logo

জাতীয় পাঠ্যক্রম ভিত্তিক

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য শ্রেষ্ঠ অনলাইন পড়াশুনা

ধসে পড়ার ভয়ে ক্লাসে যায় না শিক্ষার্থীরা

আপডেট: আগস্ট ২৯,২০১৬ ‌ | ক্যাটাগরি: প্রাথমিক শিক্ষা

দ্বিতল ভবনটি হেলে পড়েছে। ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় লোকজন এই ভবনের আশপাশ দিয়ে হাঁটতে চায় না। কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়াছটা এলাকার উত্তর নুনিয়াছটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের এমনই হাল। ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনেই পড়তে হচ্ছে দুই শতাধিক খুদে শিক্ষার্থীকে। এ বছরের শুরুতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ছিল ৬০০। ভবনধস-আতঙ্কের কারণে ক্লাসে আসতে চায় না বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। শিক্ষকেরা বলেন, নিয়মিত উপস্থিত থাকে বড়জোর ২০০ শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় ভবনটি ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। এরপর আর তেমন সংস্কার করা হয়নি বলে জানান শিক্ষকেরা। গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের লোহার গ্রিল ভাঙা। পিলারগুলোতে ফাটল ধরেছে। খসে পড়েছে ছাদের পলেস্তারা। বেশির ভাগ শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা নেই। ভবনের বাইরে খোলা মাঠে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক সুমি রানী সাহা। তিনি বলেন, ‘ভবনের করুণ অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছেন। ভবনটি একদিকে হেলে পড়ছে। তাই ধসে পড়ার আশঙ্কায় খুদে শিক্ষার্থীদের মাঠে এনে ক্লাস নিচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইসমত আরা বেগম বলে, পিইসি পরীক্ষা সামনে। ভবন ভাঙাচোরা হলেও বিদ্যালয়ে না এসে উপায় নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফোরকান আরা বেগম বলেন, জানুয়ারির দিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৬০০ জন। এখন প্রায় ২০০ জন। ভবনধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় অভিভাবকেরা ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ভবনটির অধিকাংশ কক্ষ পরিত্যক্ত। তারপরও ভেতরে-বাইরে বসিয়ে শিশুদের পড়ানো হচ্ছে। বিদ্যালয়ে আগে ১৮টি ফ্যান ছিল, সবই চুরি হয়ে গেছে। এখন ভবনের নিচের জানালার গ্রিলগুলোও কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ছয়টি বাথরুমের সব কটিই নষ্ট। বিপদে পড়লে আশপাশের কোনো বাড়িতে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক গিয়াস উদ্দিন বলেন, পৌরসভার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার কথা কল্পনাও করা যায় না। এ নিয়ে প্রশাসনেরও কোনো উদ্যোগ নেই।

আরও কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রাণহানির আশঙ্কায় তাঁরা ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পড়ানো বন্ধ রেখেছেন। আপাতত গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে তাঁরা ঘরে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন।

বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী জানায়, চার মাস ধরে সে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। সে বলে, ‘স্কুলে যেতে ভয় লাগে। কখন ভেঙে যায়। বাবা-মা স্কুলে যেতে নিষেধ করে।’

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু নতুন ভবনের বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই খুদে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। এখন আপাতত টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিশুদের পাঠদানের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু সাড়া মিলছে না।

সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

 

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক তথ্যসমূহ