logo

জাতীয় পাঠ্যক্রম ভিত্তিক

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য শ্রেষ্ঠ অনলাইন পড়াশুনা

সৃজনশীলতার দু’টি বাস্তব ধারণা

আপডেট: অক্টোবর ১৮,২০১৬ ‌ | ক্যাটাগরি: বিবিধ

দেশের ৪৫ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন করতে পারেন না। এটা আমাদের কথা নয় মাউশির একাডেমি সুপার ভিশন প্রতিবেদন। যা সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের(SDG) জন্য শিক্ষার উন্নয়ন আমাদের প্রধান বাহক। সেটাই যদি যত্নসহকারে বাড়িয়ে না নেয়া যায় তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

২০০৮ সালে প্রথম সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়। এর পর থেকে সৃজনশীলতার মিছিলে বিভিন্ন পদ্ধতিগত পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কাঠামোবদ্ধ সৃজনশীলতা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। কিন্তু যতই চাই চাই বলি, মুখে ফেনা তুলে ফেলি, ততই যেনো পারিপার্শ্বিকতা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। কারণ নিশ্চয় আমাদের অজানা নয়। কিন্তু কেন আমরা কি পারি না; আমাদের মেধা, সততা, আত্মনির্ভরশীল একটা সুশীল সমাজ উপহার দিতে?

কথায় আছে আগের লাঙল যেভাবে চলে; পিছের লাঙলও সেভাবে চলে। আসুন আমরা এ বছর থেকে শুরু করি, দেখি পারি কিনা। উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ছয় মাস আগে ছিল ৪১ শতাংশ আর ছয় মাস পরে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের তো কথা ছিল এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আমরা কেন পিছিয়ে গেলাম? এসবের একেবারে ভিতরের খবর জানার জন্য অর্থাৎ নিচের বিশেষ কিছু আলোচনা মিলিয়ে নিতে হবে।

১. আগামী ৩১ ডিসেম্বর ১৬ শিক্ষকের অবসরে যাওয়ার কথা। আর সেপ্টেম্বর ১৬ যে শিক্ষক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের মহান ব্রত গ্রহণ করেছেন। এই দুজনের চিন্তা চেতনা ধ্যান-ধারণা সৃজনশীলতা কি এক হতে পারে? পুরান যে স্যার আছেন তিনি ভাববেন আর কয় মাস আছি আমার বেশি দরকার নাই। কোনো রকম পরের সাহায্য নিয়ে দিন চললে হবে। অন্য দিকে নতুন স্যার ভাবছেন আমি তো জানি বিভিন্ন প্রকাশনা বিভিন্ন নোট গাইডে,অনলাইনে হাজার হাজার প্রশ্ন ও উত্তর আছে। সেগুলো থেকে একটা তুলে দিলেই তো হয়। ছাত্র/ছাত্রীরা মুখস্ত করলেই পারবে।

এক্ষেত্রে দু’টি ধারণা ও দুটি প্রজন্ম এক জায়গায় যেয়ে মিলছে। ফলাফল দাড়াল অপরের সাহায্য ও নোট গাইড। তাহলে ছাত্র/ছাত্রী লাভবান না হয়ে প্রকাশনা সংস্থা লাভবান হলো। এই বাতাসে যদি কোনো স্যার বলে অমুক প্রকাশনার গাইড ভালো তাহলে তো, পোয়া বারো, সিকে উঠল সৃজনশীলতা, ঘুড়ি নাটাই থেকে ছিড়ে ঘুরতেই থাকবে।

এবার যদি আমরা চিন্তা করি আমরা সবাই মানুষ গড়ার কারিগর। যে শুরুতে আছে আর যার কাল শেষ হবে। এই সৃজনশীলতার মিছিলে শামিল হবার জন্য (SDG) টেকসই উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকতার জন্য নিজেকে উন্নয়ন করতে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। দেশে সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।

কিন্তু তার প্রতিফলন কতটুকু তা আমাদের চেয়ে যার এ মহান ব্রতে নিয়োজিত আছেন তারাই বলতে পারবেন। কেননা প্রশিক্ষণের একটা সেশনে ২৫ জন থাকে ১১/ ২১ বা ৬ দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ শেষ করতে হয়। আবার সেগুলো থাকে বিশেষায়িত ক্লাস (ডিজিটাল)।

এই দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষকদের মন থাকে বাড়িতে। পরিবার পরিজন, স্কুল, টিউশানি নিয়ে আর যদি কারও কোন ব্যবসা থাকে সে ক্ষেত্রে মনটা স্বাভাবিকভাবে উড়– উড়– থাকে। এর পর প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে এসে ওই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আমরা সরকারি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।

এখন সময় এসেছে কিছু করার। তাই আমরা যদি উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষক তৈরি করতে পারি তাহলে মনে হয় ভালো হয়। উপজেলার প্রত্যেক স্কুল থেকে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের পরীক্ষার মাধ্যমে আগে বাছাই করতে হবে। তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এবার স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ শেষে স্থায়ীভাবে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে হবে, যেদিন যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, সেদিনও স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন।

কেননা, শিক্ষক যদি স্কুলে যায় তাহলেও তো তাকে ক্লাস নিতে হয়। আবার নিজের পরিবার পরিজন, ব্যবসা-বাণিজ্য তদারকি করতেও পারবেন।

প্রশিক্ষণ পরিক্রমা থাকবে সারা বছর ধরে। উল্লেখ্য যে, এর সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন হতে পারে, জ্যামিতি, মেন্টরি, সাইকিলিং, বিতর্ক, ইংলিশ।

এই বিষয়গুলো পরিচালনায় সফলতা আনতে গেলে আর আলোচনা দরকার। যেমন প্রশিক্ষণ খরচ, বিষয়বস্তু, উপকরণ, স্থান। আর যদি আমরা সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে যেতে চাই তাহলে,আমরা জানি প্রতি বছর শ্রেণি ও সময় ভাগ করে একটা ক্লাস রুটিন তৈরী করা হয। আমাদের স্থানীয়ভাবে যে প্রশিক্ষক থাকবেন তাকে দিয়ে মাঝে মাঝে ৩ দিনের বা ৫ দিনের একটা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে।

কারণ যে ভালো স্যারের ক্লাস ও মাঝে মাঝে ভালো লাগে না। সে ক্ষেত্রে যদি একটু হাওয়া বদলানো যায় তাহলে, আমাদের মনে হয় ভালো ছাড়া খারাপ হবে না। সে জন্য মাসিক সভায় শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আর সেটা হবে আমাদের টেকসই উন্নয়নের প্রাথমিক ধারণা।

এটা সত্য যে, আমরা যে যত বড় শিক্ষকই হইনা কেনো প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ মানে বিষয়গুলো চিন্তা-ভাবনা, শেয়ারিং যা আপনার চিন্তা-চেতনাকে আরও শানিত করবে। আপনার আমার মধ্যে শানিত ধারা আর যুগোপযোগী হয় তাহলে আগামী প্রজন্ম হবে দেশের উন্নয়নের বাস্তব ভাগিদার।

আর এ বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এদেশের অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এ দায়িত্ব দিতে হবে। সরকারের থাকতে হবে ক্লোজ তত্ত্বাবধায়ন। তবেই আমাদের স্বপ্ন স্বার্থক হবে। আমার এ লেখার যদি কোন স্যারের মনে সামান্যতম অবচেতনার উদ্রেক হয়, ক্ষমা করবেন।

লেখক: গুরুদাস ঢালী, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি ,সাতক্ষীরা।

সুত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক তথ্যসমূহ