দেশের লাইব্রেরিগুলোতে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের বদলে ক্লাস ও বিসিএসের পড়া পড়েন এবং প্রস্তুতি নেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠানে।
সমঝোতা অনুযায়ী দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫টি গণগ্রন্থাগার ও শিশু একাডেমি গ্রন্থাগার, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও এনজিও’র ৫টিসহ মোট ৩০টি গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল করা হবে। আর এজন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে অর্থায়ন করছে বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।
পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য ২৪ থেকে ২৮ কোটি টাকা দেবে ফাউন্ডেশনটি।
সংস্কৃতি অধিদফতরের পক্ষে মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহাম সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। সংস্কৃতিসচিব আক্তারী মমতাজ ও প্রকল্প পরিচালক দিদারুল আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচুর গ্রন্থাগার রয়েছে, কিন্তু পাঠকের অভাব রয়েছে। অনেক গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীরা যান। কিন্তু তারা তাদের ক্লাস ও বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ, পাঠককে গ্রন্থাগারমুখী করা এবং গ্রন্থাগারগুলোর মান উন্নয়ন করা। শিক্ষার্থীদের যদি গ্রন্থাগারমুখী করা যায়, তাহলে তারা জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে জানতে পারবেন’।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সংস্কৃতি চর্চায় শুধু গান, কবিতা আবৃত্তি বা নাটক করা নয়। পড়াশোনাও করতে হবে। পাঠের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তাই পড়াশোনার সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে’।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্রকল্পের আওতায় গ্রন্থাগার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যত গ্রন্থাগারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১৮ মাসের জন্য পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যার জন্য বিল অ্যান্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রাথমিকভাবে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেবে।
এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য ফাউন্ডেশন ২৪ কোটি টাকা থেকে ২৮ কোটি টাকা দেবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছে।
সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা