিভির সিগন্যাল বহনে

৩) WiMax কমিউনিকেশনে

৪) GPS এ

৫) আবহাওয়া পর্যবেক্ষনে ব্যাবহ্যত হয়

গামা রশ্মি

গামা রশ্মি আধান নিরপেক্ষ, স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। এটি চৌম্বক এবং তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় না। দুর্বল আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন কিন্তু ভেদনক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশি। দ্রুতি আলোর সমান। চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গামা রশ্মির নানাবিধ ব্যবহার আছে। সিটি স্ক্যেন, রেডিও থেরাপি, ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা রশ্মি ব্যবহত হয়।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কার্বন -১৪

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকেতেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের বেশিরভাগ কার্বনই কার্বন-১২। একই মৌলের সব আইসোটপের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম একই , তবে আচারব্যবহারে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন কার্বন -১৪ অস্থিত ও তেজস্ক্রিয়। আইসোটোপগুলো প্রাকৃতিক হতে পারে বা কৃত্রিমভাবেও প্রস্তুত করা যায়।

আইসোটোপ। কার্বন

ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত যে বিশেষ ছেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি নির্গত হয় তা প্রথম আবিষ্কার করেন ১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল । পরবর্তীতে দেখা গেছে যে, অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়। এই আচরণ বা ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়। এই ধরনের আইসোটোপগুলোকে বলা হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। ইউরানিয়াম-২৩৬, স্ট্রনসিয়াম-৯০, আয়োডিন-১৩০, প্লোটোনিয়াম-২৩৯ উল্খেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। তেজষ্ক্রিয়তা পরমাণুর নিউক্লিয় ঘটনা, তাই একে বাইরের কোন সাধারণ ভৌত প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের বেশিরভাগ কার্বনই কার্বন-১২। একই মৌলের সব আইসোটপের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম একই , তবে আচারব্যবহারে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন কার্বন -১৪ অস্থিত ও তেজস্ক্রিয়। আইসোটোপগুলো প্রাকৃতিক হতে পারে বা কৃত্রিমভাবেও প্রস্তুত করা যায়। জটিল রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এবং কিছু কিছু রোগের চিকিৎসায়ও রেডিও আইসোটোপের ব্যবহার করা হয়

গামা (γ) রশ্নি

গামা (γ) রশ্নি কোন কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ-চৌম্বক (electro-magnetic) তরঙ্গ। তাই এদের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩০০০০০ কিলোমিটার (১৮৬০০০ মাইল)। এদের ছেদন ক্ষমতা খুবই বেশি। এরা রঞ্জন রশ্মির ন্যায় বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। একমাত্র লিড বা কংক্রিটের তৈরি প্রশস্ত দেওয়াল দিয়েই গামা রশ্নিকে আটকে রাখা সম্ভব। এরা জীবন্ত কোষের ক্ষতি সাধন করে। তেজস্ক্রিয়তার ফলে বিস্তীর্ন এলাকায় জীব ও উদ্ভিদ জগতের উপর সুদুরপ্রসারী যে ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তারজন্য প্রধানতঃ এই গামা রশ্মিই দায়ী। তাছাড়া যে কোন পদার্থ গামা রশ্মি গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক কিছু কণা বিকিরন করে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মহাজাগতিক, গামা, রঞ্জন, অতিবেগুনি, দৃশ্যমান ও অবলোহিত রশ্মি এবং মাইক্রো, রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় বিকিরনের তরঙ্গ। সবগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এদের মূল পার্থক্য হচ্ছে তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য ও স্পন্দন সংখ্যায়। দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। সমগ্র বিকিরণ শক্তির অধিকাংশই অদৃশ্য।

হীরক বা হীরা

হীরক বা হীরা সর্বাপেক্ষা মূল্যবান একটি রত্ন যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট। অন্য ভাষায় হীরক কার্বনের একটি বিশেষ রূপ মাত্র। ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বছর সময় লাগে বলে বৈজ্ঞানিকদের ধারণা। গবেষকদের মতে, সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়; পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী।অনেক গুলো উপায় আছে।তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ্য করা হল।

১) সত্যিকারের হীরেতে কখন রঙ ধনুর মত রিফলেকশন দেখা যায় না।অনেক গ্রে কালারের রিফলেকশন থাকে । ২) আসল হীরে সহজে উত্তপ্ত হবে না। ৩)  সত্যিকারের হীরা আপনি মুখে সামনে এনে হাহ করুন।যদি হীরাতে fog কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেখা যায় তবে তা নকল। ৪) আসল হীরেতে এক্স-রে নেভিগেশন দেখা যাবে না

গাইগার মূলার কাউন্টার

১৯৩০ সালে ফার্মি দেখান যে, চার্জহীন (Neutral) নিউট্রন কে আঘাত করলে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন পারমাণবিক বিক্রিয়া হয় এবং সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় প্রাপ্ত হয়ে নতুন নতুন কণিকা বের হয়। তিনি গাইগার মূলার কাউন্টার ব্যবহার করে নির্দেশ করেন পরমাণুর তেজস্ক্রিয়তা এবং নতুন নতুন রেডিও একটিভ আইসোটোপ বের করেন। তেজস্ক্রিয় পদার্থের টুকরা থেকে প্রতিনিয়ত তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে। এই বিকিরণের মাত্রা গাইগার কাউন্টার (GEIGER COUNTER) এর মাধ্যমে নির্নয় করা যায়। গাইগার-মুলার কাউন্টার বা গাইগার কাউন্টার উদ্ভাবন করা হয় মূলত: আলফা, বিটা, গামা প্রভৃতি আয়োনাইজিং রেডিয়েশন ডিটেক্ট বা সনাক্ত করবার জন্য। তেজষ্ক্রিয় বস্তুটি থেকে কি হারে তেজষ্ক্রিয় কণা নির্গত হবে তার একটি সম্ভাব্যতা থাকে কিন্তু প্রতি মুহূর্তে ঠিক কতগুলো তেজষ্ক্রিয় পরমাণুর বিভাজন হবে তার সুনির্দিষ্ট পরিমান জানার কোনো উপায় নেই। কাজেই একটি তেজষ্ক্রিয় উৎস থেকে যে বিক্ষিপ্ত কণাগুলো নির্গত হবে সেগুলোর মাত্রা হবে বিক্ষিপ্ত এবং আমরা নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি গাইগার কাউন্টার থেকে সেই তেজষ্ক্রিয়তার পাঠ নিতে থাকলেই একটি বিক্ষিপ্ত সংখ্যার তালিকা পাব।

রেডিয়াম

রেডিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক মৌল। এর পারমানবিক সংখ্যা ৮৮। পিচব্লেন্ডকে বিশ্লেষণ করার সময় মেরি কুরি, পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই নতুন মৌলটি আবিষ্কার করেন। এই মৌলিক পদার্থটি আবিষ্কারের মাধ্যমেই প্রথম পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা জন্মায়। রেডিয়ামের বিকিরণ ইউরেনিয়ামের চেয়ে বহু লক্ষ গুণ শক্তিশালী। পরবর্তিতে দেখা গেল তার আবিস্কৃত রেডিয়াম রশ্মি দুরারোগ্য ক্যান্সারের চিকিৎসায় খুব কার্যকরী। ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়ামের পর তাই রেডিয়ামই প্রথম প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় মৌল যা সহজেই পর্যায় সারণিতে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। এর বিশেষ দুটি সুবিধা হল:

  1. এর রাসায়নিক এবং বর্ণালি গবেষণায় দেখানো যায় এটি সকল বিষয়ে ক্ষারীয় মৃত্তিকা উপশ্রেণীর সদস্য।
  2. এর আপেক্ষিক পারমানবিক ভরটি যথেষ্ট নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।

লৌহ

যে পদার্থকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিভাজিত করে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থে বিশ্লিষ্ট করা যায় না, অর্থাৎ যে পদার্থ হতে সাধারণভাবে সেই পদার্থ ব্যতীত অন্য কোন নূতন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন– কার্বন, হাইড্রোজেন, লৌহ ইত্যাদি। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি। সর্বশেষ মৌলটির নাম আনআনোক্টিয়াম (ununoctium)। এর ভিতরে ৯৮টি প্রাকৃতিক পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এর ভিতর ৮০টি মৌলের স্থায়ী রূপ আছে। লৌহ ও লবণ লৌহ বা লোহা পর্যায় সারণীর একটি মৌল । লোহার ইংরেজী নাম আয়রন হলেও রসায়নের ভাষায় এটাকে (Fe) ফেরাম বলে । যার পারমাণবিক সংখ্যা- 26 ও পারমাণবিক ভর- 55.85

P-N জাংশন

ডায়োড (Diode) একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টি করার ক্ষমতার জন্য। অধিকাংশ আধুনিক ডায়োডই অর্ধপরিবাহী জাংশন তত্ত্বের উপর নির্ভর করে বানানো হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো P-N জাংশন ডায়োড। এধরণের ডায়োড অর্ধ পরিবাহীর ক্রিস্টাল যেমন সিলিকন থেকে নির্মিত হয়। ক্রিস্টালের এক অংশে কিছু অপদ্রব্য মেশানো হয় (ডোপায়ন) যাতে এমন একটা জায়গা তৈরি হয় যাতে ঋণাত্নক চার্জের বাহক বা ইলেকট্রন অধিক পরিমাণে থাকে; এঅংশকে বলা হয় এন(N)-টাইপ অর্ধপরিবাহী। ক্রিস্টালের অপর অংশে ভিন্নধর্মী অপদ্রব্যের সাহায্যে ধনাত্নক চার্জের ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলা হয়। এ অংশটিকে বলা হয় পি(P)-টাইপ অর্ধপরিবাহী। এই দুইটি অংশের (পি ও এন) সংযোগস্থলকে বলে পি-এন জাংশন যেখানে ডায়োডের মূল কাজগুলো সংগঠিত হয়ে থাকে। ডায়োডে তড়িৎ প্রবাহের দিক হচ্ছে P টাইপ অর্ধপরিবাহী থেকে N টাইপ অর্ধপরিবাহক দিকে। এর বিপরীত দিকে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে না।

রেকটিফায়ার

ডায়োড প্রধানত ব্যবহার করা হয় A.C. ভোল্টজকে D.C. তে রূপান্তর করতে। আর এই A.C. কে D.C. করবার ঘটনাকে বলা হয় একমুখিকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) এবং এ ধরনের ডায়োডকে বলা হয় রেকটিফায়ার ডায়োড।  রেকটিফায়ার একটি ডিভাইস বা সার্কিট কিন্তু রেকটিফিকেশন হলো উক্ত ডিভাইস বা সার্কিটের কাজ করার পদ্ধতি। অধিকাংশ ইলেক্ট্রনিক কাজেই D.C. Supply-এর প্রজোয়ন হয়। এই কাজে ব্যাটারী ব্যবহার করলে অনেক বেশী খরচ  পরে।তাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে A.C. সরবরাহ হতে বিভিন্ন মানের D.C. পাবার জন্যই রেকটিফায়ারের প্রয়োজন হয়। তাই রেকটিফায়ার ডায়োড ব্যবহার করা হয়। এই রেকটিফায়ার ব্যবহার করে রেগুলেটিভ D.C. Power Supply ইউনিট তৈরী করা সম্ভব।

ট্রানজিস্টর

ট্রানজিস্টর হল থ্রী টার্মিনাল ডিভাইস । যার এক প্রান্ত কালেক্টর অপর প্রান্ত ইমিটর এবং মাঝে বেস থাকে । বেস এর মাধ্যমে কালেক্টর ও ইমিটরের মধ্যে ইলেক্ট্রন প্রবাহ কন্ট্রোল করা হয় । মূলত ট্রানজিস্টর একটি সুইচিং ডিভাইস ও এমপ্লিফায়ার হিসাবে ব্যাবহার করা হয় । এটিকে প্রসেসর ও বলা যায়। আইসি এর মুল উপাদান হল ট্রানজিস্টর । ট্রানজিস্টর মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে  পি এন পি এবং এন পি এন ।  ১৯৪৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বেল ল্যাবরেটরির উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন পৃথিবীর প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হন।

ট্রানজিস্টর জার্মেনিয়াম

ট্রানজিস্টর হল থ্রী টার্মিনাল ডিভাইস । যার এক প্রান্ত কালেক্টর অপর প্রান্ত ইমিটর এবং মাঝে বেস থাকে । বেস এর মাধ্যমে কালেক্টর ও ইমিটরের মধ্যে ইলেক্ট্রন প্রবাহ কন্ট্রোল করা হয় । মূলত ট্রানজিস্টর একটি সুইচিং ডিভাইস ও এমপ্লিফায়ার হিসাবে ব্যাবহার করা হয় । এটিকে প্রসেসর ও বলা যায়। আইসি এর মুল উপাদান হল ট্রানজিস্টর । ট্রানজিস্টর মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে  পি এন পি এবং এন পি এন । ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাষ্টর হিসেবে ব্যাবহৃত হয় জার্মেনিয়াম। ১৯৪৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বেল ল্যাবরেটরির উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন পৃথিবীর প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হন।

অর্ধপরিবাহক বা সেমিকন্ডাক্টর

যে সকল পদার্থের ইলেকট্রিক্যাল বৈশিষ্ট্য পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী বলে।

সেমিকন্ডাক্টর পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে চারটি ইলেকট্রন থাকে। এদের পরিবাহীতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের পরিবাহীতার মাঝামাঝি এবং পরিবাহীতা 10-3 – 10-6 /Ohm/cm । এর ভ্যালেন্স ব্যান্ড ইলেকট্রন দিয়ে আংশিক পূর্ণ থাকে এবং কন্ডাকশন ব্যান্ড প্রায় খালি থাকে। ভ্যালেন্স ব্যান্ড এবং কন্ডাকশন ব্যান্ডের মদ্ধে এনার্জি গ্যাপ অনেক কম, প্রায় 1ev । তাপমাত্রা এবং বৈদ্যুতিক চাপ বৃদ্ধি পেলে এর পরিবাহীতা বৃদ্ধি পায়। হোল এবং এবং ইলেকট্রনের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টরে কারেন্ট প্রবাহিত হয়।

যেমনঃ সিলিকন (Si), জার্মেনিয়াম (Ge), কার্বন (C), টিন (Sn), গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs), গ্যালিয়াম ফসফাইড (GaP), গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ফসফাইড (GaAsP), লিড টেলুরাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড (CdS)।

সেমিকন্ডাক্টর দুই প্রকার

যে সকল পদার্থের ইলেকট্রিক্যাল বৈশিষ্ট্য পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী বলে।

সেমিকন্ডাক্টর পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে চারটি ইলেকট্রন থাকে। এদের পরিবাহীতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের পরিবাহীতার মাঝামাঝি এবং পরিবাহীতা 10-3 – 10-6 /Ohm/cm । এর ভ্যালেন্স ব্যান্ড ইলেকট্রন দিয়ে আংশিক পূর্ণ থাকে এবং কন্ডাকশন ব্যান্ড প্রায় খালি থাকে। ভ্যালেন্স ব্যান্ড এবং কন্ডাকশন ব্যান্ডের মদ্ধে এনার্জি গ্যাপ অনেক কম, প্রায় 1ev । তাপমাত্রা এবং বৈদ্যুতিক চাপ বৃদ্ধি পেলে এর পরিবাহীতা বৃদ্ধি পায়। হোল এবং এবং ইলেকট্রনের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টরে কারেন্ট প্রবাহিত হয়।

যেমনঃ সিলিকন (Si), জার্মেনিয়াম (Ge), কার্বন (C), টিন (Sn), গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs), গ্যালিয়াম ফসফাইড (GaP), গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ফসফাইড (GaAsP), লিড টেলুরাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড (CdS)। খাঁটি সেমিকন্ডাক্টরে উপযুক্ত পরিমাণ অন্য কোন পদার্থ ভেজাল হিসেবে মিশ্রিত করে ভেজাল সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হয়। ত্রিযোজী এবং পঞ্চযোজী মৌল গেলিয়াম, ইন্ডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, বোরোন, আর্সেনিক, অ্যান্টমনি, ফসফরাস ইত্যাদি মৌল ভেজাল হিসেবে মিশ্রিত করা হয়।

 ভেজাল সেমিকন্ডাক্টর দুই প্রকারঃ

 এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর (N-Type Semiconductor)

পি-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর (P-Type Semiconductor)

ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমার এমন একটি বৈদ্যুতিক স্থির ডিভাইস যার সাহায্যে পাওয়ার ও ফ্রিকুয়েন্সী পরিবর্তন না করে কোন প্রকার বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়া শুধু মাত্র চুম্বকীয় ভাবে সংযুক্ত দুইটি কয়েলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোল্টেজ কমিয়ে বা বাড়িয়ে এক সার্কিট হতে অন্য সার্কিটে পাওয়ার স্থানান্তরিত করা হয় তাই ট্রান্সফরমার।

ট্রান্সফরমার তিন প্রকার যথা-

১। কোর টাইপ

২। শেল টাইপ

৩। স্পাইরাল কোর টাইপ

কার্যপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে ট্রান্সফরমারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার

২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার

৩। ওয়ান টু ওয়ান ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমারের গঠনঃ ট্রান্সফর্মারে মূলত দুটি অংশ থাকেঃ

1। প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী: এই কয়েলে এ.সি. বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

2। সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ। 

ট্রান্সফরমার কয়েলে

ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র (কোনো গতিশীল যন্ত্রাংশ নাই) যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনী থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীতে একই কম্পাংকে স্থানান্তর করে। এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভোল্টেজকে বেশি ভোল্টেজে বা বেশি ভোল্টেজকে কম ভোল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়। কম থেকে বেশি ভোল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে "স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার" বা "উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার" এবং বেশি থেকে কম ভোল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে "স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার" বা "নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার" বলা হয়।

ট্রান্সফরমারের (transformer) গঠন প্রণালী : ট্রান্সফর্মারে মূলত দুটি অংশ থাকে: প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী: এই কয়েলে এ.সি. বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী: এই কয়েলে বিদ্যুৎ শক্তি স্থানান্তর হয়। একটি কাঁচা লোহার আয়তাকার মজ্জা বা কোর-এর দুই বিপরীত বাহুতে তার পেঁচিয়ে ট্রান্সফরমার তৈরি করা যায়। কোরের যে বাহুতে পরিবর্তী প্রবাহ বা বিভব (এ.সি.) প্রয়োগ করা হয় তাকে মুখ্য কুণ্ডলী বলে। আর যে কুণ্ডলীতে পরিবর্তী বিভব আবিষ্ট হয় তাকে গৌণ কুণ্ডলী বলে। স্টেপ-আপ (উচ্চধাপী) ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারি কয়েলের চেয়ে সেকেন্ডারি কয়েলের পাক সংখ্যা বেশি থাকে। আর স্টেপ-ডাউন (নিম্নধাপী) ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারি কয়েলের চেয়ে সেকেন্ডারি কয়েলের পাক সংখ্যা কম থাকে।

জেনারেটর ডিসি জেনারেটর

জেনারেটর হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র। এর মধ্যে একটি রোটর থাকে। রোটরের চারিপাশে চক্রাকারে কিছু চুম্বক থাকে। রোটরের সাথে জেনারেটরের রোটর ঘোরানো হয়। রোটর অতি দ্রুত বেগে ঘুরলে জেনারেটরের মধ্যস্থিত চম্বুক ও রোটরের মধ্যে এক চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়। এই চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়্‌।

ডিসি জেনারেটর এমন একটা মেশিন , যা যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে । যখন কোন চৌম্বক ক্ষত্রের মধ্যে একটি কয়েলকে ঘুরানো হয় বা একটি কয়েলের চারিদিকে কোন চৌম্বক ক্ষত্রকে ঘুরানো হয় তখন ফ্যা্রাডের সু্ত্র অনুসারে উক্ত কয়েলে emfউৎপন্য হয় । এই উৎপন্নemfএসি প্রকৃতির। যাকে commutator এরসাহায্যে ডিসি emf এ রূপান্তরিত করে। ব্রাশের সাহায্যে লোডে সরবরাহ দেয়া হয়।

ডায়নামো

ডায়নামো ছিল প্রথম বৈদ্যুতিক জেনারেটর যা শিল্প কারখানার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। ডায়নামো তড়িচ্চুম্বকত্বের নীতি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তিকে খানিকটা স্পন্দনশীল একমুখী তড়িৎ প্রবাহে রুপান্তরিত করে।কম্যুটেটর ব্যবহারের মাধ্যমে একমুখী প্রবাহ পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। ডানামোতে একটি স্থির কাঠামো সুষম চৌম্বক ক্ষেত্র সরবরাহ করে, আর স্থির কাঠামোর ভিতরে কিছু ঘূর্ণনশীল ওয়াইন্ডিং স্থাপিত হয় যারা চৌম্বক ক্ষেত্রকে আড়াআড়িভ বা লম্বভাবে অতিক্রম করে। ছোট আকারের যন্ত্রে কয়েকটি স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হলেও বড় আকারের যন্ত্রের জন্য সার্বক্ষণিক তড়িচ্চুম্বক সরবরাহ করতে হয় যাকে সাধারণত ক্ষেত্র কুণ্ডলী নামে উল্লেখ করা হয়।

ফ্যারাডের নীতি ব্যবহার করে প্রথম ডায়নামো নির্মিত হয় ১৮৩২ সালে। ফরাসি যন্ত্রপাতি নির্মাতা Hippolyta Pixii এটি তৈরি করেছিলেন। একটি ক্র্যাংকের মাধ্যমে স্থায়ী চুম্বককে ঘুরিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ঘূর্ণনশীল চুম্বকটিকে এমনভাবে স্থাপিত করা হয় যাতে এর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু তার দিয়ে পেঁচানো একটি লৌহদণ্ডকে অতিক্রম করে যেতে পারে। Pixii দেখতে পান, প্রতিবার যখন একেকটি মেরু তারের কুণ্ডলীকে অতিক্রম করে তার সাথে সাথেই তারের মধ্যে একটি স্পন্দনশীল তড়িৎ প্রবাহের উৎপত্তি ঘটে। তার উপর দুই মেরুর অতিক্রমের সময় উৎপন্ন প্রবাহদ্বয়ের দিক ছিল বিপরীত। একটি কম্যুটেটর ব্যভহারের মাধ্যমে তিনি এই পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহকে একমুখী তড়িৎ প্রবাহেপরিণত করতে সমর্থ হন।

বৈদ্যুতিক জেনারেটর

বৈদ্যুতিক জেনারেটর এক ধরণের বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তি বা ক্ষমতাকে বৈদ্যুতিক শক্তি বা ক্ষমতায় রুপান্তরিত করে। অবশ্য ডায়নামো বলতে সাধারণ্যে কেবল জেনারেটরকেই বোঝানো হয়। প্রথম নির্মিত জেনারেটরকে ডায়নামো নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এই বৈদ্যুতিক যন্ত্র গতিশীল তড়িচ্চালক শক্তি উৎপাদনের নীতি ব্যবহার করে এই রুপান্তর ঘটায়। ফ্যারাডের তড়িচ্চুম্বক আবেশের নীতি অনুসারে একটি পরিবাহী যখন চৌম্বক ফ্লাক্সের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে তখন তার মধ্যে একটি গতিশীল তড়িচ্চুম্বক আবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবাহী পদার্থ বা তারটিকে আবদ্ধ বর্তনীতে অন্তর্ভুক্ত করলে তার মধ্যে দিয়ে এই ফ্লাক্সের কারণে একটি তড়িৎ প্রবাহ পাওয়া যায়। এভাবেই বিদ্যুতের উৎপত্তি ঘটে। অর্থাৎ তড়িৎ শক্তি উৎপাদন করতে গেলে তিনটি জিনিস আবশ্যক: একটি চৌম্বক ক্ষেত্র, একটি তড়িৎ পরিবাহক এবং গতি। এই তিনের সম্মিলন ঘটিয়েই জেনারেটর নির্মিত হয়। তবে ব্যবহারযোগ্যতা এবং উপযোগিতার কথা চিন্তা করে এর মধ্যে নানা ধরণের পরিবর্তন, সংযোজন এবং নকশা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

বৈদ্যুতিক মোটর

বৈদ্যুতিক মোটর হল এমন একটি কৌশল এবং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। প্রকারভেদ অনু্যায়ী এর গঠন ও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর তড়িত প্রকৌশলের আলোচ্য একটি বিষয়। বৈদ্যুতিক মোটর মূলত ফ্যারাডের আবেশ সূত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়ে থাকে। মোটরে প্রবাহিত তড়িৎ এর ধরন অনুযায়ী মোটর সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ এসি মোটর এবং ডিসি মোটর। 

এক ভোল্ট

পরিবাহীর পরমানুগুলোর ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন তাকে বিদ্যুৎ চালক বল বা ভোল্টেজ বলে । ভোল্টেজ এর প্রতীক হলো V (ভি) এবং এর একক হলো Volt(ভোল্ট) ।

যদি কোন পরিবাহীর এক স্থান হতে অন্য স্থানে এক কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জ স্থানান্তর করতে এক জুল কাজ সম্পন্ন হয়, তবে ঐ দুই স্থানের বিভব পার্থক্যকে এক ভোল্ট বলে। ভোল্টেজ  পরিমাপের  যন্ত্রের  নাম  Volt Meter  (ভোল্ট মিটার)। ভোল্ট মিটার সাধারণত যে দুই পয়েন্টের বিভব পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে তার সাথে Parallel বা সমান্তরাল ভাবে কানেক্ট করতে হয় ।

ভোল্টেজ(V) = কারেন্ট(I) × রেজিস্ট্যান্স(R) 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Karnafuli Hydro Power Station)  বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র জলীয় শক্তি দ্বারা পরিচালিত বিদ্যুৎ স্থাপনা। বাংলাদেশের বৃহত্তম জলসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ‘কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প’-এর অংশ হিসেবে এ জলবিদ্যুৎ স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৬২ সালে চালু করার পর জলবিদ্যুৎ স্থাপনা জাতীয় গ্রিডে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম ছিল। পরবর্তী সময়ে দুটি পর্বে স্থাপনাটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে মোট ২৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। এ বহুমুখী প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাড়াও বাঁধের ভাটি অঞ্চলের সেচ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা স্থাপনা হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখে আসছে।

দস্তা বা জিংক

দস্তা বা জিংক নীলাভ-সাদা ধাতু। লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার পরে দস্তাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু।

বিভিন্ন মূল্যবান ধতুর ক্ষয় রোধে দস্তা ব্যবহার হয়। পিতল, নিকেল সিলভার, ইত্যাদি সংকর ধাতুতে দস্তা ব্যবহৃত হয়। অ্যাল্কালাইন ব্যাটারিতে অ্যানোড হিসেবে দস্তা ব্যবহৃত হয়। জিংক অক্সাইড সাদা রং হিসেবে এবং রবার শিল্পে সক্রিয়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জিঙ্ক ক্লোরাইড দুর্গন্ধনাশক ও কাঠ সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্যলামাইন লোশনে জিংক হাইড্রক্সিকার্বনেট ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন ট্যাবলেটেও জারণরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য দস্তা ব্যবহৃত হয়।

এত অত্যন্ত ক্ষয়িত ধাতুর মধ্যে অন্যতম ।

পারদ

পারদ একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Hg পারমানবিক সংখ্যা ৮০। এটি একটি ভারী d-ব্লক মৌল এবং একমাত্র ধাতু যা আদর্শ তাপমাত্রা এবং চাপে তরল অবস্থায় থাকে।এদের পরমাণুসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষন বল থাকে তাই এরা ধাতু হলেও কক্ষ তাপমাথাতেই তরল অবস্থায় থাকে । তাই একে তরল ধাতু ও বলে ।

সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে অপচয়

সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং তার ফলে এটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলো উৎপন্ন হয়। কিন্তু যেহেতু এটি দৃশ্যমান আলোর বাইরেও আরো বিভিন্ন সীমায় তাপীয় বিকিরণ নির্গত করে ফলে  বিপুল পরিমাণ শক্তির অপচয় ঘটে। হিসেব করে দেখা যায় একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতি (incandescent light bulb) তার শক্তির কেবল মাত্র ৪% (চার শতাংশ) দৃশ্যমান আলো হিসেবে বিকিরণ করে, অর্থাৎ ৯৬ ভাগ বৈদ্যুতিক শক্তি পুরোপুরি অপচয় হয়ে যায়। এই অপচয় কমানো যেতো যদি আমরা একটি বস্তু থেকে কেবল সুনির্দিষ্ট পাল্লায় অর্থাৎ দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করতে পারতাম।

সার্কিট ব্রেকার

সার্কিট ব্রেকার হলো একটি বৈদ্যুতিক সুইচ যা অটোমেটিক ভাবে চলে ।ওভার লোড বা সর্ট সাকিট এর কারনে ইলেকট্রিকাল সার্কিট নষ্ট হয়ে যায় ।এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার ব্যাবহার করা হয় । এটার বেসিক ফাংশন হলো এটা ফল্টকে সনাক্ত করতে পারবে এবং বতমান কারেন্ট এর প্রবাহকে ছিন্ন করে দিবে । বর্তনীতে নিরাপত্তা ফিউস, সার্কিট ব্রেকার ইতাদি না থাকলে ঐ বর্তনীতে অধিক উত্তাপের ফলে আগুন ধরে যেতে পারে। অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধের উদ্দেশ্যে  আবাসিক বাড়ির বর্তনীতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়। 

বেশি ভোল্টেজে বিদ্যুৎ অপচয় কম হয়

বৈদ্যুতিক খুটির উপরে ট্রান্সফরমার থাকে যা দিয়ে শুধুমাত্র ভোল্টেজ কমানো হয়। এগুলাকে বলা হয় পোল মাউন্টেড সিঙ্গেল ফেইজ স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার । চিত্র ১ এবং চিত্র ২ এ এসব ট্রান্সফরমার দেখানো হয়েছে । শহরে কিংবা ফেক্টরির আশে পাশে বৈদ্যুতিক খুটির উপর একটু বড় বক্সের মত যে ট্রান্সফরমার গুলো দেখা যায় ওগুলাকে বলা হয় থ্রি ফেইজ ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার, এগুলার কাজ ও শুধুমাত্র ভোল্টেজকে কমানো।

একমাত্র ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজকে বাড়ানোর কাজটা করা হয় পাওয়ার প্ল্যান্টে যেখানে ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ বাড়িয়ে সেই ভোল্টেজকে দুর দুরান্তে পাঠানো হয় ট্রান্সমিশনের জন্য। কারণ বেশি ভোল্টেজে বিদ্যুৎ অপচয় কম হয়।  

রোধ

রোধ হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিবাহীর ধর্ম। বিদ্যুৎ পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় বা বিঘ্নিত হয়, তাকে রোধ বলে। রোধের এসআই একক ও'ম, একে গ্রীক চিহ্ন ওমেগা (Ω) দ্বারা সূচিত করা হয়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রে প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করার জন্য রোধ ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট উষ্ণতায় যে কোন পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক এবং এর প্রস্থচ্ছেদের ব্যস্তানুপাতিক। অতিপরিবাহী (সুপার কন্ডাক্টর) ছাড়া সব পরিবাহীরই কিছু না কিছু রোধ আছে, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য ও এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের অনুপাত দ্বারা ঐ তাপমাত্রায় ঐ পরিবাহীর রোধ পরিমাপ করা যায়। রোধ পরিমাপের জন্য নিম্নোক্ত সূত্র ব্যবহার করা হয় যা মূলতঃ ও'মের সূত্রের ভিন্নরূপঃ r=v/I

কোন পরিবাহকের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য ১ ভোল্ট হলে যদি তার মধ্য দিয়ে ১ অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হয় তবে ঐ পরিবাহীর রোধকে ১ ও'ম বলে।

লাইনাস পলিং

১৯৩১, Caltech এর নবীন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর লাইনাস পলিং  Journal Of American Chemical Society তে প্রকাশ করলেন এক অনবদ্য পেপার “The Nature Of The Chemical Bonds”, রিভিউয়ের জন্য যে পেপার জার্নাল প্রকাশক আইনস্টাইনকে দিলে আইনস্টাইন বলেছিলেন, “This paper is too complicated for me!” । সেই পেপার প্রকাশ হওয়ার আগে পর্যন্ত বিজ্ঞানিরা জানতেন, কেবল দুই প্রকার রাসায়নিক বন্ধন আছে, আয়নিক আর সমযোজী। আয়নিক বন্ধনে ইলেকট্রনের আদান প্রদান হয় আর সমযোজী বন্ধনে ইলেকট্রন শেয়ার ঘটে। পলিং দেখালেন, বিষয়টা অত সরাসরি হয় না, আসলে বেশিরভাগ যৌগের রাসায়নিক বন্ধন বিশুদ্ধ আয়নিক আর বিশুদ্ধ সমযোজী ধর্মের মাঝামাঝি। অর্থাৎ এর মাধ্যমেই পলিং আবিস্কার করে বসলেন পরমাণুর এক বিশেষ ধর্মঃ তড়িৎ ঋণাত্মকতা। এই তত্ত্বের মাধ্যমে বিজ্ঞানি মহলে সাড়া পড়ে গেল। ত্রিশ বছরের নবীন সায়েন্টিস্ট পলিং কেমিস্ট্রির সাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সংযোগ ঘটালেন। সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মেধাবী তরুন বিজ্ঞানির খেতাব পেলেন সম্মানজনক ল্যাঙ্গমুর পদক ও সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে National Academy Of Science এর সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে। এমন কি এই গবেষণাই ১৯৫৪ সালে তাঁর হাতে এনে দিল তাঁর প্রথম নোবেল প্রাইজ।

এবং বিশ্ব শানিতে অবদান রাখায় ১৯৬২ সালে লাইনাস পলিং পেলেন তাঁর দ্বিতীয় নোবেল- নোবেল শান্তি পদক! শুধু নোবেল কেন পলিং পেয়েছেন National Academy Of Science পদক, Medal for Merit, ক্যাম্ব্রিজ , লন্ডন ও প্যারিস ইউনিভার্সিটির অনারারি ডিগ্রি, ১৯৬১ তে টাইমস ম্যাগাজিনের Man Of The year. শুধু তাই নয় পলিংকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের সেরা বিশ জন বিজ্ঞানির এক জন মনে করা হয়, এই তালিকায় বিংশ শতাব্দির এক জনই আছেন শুধু পলিংএর সাথে, তিনি স্বয়ং আলবার্ট আইনস্টাইন!

 

রোধ ফ্যানের গতি

বৈদ্যুতিক যন্ত্রে প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করার জন্য রোধ ব্যবহার করা হয়। ফ্যানের সুইচে যে রেগুলেটর ব্যবহৃত হয় তাতে থাকে পরিবর্তনশীল রোধ l আমরা যখন রেগুলেটর ঘুরিয়ে ফ্যানের গতি কমানোর চেষ্টা করি তখন আসলে রেগুলেটর বর্তনীতে রোধ বাড়িয়ে দেয় ফলে এর ভিতর দিয়ে বিদ্যুত প্রবাহ কমে যায় যে কারণে ফ্যান আস্তে ঘুরে l রোধের সাথে ভোল্টেজ আর প্রবাহের সম্পর্কটা এরকম--- V = IR ;
যেখানে V = বিভব; I = প্রবাহ; R = রোধ

যখনই আপনি রোধ বাড়াবেন তখনই বিভবকে স্থির রাখতে প্রবাহ কমে যায় এর ফলে ফ্যানের গতি কমে যায় l আবার যখন ফ্যানের গতি বেশি থাকা সত্বেও নিম্ন ভোল্টেজ এর কারনেও ফ্যান ধীরে চলে এর কারণ ও কিন্তু একটাই l সূত্র থেকে দেখা যায় বিভব প্রবাহের সমানুপতিক ; যেহেতু এক্ষেত্রে আপনি রেগুলেটর ঘুরাচ্ছেন না তাই রোধ অপরিবর্তিত থাকছে কিন্তু বিভব কমে যাওয়ার দরুন প্রবাহ ও সমানুপাতে কমে যাচ্ছে তাই ফ্যানের গতিও কমে যায় l

রেডন

রেডন পর্যায় সারণীর ৮৬তম মৌল। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভারী। এটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং প্রকৃতিতে এর প্রাচুর্য খুবই কম। আমরা রেডন বলতে যা বুঝি তা প্রকৃতপক্ষে ৮৬তম রাসায়নিক মৌলের তিনটি সমস্থানিক মিশ্রণের নাম। এই মিশ্রণগুলোর একটির পর আরেকটি আবিষ্কৃত হয় এবং প্রত্যেককেই প্রসর্গ বলা হয়।

রেডিয়ামের প্রসর্গ হিসেবে রেডন নামটির উদ্ভব হয়। এই নামটি প্রস্তাব করেছিলেন বিজ্ঞানী রামজে। লাতিন ভাষায় এর অর্থ প্রদীপ্ত।

১৮৯৯ সালের শুরুর দিকে রসায়নবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড তার সহগবেষক আর ওয়েন্‌স-এর সাথে মিলে থোরিয়াম যৌগের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। একদিন ওয়েন্‌স গবেনাগারে প্রবেশের সময়ে দরজাটি বেশ জোরে খোলেন। দরজার কাছাকাছিই থোরিয়াম যৌগের বিক্রিয়া সংক্রান্ত গবেষণাটি চলছিল। গবেষকগণ লক্ষ্য করলেন, দরজা খোলার কারণে কক্ষে যে বাতাস প্রবেশ করেছে তার প্রভাবে থোরিয়াম প্রস্তুতকরণের সময়কার বিকিরণের তীব্রকা কমে গেছে। প্রথমে এই ঘটনাটিকে তারা খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারেন হালকা বাতাস প্রবাহিত হলেও থোরিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা অনেক কমে যায়। এ থেকে রাদারফোর্ড ও ওয়েন্‌স মন্ব্য করেন থোরিয়াম থেকে অবিরাম ধারায় তেজস্ক্রিয় গ্যাস নির্গত হয়। তারা একে থোরিয়ামের প্রসর্গ বলেন এবং নাম দেন থোরন। লাতিন ভাষায় থোরন শব্দের অর্থ প্রবাহিত হওয়া।

এরপর ধারণা করা হয়েছিল, অন্যান্য সব তেজস্ক্রিয় পদার্থই প্রসর্গ নির্গত করতে পারে। ১৯০০ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ই ডর্নরেডিয়মের প্রসর্গটি আবিষ্কার করেন এবং এর নাম দেয়া হয় রেডন।

 

কিলোওয়াট-ঘণ্টাকেই এক ইউনিট

ক্ষমতা হলো কাজ ও সময়ের অনুপাত। তাহলে কাজ হলো ক্ষমতা আর সময়ের গুণফল। এক ওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র এক সেকেন্ড কাজ করলে কাজ হবে ওয়াট-সেকেন্ড। এক মিনিট কাজ করলে হবে ওয়াট-মিনিট। এভাবে ওয়াট-ঘণ্টা। একে এক হাজার দিয়ে ভাগ করা হলে হবে কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এক কিলোওয়াট-ঘণ্টাকেই এক ইউনিট বলা হয়।

ওয়াট জুল

ইলেকট্রিক হিটারে ইস্ত্রিতে

ইলেকট্রিক হিটারে একটি পোর্সেলিন বা ফায়ার ক্লের চাকতির কুণ্ডলীকৃত গর্তের মধ্যে একটি নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী সাজিয়ে রাখা হয় । নাইক্রোম হল নিকেল, লোহা এবং ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু । নাইক্রোমের রোধাঙ্ক খুব বেশি এবং গলনাঙ্ক খুব উচ্চ ।  কুণ্ডলীর দুই প্রান্ত প্লাগের সাহায্যে বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইনে যুক্ত করলে কুণ্ডলীর ভিতর দিয়ে তড়িত্প্রবাহ চলে এবং কুণ্ডলীটি লোহিত তপ্ত হয়ে ওঠে । তখন হিটারের ওপর বস্তু গরম হয় । বিভিন্ন ক্ষমতার হিটার পাওয়া যায় । 1000 ওয়াটের হিটারে যে পরিমাণ তাপ উত্পন্ন হয় 1500 ওয়াটের হিটারে তার চেয়ে বেশি তাপ উত্পন্ন হয় ।

ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে একটি নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী একটি অভ্রের ত্রিভুজাকৃতি কাঠামোর ওপর জড়ানো থাকে । অন্তরিত করার জন্য এই ত্রিভুজাকৃতি কাঠামোর ওপর ও নীচ দুটি অভ্রের চাদর দিয়ে ঢাকা থাকে । সমগ্র ব্যবস্থাটি একটি লোহার আবরণের মধ্যে রাখা হয় । অভ্র বিদ্যুতের কুপরিবাহী, কিন্তু তাপের পরিবাহী । কাজেই, নাইক্রোম তারের কুণ্ডলীকে দুটি অভ্রের পাতের মধ্যে রাখলে ইস্ত্রিকে বৈদ্যুতিক লাইনের সঙ্গে যুক্ত করলে শক পাওয়ার ভয় থাকে না । তড়িত্প্রবাহ হলে কুণ্ডলীটি উত্তপ্ত হয়ে লোহার আবরণটিকে উত্তপ্ত করে । তখন জামা কাপড় ইস্ত্রি করা যায় ।

ফিউজ

বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বর্তনীতে ফিউজ ব্যবহার করা হয়। ফিউজে ব্যবহার করা হয় টিন ও সীসার সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার যার গলনাঙ্ক কম থাকে। ফলে এর মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে ইলেকট্রিশিয়ানের ব্যবহৃত ফিউজ তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

আলকেমি

বিজ্ঞানের ইতিহাসে আলকেমি দ্বারা একটি প্রাচীনকালে প্রকৃতির এক ধরনের অনুসন্ধান এবং জ্ঞানের দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক একটি শাখাকে বোঝায় যাতে জ্ঞানের সকল শাখার সকল উপাদানের সম্মিলনের মাধ্যমে একটিমাত্র উচ্চতর মহান শক্তির অস্তিত্বের ধারণা করা হতো। অর্থাৎ রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতিষ শাস্ত্র,সেমিওটিক্‌স, মরমিবাদ, আধ্যাত্মবাদ এবং শিল্পকলা এই সকল শাখার সকল উপাদান যে একক উচ্চতর শক্তির অংশ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে তার বিজ্ঞানই হল আলকেমি। মেসোপটেমিয়া, প্রাচীন মিশর, পারস্য, ভারত, চীন, প্রাচীন গ্রীস, রোম, মুসলিম সভ্যতা এবং সবশেষে ইউরোপে এই আলকেমির চর্চা হয়েছে। এ হিসেবে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ বছর ধরে আলকেমির চর্চা অব্যাহত ছিল। এর জন্য গঠিত হয়েছিল জটিল সব স্কুল ও দার্শনিক ধারা।

তেজস্ক্রিয়তা

তেজস্ক্রিয়তা হলো কোন কোন ভারী মৌলিক পদার্থের একটি গুণ যেগুলোর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বিকরীত হয়।

ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষনা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি দেখতে পান যে, ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরন নির্গত হয়। তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকরেল রশ্মি। তিনি লক্ষ করেন যে মৌল থেকে এই রশ্মি নির্গত হয়, তা একটি সম্পূর্ন নতুন মৌলে রুপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত এই রশ্মি নির্গমন অব্যাহত থাকে। পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরি ব্যাপক গবেষনা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পোলোনিয়াম, থোরিয়াম,আ্যক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত। যে সব মৌল হতে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় মৌল বলে। তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের এই ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা(Radioactivity) বলে।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (৩রা মার্চ, ১৮৪৭ - ২রা আগস্ট, ১৯২২) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। তাকে বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ নামে ডাকা হতো। তার বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয়ের কাজে জড়িত ছিলেন এবং তার মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা। এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণা নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়।

পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিতন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা জ্ঞান করতেন। এজন্যেই নিজের গবেষণা ও অধ্যয়ন কক্ষে কোন টেলিফোন রাখতেন না। বেল মারা যাওয়ার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে যে মহান ব্যক্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিবাহিতা

কয়েকটি মৌলের তড়িৎ পরিবাহিতার ক্রম নিন্মে দেয়া হল-

১.রূপা - সাধারণ  ধাতুর তুলনায় রূপার তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা অনেক বেশি ।

২.স্বর্ণ - তড়িৎ পরিবাহিতার ক্ষেত্রে রুপার পরই স্বর্ণের স্থান ।

৩.তামা - বেশ ভাল তড়িৎ পরিবাহী ও সস্তা বলে সধারন পরিবাহী তারে তামা ব্যবহৃত হ্য়।

৪.লোহা- অন্যান্য ধাতুর ন্যায় এটি ও বিদ্যুতের পরিবাহী তবে সোনা , রুপা বা তামার ন্যায় সুপরিবাহী নয়।

৫. কার্বন -একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম ।

 

সোডিয়াম থায়োসালফেট

সোডিয়াম থায়োসালফেটের সংকেত Na2S2O3 । এটি পানিতে অতি মাত্রায় দ্রবণীয় ।একে সোডিয়াম হাইপোসালফেট বা হাইপো নামে ডাকা হয় ।

ব্যবহার-

১. স্টুডিওতে ব্যবহার করা হয় ।

২. চিকিৎসায় ব্যবহার হয় ।

৩. রাসায়নিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

লবণ ও কয়েকটি উদাহরণ

লবণ -

রসায়নে এসিড ও ক্ষার এর বিক্রিয়ায় যা উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে । কয়েকটি লবণের উদাহরণ -

 

সোডিয়াম ক্লোরাইড ; সংকেত -  NaCl

পটাসিয়াম নাইট্রেট ;সংকেত - KNO3

অ্যামোনিয়াম আয়রন(।।) সালফেট ; সংকেত -  (NH4)2Fe(SO4)2·6H2O

ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ; সংকেত -  MgSO4·7H2O

সোডিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Na2SO4

অ্যালুমিনিয়াম সালফেট ; সংকেত -  Al2(SO4)3

পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান

পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান
আকৃতি
পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কমলালেবুর মত উপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি) স্ফীত। এ'ধরণের স্ফীতি তৈরি হয়েছে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে এর ঘূর্ণনের কারণে। একই কারণে বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিমি. বেশি।

রাসায়নিক গঠন
পৃথিবীর ভর প্রায় ৫.৯৮×১০২৪ কিগ্রাঃ। এর প্রায় ৩২.১% লৌহ, ৩০.১% অক্সিজেন, ১৫.১% সিলিকন, ১৩.৯% ম্যাগনেসিয়াম, ২.৯% সালফার, ১.৮% নিকেল, ১.৪% অ্যালুমিনিয়াম এবং বাকী ১.২% অন্যান্য পদার্থ দ্বারা গঠিত। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের গঠন কিছুটা ভিন্ন; এর প্রায় ৮৮.৮% ভাগই লৌহ। এছাড়া আছে নিকেল (৫.৮%) ও সালফার (৪.৫%)।

 

সিলিকন

সিলিকন একটি মৌল, এর প্রতীক Si ও পারমানবিক সংখ্যা 14। ভর হিসেবে এটি বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল তবে এটি প্রকৃতিতে খুব কমই বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি মূলত ধুলি, বালি গ্রহাণুপুঞ্জ এবং গ্রহসমুহে সিলিকনের অক্সাইড (সিলিকা) বা সিলিকেট আকারে থাকে। পৃথিবীর ভূত্বকের প্রায় ৯০% সিলিকেট যৌগে গঠিত এবং এটি পৃথিবীর ভূত্বকে অক্সিজেনের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল (ভর হিসেবে প্রায় ২৮%)।

সিলিকন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ইলেকট্রনিক্সে । বিভিন্ন চিপ , সৌরকোষ ইত্যাদিতে সিলিকনের বহুল ব্যবহার আছে ।

সিলিনিয়াম

সিলিনিয়ামএর রাসায়নিক সংকেত Se এবং আণবিক ভর ৩৪ । 

ব্যবহার -

১. ফটোকপি

২. ফটোসেল

৩. আলোক মিটার

৪. সোলার সেল

এসিড বেসিমার

 স্টিল তৈরির ক্ষেত্রে এসিড বেসিমার প্রসেস, বেসিক বেসিমার প্রসেস, লিনজ্‌-ডোনাউইটস্‌ প্রসেস, বেসিক ওপেন হার্থ প্রসেস, এসিড ওপেন হার্থ প্রসেস, স্পেশাল ওপেন হার্থ প্রসেস, ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

মাটির অম্লতা

কৃষি কাজে মাটির Ph একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । তাই মাটির  Ph একটি নির্দিষ্ট মানে রাখতে হয়। চুন একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ।তাই মাটির অম্লতা হ্রাস এর জন্য অর্থাৎ Ph এর মান বৃদ্ধির জন্য কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয়।কেননা,এক্ষেত্রে ক্ষার্ধর্মী চুন অম্লীয় মাটির এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এসিডকে প্রশমিত করে এবং লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।ফলে মাটির অম্লতা হ্রাস পায় এবং জমি ফসল চাষের উপযোগী হয়।অন্যদিকে মাটির অম্লতা বৃ্ধির জন্য অম্লধর্মী সার(যেমন-অ্যামোনিয়াম সালফেট,অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়। 

চার্লস ব্যাবেজ

প্রযুক্তির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি নাম চার্লস ব্যাবেজ। তিনি একাধারে যন্ত্র প্রকৌশলী, গণিতবিদ, আবিষ্কারক ও দার্শনিক। তাকে ‘কম্পিউটারের জনক’ ডাকা হয়। ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালাইটিকাল ইঞ্জিন নামের দুটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করেন চার্লস। এনালাইটিকাল ইঞ্জিন যান্ত্রিকভাবে গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করতে পারে। এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আজকের কম্পিউটারের ডিজাইনে অনুসৃত হয়। বিখ্যাত এ আবিষ্কারক ১৮৭১ সালের এই দিনে (১৮ অক্টোবর) লন্ডনে মারা যান।

চার্লস ব্যাবেজ ১৭৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পড়াশোনা শুরু গৃহশিক্ষকের কাছে। পরে কিং এডওর্য়াড সিক্স গ্রামার স্কুল, হল্মউড একাডেমি, ট্রিনিটি কলেজ ও ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করেন।

১৮২২ সালে চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স মেশিন নামে তৈরি করেন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার। পরবর্তীতে এনালাইটিক্যাল নামে আরও একটি গণনাযন্ত্র আবিষ্কার করেন। ১৮২৪ সালে ‘রয়েল এস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি অব গোল্ড’ লাভ করেন গণনাযন্ত্রের জন্য। বিখ্যাত কবি লর্ড বায়রনের মেয়ে অগাস্টা আডা বায়রন ডিফারেন্স মেশিনের জন্য প্রথম প্রোগ্রাম লেখেন। ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে যান অগাস্টা। সে সময় থেকেই তিনি মাথাব্যথা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধতায় ভুগতেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তার গাণিতিক প্রভিভার স্ফুরণ ঘটে। ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে পরিচয় অগাস্টার। চার্লস ব্যাবেজের আবিষ্কারকে আরও গতিময় করে তোলেন তিনি। প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে অগাস্টা আডা বায়রনের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে।

চার্লসের লেখা বই আজও পড়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘এ কম্পারেটিভ ভিউ অব দ্য ভেরিয়াস ইন্সটিটিউশনস ফর দ্য এসুরেন্স অব লাইভস’ (১৮২৬), ‘অন দ্য ইকোনমি অব মেশিনারি এ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স’ (১৮৩৫), ‘প্যাসেজস ফ্রম দ্য লাইফ অব আ ফিলোসফার’ (১৮৬৪) ও ‘সায়েন্স এ্যান্ড রিফর্ম : সিলেক্টেড ওয়ার্কস অব চার্লস ব্যাবেজ’ (১৯৮৯)।

তার অনুপ্রেরণা ছিলেন রবার্ট উডহাউস, জ্যাসপার্স ম্যাঙ্গে ও জন হার্সচেল। পরের প্রজন্মের কার্ল মার্কস, জন স্টুয়ার্ট মিল ও আডা লাভলাকের অনুপ্রেরণা ছিলেন চার্লস। বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে তাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভিডিও গেম ‘সিভিলাইজেশন রেভ্যলুশন’ (২০০৮), স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ব্যাবেজ’ (২০০৮) ও কমিক স্ট্রিপ ‘হার্ক’।

চার্লস ব্যাবেজ ১৮১৪ সালে জরজিনা হোয়াইটমোরকে বিয়ে করেন। তারা ছিলেন ৮ সন্তানের জনক-জননী।

 

সিভি রমন

উপমহাদেশের প্রথম নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত সিভি  রমন  আবিষ্কৃত ‘রামন ইফেক্ট (Raman Effect)’ বা ‘রামন-প্রভাব’ পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক আশ্চর্য মাইলফলক হয়ে আছে ১৯২৮ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে – যেদিন এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। রামন-প্রভাব আবিষ্কারের জন্য সি ভি রামন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ১৯৩০ সালে। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, সমগ্র এশিয়ার মধ্যে তিনিই হলেন বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী। তাঁর নোবেল-বিজয়ী গবেষণার সবটুকুই সম্পন্ন হয়েছিল কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশান ফর দি কাল্টিভেশান অব সায়েন্স’ এর ছোট্ট একটা গবেষণাগারে। এই গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি সংযোজন, সংরক্ষণ ও পরীক্ষণের কাজে তাঁকে যিনি সারাক্ষণ সহায়তা করেছিলেন তাঁর নাম আশুতোষ দে – আশুবাবু নামেই যিনি পরিচিত ছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই আশুবাবু জীবনে কোনদিন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পান নি। অবশ্য গবেষণার ক্ষেত্রে কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল না সি ভি রামনেরও। তাই তাঁর কোন গবেষণা-শিক্ষকও ছিলেন না। গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেকেই নিজের পথ খুঁজে নিতে হয়েছিল রামনকে। আর তাঁর এই পথ-খোঁজা শুরু হয়েছিল একেবারে ছোটবেলা থেকেই।

রামন ইফেক্ট আলোক তরঙ্গের অজানা পথ খুলে দিয়েছে। শক্তির স্তর এবং অণু ও পরমাণুর গঠন বুঝতে অনেক সহায়তা করেছে রামন-ইফেক্ট। পদার্থবিজ্ঞানের অনেক শাখায় রামন ইফেক্ট কাজে লাগছে। জীববিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও অনেক শাখায় রামন-ইফেক্ট কাজে লাগিয়ে অনেক নতুন নতুন গবেষণা হচ্ছে।নোবেল পুরষ্কার পাবার পর খ্যাতি ও সাফল্যের শীর্ষে উঠে গেলেন সি ভি রামন। 

রেডন

রেডন (Radon, Ra) পর্যায় সারণীর ৮৬তম মৌল। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভারী। এটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং প্রকৃতিতে এর প্রাচুর্য খুবই কম। আমরা রেডন বলতে যা বুঝি তা প্রকৃতপক্ষে ৮৬তম রাসায়নিক মৌলের তিনটি সমস্থানিক মিশ্রণের নাম। এই মিশ্রণগুলোর একটির পর আরেকটি আবিষ্কৃত হয় এবং প্রত্যেককেই প্রসর্গ বলা হয়।

রেডিয়ামের প্রসর্গ হিসেবে রেডন নামটির উদ্ভব হয়। এই নামটি প্রস্তাব করেছিলেন বিজ্ঞানী রামজে। লাতিন ভাষায় এর অর্থ প্রদীপ্ত।

প্রাকৃতিক প্রাচুর্য কম হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন রেডন মৌলটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডব্লিউ রামজে এবং এম ট্রাভার্স এটি ছাড়া অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। রেডন আবিষ্কারের জন্য যথারীতি তেজস্ক্রিয়ামিতি পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়েছিল। রেডন আবিষ্কার করতে গিয়ে যে প্রসর্গগুলো আবিষ্কৃত হয় সেগুলো ছিল প্রথম গ্যাসীয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ। তাই এর মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা গবেষণার ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূত্রপাত ঘটে। এর আবিষ্কারের ইতিহাসটি এরকম।

১৮৯৯ সালের শুরুর দিকে রসায়নবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড তার সহগবেষক আর ওয়েন্‌স-এর সাথে মিলে থোরিয়াম যৌগের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। একদিন ওয়েন্‌স গবেনাগারে প্রবেশের সময়ে দরজাটি বেশ জোরে খোলেন। দরজার কাছাকাছিই থোরিয়াম যৌগের বিক্রিয়া সংক্রান্ত গবেষণাটি চলছিল। গবেষকগণ লক্ষ্য করলেন, দরজা খোলার কারণে কক্ষে যে বাতাস প্রবেশ করেছে তার প্রভাবে থোরিয়াম প্রস্তুতকরণের সময়কার বিকিরণের তীব্রকা কমে গেছে। প্রথমে এই ঘটনাটিকে তারা খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারেন হালকা বাতাস প্রবাহিত হলেও থোরিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা অনেক কমে যায়। এ থেকে রাদারফোর্ড ও ওয়েন্‌স মন্ব্য করেন থোরিয়াম থেকে অবিরাম ধারায় তেজস্ক্রিয় গ্যাস নির্গত হয়। তারা একে থোরিয়ামের প্রসর্গ বলেন এবং নাম দেন থোরন। লাতিন ভাষায় থোরন শব্দের অর্থ প্রবাহিত হওয়া।

এরপর ধারণা করা হয়েছিল, অন্যান্য সব তেজস্ক্রিয় পদার্থই প্রসর্গ নির্গত করতে পারে। ১৯০০ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ই ডর্নরেডিয়মের প্রসর্গটি আবিষ্কার করেন এবং এর নাম দেয়া হয় রেডন। এর তিন বছর পর দ্যবিয়েন অ্যাক্টিনিয়ামের প্রসর্গ আবিষ্কার করেন। এভাবে দুটি নতুন গ্যাসীয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ তথা প্রসর্গ পাওয়া যায় যাদের নাম রেডন এবং অ্যাক্টিনন। থোরন, রেডন এবং অ্যাক্টিননের মধ্যে কেবলমাত্র অর্ধায়ুর পার্থক্য ছিল। তাদের অর্ধায়ু যথাক্রমে ৫১.৫ সেকেন্ড, ৩.৮ দিন এবং ৩.০২ সেকেন্ড। রেডনের অর্ধায়ু সবচেয়ে বেশী হওয়ায় পরবর্তীতে প্রসর্গ সংক্রান্ত গবেষণায় একে ব্যবহার করা হতো। অর্ধায়ু ছাড়া এদের ধর্মে অন্য কোন পার্থক্য ছিল না। এদের কেউই রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিত না, অর্থাৎ এরা সবাই নিষ্ক্রিয় গ্যাস ছিল। পরে অবশ্য দেখা যায় এদের পারমানবিক ভর ভিন্ন ভিন্ন। রেডনকে ন হয় পর্যায় সারণীতে স্থান দেয়া গেল। কিন্তু অন্য দুটি গ্যাসীয় মৌলের জন্য জেননের পরে মাত্র একটি ঘর আলি ছিল। অবশেষে এবল রেডনই টিকে যায় এবং একে পর্যায় সারণীতে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। অন্যতম কারণ একমাত্র এরই অর্ধায়ু যথেষ্ট ছিল।

আলফ্রেড বার্নাড নোবেল

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাবান বার্ষিক পুরস্কার হিসেবে নোবেল প্রাইজ সর্বজন স্বীকৃত। ৬টি বিষয়ে (প্রথমে ছিল ৫টি-পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি, ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতেও পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।) মানব-জাতির কল্যাণে সেরা ভূমিকা পালনকারীদের প্রতিবছর উক্ত পুরস্কার প্রদান করা হচেছ। বছর শেষের দিকে এই পুরস্কার কাদের ভাগ্যে জুটছে, তার দিকে থাকে সচেতন সবার নজর। এই পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি সমাজ, দেশে এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। বিশ্বের অন্য কোনো পুরস্কারই এর সমকক্ষ নয়। ডিনামাইট আবিস্কারক আলফ্রেড নোবেলের নামানুসারেই পুরস্কারটির নাম হয়েছে নোবেল। ১৯০১ সাল থেকে প্রদান করা হয় এই পুরস্কার। তিনি ১৮৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান। অর্থাৎ তার জীবদ্দশায় তিনি এই পুরস্কার প্রবর্তন করেননি।
তবে অনেকের মতে, যতটা মহান মনে করা হয়, এই পুরস্কার ততটা মহান বা মহৎ নয়। বরং বলা যায়, পশ্চিমা আদর্শ, দর্শন প্রচারের অন্যতম এক হাতিয়ার হিসেবে একে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটু গভীরভাবে চোখ বুলালেই দেখা যাবে, উদার মানবতাবাদীর প্রবক্তার ছদ্মাবরণে পশ্চিমা আদর্শ, মূল্যবোধ ও লক্ষ্যপূরণের জন্যই এই পুরস্কার। এতে বর্ণবাদী ইহুদি, কট্টরপন্থী খ্রিস্টান সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে গত অর্ধ-শতাব্দী ধরে এই পুরস্কারটি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লক্ষ্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বৃটিশ সাম্রাজ্য যখন সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, তখন তারা কিংবা তাদের অনুগ্রহভাজনরাই পেত পুরস্কারটি। আর এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থানের পর পুরস্কারটি সেদিকেই যাচ্ছে। তবে ৬টি পুরস্কারের মধ্যে শান্তি, সাহিত্য এবং অর্থনীতির পুরস্কারটি নিয়েই অনেক বেশি রাজনীতি হয়ে থাকে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাধারণভাবে তৃতীয় বিশ্বের খুব একটা অবদান নেই। কিন্তু অন্যগুলো বিশেষ করে শান্তি পুরস্কার নিয়েই রাজনীতি হয় সবচেয়ে বেশি। নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক হচ্ছেন আলফ্রেড নোবেল। পুরো নাম আলফ্রেড বার্নাড নোবেল। সুইডেনের এই প্রসিদ্ধ রসায়ন বিজ্ঞানী ১৯৩৩ সালের ২১ অক্টোবর স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করেন। আর মৃত্যুবরণ করেন ১৮৯৬ সালের ১০ই ডিসেম্বর ইটালির সান রেমোতে নিজের বাসভবনে। তার পিতা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন প্রসিদ্ধ টর্পেডো ও মাইন নির্মাতা এবং খ্যাতনামা গবেষক। নোবেল ছিলেন তার পিতামাতার (ইমানুয়েল ও ক্যারোলিন নোবেল) ৮ সন্তানের ৪র্থ পুত্র। অবশ্য তার মাত্র চার ভাই কৈশোর অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল। আলফ্রেড নোবেল একাধারে আবিস্কারক, শিল্পপতি ও প্রকৌশলী। শৈশবে তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। এজন্য তিনি মায়ের সান্নিধ্য বেশি পেয়েছিলেন। বাড়িতেই তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নামি অধ্যাপকদের কাছে তিনি বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য এবং বিদেশি ভাষা শেখেন। মাতৃভাষা সুইডিশ ছাড়াও রাশিয়ান, ফরাসি, ইংরেজি এবং জার্মান ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। 

integrated circuit or IC

 integrated circuit or IC ।। জে এস কিলবি ২০০০ সালে IC উদ্ভাবনের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।  

স্ফুটনাংক

যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে উক্ত পদার্থের স্ফুটনাংক বলা হয়। তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে থাকলে একপর্যায়ে তাপমাত্রা স্থির হয়ে যায়। এর পর আর তাপ প্রয়োগ করলেও তাপমাত্রার কোন পরিবর্তন হয়না। একটি নির্দিষ্ট সময় পর অর্থাৎ যতক্ষণে সম্পূর্ণ তরল বাষ্পে পরিণত হয় ততক্ষণ পর আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই স্থির তাপমাত্রাটিই হল স্ফুটানংক। প্রকৃতপক্ষে এই স্থির তাপমাত্রায় যে তাপ প্রয়োগ করা হয় তা কেবল তরল থেকে পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করতে ব্যবহৃত হয়।

বায়শূন্য স্থানে তরলের স্ফুটনাংক কম থাকে। অধিক বায়ুচাপে স্ফুটনাংক বেড়ে যায়। এজন্য পাহাড়ের উপর পানি ফুটতে দেরি হয়।

সমুদ্রের পানি

পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। খাল-বিল, পুকুর, হ্রদ- সব জায়গায়ই থাকে পানি। কিন্তু এসব জায়গার পানি সাধারণত লবণাক্ত হয় না। সমুদ্রের পানি সবসময়ই লবণাক্ত।

১০ থেকে ১৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন সমুদ্রের পানি খুঁজে পেয়েছেন মার্কিন ভূতাত্ত্বিক গবেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের কাছে চেসাপিক উপসাগর এলাকায় মাটির নিচে ওই জলাধারের অস্তিত্ব পেয়েছেন তাঁরা। একে প্রাচীন সামুদ্রিক পানির সবচেয়ে পুরোনো বড় জলাধার হিসেবে আখ্যায়িত করা

 sea-going vessel or ship. ..... ̃জল, ̃বারি n. the water that existed everywhere before the creation of the ...... মরণাশৌচ n. personal impurity caused by the death of a relative. ...... বলতে কোনো বিশেষ সংখ্যা না বুঝিয়ে সাধারণভাবে উচ্চ সংখ্যা বোঝানো হয়েছে)

আপেক্ষিক আর্দ্রতা

বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে বাতাসের আর্দ্রতা দ্বারা পরিমাপ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আর্দ্রতা বলতে আমরা আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে বোঝাই। আপেক্ষিক আর্দ্রতা হল কোন নির্দিষ্ট জায়গার বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের আংশিক চাপ ও ঐ তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পের সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ। নির্দিষ্ট তাপে ও চাপে বাতাসে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে তা সুনির্দিষ্ট। আর্দ্রতাকে পরম আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট আর্দ্রতাও বলা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর্দ্রতা বেশি হলে গ্রীষ্মকালে বাইরে গেলে আমরা বেশি গরম অনুভব করি, কারণ তাঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপ বের করে দেবার প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাপ সূচক ছকে এই প্রভাব হিসাব করা হয়।

=আর্দ্রতা= -কোনো স্থানের বায়ুতে কতটুকু জলীয়বাষ্প আছে অর্থাৎ বায়ু কতখানি শুষ্ক বা ভিজা আর্দ্রতা দিয়ে তাই নির্দেশ করা হয় ৷

=পরম আর্দ্রতা= বায়ুর প্রতি একক আয়তনে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের ভরকে ঐ স্থানের পরম তাপমাত্রা বলে ৷

=শিশিরাঙ্ক= নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষষতা সীমাবদ্ধ ৷ তাপমাত্রা বাড়লে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷ কোনো স্থানের তাপমাত্রা কমলে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায় ৷ তাপমাত্র ক্রমশ কমতে থাকলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুমন্ডল এ স্থানের জলীয়বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয় ৷ ঐ তাপমাত্রায় বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্প তখন শিশিরে পরিনত হয় ৷ এই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক ৷

আপেক্ষিক আর্দ্রতা

কোন স্থানের বায়ুকে ঐ তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত করতে যে পরিমান জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয় এবং বায়ুতে যে পরিমান জলীয় বাষ্প আছে তাদের অনুপাত্রক শতকরায় প্রকাশ করলেই ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা পাওয়া যায়।

বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে বাতাসের আর্দ্রতা দ্বারা পরিমাপ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আর্দ্রতা বলতে আমরা আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে বোঝাই। আপেক্ষিক আর্দ্রতা হল কোন নির্দিষ্ট জায়গার বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের আংশিক চাপ ও ঐ তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পের সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ। নির্দিষ্ট তাপে ও চাপে বাতাসে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে তা সুনির্দিষ্ট। আর্দ্রতাকে পরম আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট আর্দ্রতাও বলা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর্দ্রতা বেশি হলে গ্রীষ্মকালে বাইরে গেলে আমরা বেশি গরম অনুভব করি, কারণ তাঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপ বের করে দেবার প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাপ সূচক ছকে এই প্রভাব হিসাব করা হয়।

=আর্দ্রতা= -কোনো স্থানের বায়ুতে কতটুকু জলীয়বাষ্প আছে অর্থাৎ বায়ু কতখানি শুষ্ক বা ভিজা আর্দ্রতা দিয়ে তাই নির্দেশ করা হয় ৷

=পরম আর্দ্রতা= বায়ুর প্রতি একক আয়তনে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের ভরকে ঐ স্থানের পরম তাপমাত্রা বলে ৷

=শিশিরাঙ্ক= নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষষতা সীমাবদ্ধ ৷ তাপমাত্রা বাড়লে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷ কোনো স্থানের তাপমাত্রা কমলে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায় ৷ তাপমাত্র ক্রমশ কমতে থাকলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুমন্ডল এ স্থানের জলীয়বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয় ৷ ঐ তাপমাত্রায় বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্প তখন শিশিরে পরিনত হয় ৷ এই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক ৷

বাষ্পীভবন

বাষ্পীভবন:

আমরা জানি পানিকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ দেওয়া হলে, সেটি বাষ্পে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলে বাষ্পীভবন। সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদ-নদী, খাল-বিলের পানি প্রতিনিয়ত এভাবে বাষ্পে পরিণত হচ্ছে। এ বাষ্প মিশে যায় আমাদের আশেপাশের বাতাসে।

গাছপালাও তাদের অভ্যন্তরের পানি অনেকসময় বের করে দেয়, সে পানিও বাষ্প হয়ে বাতাসের সঙ্গে মিশে যায় । 

জলীয়বাষ্প

সূর্যের উত্তাপে ভূপৃষ্ঠের সমুদ্র, হ্রদ, নদী, পুকুর, খাল, বিল প্রভৃতি জলরাশি থেকে জল জলীয়বাষ্পে পরিণত হয় । জলীয়বাষ্পপূর্ণ ... জলকণাগুলি যখন পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে বড় বড় জলকণায় পরিণত হয় তখন সেগুলি নিজেদের ভারে ও পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বাতাসে আর ভেসে বেড়াতে পারে না ।

গরমে গা ঘামলে পরে যদি গা য়ে বাতাস করলে ঠান্ডা লাগে কারনঃ সেই বাতাস গা এর ঘামগুলোকেজলীয়বাষ্পে পরিণত করে আর তৎক্ষনাত গা ঠান্ডা হয়।

 

রাসায়নিক পরিবর্তন

যে সকল পরিবর্তনের ফলে পদার্থের ভৌত অবস্থা, গঠন-প্রকৃতি, স্থিতিস্থাপকতা, বৈদ্যুতিক ওচৌম্বক ধর্ম প্রভৃতির পরিবর্তন হয়, কিন্তু উপাদানগত কোন পরিবর্তন হয় না অর্থাৎ ... এক বা একাধিক পদার্থের উপাদানগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ওই পদার্থের নিজস্ব সত্তা হ্রাস পায় এবং নূতন এক বা একাধিক পদার্থ সৃষ্টি হয়, এরূপ পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।

যে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক মৌল বা যৌগ পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে এক বা একাধিক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী নতুন যৌগ উৎপন্ন করে তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু স্বীয় সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট অন্য এক বা একাধিক বস্তুতে পরিনত হয়,তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলা হয়।

অক্সিজেন পানি

অক্সিজেন পানিতে সামান্য পরিমাণ দ্রবীভূত থাকে। ২০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (৬৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট) তাপে এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে এক কিউবিক মিটার পানিতে অক্সিজেনের দ্রবীভূত হওয়ার পরিমাণ প্রায় ৪৫ গ্রাম। অক্সিজেন পানিতে দ্রবীভূত থাকে বলেই জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরা শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া চালিয়ে বাঁচতে পারে। পানিতে অক্সিজেন কমে গেলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে যায়।

কালোসোনা

জিরকন, মেনাজাইট, বিউটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত মূল্যবান খনিজ পদার্থ কালো সোনা নামে পরিচিত।সোনার ন্যায় মূল্যবান বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

পদার্থের ভৌত পরিবর্তন

যে সকল পরিবর্তনের ফলে পদার্থের ভৌত অবস্থা, গঠন-প্রকৃতি, স্থিতিস্থাপকতা, বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ধর্ম প্রভৃতির পরিবর্তন হয়, কিন্তু উপাদানগত কোন পরিবর্তন হয় না অর্থাৎ কোন নূতন পদার্থের সৃষ্টি হয় না, সেই সকল পরিবর্তনকে ভৌত পরিবর্তন বলা হয়। যেমন– বরফকে তাপ দিলে তা প্রথমে পানিতে পরিণত হয় এবং তরল পানিকে আরও তাপ দিলে তা জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয়বাষ্পকে আবার শীতল করা হলে তরলে পরিণত হয় এই তরলকে আরও শীতল করলে তা পুনরায় বরফে পরিণত হয় । কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় পানির ধর্ম ভিন্ন । কিন্তু তিন অবস্থাতেই পানি H2O অণুর সমন্বয়ে গঠিত । সুতরাং পানির এইরূপ পরিবর্তন হল ভৌত পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্যেসমজূহকে পদার্থের ভৌত পরিবর্তনের ধর্মাবলি (Physical Properties Of Matter) বলা হয়। যেমন– বর্ণ, গন্ধ, ঘনত্ব, গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক দ্রাব্যতা, ভঙ্গুরতা ইত্যাদি ভৌত ধর্ম ।

মাটিতে নাইট্রেট আবদ্ধ

বজ্র বিদ্যুতের প্রভাবে বাতাসের নাইট্রোজেন নাইট্রিক অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডে পরিণত হয়। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে নাইট্রাস অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডে পরিণত হয়ে অম্লবৃষ্টি রূপে মাটিতে আসে এবং মাটিতে নাইট্রেট লবন রূপে অবস্থান করে।

পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার

বর্তমান সভ্যতায় পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। গ্রামের কুঁড়ো ঘর থেকে শুরু করে আধুনিকতম পরিবহণ ব্যবস্থায় সর্বত্র এর ব্যবহার রয়েছে। পেট্রোলিয়াম থেকে নিস্কাশিত তেল পেট্রোল, পাকা রাস্তার উপর দেয়া পিচ, কেরোসিন এবং চাষাবাদের জন্য সার পাওয়া যায়। পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলের প্রচুর ব্যবহৃত হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে টেরিলিন, পলিয়েস্টার, ক্যাশমিলন ইত্যাদি কৃত্রিম বস্ত্র পাওয়া যায়। পেট্রোলিয়ামের প্রধান ব্যবহার হল তড়িৎ এবং যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনে। 

বস্তুর বর্ণ পরিবর্তন

বস্তুর বর্ণ পরিবর্তনঃকোন বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে প্রবেশ করলে আমরা সে বস্তু দেখতে পাই।এক্ষেত্রে বস্তু যে বর্ণের আলো প্রতিফলিত করে আমাদের কাছে বস্তুটিকে সে বর্ণের বলে মনে হয়।আর বস্তু কোন আলো প্রতিফলিত না করলে আমাদের কাছে তা কালো বর্ণের মনে হবে।   

আমরা জানি,কোন বস্তু নিজের বর্ণ ছাড়া অন্য সকল বর্ণ শোষণ করে নেয়। তাই সবুজ পাতার উপর লাল আলো পড়লে এটি লাল আলো শোষণ করে এবং কোন বর্ণই প্রতিফলিত করে না ।ফলে  লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

আবার পাতার ক্লোরোফিল আলোর সাতটি রঙের মধ্যে কেবল সবুজ বাদে সকল রঙ শোষণ করে নেয়।তাই দিনের বেলায় গাছের পাতা সবুজ দেখায়। অনুরূপভাবে,নীল ফুলের উপর লাল আলো পড়লে এটি লাল আলো শোষণ করে এবং কোন বর্ণই প্রতিফলিত করে না । তাই  লাল আলোতে  নীল ফুল কালো দেখায়।ঠিক একই কারণে সবুজ আলোতে হলুদ বস্তু  কালো দেখায়।     

বিস্তারিত প্র্যাকটিস করুন

সকল ডিজিটাল বই

পঞ্চম শ্রেণি
নবম-দশম শ্রেণি
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা রচনা / ভাবসম্প্রসারণ ...
Essay / Compositions / Paragraph
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি